Tuesday, March 20, 2012

‘আসাদের সময় ফুরিয়ে এসেছে’





















 সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আসাদের দিন ফুরিয়ে এসেছে-এমন মন্তব্য করেছেন শান্তিতে নোবেল পুরস্কার জয়ী ইয়েমেনের অধিকার আন্দোলন কর্মী তাওয়াকুল কারমান। ইয়েমেনের প্রেসিডেন্ট আলি আব্দুল্লাহ সালেহকে ক্ষমতা থেকে সরাতে ইয়েমেনজুড়ে যে গণঅভ্যুত্থান হয়, তার অন্যতম প্রধান রূপকার তাওয়াকুল কারমান। রোববার তুরস্কে সিরীয় শরণার্থী শিবির পরিদর্শনের সময় দেশ থেকে পালিয়ে আসা সিরীয়দের উদ্দেশে এ কথা বলেন তিনি। এ সময় শরণার্থীদের নিরাশ না হওয়ারও পরামর্শ দেন তিনি। তুরস্কের হাতাই প্রদেশের বয়নুইয়োগুন শরণার্থী শিবিরের একটি বড় তাঁবুতে উপস্থিত সিরীয় উদ্বাস্তুদের উদ্দেশে ভাষণ দেন তাওয়াকুল। তাঁবুটি শিবিরের মসজিদ হিসেবে ব্যবহার করা হয়। কারমান বলেন, আপনাদের অবস্থান সঠিক এটি পুরো বিশ্ব জানে। আল্লাহর ইচ্ছায় আপনাদের দেয়া রক্ত বৃথা যাবে না। আপনারা গণতান্ত্রিক পরিবেশে ফিরে যাবেন। আমরা সালেহর জমানার অবসান ঘটিয়েছি আল্লাহর ইচ্ছায়, প্রেসিডেন্ট আসাদের শেষ সময়ও ঘনিয়ে এসেছে। তার ভাষণের প্রত্যুত্তরে মুষ্টিবদ্ধ হাত তুলে ‘আল্লাহ মহান’ ধ্বনিতে সরব হয়ে ওঠে উপস্থিত শরণার্থীরা। সিরিয়া ও ইয়েমেন, দু’টি দেশেই ‘আরব বসন্ত’ নামে পরিচিতি পাওয়া আরব অঞ্চলের গণতন্ত্রকামী মানুষের গণঅভ্যুত্থান হয়। ইতিমধ্যে এই অভ্যুত্থানে ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন ৩২ বছর ধরে ইয়েমেনের ক্ষমতায় থাকা প্রেসিডেন্ট আলি আব্দুল্লাহ সালেহ। কিন্তু সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট এখনও তার পদ ছাড়তে অনড়। এ ছাড়া গত এক বছর ধরে চলা এই গণতান্ত্রিক আন্দোলনে ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন তিউনিসিয়ার প্রেসিডেন্ট বেন আলি, মিশরের প্রেসিডেন্ট হোসনি মুবারক ও লিবিয়ার নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফি।
সাবেক এই শাসকদের মধ্যে গাদ্দাফি নিহত হয়েছেন, হোসনি মুবারক কারাগারে আর বেন আলি সৌদি আরবে স্বেচ্ছানির্বাসিত। ৩৩ বছর বয়সী সাংবাদিক তাওয়াকুলকে ‘বিপ্লবের জননী’ বলা হয়। গত বছর ইয়েমেনে প্রেসিডেন্ট সালেহবিরোধী গণঅভ্যুত্থানের প্রথম দিকে আন্দোলন সংঘটিত করতে ব্যাপক প্রভাব রাখেন তাওয়াকুল। আন্দোলনে ভূমিকার জন্য তাকে সে সময় কিছু দিন কারাবাসও করতে হয়। নারী অধিকার প্রতিষ্ঠা ও নারীর সুরক্ষায় অহিংস সংগ্রামের জন্য তাওয়াকুল কারমানকে লাইবেরিয়ান প্রেসিডেন্ট এলেন জনসন সারলিফ ও লাইবেরিয়ার শান্তি আন্দোলন কর্মী লেমাহ বোয়ির সঙ্গে একত্রে ২০১১ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার দেয়া হয়। তাওয়াকুল নোবেল পুরস্কার পাওয়া মানুষদের মধ্যে সবচেয়ে কম বয়সী এবং এ পুরস্কার পাওয়া প্রথম আরব নারী।

Monday, March 19, 2012

রয়টার্সের প্রতিবেদনে টাঙ্গাইলের পতিতাপল্লী


আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় এবার উঠে এসেছে টাঙ্গাইলের পতিতাপল্লীর সুখ-দুঃখ। তাতে বলা হয়েছে, কিভাবে খদ্দের আকৃষ্ট করে যৌনকর্মীরা গরু মোটাতাজাকরণ ট্যাবলেট খেয়ে তাদের শারীরিক বাহ্যিক পরিবর্তন আনছে। কত কম রেটে তারা নিজেদের শরীর বিকিয়ে দিচ্ছে। বিনিময়ে তারা কি পাচ্ছে। এমনই একটি ফিচারধর্মী রিপোর্ট ২০১২ সালের ১৯শে মার্চ প্রকাশ করেছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। এতে বলা হয়েছে, ধাকা থেকে কয়েক ঘণ্টার পথ উত্তর-পূর্বের জেলা টাঙ্গাইল। সেখানকার কান্দাপাড়া পতিতাপল্লীর নাম কমবেশি সবাই জানে। কান্দাপাড়া পতিতাপল্লীতে রয়েছে প্রায় ৯০০ নারী যৌনকর্মী। তাদের মুখে ভারি মেকআপ দেয়া, টিনেজ মেয়েগুলো বেশ খাটো, তাদের শরীরে আটোসাটো ব্লাউজ আর লম্বা পেটিকোট। তারা ওই পতিতাপল্লীর সংকীর্ণ গলিপথে জমিয়ে আড্ডা দেয়, গল্প করে। আর সবচেয়ে বড় টার্গেট থাকে খদ্দের ধরা। তবে এই পতিতাপল্লীতে খদ্দেদের তেমন অভাব নেই। এলোমেলো গলিপথে লোহার গেট দেয়া। এখানে যৌনকর্মীদের রেট ৫০ টাকার মধ্যে। যুক্তরাষ্ট্রে যার মূল্যমান ৬০ সেন্ট। এত কম রেটে শরীর বিকিয়ে দেয়ার কারণ একটাইÑ তাহলো যত বেশি সম্ভব খদ্দের আকৃষ্ট করা। আর এই খদ্দের ধরতে গিয়ে তারা শুধু রেটই কমায় নি, একই সঙ্গে মারাত্মক এক ঝুঁকিপূর্ণ পথে ইগয়ে চলেছে। তারা শরীরটাকে নাদুস-নুদুস বা আকর্ষণীয় বানাতে স্টেরয়েড ব্যবহার করছে। এমনই এক যৌনকর্মী হাসি। তার বয়স মাত্র ১৭ বছর। তার যখন বয়স ১০ বছর তখর তাকে এক পাচারকারী কান্দাপাড়া পতিতালয়ে বিক্রি করে দেয়। তারপর থেকেই তাকে বাধ্য হতে হচ্ছে এই ব্যবসা চালাতে। প্রথমে তার শরীর ছিল অপুষ্টিতে ভোগা, দেখতে রোগা। কিন্তু তাতে খদ্দের আকৃষ্ট হয় না। তাই হাসি বলেÑ আমার ছোটবেলার শরীর আর এখনকার শরীরের মধ্যে রাতদিনের পার্থক্য। আগের চেয়ে আমি এখন অনেক বেশি মোটা হয়ে গিয়েছি। এখন আমি দিনে অনেক খদ্দেরকে সার্ভিস দিতে পরি। কোন কোন দিন ১৫ জন খদ্দেরের মনোরঞ্জন করতে পারি। হাসি যে ছোট্ট রুমটিতে থাকে সেখানে আছে একটি বিছানা। রান্নার জন্য একটি স্টোভ। আর চার দেয়ালে টেপ দিয়ে লাগানো বলিউড তারকাদের পোস্টার। হাসির মতো অনেক কম বয়সী মেয়ে আছে এই কান্দাপাড়ায়। তাদের অনেকেরই বয়স ১২ বছর। তারা এক বিভীষিকাময় জীবন অতিবাহিত করছে সেখানে। অধিক উপার্জনের আশায় তারা সেবন করছে মোটাতাজাকরণ ট্যাবলেট ওরাডেক্সন। কিন্তু এতে তাদের জীবনের ওপর মারাত্মক সাইড ইফেক্ট বা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করছে। এই ওষুধটির নাম ডেক্সামিথেসোন, ওরাডেক্সন। এটি কৃষকরা তাদের গরু মোটাতাজা করতে ব্যবহার করে থাকে। বিভিন্ন দাতব্য সংস্থা বলছে, কান্দাপাড়া পতিতাপল্লীর শতকরা ৯০ ভাগ যৌনকর্মী এই ওষুধ ব্যবহার করে। শুধু কান্দাপাড়ায়ই নয়, দেশের আরও যে ১৪টি বৈধ পতিতালয় আছে সেখানেও একই চিত্র। ওই রিপোর্টে বলা হয়, পতিতাপল্লীতে মেয়েদের প্রথমে তার সর্দারনী ওরাডেক্সন খেতে বাধ্য করে। এতে তাদের ক্ষুধা বৃদ্ধি পায়। অতিরিক্ত খাবার খেয়ে তাড়াতাড়ি তাদের ওজন বেড়ে যায়। এক পর্যায়ে অপুষ্টির শিকার মেয়েগুলোকে দেখতে স্বাস্থ্যবতী ও পরিণত বয়সী দেখায়। এতে তাদের দেখে আকৃষ্ট হয় খদ্দেররা। এর ফলে পুলিশি উৎপাত থেকেও রক্ষা পাওয়া যায়। কারণ, পুলিশকে সর্দারনী বলতে পারেÑ তার অধীনে যেসব মেয়ে আছে তারা সব পরিণত বয়সী। বাংলাদেশে দেহ ব্যবসার জন্য আইনী বৈধ বয়স ১৮ বছর। ফলে ওই ট্যাবলেট খাওয়া মেয়েদের ১৮ উত্তীর্ণ দেখায়। এ অবস্থায়ও তারা অব্যাহত রাখে ওরাডেক্সন খাওয়া। কারণ, তাতে তাদের স্বাস্থ্য পুষ্ট দেখায়। হাসি বলেছে, আমার সর্দারনী আমাকে ওই ট্যাবলেট খেতে বাধ্য করেছে। শুরুতে যখন আমি এ ট্যাবলেট খেতে চাইতাম না তখন সর্দারনী আমাকে প্রহার করতো। খাবার দিতো না। সে আমাকে নানা হুমকি দিতো। তার কাছে আমার যে ঋণ আছে বার বারই সে কথা স্মরণ করিয়ে দিত। হাসির ৪ বছর বয়সী একটি ছেলে আছে। সে তার আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে গ্রামের বাড়িতে থাকে। ২ বছর অতিবাহিত হয়ে যাচ্ছে হাসি তাকে দেখে না। সে বলেছে, এই পতিতাপল্লীতে খদ্দেররা সব সময় স্বাস্থ্যবতী মেয়েদের খোঁজে। তাই আমি ওরাডেক্সন সেবন করি। এর কারণ, আমার অনেক খদ্দেরের দরকার। তা দিয়ে আমার সব বিল ও ঋণ শোধ করতে হবে। একদিন খদ্দের না পেলে আমাকে পরের দিন অনাহারে থাকতে হয়। তারপরও আমার ছেলের জন্য কিছু অর্থ জমা করার চেষ্টা করি। কান্দাপাড়া পতিতাপল্লীর প্রায় সব টিনেজ যৌনকর্মীরই কাহিনী এক রকম। তাদেরকে অজান্তে গ্রামের অভিভাবকরা প্রায় ২০ হাজার টাকার বিনিময়ে পাচারকারীর কাছে বিক্রি করে দেয়। তারপর দালালরা তাদের নিয়ে যায় সর্দারনীর কাছে। ব্যস শুরু হয়ে যায় অন্ধকার জগতের এক করুণ জীবন। পতিতাপল্লীতে দেহব্যবসা করতো এমন যৌনকর্মীই হয়ে যায় সর্দারনী। সেই টাকা দিয়ে কিনে নেয় তাদের। টিনেজ যৌনকর্মীরা বলেছে, তাদেরকে প্রতিদিন প্রায় ১৫ জন খদ্দেরের মনোরঞ্জন করতে হয়। তা থেকে যে টাকা আসে তার প্রায় পুরোটাই চলে যায় সর্দারনির হাতে। এই কান্দাপাড়ায় অনেক মেয়ে বছরের পর বছর রয়েছে। তারা অশিক্ষিত। এজন্য তারা হিসাব রাখতে পারে নাÑ তাদের ঋণ শোধ হয়েছে নাকি। অধিকার সম্পর্কেও তারা জানে না। এক সময় যখন তাদের বয়স বেড়ে যায় অথবা তাদের কাছে খদ্দের আসে না তখন সর্দারনীই তাদের ত্যাগ করে। এ অবস্থায় তারা আর বাড়ি ফিরে যেতে পারে না। সমাজে ফিরতে পারে না। তারা মুখ দেখাতে পারে না বাইরের দুনিয়াকে। ওই রিপোর্টে আরও বলা হয়, ওরাডেক্সন মারাত্মক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াশীল ওষুধ। এর কারণে হতে পারে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, চুলকানি, মাথা ব্যথা এবং এটি প্রচণ্ড নেশা জাগায়। এর ফলে মানুষের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়ে। এতে রোগির অবস্থা রোগা রোগা থাকে। কান্দাপাড়ায় এই ট্যাবলেটটি সহজলভ্য। কোন চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন ছাড়াই চায়ের দোকান ও সিগারেটের দোকানে ১০টি ট্যাবলেটের এক পাতা বিক্রি হয় মাত্র ১৫ টাকায়। বাংলাদেশের আরেকটি পতিতালয় হলো ফরিদপুরে। সেখানে যৌনকর্মীদের নিয়ে কাজ করেন মানবাধিকার কর্মী ও আইনজীবী শিপ্রা গোস্বামী। তিনি বলেন, স্টেরয়েড মেন জীবন রক্ষা করে তেমনি তা জীবন ধ্বংস করে। অ্যাকশন এইড বাংলাদেশ-এর কান্টি ডিরেক্টর ফারাহ করিব বলেন, এ জাতীয় ওষুধ সেবনের নেতিবাচক দিক তুলে ধরে অনেক প্রচারণা হয়েছে। কিন্তু পতিতাপল্লীর মালিক, সর্দারনী এবং দালালরা তার কোন তোয়াক্কা করছে না। তাই এ ধরনের ওষুধ বিক্রির ওপর কঠিন নিষেধাজ্ঞা আসা উচিত। এক্ষেত্রে কার্যকর ভূমিকা নিতে পারে সরকার ও রাষ্ট্র।

মানিক সরকারকে সম্মাননা দেয়ার সিদ্ধান্তে ত্রিপুরায় বিক্ষোভ


Source: The Daily Manabzamin, 20th March, 2012
স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় যেসব বিদেশীর গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে তাদের ১২৯ জনকে সম্মাননা জানাবে বাংলাদেশ। তাদের মধ্যে ৪৭ জনই ভারতীয়। এর মধ্যে রয়েছেন ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার। কিন্তু তাকে ওই সম্মাননা দেয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ত্রিপুরায় বিক্ষোভ হয়েছে। মানিক সরকারকে ওই সম্মাননা দেয়ার বিরোধিতা করেছে সেখানকার বিরোধী দল কংগ্রেস ও সুশীল সমাজ। তারা বলেছে, তাকে ওই সম্মাননা দেয়া হলে তা হবে ইতিহাসের বিরাট রকম বিকৃতি। এর কারণ, বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় মুখ্যমন্ত্রীর সিপিআই (এম) বা মানিক সরকার কারও কোন ইতিবাচক ভূমিকা ছিল না, বরং বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করছিল যে চীন তিনি ছিলেন সেই আদর্শের। এমন কথা বলেছেন, বিরোধী দলের নেতা রতন লাল নাথ। ১২শে মার্চ এ খবর দিয়েছে অনলাইন দ্য এশিয়ান এজ। এতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের ৪০ তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের এক বিশেষ অনুষ্ঠান হবে ঢাকায় আগামী ২৭শে মার্চ। ওই অনুষ্ঠানেই বিদেশী বিশিষ্ট জনদের ওই সম্মাননা জানানো হবে। কিন্তু মানিক সরকারকে ওই সম্মাননা দেয়ার প্রতিবাদে আগরতলায় অবস্থিত বাংলাদেশ ভিসা অফিসের সামনে বিক্ষোভ করেছে নাগরিক মঞ্চ-এর ব্যানারে বেশ কয়েক শত নেতাকর্মী। তারা বাংলাদেশের ভিসা সংক্রান্ত ফার্স্ট সেক্রেটাি কে একটি স্মারকলিপি দেয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু পুলিশ তাতে বাধা দেয়। ওদিকে ত্রিপুরা সরকার এক বিবৃতি দিয়েছে। তাতে বলা হয়েছেÑ বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে অবদানের জন্য কাকে কাকে সম্মাননা দেয়া হবে এটা একান্তই বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার। ওদিকে বাংলাদেশ সরকারের সিদ্ধান্তের প্রতি সমর্থন জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকারের দল সিপিআই (এম) একটি বিবৃতি দিয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, স্টুডেন্টস ফেডারেশন অব ইন্ডিয়ার ত্রিপুরা শাখা বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। ওই সময় ওই সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন মানিক সরকার। ওই বিবৃতিতে প্রশ্ন রাখা হয়, ওই সময় কংগ্রেসের কোন ভূমিকা ছিল কিনা তা নিয়ে। দ্য এশিয়ান এজ আরও জানায়, বাংলাদেশ যেসব ভারতীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিকে সম্মাননা জানাবে তার মধ্যে অন্যতম মানিক সরকার, পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও সিপিআই (এম) নেতা জ্যোতি বসু, ত্রিপুরার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী দশারথ দেব, ত্রিপুরার সাবেক মহারাণী বিভু কুমারী দেবী, ত্রিপুরার প্রথম মুখ্যমন্ত্রী সচীন্দ্র লাল সিংহা, সিদ্ধার্থ শঙ্কর রায়, রাজেশ্বর রাও, পিএ সাংমা, বিচারপতি সাদাত আবদুল মাসুদ, পণ্ডিত রবি শঙ্কর, ওস্তাদ আলী আকবর খান, মাদার তেরেসা, ওয়াহিদা রেহমান, সুনীল দত্ত, নার্গিস দত্ত, জগজীবন রাম, ভুপেশ গুপ্ত, কাইফি আজমী, ভুপেন হাজারিকা, ফিল্ড মার্শাল এসএএম মানেকশ, লেফটেনেন্ট জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরা, লেফটেনেন্ট জেনারেল জ্যাকব, ল্যান্স নায়েক আলবার্তো এক্কা, লতা মুঙ্গেশকর, ডিপি ধর, জেনারেল উবান, পিএন হাকসার, ড. করণ সিং, সরদার সরণ সিং, শরত চন্দ্র সিংহা প্রমুখ।  

বিশ্বে অস্ত্র কেনায় শীর্ষে এশিয়া

বিশ্বে অস্ত্র আমদানির ক্ষেত্রে শীর্ষে অবস্থান করছে এশিয়া। আর ভারতই এক্ষেত্রে এশিয়াতে এগিয়ে আছে। স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইন্সটিটিউট (এসআইপিআরআই) গতকাল এক রিপোর্টে এ তথ্য জানিয়েছে। এতে বলা হয়েছে বিশ্বব্যাপী প্রচলিত অস্ত্র লেনদেনের প্রশ্নে ২০০৭-১১ সালে ২০০২-০৬ সালের তুলনায় এর পরিমান ২৪ ভাগ বৃদ্ধি পেয়েছে। এসআইপিআরআই বলেছে গত পাচ বছর ধরে প্রচলিত অস্ত্রের ৪৪ ভাগই আমদানি করেছে এশিয়া এবং ওশেনিয়া। এর পরিমান ইউরোপে ছিল ১৯ ভাগ, মধ্যপ্রাচ্যে ১৭ ভাগ, উত্তর এবং দক্ষিণ আমেরিকাতে ১১ ভাগ এবং আফ্রকাতে ছিল মাত্র ৯ ভাগ। ২০০৭-১১ সালে ভারতই ছিল বিশ্বের সবচেয়ে বেশি অস্ত্র আমদানিকারক দেশ। এর ফলে ওই সময়ে বিশ্বের মোট অস্ত্রের ১০ ভাগই ভারত আমাদানি করেছে বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। এর পরপরই রয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া (ছয় ভাগ), চীন এবং পাকিস্তান (প্রত্যেকে পাচ ভাগ করে) এবং সিঙ্গাপুর (চার ভাগ)। এসআইপিআরআই বলছে বিশ্বের মোট অস্ত্রের ৩০ ভাগ আমদানি এ পাচটি দেশই করে থাকে। এসআইপিআরআই বলছে ২০০২-০৬ এবং ২০০৭-১১ সালে ভারতের অস্ত্র আমদানির পরিমান ৩৮ ভাগ বৃদ্ধি পেয়েছে। ভারতের অস্ত্র আমাদানির ক্ষেত্রে ২০০৭-১১ সালে রাশিয়ার কাছ থেকে যুদ্ধ বিমান এবং বৃটেনের কাছ থেকে যুদ্ধ বিমান কেনার বিষয়টি বিশেষ ভাবে উল্লেখ যোগ্য। ভারত বিশ্বের সবচেয়ে বেশি অস্ত্র আমদানি করলেও প্রতিবেশি পাকিস্তান অস্ত্র আমদানির ক্ষেত্রে বিশ্বে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে। একই সময়ে পাকিস্তান উল্লেখ যোগ্য পরিমানে যুদ্ধ বিমান কিনেছে বলে এতে বলা হয়েছে। দুই দেশই বিপুল সংখ্যক ট্যাঙ্ক কেনার পরিকল্পনা করেছে এবং সে গুলো আগামীতে আমদানি করবে বলে এসআইপিআরআই জানিয়েছে।  

গাদ্দাফি’র গোয়েন্দা প্রধানের বিচার হবে কোথায়

প্রয়াত নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফির সাবেক গোয়েন্দা প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবদুল্লাহ আল সেনুসিকে লিবিয়ার কাছে হস্তান্তর দাবি করা হয়েছে। মৌরিতানিয়ায় তাকে আটকের পর লিবিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে সে দেশের কাছে এই অনুরোধ করেছে। এ খবর দিয়ে অনলাইন বিবিসি জানায়,  লিবিয়ায় এখন ক্ষমতায় রয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। ওই সরকারের মুখপাত্র মোহাম্মদ আল হারিজি মৌরিতানিয়াকে ওই অনুরোধ পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছেন গতকাল। ওদিকে আবদুল্লাহ আল সেনুসির বিরুদ্ধে হেগে আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ আদালতে মানবতাবিরোধী অভিযোগ আছে। ১৯৮৯ সালে ফ্রান্সের একটি বিমানে বোমা হামলা হয়েছিল। তার সঙ্গে সেনুসি জড়িত বলে অভিযোগ আছে। ফলে তার বিচার করতে একদিকে লিবিয়া চাইছে তাকে তাদের কাছে হস্তান্তর করা হোক। আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ আদালত চাইছে তাকে পেতে এবং ফ্রান্সও তার বিচার করতে চাইছে। এমন অবস্থায় তাকে কোন কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দেয়া হবে তা ঠিক করেনি মৌরিতানিয়া। তারা বলছে, তারা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখছে সেনুসিকে কারও কাছে হস্তান্তরের জন্য কোন আবেদন আছে কিনা। এ বিষয়ে তারা তদন্ত, বিশ্লেষণ করে দেখবে। বিবিসি আরও জানায়, একটি ভুয়া পাসপোর্ট ব্যবহার করে মরক্কো থেকে তিনি মৌরিতানিয়ায় সফরে যান বিমানে করে। কিন্তু মৌরিতানিয়ার রাজধানী নকছোটে বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পরই তাকে আটক করা হয়। তবে মৌরিতানিয়া তাকে আটক করার কোন ঘোষণা দেয়নি। ধারণা করা হচ্ছে, সেনুসিকে আটক করে মৌরিতানিয়ায় একটি গোয়েন্দা সংস্থার অফিসে আটকে রাখা হয়েছে। গত বছর লিবিয়ার নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফির ক্ষমতার মসনদ যখন বিদ্রোহীদের ও আন্তর্জাতিক মহলের আক্রমণে টলটলায়মান তখন ৬৩ বছর বয়সী সেনুসি লিবিয়া থেকে পালান। তাকে আটকের পর লিবিয়ার অন্তর্বর্তী সরকার ন্যাশনাল ট্রানজিশনাল কাউন্সিল (এনটিসি)-এর মুখপাত্র মোহাম্মদ আল হারিজি বলেছেন, আমরা আশা করি সেনুসিকে আমাদের কাছে প্রত্যর্পণ করা হবে। তাকে আটকের খবরে শনিবার লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলিতে আনন্দের বন্যা বয়ে যায়। এর কারণ, ত্রিপোলির এক বাসিন্দা মুস্তাফা জাইমা বলেন, সেনুসিকে লিবিয়ার নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফির ব্লাকবক্স বলে মনে করা হয়। তার কাছে গাদ্দাফি সম্পর্কে অসংখ্য তথ্য আছে। তার হাতেও রয়েছে রক্তের দাগ। এজন্য তাকে লিবিয়ায় ফিরিয়ে এনে তার বিচার করা উচিত। তবে বিশ্লেষকরা মনে করেন, জেনারেল সেনুসিকে লিবিয়ায় ফিরিয়ে আনা হলে তাতে এনটিসির হিতে বিপরীত হতে পারে। কারণ, এনটিসির অনেক নেতার বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগের প্রমাণ তার কাছে আছে। এনটিসির ওই সব নেতা ছিলেন গাদ্দাফি প্রশাসনের অংশ।  ফলে তাদের বিরুদ্ধেও সেনুসির কাছে আছে দুর্নীতি ও অনিয়মের অসংখ্য প্রমাণ।
ফলে এনটিসির ওই নেতারা চাইবেন না সেনুসিকে লিবিয়ায় ফিরিয়ে আনতে। মানবাধিকার বিষয়ক সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এবং অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলছে, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অধীনে জেনারেল সেনুসিকে আইসিসির কাছে হস্তান্তর করতে বাধ্য মৌরিতানিয়া। অ্যামনেস্টির উত্তর আফ্রিকা বিষয়ক উপ-পরিচালক হাসিবা হাজ শাহরাউয়ি এক বিবৃতিতে বলেছেন, লিবিয়ার বিচার ব্যবস্থা এখনও রয়েছে দুর্বল অবস্থায়। তারা সেনুসির বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আছে তার কার্যকর তদন্ত করতে পারবে না।
 এ অবস্থায় যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী উইলিয়াম হেগ সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন আইসিসি’কে সহায়তা করতে। গত বছর জুনেই জেনারেল সেনুসির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে আইসিসি। তাতে বলা হয়েছে, লিবিয়ায় হত্যা ও মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের সঙ্গে পরোক্ষ সম্পর্ক রয়েছে তার। ১৯৯৬ সালে লিবিয়ার একটি কারাগারে ১ হাজারেরও বেশি বন্দিকে হত্যা করা হয়। এর সঙ্গেও তার যোগসূত্র থাকার অভিযোগ আছে।

বিয়ে: হার্টের কার্যকর ওষুধ!


বিয়েতে কি লাভ? এমন প্রশ্নের জবাবে বিবাহিতরা বলেন, করেই দেখ না। তারকারা বলেন, জীবনে শৃঙ্খলা আসে। এই যে অগোছালো আমি বিয়ে করার পর পুরোপুরি ডিসিপ্লিন্ড হয়ে গেছি। জীবনের দর্শন বদলে গেছে। ইত্যাদি, ইত্যাদি। তারপরও যারা চিন্তিত বিয়ে করা নিয়ে তাদের জন্যই সুখবর। গবেষকরা বলছেন, হার্টের শক্তিশালী ওষুধ বিয়ে। সমপ্রতি দ্য জার্র্নাল অব হেলথ অ্যান্ড সোশ্যাল বিহেভিয়ার-এ প্রকাশিত হয়েছে এক গবেষণা প্রতিবেদন। এতে বলা হয়েছে, হার্টের বাইপাস সার্জারির পর তিন মাস পর্যন্ত বিবাহিতদের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা অবিবাহিতদের চেয়ে তিনগুণ বেশি। তাছাড়া এই তিন মাস আক্রান্ত না হওয়ার পাশাপাশি সার্জারির পর পাঁচ বছর পর্যন্ত বিবাহিতদের হার্টের সুরক্ষামূলক প্রভাব কার্যকর থাকে। গবেষণাটির মূল গবেষক ইমোরি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞানী এলেন ইডলার বলেন, সার্জারি পরবর্তী সঙ্কটজনক সময়ে বিবাহিতদের সারভাইভ করার অনুপাত একটা নাটকীয় ব্যাপার। এলেন আরও বলেন, বিয়েটা এক্ষেত্রে একটি সফল অনুঘটক। রোগী পুরুষ হোক বা মহিলা এতে কোন ভেদাভেদ নেই। নারী-পুরুষ উভয়ের ক্ষেত্রেই কার্যকারিতার প্রমাণ পাওয়া গেছে। সর্বোপরি অবিবাহিতদের মৃত্যুর অনুপাত বিবাহিতদের চেয়ে দ্বিগুণ। গবেষণায় স্বাস্থ্য সঙ্কটের সময় স্বামী-স্ত্রী’র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকার কথা তুলে ধরা হয়। এলেন বলেন, এক্ষেত্রে স্ত্রী’র মতো স্বামীও ভাল গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে থাকে। এতে উল্লেখ করা হয়, বিয়ে বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া দীর্ঘজীবন পাওয়ার উপায় হিসেবে স্বীকৃত ১৮৫৮ সাল থেকে। ওই সময় উইলিয়াম ফার প্রমাণ করেছিলেন, ফ্রান্সে কম বয়সে মারা যাওয়ার প্রবণতা রোধ করছিল বিয়ে। গবেষণাটিতে বলা হয়- বিধবা, চিরকুমার ও ডিভোর্সিদের মৃত্যু ঝুঁকি বেশি। এলেন বলেন, আমরা ৫শ’ সার্জারি ও ইমারজেন্সি রোগীর উপর গবেষণা করে এটি তৈরি করেছি। কেন বিয়ে সঙ্কটময় মুহূর্তের ঝুঁকি কমিয়ে আনে তাও বলা হয়েছে প্রতিবেদনটিতে। এক্ষেত্রে উল্লেখ করা হয়, বিবাহিতরা সার্জারিতে অনেক বেশি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে যায়। যা অবিবাহিতরা পারে না। ব্যথা সহ্য করা, আরাম ছেড়ে কষ্ট তুলে নেয়া ও সার্জারি সম্পর্কে দুশ্চিন্তার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে- বিবাহিতরাই ইতিবাচক জবাব দেয়। এতে বলা হয়, অবিবাহিতরা সার্জারির পর ৫ বছরের মধ্যে ৭০ ভাগ পর্যন্ত মারা যায়। যেটা বিবাহিতদের ক্ষেত্রে অনেক কম। এতে বিবাহিত জুটিদের মধ্যে ধূমপান কম হওয়ার কথাও বলা হয়। যেটা একটা উপকারী দিক। সব শেষে পরামর্শ দেয়া হয় বিষয়টি যখন হার্ট সংক্রান্ত, বিয়েই হবে শক্তিশালী ওষুধ। এখন সিদ্ধান্ত আপনার হাতে বিয়ে করবেন নাকি তাড়াতাড়ি মরবেন।

Sunday, March 18, 2012

রিগ্যান-থ্যাচার: অম্লমধুর সম্পর্ক

 সাবেক বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী মার্গারেট থ্যাচার এবং সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগ্যানের মধ্যকার সম্পর্ক ছিল সাপে নেউলে। ব্যক্তিত্বের ক্ষেত্রেও দু’জনের মধ্যে যথেষ্ট বৈসাদৃশ্য ছিল। বৃটিশ ঐতিহাসিক অধ্যাপক রিচার্ড আলডোয়াসের লেখা একটি বইতে তাদের মধ্যকার এ বৈরী সম্পর্কের বিষয়টি তিনি তুলে ধরেছেন। তবে নিজেদের মধ্যে এমন সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও আশির দশকের বিশ্ব রাজনীতিতে তাদের সম্পর্ক আধিপত্য বজায় রেখেছিল। সম্মিলিত প্রচেষ্টায় তারা তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন ঘটাতে বাধ্য করেছিলেন। এতদিন মনে করা হতো তাদের দু’জনের মধ্যকার সম্পর্ক বেশ স্বাভাবিক এবং বন্ধুত্বপূর্ণ ছিল। কিন্তু রিচার্ড অ্যালডোয়াস লিখেছেন, তাদের মধ্যকার সম্পর্ককে কেবল দীর্ঘদিনের বিবাহিত জীবনের তিক্ত সম্পর্ক বা তার চেয়েও খারাপ কিছুর সঙ্গে তুলনা করা যেতে পারে। থ্যাচার ও রিগ্যানের সম্পর্ককে বেশ কাছে থেকে দেখেছেন এমন বেশকিছু ব্যক্তির মতামত এবং বেশকিছু অপ্রকাশিত নথি প্রকাশিত হবার পর অ্যালডোয়াস তাদের সম্পর্কের ব্যাপারে অনেক তথ্য তুলে ধরেছেন। বৃটিশ স্বার্থের ব্যাপারে রিগ্যানকে সহযোগী মিত্র মনে না করে একজন আপদ বলেই বিবেচনা করতেন থ্যাচার। ওয়াশিংটনে দায়িত্ব পালনকারী সাবেক এক বৃটিশ দূত বলেছেন, প্রেসিডেন্ট রিগ্যান সম্পর্কে থ্যাচারের সত্যিকারের মনোভাবের কথা যদি আমি প্রকাশ করতাম তাহলে তা বৃটিশ-মার্কিন সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতো। তবে তাদের মধ্যকার সম্পর্ক এমন হলেও বরাবরই একে অপরের প্রতি প্রবল শ্রদ্ধাবোধ ছিল। ১৯৭৫ সালে ক্যালিফোর্নিয়া থেকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট প্রার্থী রিগ্যানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন মার্গারেট থ্যাচার। একজন প্রত্যক্ষদর্শী ওই সাক্ষাতের ব্যাপারে বলেছেন, তারা তখন এমনভাবে আলাপ করছিলেন যেন দীর্ঘদিনের বন্ধু। কিন্তু আসলে তাদের মধ্যে স্টাইল এবং ব্যক্তিত্বের দিক থেকে যথেষ্ট ভিন্নতা ছিল। রিগ্যান সব সময় সংক্ষিপ্ত এবং হালকাভাবে যে কোন বিষয় মোকাবিলা করতেন। আর থ্যাচার ছিলেন পলিসিনির্ভর এবং গভীরভাবে বিশ্লেষণ ক্ষমতার অধিকারী। নিজেদের মধ্যে সামঞ্জস্য না থাকলেও দু’দেশের প্রতিনিধি হিসেবে বাইরে তারা নিজেদের গ্রহণযোগ্য করেই উপস্থাপন করতেন। দু’জনের মধ্যে প্রথমবারের মতো প্রকাশ্য বিরোধ দেখা দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তিগত যন্ত্রপাতি সরবরাহের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের মাধ্যমে। বাহ্যত কমিউনিস্ট পোল্যান্ডের  সমালোচকদের শায়েস্তা করতে এ পদক্ষেপে নেয়ার কথা বলা হলেও এর প্রকৃত কারণ ছিল মস্কোর বিরুদ্ধে নিজের অস্তিত্ব জাহির করা। যুক্তরাষ্ট্রের এ নিষেধাজ্ঞার ফলে যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলো ট্রান্সসাইবেরিয়ান গ্যাস পাইপলাইন নির্মাণে ২০০ মিলিয়ন পাউন্ড ক্ষতির মুখে পড়ে। থ্যাচার অবশ্য এর প্রতিবাদে ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ ঝেড়েছিলেন। ১৯৮২ সালে ফকল্যান্ডে আর্জেন্টিনার আগ্রাসনের সময় তাদের মধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো মতবিরোধ হয়েছিল। থ্যাচার কারও পরামর্শ না মেনেই সেখানে অভিযান অব্যাহত রেখেছিলেন। রিগ্যান প্রশাসন ফকল্যান্ডস যুদ্ধে বৃটেনকে সহযোগিতা করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল। কিন্তু বৃটিশ বাহিনী আর্জেন্টিনা বাহিনীকে পরাজিত করার মাধ্যমে থ্যাচার বিশ্বকে দেখিয়ে দিয়েছিলেন তিনি উপেক্ষা করার পাত্রী নন। রিগ্যানও অবশ্য তখন থ্যাচারের ভূমিকার প্রশংসা না করে পারেননি। থ্যাচারের সঙ্গে রিগ্যানের সম্পর্কের ব্যাপারে তার নিজের মনোভাব ছিল- তিনি একজন নারী। তিনি অনেক কথা বলতে চান। তাই তিনি (রিগ্যান) তাকে তার (থ্যাচার) নিজের মতো করে কাজ করতে দিতেই স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন।