Tuesday, July 10, 2012

কর ফাঁকি দেয়ায় পতিতার কারাদণ্ড

বৃটেনে উচ্চশ্রেণীর এক পতিতাকে ১২০০০০ পাউন্ডের কর ফাঁকি দেয়ার অপরাধে ১৬ মাসের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। ২৯ বছর বয়সী ডোনা আসুসটেইট তিন বছর ধরে পতিতাবৃত্তি করে ৩০০০০০ পাউন্ড আয় করলেও কর আদায় কারীদেরকে তিনি একটি পয়সাও দেননি। ডেইলি সান এক রিপোর্টে জানিয়েছে, ২০০৫ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত পতিতা হিসেবে কাজ করে তিনি লন্ডনে একটি ফ্ল্যাট কেনার জন্যও অর্থ জমা দিয়েছেন। পুলিশ তার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ৭৩০০০ পাউন্ড নগদ এবং বেশ কিছু দামী জুয়েলারি উদ্ধার করেছে। এসবই তার গ্রাহকদের দেয়া বলে দাবি করা হয়েছে। সাউথ ওয়ার্ক ক্রাউন আদালতকে ডোনা জানিয়েছেন, ওয়েস্টমিনস্টার ইউনিভার্সিটিতে মাস্টার ডিগ্রিতে অধ্যয়নের সময় পড়ার খরচ জোগাতেই তিনি এ পেশায় নেমেছিলেন। তবে আইনজীবী জোনাথান পলনে বলেছেন, ডোনা তার পেশার দায়িত্ব পালনের সময় একবারও আয়কর রিটার্ন জমা দেননি। ডোনা নিজেও এ ধরনের অপরাধের কথা স্বীকার করেছেন। আইনজীবী বলেছেন, অভিযুক্ত ডোনা কয়েক বছর ধরেই একজন পতিতা হিসেবে কাজ করেছেন এবং এ কাজের মাধ্যমে তিনি উল্লেখযোগ্য পরিমাণে অর্থ আয় করেছেন। ওই অর্থ দিয়ে তিনি একটি ফ্ল্যাটও কেনার উদ্যোগ নিয়েছেন। এতে মনে হচ্ছে তার কাছে যথেষ্ট পরিমাণে অর্থ রয়েছে। এর জবাবে ডোনার আইনজীবী আদালতে বলেছেন, এ মামলার কারণে ডোনার পরিবার বেশ বিব্রতকর পরিস্থিতির সম্মুখীন হবে। তিনি বলেন, কর ফাঁকির জন্য মামলা হচ্ছে সেটা কোন বিষয় নয়। ডোনা যে পতিতাবৃত্তির মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করছেন সেটা তার পরিবারের কেউ জানতেন না। তবে বিচারের রায়ে আদালত বলেছেন, ডোনা যেহেতু ইচ্ছে করে দীর্ঘ সময় ধরে কর ফাঁকি দিয়েছেন, তাই বিচারে তাকে কারাদণ্ড দেয়া হলো।

অভিনেত্রী লায়লা খান হত্যার তদন্ত শুরু

অভিনেত্রী লায়লা খান ও তার পরিবারকে হত্যা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে মুম্বই ক্রাইম ব্রাঞ্চ। তারা ওই ঘটনায় পারভেজ আহমেদ তাক নামে প্রধান অভিযুক্তকে নিরাপত্তা হেফাজতে নেয়ার পরই শুরু করেছে তদন্ত। ইউনিট-৯ এবং ইউনিট-১২ এর সমন্বয়ে গঠিত ৭ সদস্যের একটি টিম এরই মধ্যে আইগপুরির বাড়িতে অভিযান চালিয়েছে। সম্প্রতি অভিনেত্রী লায়লা খান নিখোঁজ হয়ে যান। তখন মিডিয়ায় অনেক কথাই ছড়িয়ে পড়ে। বলাবলি হয়, তার সঙ্গে ভারতের দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী আন্ডারওয়াল্ড ডন দাউদ ইব্রাহিমের সম্পর্ক আছে। তিনি কাউকে কিছু না বলে একটি ভুয়া পাসপোর্ট ব্যবহার করে দুবাই চলে গেছেন দাউদ ইব্রাহিমের কাছে। কিন্তু এ ঘটনায় সন্দেহজনকভাবে গ্রেপ্তার করা হয় পারভেজ আহমেদ তাককে। সে স্বীকার করে লায়লা ও তার পরিবারের সদস্যদের খুনের কথা। তার দেয়া তথ্যে ভিত্তিতে কোথায় খুন করা হয়েছে এবং মৃতদেহ কোথায় রাখা হয়েছে তার সন্ধানে হন্যে হয়ে ঘুরছে পুলিশ। এ ঘটনায় পুলিশ পারভেজের গাড়ির চালক জোলি গিল্ডার ও মেহবুবকে আটক করেছে। তাদেরকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে কিস্টওয়ারে।

স্তন ক্যান্সারের সহজ অপারেশন

স্তান ক্যান্সারে আক্রান্ত নারীরা বড় ধরনের অপারেশনের হাত থেকে রক্ষা পাবেন। এর জন্য বিজ্ঞানীরা মাত্র ১০ মিনিটের একটি অপারেশন পদ্ধতি আবিষ্কার করেছেন। ভারতের একটি অনলাইন ট্যাবলয়েড পত্রিকা এ খবর দিয়ে আরও জানায়, রোগিরা যখন লোকাল এনেস্থেসিয়া বা অঙ্গবিশেষ অবস অবস্থায় অবস্থায় থাকবেন তখন পেন্সিল আকৃতির একটি একটি যন্ত্র টিউমারের ভিতরে ঢুকিয়ে দিয়ে তাতে তরল নাইট্রোজেন ঢেলে দেয়া হবে। এর ফলে টিউমারটি একটি গলিত বলের মতো আকৃতি ধারণ করবে এবং তা কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে বের করে আনা হবে। ফলে রোগিরা বাড়ি চলে যেতে পারবেন। বর্তমানে এক্ষেত্রে অপারেশনের যে পদ্ধতি আছে তাতে স্তন ক্যান্সারের বিশেষ করে টিউমারের অপারেশনে ৩ ইঞ্চি পরিমাণ ত্বক কাটা হয়। তাতে স্থায়ী একটি দাগ পড়ে। কিন্তু নতুন পদ্ধতিতে স্তনের টিউমার যখন নাইট্রোজেন দিয়ে গলিয়ে ফেলা হবে তখন সেখানকার মৃত কোষগুলোকে শরীরের অন্যান্য অংশ টেনে নিয়ে স্বাভাবিক উপায়ে দেহ থেকে বের করে দেবে। এতে স্তন থাকবে সুগঠিত। এমন চিকিৎসা করেছেন এমন এক চিকিৎসক বলেছেন, নতুন এ প্রযুক্তিতে অপারেশনের পর রোগিরা বাড়ি চলে যান। তবে তাদের স্তনে কমই দাগ দেখা যায়। এ চিকিৎসা এ বছরের শেষের দিকে শুরু হবে বৃটেনে। যুক্তরাষ্ট্রের কানেকটিকাটে ব্রিজপোর্ট হাসপাতালের ডা. অ্যানড্রু কেনলার বলেছেন, একবার কোন রোগি এ চিকিৎসা করালে তিনি স্বীকার করবেন এটা একটি চমৎকার পদ্ধতি। এ পদ্ধতিতে আমরা টিউমারের বায়োপসি করে কয়েক মিনিটের মধ্যেই তার চিকিৎসা দিই। কয়েক দিন পরে আর বোঝাই যায় না কোথায় অপারেশন করা হয়েছে।

সাবধান! ডিএনএস চেঞ্জার!!

সারাবিশ্বে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরা আতঙ্কে। সক্রিয় হতে পারে ভয়াবহ একটি ভাইরাস ‘ডিএনএস চেঞ্জার’। এর আক্রমণে নষ্ট হয়ে যেতে পারে লাখ লাখ কম্পিউটার। এর ব্যবহারকারীরা ইন্টারনেট সংযোগ হারাতে পারেন। ফলে তারা তাদের কম্পিউটারকে আজ এই ভয়াবহ হামলার মুখ থেকে বাঁচাতে পারবেন কিনা তা নিয়ে প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের কাছে আজকের দিনটিকে ‘কম্পিউটারের কিয়ামত’ দিবস হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের পরামর্শ দিয়েছে তাদের নিরাপত্তা বিষয়ক সাইট যঃঃঢ়://িি.িফপমি.ড়ৎম ব্রাউজ করতে। এই সাইটে গিয়ে জানা যাবে, কারও কোন কম্পিউটার আক্রান্ত হয়েছে কিনা এবং এ সমস্যা সমাধানের পথ কি। এতে বলা হয়েছে, যেসব কম্পিউটার আক্রান্ত হবে তাতে আজকের পর থেকে কোন ইন্টারনেট সংযোগ কাজ করবে না। তবে গতকাল এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কোন কম্পিউটার আক্রান্ত হয়েছে কিনা তা জানা যায়নি। এপ্রিলে যুক্তরাষ্ট্রের হাফিংটন পোস্ট রিপোর্ট করেছিল, এরই মধ্যে সমস্যা শুরু হয়ে গেছে। কারণ আন্তর্জাতিক পর্যায়ের কম্পিউটার হ্যাকাররা অনলাইনে তখনই বিজ্ঞাপন দিয়েছিল আক্রান্ত কম্পিউটার তাদের নিয়ন্ত্রণে নেয়ার। ওই বিজ্ঞাপনের পর এফবিআই একটি নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেয়। তারা দেখতে পান হ্যাকাররা যে ভাইরাস দিয়ে কম্পিউটারে এই হামলা চালানোর ঘোষণা দিয়েছে তা একবার যথাযথভাবেও বন্ধ করা হলে পরে তাতে আর ইন্টারনেট সংযোগ কাজ করবে না। আজ এই ঝুঁকির মুখে রয়েছেন বিশ্বের প্রায় ৩ লাখ ইন্টারনেট ব্যবহারকারী। ‘ডিএনএস চেঞ্জার’ নামে একটি ভাইরাস সক্রিয় হতে পারে আজ। এরই মধ্যে শুধু যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৭০ হাজার ইন্টারনেট ব্যবহারকারী ঝুঁকিতে রয়েছেন। ২০০৭ সালে প্রথম এ ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয় বেশ কিছু কম্পিউটার। প্রথম পর্যায়ে এটি কম্পিউটারের ডিএনএস সেটিংসকে পরিবর্তন করে দেয়। ফলে ব্যবহারকারীরা নিজেদের অজান্তেই ঢুকে পড়েন ক্ষতিকর ওয়েবসাইটগুলোতে। কারণ, ম্যালওয়্যারটি কম্পিউটার নিয়ন্ত্রণ করে ও ব্যবহারকারীকে ভুল নির্দেশনা দেয়। এমনকি অ্যান্টিভাইরাস বা অপারেটিং সিস্টেমের সিকিউরিটি আপডেটের ওয়েবসাইটগুলোতে ঢুকতে বাধা দেয় ডিএনএস চেঞ্জার ম্যালওয়্যারটি। একটি চক্র এ ম্যালওয়্যারকে নিজেদের অসাধু উদ্দেশ্যে কাজে লাগিয়ে হাতিয়ে নেয় বহু টাকা। ২০১১ সালে এ চক্রের ৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। যাদের কম্পিউটারে এখনও ম্যালওয়্যারটি রয়ে গেছে, আজই তা ফের সক্রিয় হবে। এরই মধ্যে বেশ কয়েকটি ওয়েবসাইটে ডিএনএস চেঞ্জার ম্যালওয়্যার শনাক্ত ও তা অপসারণের পথ বাতলে দেয়া হয়েছে। গুগল-ও গত মে মাস থেকে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের সতর্ক করছে। জুনে ফেসবুকও একই পথ অনুসরণ করে।

নৃশংস এক হত্যাকাণ্ড

গায়ে একটি শাল জড়িয়ে দেয়া হয়েছে। ফাঁকা একটি স্থানে সেই শাল গায়ে পিছন ফিরে নিচের দিকে মাথা রেখে বসে আছেন এক নারী। তাকে লক্ষ্য করে রাইফেল তাক করছে এক তালেবান সদস্য। রাইফেলের ট্রিগারে হাত রেখে ধীর পায়ে সে এগিয়ে যাচ্ছে ওই নারীর দিকে। তার কাছাকাছি গিয়ে তার ট্রিগার নড়ে ওঠে। সঙ্গে সঙ্গে ৫টি গুলি গিয়ে বিদ্ধ হয় ওই নারীর শরীরে। তিনি আর্তনাদ করে কাত হয়ে পড়ে গেলেন মাটিতে। সেখানেই সমাপ্তি ঘটলো তার জীবনের। এ দৃশ্য প্রত্যক্ষ করতে সমবেত হয়েছিল ১৫০ জনের মতো মানুষ। এসব দৃশ্য ধারণ করে ৩ মিনিটের একটি ভিডিও ছেড়ে দেয়া হয়েছে ইন্টারনেটে। ঘটনা আফগানিস্তানের পারওয়ান প্রদেশের। ওই প্রদেশের এক নারী কাবুলে প্রকাশ্যে ব্যভিচারিতার দায়ে অভিযুক্ত। এ অভিযোগে শাস্তি হিসেবে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা হয়েছে তাকে। পারওয়ান প্রদেশে ওই ঘটনার জন্য দায়ী করা হয়েছে তালেবানদের। ওই ভিডিওটি সেন্সর করে ফের অনলাইনে প্রকাশ করেছে অনলাইন আল জাজিরা। তাতে দেখা গেছে, মাথায় পাগড়ি পরা এক ব্যক্তি হাঁটু গেঁড়ে বসা ওই নারীর দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। একটি ফাঁকা স্থানে ওই নারীকে বসিয়ে রাখা হয়েছে। তিনি বসে আছেন পিছন ফিরে। অস্ত্র হাতে তার কাছে এগিয়ে গিয়ে স্বয়ংক্রিয় রাইফেল থেকে ওই নারীর দিকে ৫টি গুলি ছোড়ে। এ দৃশ্য প্রত্যক্ষ করতে সমবেত হয়েছিল ১৫০ মানুষ। গুলির দৃশ্য দেখে তারা উল্লাস করেছে। অস্ত্র হাতে ওই নারীর কাছে যখন ওই ব্যক্তি এগিয়ে যাচ্ছিল তখন সমবেতদের একজন বলে ওঠে- ব্যভিচারিতা অন্যায়। তাই এ থেকে আমাদের দূরে থাকার জন্য সতর্ক করেছেন আল্লাহ। তার নির্দেশ মেনেই এই নারীকে হত্যা করা হচ্ছে। পারওয়ান প্রদেশের গভর্নর বছির সালাঙ্গি বলেছেন, ওই ভিডিওটি শিনওয়ারি জেলার কিমচোক গ্রামে এক সপ্তাহ আগে ধারণ করা হয়েছিল। গ্রামটি কাবুল থেকে কয়েক ঘণ্টার পথ। প্রকাশ্যে এমন শাস্তির ঘটনা ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল সময়কালের আফগান সরকারের প্রকাশ্য নৃশংস শাস্তির কথা মনে করিয়ে দেয়। তালেবান বিরোধী ন্যাটোর ১১ বছরের অভিযানে তাহলে আফগানিস্তান কি অর্জন করেছে তা নিয়ে প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। গভর্নর বছির সালাঙ্গি বলেছেন, যখন আমি এই ভিডিওটি দেখতে গিয়েছি তখনই চোখ বন্ধ করতে হয়েছে। এত ভয়ঙ্কর দৃশ্য কি করে দেখা যায়! তবে ওই নারীকে আমার কাছে দোষী মনে হয়নি। আমার মনে হয়েছে, দোষী হলো ওই তালেবান।

পুরুষে-পুরুষে বিয়ে, প্রথম সমকামী মার্কিন কংগ্রেস সদস্য বারনি

 দীর্ঘদিন আগে তাদের দেখাশোনা। তারপর থেকে চলছে চুটিয়ে প্রেম। কোন রাখঢাক নেই। একেবারে প্রকাশ্যে। নির্বাচনী তহবিল সংগ্রহের এক অনুষ্ঠানে তাদের দেখা হয়েছিল ২০০৫ সালে। তারপর থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্রেট দলের রিপ্রেজেন্টেটিভ বারনি ফ্রাঙ্ক ও কার্পেন্টার জিম রেডির প্রেম। কিন্তু এবার তারা সেই প্রেমকে বাস্তবে রূপ দিলেন। তারা বিয়ে করে ফেললেন। কেউ ভাবতে পারেন- প্রেম, তারপর বিয়ে। এতো স্বাভাবিক বিষয়। কিন্তু বারনি ফ্রাঙ্ক ও জিম রেডির বিয়ে ব্যতিক্রম। তারা দু’জনেই পুরুষ। তাদের মধ্যে ২০০৫ সাল থেকে চলছে সমকামিতা। সমকামী সেই দুই পুরুষ বিয়ে করেছেন বলে বিশ্বমিডিয়ায় চলছে তোলপাড়। তাও তারা যে-সে নন, তারা যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের নিম্ন কক্ষ বলে পরিচিত প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য। এজন্যই আলোচনাটা এত বেশি। ওই সমকামী দম্পতির মধ্যে বারনি ফ্রাঙ্ককে বিয়ে করেছেন জিম রেডি। অর্থাৎ জিম রেডি হলেন স্বামী। বারনি ফ্রাঙ্ক স্ত্রী। জিমের বয়স ৪২ বছর। ফ্রাঙ্কের বয়স ৭২ বছর। তারা শনিবার ম্যাসাচুসেটসটের নিউটনে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হলেন। চার্লস নদীর পাড়ে ওই বিয়েতে তেমন জাঁকজমক ছিল না। এতে উপস্থিত ছিলেন ম্যাসাচুসেটসের গভর্নর ডেভাল এল. প্যাট্রিক। অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রতিনিধি পরিষদের সাবেক স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি, সিনেটর জন কেরি এবং প্রতিনিধি ডেনিস জে. কুচিনিচ ও স্টেনি এইচ. হোয়ার। সমকামী দম্পতীর মধ্যে বারনি ফ্রাঙ্ক ১৯৮৭ সালে ম্যাসাচুসেটসের ডেমোক্রেট নেতা নির্বাচিত হন। কংগ্রেসে তিনিই প্রথম সমকামী নেতা। তিনি বিয়ে করতে পেরে তো খুশিতে আটখানা। তারা ২০০৫ সালের সেই অর্থ সংগ্রহের অনুষ্ঠানের সময় সাক্ষাতের কথা স্মরণ করে অভিভূত হন- যেমনটা হন প্রেমিক-প্রেমিকা। তাদের দেখা হয়েছিল ৫ মিনিটেরও কম সময়। এরই মধ্যে তারা একে অন্যকে ভালবেসে ফেলেছিলেন। তবে শনিবার বিয়ের পরও তারা বলেছেন, তারা একে অন্যকে ভালবেসে যাবেন।

Sunday, July 8, 2012

যৌন বাণিজ্য প্রতিরোধে নিউ ইয়র্কে ট্যাক্সি চালকদের জন্য নতুন আইন

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো নিউ ইয়র্কে বাড়ছে যৌন বাণিজ্য। এতে যারা জড়িত তারা ট্যাক্সিক্যাব চালকদের নিয়ে গড়ে তুলেছে একটি চক্র। এই ব্যবসা প্রতিরোধে নিউ ইয়র্ক কর্তৃপক্ষ একটি আইন করছে। এই আইনের অধীনে কোন ট্যাক্সিক্যাব চালক যদি তার ট্যাক্সির আরোহীকে সন্দেহজনক কোন নারী হিসেবে চিহ্নিত করতে পারেন অথবা বুঝতে পারেন ওই নারী যৌন বাণিজ্যে লিপ্ত তাহলে কর্তৃপক্ষকে একটি সংকেতের মাধ্যমে জানাতে বলা হচ্ছে। যদি কোন ট্যাক্সি চালককে এ ব্যবসায় জড়িত পাওয়া যায় তাহলে তার লাইসেন্স বাতিল করা হবে। পাশাপাশি তাকে ১০ হাজার ডলার পর্যন্ত জরিমানা করা হবে। আগামী তিন মাসের কম সময়ের মধ্যে এই আইন কার্যকর করা হবে। নগর পরিকল্পনা অনুসারে যেসব ট্যাক্সিক্যাব ভাড়ায় চলে তার চালকদের এ বিষয়ে দেয়া হবে প্রশিক্ষণ। যারা যৌন ব্যবসার সঙ্গে জড়িত তাদের কিভাবে ধরতে হবে তা ভিডিও চিত্রের মাধ্যমে শেখানো হবে। নিউ ইয়র্কের ট্যাক্সিক্যাব চালকরা জানান, যৌন ব্যবসা সংক্রান্ত আইন প্রয়োগ অবশ্যই দরকার। কিন্তু তা বাস্তবায়ন পদ্ধতি প্রশ্নবিদ্ধ। মাইকেল ডিক নামের এক ট্যাক্সিচালক বলেন, বুঝতে পারছি না এই আইন কিভাবে আমাদের ওপর চাপিয়ে দিচ্ছে কর্তৃপক্ষ। এর চেয়ে ভাল পদ্ধতি ছিল হর্ন বাজানো পদ্ধতি। এতে সহজেই পুলিশ কিংবা কর্তৃপক্ষকে ঘটনা সম্পর্কে বোঝানো যেত। নিউ ইয়র্ক শহরের ট্যাক্সিক্যাব চালকরা যে যৌন ব্যবসায় জড়িত তার খুব কম ঘটনাই নজরে এসেছে। যৌন ব্যবসা বিরোধী সংগঠন ‘স্যাংচুয়ারি ফর ফ্যামিলিস’-এর কর্মকর্তা ডর্চেন লেইডহোল্ট বলেন, যৌন ব্যবসার সঙ্গে নিউ ইয়র্ক শহরের ট্যাক্সিক্যাব চালকদের সংশ্লিষ্টতা দিন দিন বাড়ছে। এর কারণ, আগে বাড়ি বাড়ি নারী ও যুবতীদের জোর করে আটকে রেখে তাদের দিয়ে দেহ ব্যবসা করানো হতো। কিন্তু সমপ্রতি পুলিশ এসব আস্তানায় অভিযান বাড়িয়ে দিয়েছে। ফলে দেহ ব্যবসায় জড়িত চক্র ব্যবসার নতুন কৌশল অবলম্বন করছে। তারা এক্ষেত্রে ব্যবহার করছে ট্যাক্সিক্যাব চালকদের। এ ব্যবসা যারা নিয়ন্ত্রণ করে তাদের সঙ্গে কোন কোন ক্ষেত্রে ট্যাক্সি ক্যাব চালকদের রয়েছে সংশ্লিষ্টতা। ওই চালকরা নারী বা যুবতীদের হোটেল থেকে হোটেলে, এক রাস্তা থেকে আরেক রাস্তায়, এক আস্তানা থেকে আরেক আস্তানায় স্থানান্তর করে। ফলে নিউ ইয়র্ক সিটি কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি এখন ওই ট্যাক্সিক্যাব চালকদের দিকে। তাই নতুন আইনে তাদেরকেই টার্গেট করা হয়েছে। ডর্চেন লেইডহোল্ট বলেছেন- যৌন হয়রানির শিকার নারীরা বারবার বলছেন, যৌন ব্যবসায়ী চক্রের কাছে তারা জিম্মি। ট্যাক্সিক্যাব চালকরা তাদের অনবরত নিরাপত্তাহীন অবস্থায় এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায়, এক রাস্তা থেকে আরেক রাস্তায়, এমনকি পতিতালয়ে পৌঁছে দিচ্ছে। এই চালকরা সব সময়ই ব্যবসায়ীদের ঘনিষ্ঠতায় থাকে। যেটি শুধু নিউ ইয়র্ক শহর কিংবা নিউ ইয়র্ক প্রদেশে নয় সারা বিশ্বের একটি বড় সমস্যা। ট্যাক্সিক্যাব চালকরা যৌন ব্যবসার নেটওয়ার্কের একটি বড় অংশ বলে জানাচ্ছে যৌন হয়রানির শিকার নারীরা। ডর্চেন লেইডহোল্ট আরও বলেন, চালকরা যৌন ব্যবসার সঙ্গে জড়িত পুরো নেটওয়ার্ক সম্পর্কে কর্তৃপক্ষ ও পুলিশকে জানাতে বড় ভূমিকা পালন করতে পারে। এ বাণিজ্য প্রতিরোধ করতে নিউ ইয়র্ক কর্তৃপক্ষ নতুন ওই আইনটি করার উদ্যোগ নিয়েছে। কিন্তু তা নিয়ে সমালোচনা আছে বিস্তর। বিরোধীরা বলছেন, এক্ষেত্রে ভাষা একটি বড় বাধা হয়ে দাঁড়াবে। কারণ, ট্যাক্সিক্যাবে কোন নারী বা যুবতী আরোহণ করলে তার ভাষা সবক্ষেত্রে বুঝতে পারবে না ট্যাক্সিক্যাব চালক। ফলে তার দণ্ডিত হওয়ার ঝুঁকি বেশি থেকে যায়।