
চলন্ত বাসের ভেতরে এক যুবতীকে গণধর্ষণের ঘটনা নিয়ে
তোলপাড় চলছে ভারতে। বিষয়টি নিয়ে পার্লামেন্টে উত্তপ্ত বিতর্ক হয়েছে।
পরিস্থিতি দেখে কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী নাখোশ। তিনি কেন্দ্রীয়
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুশীল সিন্ধে ও দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী শিলা দিক্ষীতকে কড়া
ভাষায় চিঠি লিখেছেন। তাতে এ ঘটনাকে ‘লজ্জাজনক’ বলে অভিহিত করেছেন। বলেছেন,
এ বিষয়ে ত্বরিত পদক্ষেপ নিতে। ওদিকে অল ইন্ডিয়া ডেমক্রেটিক ওমেন্স
এসোসিয়েশন নয়া দিল্লিতে বিক্ষোভ করেছে। প্রতিবাদ হয়েছে পুলিশ সদর দপ্তরে ও
বহুল আলোচিত যন্তরমন্তরে। গতকাল বার্তা সংস্থা পিটিআই যখন এ খবর জানায় তখনও
ধর্ষিতা রয়েছেন সঙ্কটাপন্ন অবস্থায়। এ ঘটনায় জড়িত চারজনকে আটক করেছে
পুলিশ। তার মধ্যে গতকাল দিল্লি পুলিশ মুকেশ সিং, পবন গুপ্ত ও বিনয় শর্মাকে
আদালতে তোলে। সেখানে এর মধ্যে দু’জন নিজেদের দোষ স্বীকার করেছে। বিনয়
আদালতে দোষ স্বীকার করে নিজেই বলেছে- এ জন্য আমার ফাঁসি হওয়া উচিত। ঘটনার
মূল নায়ক বাসচালক রাম সিংকে ৫ দিনের জন্য পুলিশি হেফাজতে দেয়া হয়েছে।
সোনিয়া গান্ধীর চিঠি পেয়ে গতকালই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুশীল সিন্ধে ও দিল্লির
পুলিশ কমিশনার নীরাজ কুমার বৈঠক করেছেন। তারা বৈঠকে বেশ কিছু সিদ্ধান্ত
নিয়েছেন। তার মধ্যে রয়েছে- সব বাস থেকে রঙিন গ্লাস সরিয়ে ফেলা হবে। পর্দাও
সরিয়ে ফেলা হবে। সব বাসে এখন থেকে চালকদের মোবাইল ফোন নম্বর ও লাইসেন্স
নম্বর মোটা হরফে লেখা থাকবে। সমপ্রতি এক বন্ধুর সঙ্গে বাসে করে বাসায় ফেরার
পথে বাসের ভেতরে কমপক্ষে ৬ জন মিলে গণধর্ষণ করে ২৩ বছর বয়সী ওই যুবতীকে।
তিনি একটি প্যারামেডিকের ছাত্রী। এ সময় তাকে প্রহারও করে তারা। তার
বন্ধুকেও প্রহার করে। তারপর তাদের বাস থেকে বাইরে ফেলে দেয়। ওই যুবতীকে
উদ্ধার করে ভর্তি করানো হয়েছে নয়া দিল্লির সফদারগঞ্জ হাসপাতালে। এ নিয়ে
সারা ভারতে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া হলে মঙ্গলবার রাতে সোনিয়া গান্ধী তাকে দেখতে
ওই হাসপাতালে যান। এ সময় তিনি কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার ঘোষণা দেন। তিনি দৃঢ়তার
সঙ্গে বলেন, এই রকম হায়েনার অপরাধ আর ঘটতে দেয়া যাবে না। তিনি ১৫ থেকে ২০
মিনিট অবস্থান করেন হাসপাতালে। এ সময় কথা বলেন চিকিৎসক ও নির্যাতিতার
পিতা-মাতার সঙ্গে। চিকিৎসকরা তাকে জানান, ধর্ষিতার অবস্থা আশঙ্কাজনক। সেখান
থেকে ফিরে তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে চিঠিতে লেখেন- ‘এ ঘটনা আমাদের জন্য
লজ্জাজনক। এই দেশের রাজধানীতে একটি চলন্ত বাসের ভেতর একজন যুবতীর ধর্ষিত
হওয়ার জন্য দায়ী আমরা, আমাদের নিরাপত্তা। এ ঘটনাকে তিনি দানবীয় অপরাধ
হিসেবেও অভিহিত করেন। এ ঘটনায় শুধু বিশ্বজুড়ে নিন্দা জানানো হচ্ছে না,
সরকারেরও অতি জরুরি ভিত্তিতে এ বিষয়ে মনোযোগ দিতে হবে। আমাদের মেয়ে, বোন ও
মায়েরা প্রতিদিন যেসব বিপদ মোকাবিলা করছেন, সে বিষয়ে পুলিশ ও অন্য
সংস্থাগুলোকে সচেতন থাকতে হবে। এ জন্য নিরাপত্তা রক্ষাকারী সংস্থাগুলোকে
প্রশিক্ষণ দিতে হবে। প্রয়োজনীয় অস্ত্র দিতে হবে। আমি আশা করব, এসব বিষয়ে
আপনি জরুরি ভিত্তিতে পদক্ষেপ নেবেন। শিলা দিক্ষীতকে লেখা চিঠিতেও তিনি একই
রকম ক্ষোভ প্রকাশ করেন। ওদিকে এখনও কিভাবে এই অপরাধের রহস্য অনুদঘাটিত থাকে
তা জানতে চেয়ে পুলিশের প্রতি সুয়োমোটে জারি করেছেন দিল্লির হাইকোর্ট।
প্রধান বিচারপতি ডি. মুরুগেস্বানের সভাপতিত্বে পরিচালিত হাইকোর্টের বেঞ্চ
গতকাল শহরের পুলিশ কমিশনারকে দুই দিনের মধ্যে বিস্তারিত রিপোর্ট দেয়ারও
নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এর আগেই সুপ্রিম কোর্ট সম্পূর্ণ রঙিন গ্লাস ওয়ালা
যানবাহন বন্ধ করতে নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু তা বাস্তবায়িত হয়নি। কেন হয়নি
সে বিষয়েও আদালত দিল্লি পুলিশের কাছে জানতে চেয়েছেন। আটক চারজনের মধ্যে
তিনজন- মুকেশ সিং, পবন গুপ্তা ও বিনয়কে গতকাল সাকেটের এক আদালতে হাজির করা
হয়। আদালত পবন ও বিনয়কে চারদিন করে পুলিশি রিমান্ডে দিয়েছেন। মুকেশকে
পাঠানো হয়েছে ১৪ দিনের নিরাপত্তা হেফাজতে। বিনয় শর্মার বিরুদ্ধে অভিযোগ সে
ধর্ষিতার পুরুষ বন্ধুকে প্রহার করেছে। এ কথা স্বীকার করে বিনয় নিজেকে ফাঁসি
দেয়ার আবেদন জানায় আদালতে। পবনও জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। কিন্তু
ঘটনার মূল আসামি রাম সিংয়ের ভাই মুকেশ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

বিয়ের জন্য পাত্রী খোঁজার প্রচলিত নিয়মগুলো (পত্রিকায়
বিজ্ঞাপন, আত্মীয় বা ঘটকের মাধ্যমে খোঁজা) বাদ দিয়ে অভিনব এক পদ্ধতি
অবলম্বন করেছেন ৮২ বছর বয়সী বৃটিশ স্যান্ডি ম্যাককুলখ। ‘একজন স্ত্রী
প্রয়োজন (ওয়ান্টেড এ ওয়াইফ)। আগ্রহী প্রার্থীকে অবশ্যই ষাটোর্ধ্ব, বইপ্রেমী
ও কৌতুক-রসাত্মক হতে হবে’। ইংরেজি পৃষ্ঠা ৫ কলাম ৫
বড় হাতের অক্ষরে
লেখা প্ল্যাকার্ডটি গলায় ঝুলিয়ে নিজ মনে কাজ করে যাচ্ছেন। একই সঙ্গে
প্রেয়সীর জন্য দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন সবার। প্রথম দেখে কৌতুক মনে হলেও ম্যাক
বলছেন, এটা কোন কৌতুক নয়। সত্যিকার অর্থেই নিজের জন্য পাত্রী খুঁজছেন। তিনি
জানান, মানুষ ২০-২৫ বছর বয়সে বিয়ের জন্য পাত্রী খোঁজেন। তবে আমি চাইছি
একটা সাহচর্য। প্রথম জীবনে বয়স মাত্র ৪০ বছর হওয়ার আগেই তিনটি বিয়ে করেন
ম্যাক। একে একে সব স্ত্রীই তাকে ডিভোর্স দিয়ে চলে যান। ফলে এখন তিনি খুবই
সতর্ক। এক সময়ে বিশ্ব ভ্রমণ করা ম্যাক পুরনো ভুল আর করবেন না বলে জানান।
যৌবনকালে বেশি আবেগপ্রবণ ছিলেন। কিন্তু এখন তিনি জানেন সম্পর্ক রক্ষায় কি
কি কাজ করা উচিত। ডেইলি মেইলকে ম্যাক জানান, নিজের জন্য একটি পাত্রী খুঁজে
পাচ্ছিলেন না বহুদিন ধরে। গত মাসে সামারিটান আঞ্চলিক মেডিকেল সেন্টারে সাদা
চুলের এক বৃদ্ধ স্বেচ্ছাসেবী তাকে অভিনব এই পদ্ধতি অবলম্বনের পরামর্শ দেন।
পরে একই বয়সী আরেকজন স্বেচ্ছাসেবীও একই পরামর্শ দিলে বিষয়টি মনঃপূত হয়
তার। স্বেচ্ছাসেবীরা তাকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, কি সহায়তা প্রয়োজন। জবাবে
একজন স্ত্রী দরকার জানালে স্ত্রী খুঁজে নেয়ার অভিনব পদ্ধতিটি বাতলে দেন
তারা। পরে নিজের সাদামাটা পছন্দ বইপ্রেমী ও কৌতুকপ্রেমী স্ত্রী খুঁজতে
পরামর্শমতো গলায় প্ল্যাকার্ড ঝুলিয়ে দেন ম্যাক। বৃটেনের বার্ভালিসে বাস করা
বই বিক্রেতা ম্যাক জানান, তার অভিনব বিজ্ঞাপনে সাড়া পড়েছে। বিভিন্ন বয়সের
নারীরা তার সঙ্গে কথা বলা শুরু করেছেন। স্ত্রী খুঁজে পেতে সহায়তা করার
আশ্বাস দিয়েছেন অনেকে। অনেকে ম্যাকের সঙ্গে ছবি তুলছেন। এর মধ্যে দুই মহিলা
তার সঙ্গে নিয়মিত লাঞ্চ করতে আসার ওয়াদা দিয়েছেন। তবে কি একাধিক হবু
স্ত্রী বাজিয়ে দেখতে চাইছেন বিশ্বভ্রমণকারীকে। বর্তমানে টুকটাক গল্প লেখা ও
বই বিক্রি করে বেশ আয় হয় তার। ফলে সংসার চালাতে কোন সমস্যা নেই। আধুনিক
যুগের ম্যাক প্রাচীন নিয়মে বিশ্বাস করেন। ফলে লেখালেখি হাতেই করেন। বাকি
জীবনও চ্যাট নয় গল্প করেই হবু স্ত্রীর সঙ্গে জীবন কাটাতে চান তিনি।

বৃটিশ ভারতের সর্বশেষ ভাইসরয় লর্ড লুইস
মাউন্টব্যাটেনের স্ত্রী এডুইনা মাউন্টব্যাটেন। বহু পুরুষের সঙ্গে ছিল তার
প্রেম ও শারীরিক সম্পর্ক। সম্পর্ক ছিল স্বাধীন ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী
পণ্ডিত জওহরলাল নেহরুর সঙ্গেও। এটি গোপন কোন বিষয় ছিল না। পরিবারের
স্বামী-কন্যাসহ সবাই জানতো তার এমন বিচিত্র সম্পর্কের কথা। দেখে নিজের মাকে
‘পুরুষ শিকারি’ বলে উল্লেখ করেছেন এডুইনার মেয়ে পামেলা মাউন্টব্যাটেন।
সমপ্রতি মাকে নিয়ে নিজের লেখা স্মৃতিকথাতে বিভিন্ন পুরুষের সঙ্গে মায়ের
সম্পর্ক, পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় খোলামেলাভাবে তুলে ধরেছেন পামেলা। এতে
তিনি বলেছেন, ১৯৩০-এর দশকে লন্ডনে এডুইনা মাউন্টব্যাটেন ছিলেন সেলিব্রেটি
দম্পতি। ১৯২২ সালে তাদের বিয়ে হয়। মাউন্টব্যাটেন ছিলেন তৎকালীন বৃটিশ
সম্রাটের আত্মীয় ও বিশ্বস্ত অনুচর। নৌবাহিনীর সিনিয়র কর্মকর্তা হিসেবে
বেশির ভাগ সময় বাইরে থাকতেন তিনি। এ কারণেই চপল এডুইনা পরপুরুষে আকৃষ্ট হয়ে
পড়েন। পামেলা লিখেছেন, এমনিতেই অনেকেই পাণিপ্রার্থী ছিলেন তার মায়ের। তবে
সবার স্বপ্ন ভেঙে দিয়ে তাকে বিয়ে করেন মাউন্টব্যাটেন। বিয়ের পর স্বামীর
অনুপস্থিতিতে বঞ্চিত সে সব যুবককে সঙ্গ দিয়ে তাদের মনোরঞ্জন করেছেন এডুইনা।
তার মেয়ের ভাষায় কমপক্ষে ৫ জন এডমিরাল সব সময় মায়ের সঙ্গ পাওয়ার অপেক্ষায়
থাকতেন। তিনি শুধু তাদের সঙ্গে থাকতেন, গাইতেন ও আনন্দ করতেন এমন নয়। তাদের
সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করতেন, বিছানায় যেতেন। তরুণ অফিসাররা তার
সান্নিধ্যের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করতেন। পামেলার ভাষায় তার মায়ের ওসব
প্রেমিকদের কাছে আঙ্কেলের পূর্ণ ভালবাসা পেতেন তিনি ও তার বড় বোন
প্যাট্রিসিয়া। তাদের বাবা বেচারা নৌ অফিসার মাউন্টব্যাটেন এসব দেখেও না
দেখার ভান করে থাকতেন। নিজেদের তারকা খ্যাতির কারণে বাইরে এসব পারিবারিক
সমস্যা বুঝতে দিতেন না। শেষ পর্যন্ত স্ত্রী’র অন্য মানুষদের সঙ্গে প্রেমের
বিষয়টি পূর্ণরূপে জেনে দু’জনে একটি চুক্তিতে আসেন। বাইরে স্বামী-স্ত্রী’র
মতো আচরণ করলেও তাদের বিছানা ছিল আলাদা। দু’টি জীবন ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন।
অথচ মানুষ জানতো তারা সবচেয়ে আকর্ষণীয় ও সুখী দম্পতি। নিজের মায়ের এমন
অনৈতিক কর্মকাণ্ডকে সহানুভূতির দৃষ্টিতেই দেখছেন পামেলা। তিনি লিখেছেন,
মায়ের এসব আচরণের কারণ ছিল তার একাকিত্ব। কেবল আনন্দ পাওয়ার জন্য
ক্রমান্নয়ে নৌ অফিসারদের প্রতি নির্ভরশীল হয়ে পড়েন তিনি। কারণ তিনি তখন
ছিলেন কেবলই ২১ বছর বয়সী এক নববধূ। যার স্বামী কর্তব্য পালনে দূরে অবস্থান
করছিলেন। তবে পরক্ষণেই পামেলা লিখেছেন, নির্ভরশীল হয়ে পড়া কয়েকজন
নৌ-কর্মকর্তার সঙ্গে গভীর প্রেমে জড়িয়ে গিয়েছিলেন তার মা। তাদের মধ্যে
বান্নি ফিলিপস নামের এক অফিসারের সঙ্গে একাধিকবার এডভেঞ্চারে আফ্রিকা,
এশিয়া, চীনসহ অনেক দেশে বেড়াতে গেছেন। বান্নি ছিলেন সুদর্শন ও চিত্রাকর্ষক।
ফিলিপসের উপর এতো বেশি নির্ভরশীল ছিলেন এডুইনা, যে মেয়ে পামেলা বাবার সব
আদর সোহাগ পেয়েছেন তার কাছ থেকেই। এমনকি নিজের মেয়ের মতো স্কুলে নিয়ে
যাওয়া, চা খাওয়ানো সব কাজই পামেলার জন্য করতেন মায়ের প্রেমিক ফিলিপস। ১৯৩৯
সালে যখন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কারণে তার প্রেমিক এসব অফিসার বিভিন্ন দেশে
চলে যান তখন অনেক বেশি মর্মাহত ছিলেন এডুইনা। এমনকি ফিলিপসের বিরহে ভেঙে
পড়েন তিনি। নাওয়া-খাওয়া, কথাবার্তা পর্যন্ত ছেড়ে দেন। সে সময়
মাউন্টব্যাটেনকে পাঠানো হয় ভারতের সর্বশেষ ভাইসরয় হিসেবে। সঙ্গে স্ত্রী
এডুইনা ও মেয়েদের নিয়ে ভারতে আসেন তিনি। ভারতে এসেও অনেকের সঙ্গে সম্পর্কে
জড়িয়ে পড়েন এডুইনা। এ সময় রাজনীতিক থেকে শুরু করে উচ্চপদস্থ স্বদেশী
কর্মকর্তাদের সঙ্গে তার সম্পর্ক হয়। তবে সবচেয়ে আলোচিত সম্পর্ক ছিল স্বাধীন
ভারতের প্রধান প্রধানমন্ত্রী পণ্ডিত জওহরলাল নেহরুর সঙ্গে। পণ্ডিতজীর
সঙ্গে তার গভীর সম্পর্ক তৈরি হয়। পামেলা লিখেছেন, তাদের মধ্যে বোঝাপড়া ছিল
ভালো। এডুইনা নেহেরুকে নিজের সঙ্গী ও সমচিন্তক মনে করতেন। এক সঙ্গে তারা
অনেক সময় কাটাতেন। ভারতে এসে স্ত্রীকে কোন বাধা দেননি মাউন্টব্যাটেন। এর
কারণ ছিল স্ত্রীর উচ্ছৃঙ্খলতা কমে যাওয়া ও নেহরুর প্রতি অগাধ বিশ্বাস। এ
সময় অনেকবার এমন হয়েছে এডুইনা, মাউন্টব্যাটেন, পামেলা ও নেহেরু একসঙ্গে
হাঁটছেন। তবে পামেলা ও মাউন্টব্যাটেন থাকতেন সামনে। আর পেছনে খোশগল্পে মগ্ন
হয়ে পাশাপাশি হাঁটতেন এডুইনা-নেহরু। পামেলা লিখেছেন- তারা এতো মগ্ন থাকতেন
যে, আমি ও বাবা ইচ্ছা করে পেছনে চলে গেলেও তারা টের পেতেন না।
এডুইনা-নেহরুর অনেক চিঠি পামেলার হাত হয়ে যেতো। তাই তিনি বুঝতে পারেন তাদের
মধ্যে কেমন গভীর সম্পর্ক ও ভালোবাসা ছিল। ভারত স্বাধীন হওয়ার পর লন্ডনে
ফিরে গিয়েও নেহরুর সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিল। ১৯৬০ সালে ৫৮ বছর বয়সে মারা যান
এডুইনা। এতো কিছুর পরও স্ত্রীর প্রতি ভালোবাসা কমেনি মাউন্টব্যাটেনের।
তাইতো স্ত্রীর মৃত্যুতে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।

অন্যসব দেশের মতোই ভারতেও ধর্ষণের শিকার হওয়ার পর
বিষয়টিকে লুকিয়ে চেপে যাওয়ার রেওয়াজ রয়েছে। বিশেষত গ্রামাঞ্চলে বিচার না
চেয়ে ধর্ষণের ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার প্রচলন বেশি। কারণ এতে ধর্ষিতাকে
অবমাননাকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয়। সবাই হেয় করে। এমনকি বিয়ে পর্যন্ত হয় না।
ফলে মেয়ের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে পিতা-মাতাসহ সব আত্মীয়-স্বজন বিচার না
চেয়ে চেপে যেত ধর্ষণের ঘটনা। তবে সমপ্রতি হরিয়ানায় একটি গণধর্ষণের ঘটনা
প্রকাশ হওয়ার পাল্টে যাচ্ছে এই চেপে যাওয়ার মানসিকতা। হরিয়ানার ঘটনাটি ছিল
খুবই হৃদয় বিদারক। মাত্র ১৬ বছর বয়সী দলিত শ্রেণীর হাইস্কুল পাস একটি
মেয়েকে পর্যায়ক্রমে গণধর্ষণ করেছে আট দুর্বৃত্ত। দীর্ঘ ৩ ঘণ্টা নিপীড়ন
চালায় মেয়েটির উপর। ভিডিও করে রাখে দৃশ্যটি। ধর্ষণের পর তাকে হুমকি দেয়া হয়
কাউকে বললে হত্যা করে ফেলবে। মেয়েটিও চুপ করে থাকে সম্মানের ভয়ে। এরই
মধ্যে ভিডিও ক্লিপটি ছড়িয়ে দেয় দুর্বৃত্তরা। এটি দেখে ক্ষোভে অপমানে
আত্মহত্যা করে মেয়েটির বাবা। তারপরই আলোচনায় আসে বিষয়টি। বিচারের দাবি
জানায় দলিত সমপ্রদায়। ভিকটিমের মা বলেন, আমরা দেখলাম স্বামীকে হারিয়ে
সম্মান হারিয়েছি আমাদের আর সম্মান হারানোর কিছুই নেই। ফলে চুপ থেকে লাভ কি।
ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে এভাবেই উচ্চবর্ণের হিন্দুদের হাতে দলিত ও সংখ্যালঘু
সমপ্রদায় ধর্ষণ ও নিপীড়নের শিকার হয়ে আসছে। গত ৫ বছরে ধর্ষণের হার
উদ্বেগজনকভাবে ২৫ ভাগ বেড়ে গেছে। গায়ে পড়ে প্রকাশ্যে রাস্তায় মেয়েদের উপর
নিপীড়নের মতো ঘটনা ঘটে চলেছে। হরিয়ানা সরকারি দল কংগ্রেসের একজন মুখপাত্র
বলেন, ৯০ ভাগ ধর্ষণের মতো ঘটনা প্রথমে স্বেচ্ছায় ঘটছে। ফলে তারা মেয়েদের
বিয়ের বয়স ১৬ করার পক্ষে। এতে মেয়েরা তাদের চাহিদা স্বামীর সঙ্গে শেয়ার
করলে ধর্ষণের মতো ঘটনা কমবে বলে জানান তিনি। হরিয়ানায় ধর্ষণের শিকার হওয়ার
ঘটনা অনেক বেশি। আর এতে সবচেয়ে ঝুঁকিতে আছেন দলিত শ্রেণীর মেয়েরা। সর্বশেষ
১৯টি ধর্ষণের ঘটনায় ৬টির ভিকটিম দলিত শ্রেণীর। এতদিন মান-সম্মানের ভয়ে
তাদের চুপ থাকাকে সুযোগ হিসেবে নিয়ে আসছিল সুযোগ সন্ধানী দুর্বৃত্তরা। এখন
পরিস্থিতির পরিবর্তন হচ্ছে। সর্বশেষ গণধর্ষণের শিকার মেয়েটি সবাইকে সাহস
যোগাচ্ছে নির্যাতনের বিরুদ্ধে মুখ খোলার জন্য।
ধর্ষণের শিকার হওয়ার পর
এখনও পড়ালেখা চালিয়ে যাচ্ছে সে। সে বলেছে, আমি আমার স্বপ্ন হারিয়েছি। বাবার
ইচ্ছা ছিল ডাক্তার বানানোর। এখন সেটা পূরণ করতে পারবো কিনা জানি না।
ধর্ষণের বিরুদ্ধে চুপ করে না থেকে মুখ খুলে প্রতিবাদ ও ন্যায় বিচারের দাবি
করার পথে উৎসাহী করার জন্য অনেক সংস্থা কাজ করে যাচ্ছে। এর মধ্যে অল
ইন্ডিয়া ডেমোক্রেটিক ওমেন এসোসিয়েশনের জাগমতি বলেন, তারা অপরাধ ও অপরাধীকে
নিয়ে মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের জন্য কাজ করে যাচ্ছে।
সাতক্ষীরায় এসিডে পুড়িয়ে দেয়া নূরবানুর কষ্টকথা এখন
বিদেশের মিডিয়ায়। তার ওপর তার স্বামী ও তার পরিবার থেকে যে নির্যাতন চালানো
হয়েছে তা ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, নূরবানু যে স্বামীর সঙ্গে ১৮
বছর ধরে সংসার করেছেন সেই স্বামীকেই একদিন অন্য নারীর প্রেমে মত্ত অবস্থায়
দেখতে পান। এরপরই তিনি তার ওই স্বামীকে তালাক দেন। এর ৮ দিন পরেই তার ওই
স্বামী তার মুখে, শরীরে এসিড নিক্ষেপ করে তার চেহারা বিকৃত করে দেয়।
নূরবানুর দু’টি চোখই অন্ধ হয়ে যায়। তিনি বেঁচে যান কোনমতে। এ ঘটনায় তার ওই
স্বামীর ১ বছরের জেল হয়। কিন্তু শাশুড়ি তার ছেলেকে দিয়ে তাকে বাধ্য করে ওই
মামলা তুলে নিতে। তার স্বামীকে মুক্ত করাতে বাধ্য করেন তার শাশুড়ি। এরপর
জোর করে তাদেরকে ফের ঘর-সংসার করতে বাধ্য করানো হয়। নূরবানু ভেবেছিলেন এবার
তার স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির সবার বোধোদয় হবে। কিন্তু না। নূরবানুর কপালে সুখ
জোটেনি। এখন তিনি একেবারে অন্ধ হওয়ায় নিজে এক গ্লাস পানিও ঢেলে পান করতে
পারেন না। এ নিয়ে হাফিংটন পোস্ট, লন্ডনের ডেইলি মেইল রিপোর্ট করেছে।

সচিত্র
ওই রিপোর্টের সঙ্গে নূরবানুর বর্তমান সময়কার একটি ভিডিও জুড়ে দেয়া হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, নূরবানু ১৮ বছর ঘর-সংসার করেছেন তার স্বামীর সঙ্গে। তারপর
হঠাৎ একদিন তিনি তার স্বামীকে দেখতে পান অন্য নারীর সঙ্গে। এ ঘটনায় স্বামীর
ওপর বিশ্বাস হারিয়ে ফেলেন নূরবানু। তিনি তার স্বামীকে তালাক দেন। এর ৮ দিন
পর মোটরসাইকেলে চেপে তার বাড়ি যায় তার স্বামী। তখন নূরবানু রান্না
করছিলেন। তার স্বামী এ সময় তার ওপর এসিড নিক্ষেপ করে। এতে নূরবানু অন্ধ হয়ে
যান। তার চেহারা বিকৃত হয়ে যায়। নূরবানুর এখন বয়স ৩৬ বছর। তাকে ফের তার
স্বামীর ঘরে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। তার শাশুড়ি তাকে বাধ্য করেছে স্বামীকে মুক্ত
করতে। এজন্য তাকে এফিডেভিট দিতে বাধ্য করা হয়েছে। তার ওপর ভিত্তি করে তার
স্বামীকে জেল থেকে মুক্তি দেয়া হয়েছে। নূরবানুর ওপর এসিড নিক্ষেপ করে তার
এই স্বামী পালিয়ে ছিল। ঘটনার ১০ মাস পর তাকে আটক করা হয়। তাকে ১ বছরের জেল
দেয়া হয়। জেল থেকে তাকে বের করে আনেন নূরবানু। তিনি বলেন, লোকজন হয়তো ভাববে
স্বামী হয়তো আমাকে অন্ধ বলে অনেক আদর করেন। অনেক ভালবাসেন। কিন্তু তা আর
আমার কপালে জোটেনি। এখনও আমার স্বামী আমাকে প্রহার করে। মারে। এভাবেই আমার
দিন কাটছে। বাংলাদেশে নারীদের ওপর এসিড নিক্ষেপের ফলে যে হাজার হাজার নারী
অবর্ণনীয় দুর্ভোগের শিকার হন তাদেরই একজন প্রতিনিধি নূরবানু। ওই রিপোর্টে
আরও বলা হয়, বাংলাদেশে এমন এসিড নিক্ষেপের ঘটনা অনেক। অপরাধী চক্র বেশির
ভাগই নাইট্রিক এসিড অথবা সালফিউরিক এসিড নিক্ষেপ করে থাকে। এ বছর এমন ৫৯টি
ঘটনা ঘটেছে। ২০১১ সালে এসিড নিক্ষেপের শিকার হয়েছেন ১১৮ জন। এর মধ্যে ৭৫
জনই নারী। আবার ১৩ জনের বয়স ১৮ বছরের নিচে।

এ ধরনের ঘটনা বাস্তবে সচরাচর ঘটে না। তবে সিনেমা বা
নাটকের মূল উপজীব্য হয়ে উঠেছে কালে-ভদ্রে। যুক্তরাষ্ট্রের ওহিয়ো
অঙ্গরাজ্যের একটি হাসপাতালই সাজলো বিয়ে-বাড়ির সাজে। হাসপাতালের নার্সরাই
বিয়ের সব তদারকি সারলেন। ওই হাসপাতালের অন্য রোগীরা বিয়ের সরঞ্জামের
ব্যবস্থা করলেন। এর সঙ্গে আরও এক মাত্রা যোগ করে গিফট-সামগ্রীর একটি দোকান
সবাইকে বিয়ের ভোজ করালো। বাস্তবে সিন্ডারেলার কল্প-কাহিনী মঞ্চস্থ হওয়ার
চেয়ে কোন অংশে কম নয়। গত সপ্তাহের ঘটনা। অন্তঃসত্ত্বা এক নারী ও তার
প্রেমিকের জীবনের বিশেষ দিন ছিল এটি। সন্তান প্রসবের মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগেই
তিনি সাজলেন বিয়ের কনে। বর মাইকেল বোফ ও কনে সিনথিয়া রিজ। হাসপাতালে বিয়ে
করবেন এমন কথা হয়তো কোন কনে স্বপ্নেও ভাববেন না। কিন্তু সিনথিয়ার কাছে এটাই
ছিল সবচেয়ে উপযুক্ত ভেন্যু। ৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় বিয়ে। তারপর
সন্তান জন্মদান। এতো ধকলের পর বেশ ক্লান্ত ২৭ বছরের সিনথিয়া রসিকতায় ভরা
উচ্ছ্বাসের সঙ্গে বললেন, বিয়েতে সবকিছু বেশ ভালোভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
শিশুটিও যেন পৃথিবীতে এমনই একটি অভ্যর্থনা পেতে চেয়েছিল। খবর অনলাইন ইয়াহু
নিউজের। ঘর মুছতে গিয়ে একটি ছোট দুর্ঘটনার কারণে সিনথিয়া নির্দিষ্ট সময়ের
আগেই সন্তান জন্ম দেন। সিনথিয়া ও তার স্বামী বফ চেয়েছিলেন বিয়েটা আগেই সেরে
ফেলতে। কিন্তু দুর্ঘটনার কারণে সেটা সম্ভব হয়নি। কিন্তু শেষ ভালো যার, সব
ভালো তার। বফ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে সব ঠিক করলেন। কর্তৃপক্ষও
সানন্দে রাজি হয়ে যায়। বিছানার চাদর কেটে তৈরি করা গাউনেই কনে সাজলেন
সিনথিয়া। নার্সরা সবাই সাহায্য করলেন। একটা পয়সাও খরচ করতে হয়নি বর-কনেকে।
পুরোটাই বহন করলো একটি গিফটের দোকানের মালিক। সবচেয়ে আবেগঘন মুহূর্ত এলো
যখন ফুটফুটে সন্তানটি ভূমিষ্ঠ হলো। নবজাতকটির ওজন ৪ পাউন্ড ১২ আউন্স।
সিনথিয়া ও বোফ এখন তাদের সন্তানকে নিয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সাজাচ্ছেন।
সীমান্তের কাছে ভারতের উত্তর ২৪ পরগণায় গণধর্ষিত হয়েছে
বাংলাদেশের এক কিশোরী। তার বয়স ১৫ বছর। তার নাম বা ঠিকানা জানা যায় নি। এ
ঘটনা ঘটেছে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের কাছে বসিরহাটের স্বরূপনগর এলাকায়। এর
প্রতিবাদে সেখানে সমাবেশ করেছে পশ্চিমবঙ্গ মহিলা গণতান্ত্রিক সমিতি। পুলিশ
বলেছে, এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের ধরতে অভিযান চলছে। তবে এ
রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত অপরাধীদের কাউকে আটক করা হয়নি। ধর্ষিত কিশোরী
বসিরহাটের মাটিয়া এলাকায় তার বড় বোনের বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিল। শনিবার রাতে
সে তার বড় বোন ও কয়েকজন আত্মীয়ের সঙ্গে একটি গাড়িতে করে নিজ বাড়িতে ফিরছিল।
সীমান্ত এলাকায় পৌঁছানোর পর নিরাপত্তা সংক্রান্ত কারণে গাড়ি থামাতে বাধ্য
হন তারা। তখন হঠাৎ করেই চারপাশ থেকে ৫ যুবক গাড়ির সামনে গিয়ে দাঁড়ায়। তারা
টেনেহিঁচড়ে ওই কিশোরীকে গাড়ি থেকে বের করে নেয়। তার সঙ্গে থাকা আত্মীয়রা
চেষ্টা করেও দুর্বৃত্তদের থামাতে ব্যর্থ হন। তারা কিশোরীকে গাড়িতে উঠিয়ে
সেখান থেকে দ্রুত চলে যায় কাছেরই একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে। সেখানে তারা
পালাক্রমে তার ওপর নৃশংস নির্যাতন চালায়। এরপর সেখানেই তাকে ফেলে পালিয়ে
যায়। স্থানীয় বাসিন্দারা তাকে উদ্ধার করে বসিরহাটের উপ-বিভাগীয় হাসপাতালে
ভর্তি করে। সেখানে তার মেডিকেল টেস্ট করানো হয়েছে। স্বরূপনগর থানায়
গণধর্ষণের একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়।