Wednesday, May 29, 2013

প্রবাসী লামিয়া’র অজানা কাহিনী


 
http://www.mzamin.com/details.php?nid=NTYxODI=&ty=MA==&s=MTg=&c=MQ==
মোহাম্মদ আবুল হোসেন: সংগ্রামী জীবনের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন বাংলাদেশী বংশোদভূত লামিয়া অ্যান হক। ১৯ বছর বয়সী  
 এই তরুণী জন্মের পর থেকেই শিখেছে সংগ্রাম করতে। যুক্তরাষ্ট্রের মতো বিদেশ-বিভূঁইয়ে পুরো সংসারের দায়িত্ব নিয়েছে সে। দুই ভাইবোনকে স্কুলে নেয়া-আনার দায়িত্ব তার। মা ম্যাকডোনাল্ডের দোকানে পার্ট টাইম কাজ করেন। পিতা সড়ক দুর্ঘটনায় শয্যাশায়ী। এমন অবস্থায় পুরো সংসার চালানোর দায়িত্ব পড়ে এতটুকু একটি মেয়ের ওপর। এর ভিতর দিয়েই নিজের পড়াশোনা চালিয়ে নিয়েছে ও। একটি-দু’টি করে ডলার জমা করেছে। সেই অর্থে কয়েকটি কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির দরখাস্ত করেছে। শেষে খুলে গেছে ওর কপাল। পেয়েছে অভিজাত প্রিন্সটন ইউনিভার্সিটিতে পড়ার সুযোগ। শুধু তা-ই নয়, পুরো স্কলারশিপ নিয়েই পড়ার সুযোগ মিলেছে এর। এ খবর যখন জানতে পারে তখন ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের মেঝেতেই আনন্দে বেহুঁশ হয়ে পড়ে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন জ্যাকসনভিল। এতে আরও বলা হয়, লামিয়া অ্যান হকের জন্ম বাংলাদেশে। তার পিতার নাম আয়নুল হক। তিনি উন্নত ভবিষ্যতের আশায় মেয়ে, স্ত্রীকে নিয়ে পাড়ি জমিয়েছিলেন অস্ট্রেলিয়া। কিন্তু ভাগ্য প্রসন্ন হয় নি। সেখানে যাওয়ার পর আয়নুল হকের দু’বার বাইপাস সার্জারি করাতে হয়। তখন তাকে রাখা হয় একটি হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে)। তার নাকে ঢুকিয়ে দেয়া হয় নল। পিতা যখন জীবনের সঙ্গে এভাবে লড়ছেন তখন কাচের জানালা দিয়ে তার দিকে তাকিয়ে করিডোরে দাঁড়ানো লামিয়া চোখের পানি ফেলেছে নীরবে। পিতার ওই অবস্থা কোনভাবেই মানতে পারেনি ও। 

বার বার চিকিৎসকের কাছে ছুটে গিয়ে ফলোআপ জানতে প্রশ্ন করেছে। কিন্তু তারা কোন উত্তর দেয়নি। এতে তার ভয় আরও বেড়ে যায়। তখন তার বয়স মাত্র ৬ বছর। আয়নুল হকের অপারেশন অবশেষে সফলতার সঙ্গে শেষ হয়। সেই থেকে লামিয়া প্রতিজ্ঞা করে পড়াশোনা শিখে কার্ডিয়াক সার্জন হবে। অস্ট্রেলিয়ায় তার পরিবার নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে পার করছিল। এভাবে কেটে যায় ১০ বছর। অস্ট্রেলিয়ায় কাজের সুযোগ সীমিত হয়ে আসে। তখন আয়নুল হক সপরিবারে সেখান থেকে চলে যান যুক্তরাষ্ট্রে কাজের সন্ধানে। যান বিজনেস ভিসায়। ফলে আয়নুল হক শুধু ফুলটাইম কাজের সুযোগ পেলেন। কিন্তু অল্প কয়েক দিনের মধ্যে তিনি সড়ক দুর্ঘটনায় পড়েন। হাঁটুতে ভীষণ চোট লাগে তার। এজন্য অপারেশন করাতে হয়। তারপর থেকে তিনি বেকার। কোন কাজ করতে পারেন না। ডাটা এনালিস্ট হিসেবে কিছু কাজের সুযোগ আছে। কিন্তু বিজনেস ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার কারণে এ কাজে আবেদন করতে পারেন না। এ কাজ করতে হলে তাকে গ্রিন কার্ডধারী অথবা যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হতে হবে। এ অবস্থায় সংসারের আয়ের পথ ফের সংকুচিত হয়ে আসে। এ সময় লামিয়া সিদ্ধান্ত নেয় সংসার সে-ই চালাবে। তাই একটি ভারতীয় রেস্টুরেন্টে পার্ট টাইম কাজ নেয়। দিনের বাকি সময় স্কুলের পড়াশোনায় মন দেয়। গত বেশ কয়েক মাস ধরে সংসারের বলা চলে একমাত্র চালিকাশক্তি লামিয়া-ই। সকালে ঘুম থেকে উঠে ভাই আমিনুল জেম ও শারিয়াহ অপাল’কে নিয়ে ছুটে যায় স্কুলে। সেখানে দিনের প্রায় অর্ধেকটা সময় কাটে। দুপুরের খাবার সময় বাসায় ফিরে যায়। গাড়িতে করে মাকে সেখানে দিয়ে আসে এরপর। কোন কোন দিন পিতা আয়নুল হককে নিয়ে যায় ডাক্তারের কাছে চেকআপ করাতে। এভাবে প্রতিদিন সংসারের দায়িত্ব পালনের ফাঁকে ফাঁকে লামিয়া অল্প স্বল্প করে অর্থ জমাতে থাকে। তা দিয়ে কয়েকটি কলেজে ভর্তির আবেদন করে। বেশির ভাগ কলেজ থেকে আসে নেতিবাচক জবাব। অবশেষে ফুল স্কলারশিপে পড়ার সুযোগ মেলে প্রিন্সটনে। নামিয়া বলে, ‘আমি বিশ্বাস করতে পারছি না আমার স্বপ্ন সার্থক হতে চলেছে।’ তার পরিবার বলেছে, গত দু’টি বছর এই লামিয়াই পুরো সংসারকে টেনে নিয়ে চলেছে। কখনও ও নিজের জীবনের কথা ভুলে যায় নি। ভুলে যায় নি পিতা-মাতার প্রতি, ভাইবোনের প্রতি কর্তব্যের কথা।
পাঠকের মতামত
**পাঠকের মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত মতামত। পাঠকের মন্তব্যের জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Belal Uddin Chowdhury
২০১৩-০৫-২৯
Go Ahead BANGA LOLONA. SUCCESS WILL BE UNDER YOUR FEET ONE-DAY. MAY ALMIGHTY ALLAH BLESS YOU.
Replay
Al-Mamun
২০১৩-০৫-২৯
Very good. Pray to Allah for Lamia and her family.
Replay
Aminul Islam Soyel
২০১৩-০৫-২৯
INSPIRING NEWS. THE BEST WISHES FOR LAMIA.
Replay
Monir Khan
২০১৩-০৫-২৯
লামিয়া খুব বড় মাপের মানুষ হতে পারবে কারন ওর প্রতি রয়েছে ওর সংশারের ভালবাসা এবং দোয়া। ওর মহত্ত্বের কারনে আল্লা ওকে সামনে এগিয়ে যেতে সাহয্য করছে।
Replay
Bahey MAUNG
২০১৩-০৫-২৯
We salute Ms Lamia We pray GOD, she should be success
Replay
Hasan
২০১৩-০৫-২৯
Congratulation for your great success.
Replay
Kazi Salim Ahmed
২০১৩-০৫-২৯
Great------Go ahead you will get many thing.
Replay
মোঃ সোলাইমান
২০১৩-০৫-২৯
্এই ঘটনাটি তরুনদের অনেক অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। লেখককে ধন্যবাদ। ঘটনাটি তুলে ধরার জন্য।
Replay
abbas uddin
২০১৩-০৫-২৯
at fast thousand salut and salam for this sister ,She is the is really geat, may allah bless her and her family and prosper her life .
Replay
মোস্তফা
২০১৩-০৫-২৯
একিট ভাল সংবাদ।
Replay
রেজাউল হক
২০১৩-০৫-২৯
লামিয়া অ্যান হক এর পরিবারের সফলতা ও দীর্ঘায়ু কামনা রইল।
Replay
Tayabur Rahman
২০১৩-০৫-২৯
Salute to you.... Wish you all the best.
Replay
Sahbuddin
২০১৩-০৫-২৯
Bangldeshe amon sujog kom.
Replay
Bazlu
২০১৩-০৫-২৯
The reflect of real life! Thanks Lamia.
Replay
Abu yousuf
২০১৩-০৫-২৯
আসলে সময় মানুষকে বলে দেয় কি করতে হবে
Replay
Abu yousuf
২০১৩-০৫-২৯
আসলে সময় মানুষকে বলে দেয় কি করতে হবে
Replay
SARIF HOSSAIN
২০১৩-০৫-২৯
LAMIA YOUR HARD LOABOUR YOU WON THE GAME.
Replay
Md. Kamal Uddin
২০১৩-০৫-২৯
Congrats, you great, I wish your every success
Replay
momin
২০১৩-০৫-২৯
The real Heroine.
Replay
Borhan uddin
২০১৩-০৫-২৯
salute lamia.kichu bolar vash khuje pachchi na.
Replay
সেলিম চৌধুরী
২০১৩-০৫-২৯
আবরো কি বোর্ড, মোহাম্মদ আবুল হোসেন কে ধন্যবাদ এমন একটি প্রতিবেদন লিখার জন্য। লামিয়া অ্যান হক এর পরিবারের সফলতা ও দীর্ঘায়ু কামনা রইল।
Replay
Engr Abul Hossain
২০১৩-০৫-২৯
I salute you LAMIA. You are great.You are ware house of inspiration. You are the Lesson for Crores of girls and female, who make surrender near unfavorable situation.You proved that the effort can never be invain. You have proved, that human is real maker of his own destiny.
Replay
এম. এইচ. রহমতউল্লাহ
২০১৩-০৫-২৯
প্রতিবেদককে ধন্যবাদ। এধরনের সংবাদ পড়লে মন প্রফুল্ল হয়, আমার ব্লাড প্রেশার কমে যায়। প্রিন্সটন ইউনিভার্সিটিতে স্কলারশীপ পাওয়া লামিয়া হক পৃথিবীর সেরা একজন কার্ডিওলজিষ্ট হোক,এটাই সর্বশক্তিমানের কাছে প্রার্থনা।
Replay
Selim
২০১৩-০৫-২৯
Bravo,go ahead.God is with you and the courage will show you the path.
Replay
hossain
২০১৩-০৫-২৯
She is the is really geat, may allah bless her and her family and prosper her life
Replay
good
২০১৩-০৫-২৯
good good
Replay
sumon zafor
২০১৩-০৫-২৯
THANKYOU. WE PRY FOR YOU GOOD LIFE IN FUTURE
Replay
mamun
২০১৩-০৫-২৯
u r a great.

Sunday, March 31, 2013

লুট


Source: www.mzamin.com
লায়েকুজ্জামান: রাজকীয় লুট। হল-মার্ক, ডেসটিনি, ইউনিপেটুইউ, বিসমিল্লাহ গ্রুপ, আইসিএল সর্বশেষ ম্যাক্সিম গ্রুপ- এই ৬টি প্রতিষ্ঠান লুটে নিয়েছে ১৭  হাজার  কোটি টাকা। ব্যাপক এই লুটপাটের সঙ্গে ক্ষমতাসীন দলের একাধিক নেতার জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। দুর্নীতি দমন কমিশন ওই বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতে একাধিকবার তাদের তলবও করেছে। ওই টাকা ছাড়াও লুটপাটের তালিকায় আছে পদ্মা সেতুর নকশা কেলেঙ্কারি করে হাতিয়ে নেয়া ১১৬ কোটি রাজস্ব খাতের টাকা।  বিপুল অঙ্কের ওই টাকার বেশির ভাগ পাচার হয়েছে বিদেশে। লুটপাটের হোতারাও বেশির ভাগ বিদেশে পাড়ি জমিয়েছে। দুবাই, মালয়েশিয়া সহ বিভিন্ন দেশে বাণিজ্যের পসরা খুলে সেখানে নির্বিঘ্নে বাণিজ্য করছে। লুটপাটের টাকা বিদেশে পাচার হওয়ার প্রমাণ মিলেছে দুদকের অনুসন্ধানে। দুদকের এ যাবৎ অনুসন্ধানে কেবল ডেসটিনিরই কানাডা, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাংকে অর্থ গচ্ছিত রাখার প্রমাণ মিলেছে। আরও অনুসন্ধান চলছে বলে দুদক সূত্রে জানা গেছে। হল-মার্ক ও একই সময়ে তাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরও ৫টি প্রতিষ্ঠান মিলে লুটে নিয়েছে ৩৬০০ কোটি টাকা। ডেসটিনি গ্রুপ প্রতারণার মাধ্যমে সাধারণের কাছ থেকে হাতিয়ে নিয়েছে ৩৩০০ কোটি টাকা। ইউনিপেটুইউ নিয়েছে ৩৬০০ কোটি টাকা  
। বিসমিল্লাহ গ্রুপ জনতা ও শাহজালাল ব্যাংক থেকে জালিয়াতির মাধ্যমে হাতিয়ে নিয়েছে ১২০০ কোটি টাকা। মালটি লেভেল মার্কেটিং (এমএলএম) কোম্পানি আইসিএল প্রতারণার মাধ্যমে নিয়েছে ৩৭০০ কোটি টাকা। সর্বশেষ এমএলএম কোম্পানি ম্যাক্সিম গ্রুপ প্রতারণার মাধ্যমে নিয়েছে ১৫০০ কোটি টাকা।
ব্যাংক জালিয়াতি ও প্রতারণার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে হাতিয়ে নেয়া ওই ১৫ হাজার কোটি টাকার কানাকড়িও উদ্ধার করা যায়নি। উদ্ধারের কোন সম্ভাবনা আছে এমনটাও মনে করছেন না সংশ্লিষ্টরা। উপরন্তু হল-মার্কের ব্যবসা-বাণিজ্য চালু রাখার কথা বলে প্রতিষ্ঠানটিকে আবার অর্থায়নের বিষয়ে অর্থমন্ত্রীর ইঙ্গিতপূর্ণ বক্তব্যে আতঙ্কগ্রস্ত ব্যাংকপাড়ার লোকেরা এটাকে আরেকটি লুটপাটের সুযোগ সৃষ্টির কথাই  মনে করছেন।
হল-মার্ক গ্রুপ সোনালী ব্যাংকের রূপসী বাংলা শাখাকে ভিত্তি করে ১৮টি বাণিজ্যিক ব্যাংকের বিভিন্ন শাখা থেকে এলসি জালিয়াতি ও ঋণ জালিয়াতির মাধ্যমে হাতিয়ে নিয়েছে ২৬৮৫ কোটি টাকা। ওই একই সময়ে শাখাটি লুটপাটের এক তীর্থে পরিণত হয়। হল-মার্কের এমডি তানভীর মাহমুদের লুটপাটের সহযোগী বলে পরিচিত আরও চারটি এবং সোনালী ব্যাংক পরিচালনা পর্ষদের সাবেক চেয়ারম্যান কাজী বাহারুলের ভাগ্নের প্রতিষ্ঠান মিলে লুটে নেয় ১০০০ কোটি টাকা। ওই প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে আছে কাজী বাহারুলের ভাগ্নে মোতাহার হোসেনের প্রতিষ্ঠান ডিএন স্পোর্টস-এর পরিচালক, তার জামাতা জনি ও মেয়ে শিখা। তাদের সঙ্গে কাজী বাহারুলের আত্মীয়তার সম্পর্ক দুদকের অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে বলে নিশ্চিত করেছেন দুদক কর্মকর্তারা। কেবল কাজী বাহারুলের ভাগ্নে পরিচয়ই তার ঋণ পাওয়ার একমাত্র যোগ্যতা হয়ে ওঠে। একই সময়ে জালিয়াতির মাধ্যমে ২৬৮ কোটি টাকা লুটে নেয় প্যারাগন নামের একটি প্রতিষ্ঠান। ওই প্রতিষ্ঠানের মালিক সাইফুল ইসলাম রাজা এক সময়ে ছিলেন হল-মার্কের জিএম। নকশী নিট নামের আরেকটি প্রতিষ্ঠান হাতিয়ে নেয় প্রায় ৩শ’ কোটি টাকা, নকশী নিটের স্বত্বাধিকারী আবদুল মালেক এক সময়ে ছিলেন হল-মার্ক গ্রুপের উপদেষ্টা। হল-মার্ক গ্রুপের লুটপাটের ঘটনা প্রকাশিত হয়ে পড়লে সরকারের একজন উপদেষ্টা, সোনালী ব্যাংক পরিচালনা পর্ষদের সদস্য ও ব্যাংক কর্মকর্তা সহ মোট ৭৮ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে মোট ২৭ জনকে আসামি করে মোট ১১টি মামলা দায়ের করে দুদক। মামলায় সোনালী ব্যাংকের সাবেক এমডি হুমায়ূন কবীরকে আসামি করা হলেও রাজনৈতিক সংশ্লিষ্ট কাউকে আসামি করা হয়নি, যদিও হল-মার্ক এমডি আদালতে দেয়া জবানবন্দিতে স্বীকার করেছেন, তিনি ব্যাংক পরিচালনা পর্ষদের পরিচালক কমল সরোয়ারকে রূপসী বাংলা হোটেলের পুলপাড়ে বসে ২ কোটি টাকা দিয়েছেন।
পদ্মা সেতুর পরামর্শক নিয়োগে দুর্নীতির বিষয়াদি নিয়ে দুদক ও  সরকারের সঙ্গে টানাপড়েনের মাঝে শেষ পর্যন্ত ঋণ প্রত্যাহার করে ফিরে গেছে বিশ্বব্যাংক সহ সহযোগী দাতারা। পরামর্শক নিয়োগের দুর্নীতির ডামাডোলে অনেকটাই চাপা পড়ে গেছে পদ্মা সেতুর নকশা তৈরির নামে নিউজিল্যান্ডের প্রতিষ্ঠান এইকমের সঙ্গে সরকারের রাজস্বখাতের ১শ’ ১৬ কোটি টাকা ভাগাভাগির ঘটনা।
সৈয়দ আবুল হোসেন দায়িত্বে থাকাকালে সেতুর চূড়ান্ত নকশা গ্রহণ না করেই রাজস্বখাত থেকে ওই টাকা দেয়া হয়। ঠিক হল-মার্ক গ্রুপের আদলে ৪টি ব্যাংক থেকে জালিয়াতির মাধ্যমে ১২০০ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বিসমিল্লাহ গ্রুপ। ওই লুটপাটের সঙ্গে জড়িত খোন্দকার মোশতাকের এক নিকট আত্মীয় এবং কুমিল্লা থেকে নির্বাচিত আওয়ামী লীগ দলীয় এক এমপি’র ছেলে। মূল হোতা ওই আত্মীয় বিসমিল্লাহ গ্রুপের এমডি খাজা সোলেমান ও গ্রুপের চেয়ারম্যান তার স্ত্রী নওরীন হাবিব দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন। বর্তমানে আছেন দুবাইতে। বিসমিল্লাহ গ্রুপের লুটপাট অনুসন্ধানে দুদক ইতিমধ্যেই একটি অনুসন্ধান টিম গঠন করে নথিপত্র পর্যালোচনা শুরু করেছে।  বিসমিল্লাহ গ্রুপ জনতা ব্যাংক কর্পোরেট শাখা থেকে মাত্র ৫০ কোটি টাকার প্রকল্প ঋণ নিয়ে এলসি জালিয়াতি করে। কাঁচামাল আমদানির নামে এলসি খুলেও বিপুল অঙ্কের ওই টাকা হাতিয়ে নেয়। কাঁচামাল আমদানির কথা বললেও তারা কোন কাঁচা মাল না এনে  ভুয়া এলসি খুলে বিভিন্ন ব্যাংক থেকে টাকা তুলে নেয়। সূত্রমতে এ পর্যন্ত তারা শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক ইস্কাটন শাখা থেকে ১৪৯ কোটি, প্রাইম ব্যাংক থেকে ৩৮০ কোটি, প্রিমিয়ার ব্যাংক থেকে ৮০ কোটি, জনতা ব্যাংকের ৩টি শাখা থেকে ৪০০ কোটি এবং যমুনা ব্যাংক থেকে ১৬৪ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে উধাও হয়ে গেছে।
গ্রাহকদের দ্বিগুণ মুনাফার লোভ দেখিয়ে ডেসটিনি গ্রুপ দেশের জনসাধারণের কাছ থেকে ট্রি প্ল্যান্টেশন, আবাসন সহ বিভিন্ন খাতে লাভজনক বিনিয়োগের কথা বলে হাতিয়ে নিয়েছে ৩৩০০ কোটি টাকা। দুদক কর্মকর্তারা তাদের অনুসন্ধানে দেখতে পেয়েছে গ্রাহকের কাছ থেকে হাতিয়ে নেয়া ওই বিপুল পরিমাণ অর্থের পুরোটাই পকেটে তুলেছেন ডেসটিনি’র সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্তাব্যক্তিরা। প্রতিষ্ঠানের একাউন্টে পাওয়া গেছে মাত্র কয়েক লাখ টাকা। তবে দুদকের অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে ওই টাকার মধ্যে প্রায় ১শ’ কোটি টাকা সংস্থার এমডি রফিকুল আমিনের নামে গচ্ছিত আছে কানাডা, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও সিঙ্গাপুরের ব্যাংকে। দুদক অনুসন্ধান টিমের সদস্যরা জানিয়েছেন, ডেসটিনি আরও টাকা বিদেশে পাচার করেছে কিনা তা অনুসন্ধান করছে দুদক। ডেসটিনি’র এমডি রফিকুল আমিন সহ প্রতিষ্ঠানের পরিচালক পর্যায়ের ৩১ জনের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের মামলা দায়ের করেছে দুদক। বর্তমানে ডেসটিনি’র এমডি রফিকুল আমিন সহ কারাগারে আছে ৭ জন। বাকিরা পলাতক।
ডেসটিনি’র মতো আরেক প্রতারক প্রতিষ্ঠান এমএলএম কোম্পানি ইউনিপেটুইউ মাত্র ১০ মাসে বিনিয়োগের দ্বিগুণ লাভ দেয়ার কথা বলে জনসাধারণের কাছ থেকে হাতিয়ে নিয়েছে ৩ হাজার ৬শ’ কোটি টাকা। প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ করে সর্বস্বান্ত হয়ে ইতিমধ্যে আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছে ৭ জন গ্রাহক। ঘরবাড়ি ছাড়া কয়েক হাজার মধ্যস্বত্ব ভোগী বিনিয়োগকারী। দুই বছর সময় পেরিয়ে গেলেও কোন গ্রাহক তাদের টাকা ফেরত পায়নি।  জালিয়াতির মাধ্যমে সাধারণের অর্থ হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগে ইউনিপেটুইউ’র বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেছে দুদক। মামলার চার্জশিটও দেয়া হয়েছে। দুদকের দায়ের করা মামলায় প্রতিষ্ঠানের এমডি মুনতাসির ইমন সহ মোট ১১ জন কারাগারে আছেন। অর্থ আত্মসাতের দায়ে তাদের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম আদালতে দায়ের করা একটি মামলায় ২ বছরের দণ্ড হয়েছে তাদের। আলাপকালে জানা গেছে, এতে খুশি ইউনিপেটুইউ’র সঙ্গে জড়িত কর্তাব্যক্তিরা। ৩৬০০ কোটি টাকা লুটে নিয়ে ২ বছর জেলখাটাকে তারা লাভজনকই মনে করছেন।
আইডিয়াল কোঅপারেটিভ সোসাইটি আইসিএল একটি এমএলএম কোম্পানি হিসেবে নিবন্ধন নেয় ২০০১ সালে। হজ আমানত, ডিপিএস, মাসিক দ্বিগুণ মুনাফা, বার্ষিক দ্বিগুণ মুনাফা, কোটিপতি স্কিম সহ মোট ১৩টি প্রকল্পে আকর্ষণীয় প্রচারের দ্বিগুণ মুনাফা দেয়ার কথা বলে আইসিএল মোট ৩৭০০ কোটি টাকা আমানত সংগ্রহ করে জনগণের কাছ থেকে। গত বছর শেষের দিকে হঠাৎ করে একযোগে তালাবদ্ধ পাওয়া যায় পল্টনে তাদের প্রধান কার্যালয় সহ মোট ৩৬টি শাখা কার্যালয়ে। বিনিয়োগকৃত অর্থ ফেরত চাইতে গিয়ে গ্রাহকরা জানতে পারে দেশ থেকে পালিয়ে গেছেও আইসিএল-এর এমডি সফিকুর রহমান, তার স্ত্রী সামসুন নাহার মিনা, ভাই ফকরুল ইসলাম ও ভাগ্নে শেখ আহমেদ। আইসিএল-এর প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের বিষয়টি অনুসন্ধান করতে গত মাসে দুদক ৫ সদস্যের একটি অনুসন্ধান টিম গঠন করেছে।
অস্তিত্বহীন আবাসন প্রকল্পের কথা প্রচার করে গ্রাহকের ১৫০০ কোটি টাকা হাতিয়ে লাপাত্তা হয়েছে ম্যাক্সিম গ্রুপের এমডি হাবিবুর রহমান। গ্রাহকদের গচ্ছিত অর্থ ফেরত চাওয়ার পরই চলতি মাসে ম্যাক্সিম গ্রুপ তাদের ইউনিটগুলো বন্ধ করে দিয়েছে। ম্যাক্সিম গ্রুপের লুটপাটের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. আলাউদ্দিন ও ফরিদপুর-১ আসনের এমপি আবদুর রহমানের একটি ছবি ব্যবহারের কথা, ম্যাক্সিম গ্রুপের পুরানা পল্টনের অফিসে বিশাল করে টাঙানো ছবিতে দেখা যায় গ্রুপের পলাতক এমডি হাবিবুর রহমানকে ক্রেস্ট উপহার দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. আলাউদ্দিন ও সংসদ সদস্য আবদুর রহমান। অভিযোগ উঠেছে কেবল ছবি নয়, ওই দুই নেতাকে ব্যবহার করে গ্রুপে বিনিয়োগে আকৃষ্ট করা হয়েছে সাধারণ মানুষকে। এখন আবার অর্থ ফেরত না দিতে ব্যবহার করা হচ্ছে ওই ছবি।
ম্যাক্সিম গ্রুপের অর্থ আত্মসাতের বিষয়টিও আমলে নিচ্ছে দুদক।  সূত্রমতে সাধারণ গ্রাহকের বিপুল অর্থ ফেরত দেয়ার বদলে উল্টো তাদের ব্যাংক একাউন্ট খুলে দিতে সরকারকে চিঠি দিয়েছে ডেসটিনি। অন্যদিকে হল-মার্ককে আরও ঋণ দেয়ার অর্থমন্ত্রীর প্রস্তাবে তোলপাড় চলছে ব্যবসায়ী সহ ব্যাংক কর্মকর্তাদের ভেতর।
ব্যাপক ওই লুটপাট সম্পর্কে দুদক চেয়ারম্যান গোলাম রহমান বলেন, সামপ্রতিক সময়ে দেখা যাচ্ছে এক শ্রেণীর মানুষের দুর্নীতির মাধ্যমে দ্রুত অর্থ আয় করে রাতারাতি বড় লোক হওয়ার প্রবণতা বেড়েছে। তাদের এ প্রবণতাকে হালে পানি পাইয়ে দিচ্ছে আইনের বেশ কিছু দুর্বলতা এবং আইনপ্রয়োগকারী দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের দুর্নীতির প্রবণতা। অনেক ক্ষেত্রে দায়িত্বশীল ব্যক্তি নিজে দুর্নীতি করে দুর্নীতিবাজদের আরও সুযোগ করে দিচ্ছে। তিনি বলেন, প্রায় মহামারী আকারে বিস্তারিত ওই দুর্নীতি থেকে দেশ ও জাতির পরিত্রাণের জন্য সবার আগে দরকার সাধারণ মানুষের সচেতনতা এবং বিচার প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা থেকে মুক্ত হওয়া এবং রাষ্ট্রীয় তদারক বৃদ্ধি করা। দেখা যায়, দুদক অনেক কষ্ট করে অনুসন্ধান শেষে দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে মামলা করার পর দিনের পর দিন মামলা বিচারাধীন পড়ে থাকে তাতে অন্য দুর্নীতিবাজরা নিজেদেরকে আরও উৎসাহিত বোধ করে। এছাড়া, সব সময়ই দুর্নীতিবাজরা ক্ষমতার ভেতরে বা ক্ষমতার কাছাকাছি থাকে বলে সহসা তাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেয়া কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। দুদক চেয়ারম্যান বলেন, এ ধরনের দুর্নীতি দেশের সর্বনাশ ডেকে আনছে, বাস্তবে দুর্নীতি এখন ক্যান্সারে রূপ নিয়েছে।

আতঙ্কে এলাকা ছাড়ছেন মিয়ানমারের মুসলমানরা


  সমপ্রতি মিয়ানমারের মধ্যাঞ্চলজুড়ে ছড়িয়ে পড়া সামপ্রদায়িক দাঙ্গার কারণে সেখানকার অনেক মুসলিম এলাকা ছেড়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিচ্ছেন। উত্তেজিত বৌদ্ধরা দল বেঁধে সংখ্যালঘু মুসলমানদের মসজিদ, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও বাড়িঘরে হামলা চালাচ্ছে। মিয়ানমারের মধ্যাঞ্চলের সিত কউয়িন গ্রামের দুই হাজার বাসিন্দার মধ্যে মাত্র একশ’ জনের মতো ইসলাম ধর্মাবলম্বী ছিলেন। হামলার পর বেশির ভাগই এলাকা ছেড়ে অজানার পথে পা বাড়িয়েছে। তাদের ঘরবাড়ি, দোকানপাট এবং ধর্মীয় উপাসনালয় (মসজিদ) ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে। তারা ছেড়ে কেউ শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নিয়েছেন, কেউবা বন্ধু বা আত্মীয়দের বাড়িতে আত্মগোপন করেছেন। অনেককে হত্যা করা হয়েছে। শুক্রবার গ্রামের অবশিষ্ট মুসলিমদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। এমনই এক মুসলিম দোকানির কথা বলতে গিয়ে সিত কিউয়িনের ২৪ বছর বয়সী ট্যাক্সিচালক অং কো মাইন্ত বলেন, তারা কোথায় আছে আমরা জানি না, হামলাকারীরা আসার আগ মুহূর্তে সে পালিয়ে যায়।
২০শে মার্চ কট্টর বৌদ্ধরা মধ্যাঞ্চলীয় মিখতিলা টাউনে দাঙ্গার সূত্রপাত করার পর থেকে এখন পর্যন্ত ৪২ জন নিহত হয়েছেন। এরপর আরও অন্তত ১০টি শহর ও গ্রামে তারা দাঙ্গা বাঁধিয়েছে। মুসলিমবিরোধী উস্কানিতে উত্তেজিত হয়ে ওঠে সাধারণ বৌদ্ধরা। টেলিফোন, ফেইসবুকের মতো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বৌদ্ধ ভিক্ষুদের পরিচালিত ‘৯৬৯ আন্দোলন’ এসব গুজব সাধারণ বৌদ্ধদের মাঝে ছড়িয়ে দেয়। বুদ্ধ থেকে নেয়া এই তিনটি সংখ্যা বুদ্ধের বিভিন্ন রূপ প্রকাশ করে। এরমধ্যে তার শিক্ষা ও ভিক্ষুত্ব অন্যতম। কিন্তু মিয়ানমারে এটি মুসলিমবিরোধী জাতীয়তাবাদী উগ্রপন্থার প্রতিনিধিত্ব করছে। এই আন্দোলন বৌদ্ধদের মুসলিম পরিচালিত দোকানপাট ও সেবা বয়কট করার আহ্বান জানায়। চারদিন আগে থেকে সিত কউয়িনে সমস্যা শুরু হয়। ৩০টি মোটরসাইকেলে চড়ে বহিরাগত কিছু লোক গ্রামের ভেতর দিয়ে যেতে যেতে মুসলিম প্রতিবেশীদের বয়কট করার আহ্বান জানায়। এরপর তারা একটি মসজিদ ও মুসলিম মালিকানাধীন একসারি দোকানপাট ও ঘরবাড়ি ধ্বংস করে। এক ব্যক্তি জানিয়েছেন, গুজবে উত্তেজিত হয়ে তারা এখানে আসে। তিন বৌদ্ধভিক্ষুর নেতৃত্বে ত্রিশটি শক্তিশালী গোষ্ঠী শুক্রবার একটি মসজিদের দিকে রওনা হয় হলে পুলিশ বাধা দেয়। পুলিশি বাধার মুখে ছুরি ও লাঠিধারী এসব দাঙ্গাকারী ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। এরপর এ ধরনের আর কিছু হতে দেব না আমি, বলেন পুলিশ কমান্ডার ফোনি মিন্ত। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য গতকাল পুলিশকে কর্তৃত্ব দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট। তবে মিয়ানমারে নিযুক্ত জাতিসংঘের মানবাধিকার সংক্রান্ত বিশেষ প্রতিনিধি বৃহস্পতিবার বলেছেন, তারা মিখতিলার সামপ্রতিক সহিংসতায় রাষ্ট্রীয় যোগসাজশ থাকার অভিযোগ পেয়েছেন।

ভারতীয় নারীর প্রেমে পড়েছিলেন ম্যান্ডেল


দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম গণতান্ত্রিক প্রেসিডেন্ট নেলসন ম্যান্ডেলার বিয়ের প্রস্তাবে রাজি হলে আমিনা চাচালিয়াই হতেন সেখানকার প্রথম ভারতীয় বংশোদভূত ফার্স্ট লেডি। ২৭ বছরের কারাজীবন এবং উইনি ম্যান্ডেলার সঙ্গে বিবাহ বিচ্ছেদের পর ম্যান্ডেলা বর্ষীয়ান এএনসি কর্মী ইউসুফ চাচালিয়ার বিধবা পত্নী আমিনাকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তবে আমিনা ম্যান্ডেলার সেই ভালবাসার প্রস্তাবকে ফিরিয়ে দিয়েছিলেন বলে নিজের লেখা জীবনী ‘হোয়েন হোপ অ্যান্ড হিস্টরি রাইম’-এ দাবি করেছেন। গত মাসে ৮৩ বছর বয়সে মৃত্যুবরণকারী আমিনা তার আত্মজীবনীতে দীর্ঘদিনের পারিবারিক বন্ধু ম্যান্ডেলার সঙ্গে তার আবেগঘন ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের বিষয়টি তুলে ধরেছেন। আামিনার দুই সন্তান গালিব ও কোকা চাচালিয়া দু’জনই স্বীকার করেছেন যে তাদের মা ম্যান্ডেলার বিয়ের প্রস্তাবের বিষয়টি তাদেরকে জানিয়েছিলেন। আমিনা এবং ইউসুফ চাচালিয়া দীর্ঘদিন ভারতে অবস্থান করেছেন। ইউসুফ সেখানে নির্বাসিত অবস্থায় আফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেস প্রধানের দায়িত্ব পালন করেছেন। আত্মজীবনীতে আমিনা তার নিজের এপার্টমেন্টে ম্যান্ডেলার যাতায়াত এবং ম্যান্ডেলার বাড়ি এবং অফিসে তার যাতায়াতের বিস্তারিত বিবরণ তুৃলে ধরেছেন। একটি ঘটনার বিবরণে তিনি লিখেছেন- লিভিংরুমের দুই আসনের সোফায় আমাকে বসিয়ে ম্যান্ডেলা চুমো খেয়ে চুলে বিলি কেটে বলেছিলেন তুমি কি জানো তুমি কতো সুন্দর? আরেকটি ঘটনার কথা উল্লেখ করে তিনি লিখেছেন- জোহানেসবার্গের তার এপার্টমেন্টে ম্যান্ডেলা তাকে দেখতে এসেছিলেন। তিনি তখন তার জন্য নাস্তা তৈরি করছিলেন। কিন্তু ম্যান্ডেলার ভালবাসার আহ্বান উপেক্ষা করায় তিনি সে নাস্তা না খেয়েই চলে গিয়েছিলেন। তিনি লিখেছেন, ম্যান্ডেলা দ্ব্যর্থহীন ভাষায় নিজের ভালবাসার কথা উল্লেখ করলেও গ্রাকার সঙ্গে তিনি বিবাহিত ছিলেন বলে আমিনা ম্যান্ডেলাকে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। ম্যান্ডেলার ভালবাসার ব্যাপারে তিনি বলেছেন, তার অনমনীয় ভালবাসার কোন প্রতিদান আমি দিতে পারিনি। আমি তার প্রেমে পড়িনি। আমি তাকে ভালবাসতাম তবে যেমনটা আমি ওই বয়সেও ইউসুফকে ভালবাসতাম সেভাবে ম্যান্ডেলাকে আমি ভালবাসতে পারিনি।

Monday, January 7, 2013

সারকোজিকে ৫২০০০০ কোটি টাকা দিয়েছিলেন গাদ্দাফি




লিবিয়ার সাবেক নেতা কর্নেল মুয়াম্মার গাদ্দাফির কাছ থেকে ফ্রান্সের সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস সারকোজি ৪০০০ কোটি পাউন্ড নিয়েছেন। বাংলাদেশের মুদ্রায় যার মান প্রায় ৫২০০০০ কোটি টাকা। নিকোলাস সারকোজি ২০০৭ সালে যখন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করেন তখন ওই অর্থ নিয়েছিলেন গাদ্দাফির কাছ থেকে। প্রতিদানে ন্যাটো লিবিয়ার বিরুদ্ধে যে অভিযান পরিচালিত করে তার নেতৃত্ব দেয় সেই ফ্রান্স। অনলাইন ডেইলি মেইল এ খবর দিয়েছে। এতে বলা হয়েছে, বৃটেনের সঙ্গে অস্ত্র ব্যবসায় ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে এমন প্রচুর অর্থের মালিক জায়েদ তাকিয়েদ্দিন (৬২)। তিনিই গাদ্দাফির কাছ থেকে নিকোলাস সারকোজির ওই অর্থ নেয়ার অভিযোগ উত্থাপন করেছেন। গত ১৯শে ডিসেম্বর তার সাক্ষ্য নিয়েছে প্যারিসের এক বিচারপতি রেনাউদ ভ্যান রুইমবেকে। সেই সাক্ষ্যে তিনি বলেছেন, ২০০৬ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০০৭ সালের জানুয়ারির মধ্যে ওই অর্থের বেশির ভাগই নিকোলাস সারকোজিকে দিয়ে দেন গাদ্দাফি। এ ঘটনা ঘটে সারকোজি ক্ষমতায় আসার ৫ মাস আগে। জায়েদ তাকিয়েদ্দিন বলেন, প্রতিজ্ঞা করে বলছি- আমি এর স্বপক্ষে প্রমাণপত্র দিতে পারবো আপনাদের। তাই এ বিষয়ে নতুন করে তদন্ত দাবি করছি আমি। এর আগেও নিকোলাস সারকোজির বিরুদ্ধে একই রকম সাক্ষ্য দিয়েছেন বেশ কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী। তারা সবাই বলেছেন, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় সারকোজি ছিলেন দুর্নীতিপরায়ণ। ফরাসি আইন অনুযায়ী, নির্বাচনের কোন প্রার্থী কারো কাছ থেকে ৬৩০০ পাউন্ডের বেশি অর্থ নিতে পারেন না। কিন্তু নগদ অর্থ না নিয়ে সারকোজি কৌশল অবলম্বন করেন। তিনি পানামা ও সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকের মাধ্যমে গাদ্দাফির কাছ থেকে অনুদান গ্রহণ করেন। গত বছর আরবী ভাষার একটি প্রমাণপত্র প্রকাশ হয়। তাতে বলা হয়, নিকোলাস সারকোজির প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে নৈতিকভাবে সম্মতি দিয়ে তাকে ৪০০০ কোটি পাউন্ড দিয়েছেন মুয়াম্মার গাদ্দাফি। লিবিয়ার ন্যাশনাল ট্রানজিশনাল কাউন্সিল বা জাতীয় অন্তর্বর্তী পরিষদের সিনিয়র সদস্যরা গাদা গাদা তথ্য প্রকাশ করে দেয়। ওদিকে অভিযোগ আছে, গাদ্দাফি যে অর্থ সারকোজিকে দিয়েছেন তার মধ্যস্থতা করেছেন জায়েদ। কারণ, তার সঙ্গে আরব অঞ্চলের বিভিন্ন জনের সঙ্গে ও ফরাসি রাজনীতিকদের সঙ্গে ভাল সম্পর্ক ছিল। এছাড়া মুয়াম্মার গাদ্দাফির ছেলে সাইফ আল ইসলাম গাদ্দাফিও বলেছেন, তার নিকোলাস সারকোজিকে তার পিতা নির্বাচনের সময় অর্থ দিয়েছেন। তার দাবি, তাই সারকোজির এখন প্রথম কাজ হলো সেই অর্থ লিবিয়ার হাতে ফেরত দেয়া। তবে এ বিষয়ে নিকোলাস সারকোজির কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ভারতে গণধর্ষণের মর্মান্তিক সব কাহিনী



দিল্লিতে গণধর্ষণের পর ২৩ বছর বয়সী ছাত্রীর মর্মান্তিক মৃত্যুর পর একে একে বেরিয়ে আসছে ধর্ষণের কাহিনী। ভারতের মিডিয়া, বিশেষ করে অনলাইন পত্রিকাগুলোতে এসব রিপোর্টে সয়লাব। এমন অবস্থায় মুখ খুলেছেন বহুল আলোচিত, প্লেবয় ম্যাগাজিনের জন্য পোজ দেয়া শেরলিন চোপড়া। তিনিও এ ঘটনায় হতাশ, ক্ষুব্ধ। তাই তিনি প্রস্তাব দিয়েছেন, তিনি ধর্ষিত হতে চান। তবে একটি শর্ত দিয়েছেন। বলেছেন, তাকে কথা দিতে হবে ভারতে সব ধর্ষণ বন্ধ হবে তাতে। যদি সব ধর্ষণ বন্ধ হয় তাহলে তিনি ধর্ষিত হতে চান। তিনি টুইটারে লিখেছেন- ‘প্রিয় ঘৃণ্য ব্যক্তিবর্গ, আপনারা বলতে পারেন আমার ধর্ষিত হওয়া উচিত। যদি আমি ধর্ষিত হলে ভারতের আর কোন কনেকে ধর্ষিত না হওয়ার নিশ্চয়তা দেয় তাহলে আমি যে কোন মূল্যে প্রস্তুত কোন ভয় নেই।’ ওদিকে পাঞ্জাবের মোহালিতে ১০ বছর বয়সী এক শিশু কন্যাকে যৌন হয়রানি করার অভিযোগে পুলিশের ৫০ বছর বয়সী এক সহকারী সাব-ইন্সপেক্টরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার নাম দেশ রাজ। ওই শিশুর পিতা গত ২৫শে ডিসেম্বর পুলিশের কাছে এ অভিযোগ করেন। ভারতে ধর্ষণ ঘটনা নিয়ে যখন তোলপাড় চলছে তখন পুলিশ এক সপ্তাহ পরে বুধবার ওই অভিযোগটিকে মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, দেশ রাজ ওই শিশুটির বাড়ির পাশেই এক রুমের একটি বাসায় ভাড়া থাকতো। সে ওই শিশুকে তার ঘরে ডেকে নিয়ে তাকে যৌন নির্যাতন করেন। তখন শিশুটি কান্নাকাটি শুরু করলে তার পিতা দৌড়ে গিয়ে তাকে রক্ষা করে। এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেছেন, তাদের তদন্তে দেশ রাজকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাকে। নির্যাতিতা ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য নেয়া হয়েছে। ওদিকে নয়া দিল্লির ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরী ধর্ষিত হয়েছে। তাকে এমএনসির দুই কর্মচারী ধর্ষণ করেছে। এ জন্য সে অক্টোবর ও নভেম্বর মাসে দু’বার আত্মহত্যার চেষ্টা করে। ওদিকে জয়পুরে ১১ বছর বয়সী এক শিশু গণধর্ষিত হওয়ার পর তার প্রজননতন্ত্রে ১৪টি অপারেশন করা হয়েছে। গোয়াতে এক নারীকে হুমকি দেয়ার অভিযোগে সিরিয়াল কিলার মাহানান্দ নায়েকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। কেরালায় ধর্ষিত হওয়ার ৮ বছর পরে এক নারী এখন বিচার চাইছেন। তাকে ৪০ দিন আটকে রেখে ৪২ জন গণধর্ষণ করেছিল বলে তার অভিযোগ। এজন্য তিনি সুপ্রিম কোর্টে বিচারের অপেক্ষায় আছেন। এমন অনেক ঘটনায় ভরা ভারতের মিডিয়া। নয়া দিল্লিতে ধর্ষিত ১৭ বছর বয়সী ‘নবনীতা’ (পরিবর্তিত নাম) বলেছে- ফেসবুকে নবীন সিং খেতওয়ালের (২৪) সঙ্গে ২০১১ সালে তার বন্ধুত্ব হয়। এরপর নবীন তার এক কাজিন রাজেশের (২৪) সঙ্গে নবনীতাকে পরিচয় করিয়ে দেয়। তাদের সঙ্গে তার বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। এক পর্যায়ে তারা দু’জনে ধর্ষণ করে নবনীতাকে। এতে হতাশ হয়ে সে দু’বার আত্মহত্যার চেষ্টা চালায়। ওদিকে নয়া দিল্লিতে এখন থেকে ৮ বছর আগে কেরালার এক নারীকে ৪০ দিন আটকে রাখে একদল নরপিশাচ। তারা ৪২ জনে দিনের পর দিন তারা ধর্ষণ করতে থাকে। দিল্লির ধর্ষণ নিয়ে চারদিকে যখন উত্তাল তখনই তিনি ওই ঘটনা সামনে এনে সুপ্রিম কোর্টে বিচার চেয়েছেন। গতকাল প্রধান বিচারপতি আলতামাস করিব বলেছেন, তিন সপ্তাহের মধ্যে এ মামলার শুনানি শুরু হবে। ওই নারীকে ধর্ষণের ঘটনা সারাইয়ানেলি ধর্ষণ মামলা নামে পরিচিত। ওই নারী কেরালায় যে গ্রামে তার পিতামাতার সঙ্গে বসবাস করতেন সে গ্রামের নামানুসারে এমন নামকরণ করা হয়েছে। তার পর থেকে তিনি দু’বার তার বাসা পাল্টেছেন। ওই মামলায় বলা হয়েছে, এখন থেকে ৮ বছর আগে ওই নারীর বয়স ছিল ১৬ বছর। তখন তাকে তার গ্রাম থেকে এক বাস কন্ডাকটর অপহরণ করে ধর্ষণ করে। তারপর সে তাকে তুলে দেয় অন্যদের হাতে। তাদের মধ্যে ওই সময় কেরালায় ক্ষমতাধর ছিল অনেকেই। ওই সময় তাকে আটকে রাখা হয়েছিল। তার কাছে কোন অর্থও ছিল না বাড়ি ফিরে যাওয়ার। ক্ষতের কারণে তিনি বসতে বা দাঁড়াতে পারতেন না। তার এ ঘটনায় কেরালায় প্রথম স্পেশাল কোর্ট বসানো হয় যৌন হয়রানির মামলার সমাধান করতে। তাকে ধর্ষণের জন্য ৩৫ জনকে অভিযুক্ত করা হয়। কিন্তু ৩ বছর পরে কেরালা হাইকোর্ট ওই সিদ্ধান্তকে উল্টে দেয়। তাতে একজনমাত্র ব্যক্তিকে দোষী দেখানো হয়। এ রায়ের তখন সমালোচনা করেন অনেকে। ধর্ষিতার পরিবার ও রাজ্যের প্রসিকিউটররা ২০০৫ সালে এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করেন। তারপর আর কোন অগ্রগতি হয়নি।