Thursday, May 31, 2012

জোকারবার্গ-প্রিসিলা হানিমুনে

সবচেয়ে কম বয়সী বিলিয়নিয়ার ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জোকারবার্গ হঠাৎ বিয়ে করে সারপ্রাইজ দিয়েছেন তার বন্ধুমহলকে। একই সঙ্গে বিশ্ব মিডিয়া আলোচনায় স্থান করে নিয়েছে জোকারবার্গ-প্রিসিলা জুটি। তারা এখন হানিমুন করতে রয়েছেন ইতালিতে। সেখানে তাদেরকে দেখা গেছে ইয়াট ভাড়া করে তাতে নীল পানির ওপর আনন্দ করতে। দীর্ঘদিনের প্রেমিকাকে বিয়ে করে এখন যেন আনন্দের হাওয়ায় ভাসছেন জোকারবার্গ। তার খুশির কোন সীমা নেই। তবে এ পর্যায়ে আসতে অনেক পথ পাড়ি দিতে হয়েছে প্রিসিলা চ্যানকে। করতে হয়েছে অনেক সংগ্রাম। চায়নিজ বাবা ও ভিয়েতনামি মায়ের সন্তান প্রিসিলা চ্যানের আমেরিকার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করাটা ছিল অনেক কষ্টের। এক্ষেত্রে তার বাবা-মাও অনেক সংগ্রাম করেছেন মেয়েকে প্রতিষ্ঠিত করতে। প্রিসিলার বাবা ডেনিশ চ্যান (৪৭) ছিলেন একটি শরণার্থী ক্যাম্পে। সেখান থেকে পরিবারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান ১৯৭০ সালে। স্বপ্নের বাস্তবায়ন করতে ডেনিশ চ্যান দৈনিক ১৮ ঘণ্টা করে হাড়ভাঙা পরিশ্রম করেন। নিজের প্রথম সন্তান প্রিসিলার মার্কিন স্বপ্নপূরণ করতে অনেক কষ্টে সেখানে একটি চায়নিজ রেস্টুরেন্ট খোলেন। একই উদ্দেশে  প্রিসিলার মা ইভো নিও দৈনিক অনেক সময় কাজ করতেন বোস্টনের টেস্টি অব এশিয়াতে। ফলে প্রিসিলাকে থাকতে হতো তার দাদীর সঙ্গে। তার চায়নিজ দাদী আবার কোন ইংরেজি জানতেন না। প্রিসিলার জীবনে তার দাদীর যথেষ্ট প্রভাব রয়েছে। তিনিই ছিলেন তার মানসিক সাপোর্ট। সব কাজের সহায়ক শক্তি ও প্রেরণা। প্রিসিলাকে ভর্তি করা হয় বোস্টনের পাশের শ্রমজীবী শ্রেণীর শহর কুইন্সির রাষ্ট্রচালিত কুইন্সি হাইস্কুলে। খুব ছোট বয়সেই তার মেধা ও অধ্যবসায় পরিস্ফূটিত হয়ে ওঠে। প্রিসিলার সায়েন্স শিক্ষক ও টেনিস কোচ পিটার সোয়ানসন বলেন, ১৩ বছর বয়সে সে আমাকে বলেছিল, হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে হলে আমাকে কি করতে হবে? সোয়ানসন ডেইলি মেইলকে বলেছেন, আমার শিক্ষকতা জীবনে এতটুকু বয়সে এমন প্রশ্ন আমাকে খুব কমই করেছে কেউ। প্রিসিলা জানতো সে কি চায়। এমনকি ১ ভাগ সম্ভাবনাকেও হাতছাড়া করেনি সে। সে জানতো হার্ভার্ড ছাড়া পড়তে হলে তার বায়োডাটা ভারি থাকতে হবে। এজন্য ১ ভাগ রিকোয়্যারমেন্ট অর্জন করতে টেনিসে যোগ দেন প্রিসিলা। খুব বেশি পড়াশোনা করতেন তিনি। এজন্য যে কোন ত্যাগ স্বীকারে সব সময় ছিল সে প্রস্তুত। তিনি বলেন, একরার প্রিসিলা তাকে তাদের রেস্টুরেন্টে ফ্রি খাওয়ার একটি ভাউচার উপহার দেয়। ফলে তিনি তাদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিষ্ঠা পাওয়ার সংগ্রাম সম্পর্কে ধারণা পান। হার্ভার্ডের ব্যাপারে খুবই উৎসাহী ছিলেন প্রিসিলা এজন্য ভার্সিটিকে আকৃষ্ট করতে সব কিছুই করেন তিনি। যখন সে হার্ভার্ডে ভর্তি হয় তারপর আমাকে মুচকি হেসে এসে কানে কানে বলেছিল আমি আপনাকে বলেছিলাম আমি হার্ভার্ডে পড়বো বলেছেন সোয়ানসন। তিনি জানান, গত বছর প্রিসিলা ও তার বর্তমান স্বামী জোকারবার্গকে তিনি দেখতে গিয়েছিলেন ক্যালিফোর্নিয়া তাদের তিন কোটি ৫০ লাখ ডলারের ফ্ল্যাটে। তখন মার্ক জোকারবার্গ কিচেনে ছিলেন। তিনি তার কম্পিউটারে কাজ করছিলেন। প্রিসিলা পরিচয় করিয়ে দেয়ার পর মুচকি হেসে তিনি বলেছেন, সব গ্রেটম্যানের পেছনে একজন গ্রেটওমেন থাকেন। সোয়ানসন বলেন, সবাই বলে জোকারবার্গকে বিয়ে করে প্রিসিলা লাকি। কিন্তু জোকারবার্গ জানেন আসলে প্রিসিলাকে পেয়ে তিনি লাকি। তিনি বলেন, প্রিসিলা হলেন মার্কিন স্বপ্নের সর্বশেষ উদাহরণ। তার বাবা-মা কিছুই না নিয়েই এখানে এসেছিলেন। আর এখন তিনি নিজ চেষ্টায় বিলিয়নিয়ার হওয়া সবচেয়ে কম বয়সীর স্ত্রী। এর থেকে ভাল আর কি হতে পারে। প্রিসিলা তার পরিবারের শিকড়ের সম্মান রক্ষা করেছেন। তার অফিসিয়াল বায়োগ্রাফিতে উল্লেখ আছে কুইন্সি হাইস্কুল থেকে তিনি হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে বায়োলজি নিয়ে পড়াশোনা করেন। সেখানে এক পার্টিতে বাথরুমের লাইনে তার জোকারবার্গের সঙ্গে পরিচয় ২০০৩ সালে। সম্প্রতি প্রিসিলা ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডাক্তারিতে গ্র্যাজুয়েশন লাভ করেছেন। ভবিষ্যতে শিশু রোগের ডাক্তার হতে চান তিনি।

পুরুষের জন্য জন্মবিরতিকরণ পিল!

 পুরুষদের জন্যও জন্মবিরতিকরণ পিল বানানো সম্ভব। একটি জিন’কে চিহ্নিত করার পর এমন আশা ব্যক্ত করেছেন বিজ্ঞানীরা। এডিনবার্গের গবেষকরা বলেছেন, পুরুষের প্রজননতন্ত্রে সুস্থ শুক্রাণু উৎপাদনে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে একটি জিন। তারা ওই জিনটিকে শনাক্ত করতে পেরেছেন। এ বিষয়ে গবেষকরা ইঁদুরের ওপর পরীক্ষা চালিয়ে কাটনাল নামের ওই জিনটিকে শনাক্ত করেন। এটি শুক্রাণু উৎপাদনের চূড়ান্ত পর্যায়ে ভূমিকা রাখে। তাই বিজ্ঞানীরা বলছেন, ওই কাটনাল নামের জিনটির স্বাভাবিক কাজে ব্যাঘাত ঘটাতে পারলেই সে শুক্রাণু উৎপাদন করতে পারবে না। ফলে কাটনালকে নিষ্ক্রিয় করতে পারলে সেই পদ্ধতিতে পুরুষের জন্য জন্মনিরোধক পিল আবিষ্কার করা সম্ভব। প্রজনন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন একটি পিলের খুবই দরকার। পুরুষের জন্য এখন পর্যন্ত যেসব জন্মনিরোধক ব্যবস্থা আছে তা হলো কনডম ব্যবহার করা অথবা ভ্যাসেকটমি করানো। ইউনিভার্সিটি অব এডিনবার্গের সেন্টার ফর রিপ্রোডাকটিভ হেলথ-এর গবেষকরা এখন পুরুষের দেহে অনুর্বরতার কারণ কি তা নিয়ে গবেষণা করছেন। তারা ইঁদুরের জেনেটিক কোড একের পর এক ব্যবহার করে দেখছেন কোনটির কারণে অনুর্বরতা আসে। এ গবেষণা করতে গিয়েই তারা কাটনালের সন্ধান পান। ইউনিভার্সিটি অব এডিনবার্গের ডা. লি স্মিথ বলেছেন, আমরা যদি এই গবেষণায় সফল হই তাহলে আমরা জন্মনিরোধক পিল তৈরি করতে পারবো।

Wednesday, May 30, 2012

ভারতে ২১ লাখ রুপিতে গর্ভ ভাড়া

একটি সন্তানের মুখ দেখতে দম্পতিদের কতই না আকাঙ্খা! যাদের সন্তান নেই অথবা সন্তান হয় নাÑ তারা বোঝেন একটি সন্তান না থাকার বেদনা। তাই তো সুদূর বৃটেন থেকে এমন দম্পতিরা অথবা সিঙ্গেল লোকজন (যাদের বিয়ে হয়নি বা বিয়েতে যাদের আপত্তি আছে) তারা একটি সন্তানের জনক বা জননী হতে ছুটে আসেন ভারতে। এখানে এসে মায়েদের গর্ভ ভাড়া নেন। একটি সন্তানের জন্য ২১ লাখ রুপি পর্যন্ত তারা গর্ভ ভাড়া নিয়ে থাকেন। বৃটেনে এ ভাবে গর্ভ ভাড়া নেয়া নিষিদ্ধ বলে তারা ছুটে আসেন ভারতে। ভারতে এমন সেবা দেয়ার জন্য এখন ১০০০ ক্লিনিক আছে। তারা বৃটিশ নর-নারীকে সন্তানের জন্য গর্ভ ভাড়া নিতে সহায়তা করে থাকে। এক্ষেত্রে গড়ে তারা ২৫ হাজার পাউন্ড বা ২১ লাখ রুপিতে একটি গর্ভ ভাড়া নিয়ে থাকেন। গত বছরে এভাবে ভারতে ভাড়া করা গর্ভে জন্ম নিয়েছে ২০০০ শিশু। তাই ভারতীয় কর্তৃপক্ষ এখন বিশ্বাস করছে, গর্ভ ভাড়া বাণিজ্যে ভারত প্রতি বছর ১৫০ কোটি পাউন্ড আয় করছে এবং এই ব্যবসাকে জরুরি ভিত্তিতে রেগুলেট করতে হবে। ভারতে কোন মা যদি ডিম্বানু দান করেন এবং গর্ভ ভাড়া নেন তাহলে তাকে দেয়া হয় ৫ দশমিত ২ লাখ রুপি। এর মাধ্যমে ভারতে এসে বৃটিশ ব্যাংকার, সরকারি সিনিয়র চাকরিজীবি, বহুজাতিক কোম্পানির নির্বাহীরা, এমনকি বৃটেনের জাতীয় স্বাস্থ্য সেবায় নিয়োজিতরা ভারতে এসে গর্ভ ভাড়া নিচ্ছেন।

নিউটনের ধাঁধা ৩৫০ বছর পর সমাধান করলো ১৬ বছরের শৌর্য

ভারতীয় বংশোদ্ভূত ১৬ বছরের এক বিস্ময়-কিশোর শৌর্য রায়। জার্মানির ড্রেসডেনে বসবাস। দীর্ঘ সাড়ে ৩শ’ বছরেরও বেশি সময় যে সমস্যার সমাধান কেউ করতে পারেননি, তা পেরেছে ১৬ বছরের ওই কিশোর। বিজ্ঞানী স্যার আইজ্যাক নিউটনের জটিল এক গাণিতিক সমস্যার সমাধান বের করে বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে সে। ৩৫০ বছরেরও বেশি আগে নিউটন বস্তুর গতি সংক্রান্ত দু’টি মৌলিক প্রশ্ন রেখেছিলেন বিশ্ববাসীর সামনে। পৃথিবীর ওপর থেকে কঠিন কোন বস্তুকে যদি সামনের দিকে পৃথিবীর সমান্তরালে ছোড়া হয়, কিছুক্ষণ পর ওই বস্তুটি অভিকর্ষ বলের প্রভাবে মাটিতে নেমে আসে। তবে কঠিন বস্তুটির ওপর প্রয়োগ করা বল ও অভিকর্ষের টান, দু’টো মিলিয়ে একটি মিশ্র-বল তৈরি হয়। এর প্রভাবে কঠিন বস্তুটি খানিকটা বাঁকা বা তীর্যক পথে মাটিতে এসে পড়ে। আরও জোরে বস্তুটিকে ছোড়া হলে, বস্তুটি মাটিতে আরও দূরে ও আরও বাঁকা পথে পড়ে। এখানেই ধাঁধাটি রেখেছিলেন নিউটন। নিউটনের প্রশ্ন ছিল, ঠিক কোন গতিতে বস্তুটি ছোড়া হলে, সেটি পৃথিবীতে গোল হয়ে ঘুরতে ঘুরতে মাটিতে ঠিক ছোড়ার স্থান বরাবর পড়বে? আর মাটিতে আঘাত করার পর বস্তুটি কোন দিকে ছিটকে যাবে? বছর কয়েক আগে বেশ উন্নত কম্পিটারের সাহায্যে এ প্রশ্ন দুটির সমাধান করতে পেরেছিলেন বিজ্ঞানীরা। কিন্তু তাও ছিল বেশ জটিল। কিন্তু কিশোর শৌর্য খুব সহজেই অঙ্ক কষে গাণিতিক সমস্যা দুটির সমাধান করে তাক লাগিয়ে দিয়েছে বাঘা-বাঘা বিজ্ঞানীদের। শুধু তাই নয়। শৌর্যের বাতলে দেয়া পদ্ধতিতে সহজেই হিসেব করে বের করা যাবে বস্তুটির গতিপথ। শৌর্যের পিতা একজন প্রকৌশলী। কাজের সূত্রে চার বছর আগে কলকাতা থেকে জার্মানিতে পাড়ি দেয় শৌর্যের পরিবার। জার্মান ভাষা জানতো না শৌর্য। আর এখন জার্মান ভাষায় পটু সে। একদিন স্কুল থেকে  ড্রেসডেন বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল শৌর্য ও তার সহপাঠীদের। সেখানে এক অধ্যাপক তাদের কাছে দাবি করলেন, কোন মানুষের পক্ষে নিউটনের এই জটিল গাণিতিক সমস্যার সমাধান করা সম্ভব নয়। কিন্তু অধ্যাপকের সে দাবি শৌর্য মেনে নিতে পারেনি। তার ভাষায়, ‘আমি নিজেকে জিজ্ঞেস করলাম, কেন নয়? সব কিছুরই উত্তর সম্ভব। এ সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়, এমনটা আমি বিশ্বাসই করলাম না।’ মাত্র ৬ বছর বয়স থেকে জটিল সব গাণিতিক সমস্যার সমাধান করার চর্চা শুরু করলো সে। তবে শৌর্যের দাবি, সে কোন ‘জিনিয়াস’ নয়। স্কুলে শৌর্যের অসাধারণ প্রতিভা, বুদ্ধিমত্তা ও মেধা দেখে স্কুল কর্তৃপক্ষ তাকে দুটি শ্রেণী ডিঙিয়ে আরও ওপরের ক্লাসে পড়ার অনুমতি দেন।

বিড়ালপ্রেমে স্বামী-স্ত্রী’র তালাক

 বিড়াল প্রেমের কারণে ইসরাইলের এক ব্যক্তি তার স্ত্রীকে তালাক দিয়েছেন। তার স্ত্রীর কাছে স্বামীর চেয়ে বিড়াল বেশি প্রিয়। তাই তিনি বাড়িতে একে একে ৫৫০টি বিড়াল পোষা শুরু করেন। কিন্তু এত্তগুলো বিড়ালের অত্যাচারে বাড়ির অবস্থা যা-তা। টাইমস অব ইসরাইল জানায়, বিছানায় মলমূত্র ত্যাগ, এটা ওটা এলোমেলো করা, বিড়াল-বিড়াল ঝগড়া, খাবারের মধ্যে বিড়ালের লোম, রাতে ঘুমানো যায় না, বিড়ালগুলো মেঝেতে ঘুমায় না, তারা ওই দম্পতির আরামদায়ক বিছানাকে ঘুমানোর জন্য বেছে নেয়। তাদের অত্যাচারে বাথরুম পর্যন্ত ব্যবহার করা যায় না। রান্নাঘরে রান্না করার মতো পরিস্থিতি থাকে না। খেতে বসলে খাবারের প্লেটে লাফিয়ে পড়ে বিড়াল। এমনতরো নানা অত্যাচারে অতিষ্ঠ ওই স্বামী। এক পর্যায়ে তিনি তার স্ত্রীকে অনুরোধ করেন বিড়ালগুলো বাড়ি থেকে বের করে দিতে। কিন্তু তাতে মোটেও রাজি নন তার স্ত্রী। এ নিয়ে তাদের মধ্যে প্রায়দিনই ঝগড়া হতে থাকে। অতিষ্ঠ হয়ে তিনি স্ত্রীকে রাগ ঝাড়েন- বিড়াল বাড়ি থেকে না তাড়ালে তোমাকে তালাক দেবো। স্ত্রীও কম যান না। তিনি সাফ জানিয়ে দেন- তিনি স্বামীসঙ্গ ত্যাগ করতে রাজি। কিন্তু বিড়াল কিছুতেই তিনি কাছছাড়া করবেন না। এ নিয়ে ইসরাইলের বিরশেবা শহরে আদালতে মামলা ওঠে। সেখানে আদালত থেকে তাদেরকে ফের মিলেমিশে যেতে বলা হয়। কিন্তু মিলিত হওয়ার জন্য ওই ব্যক্তির স্ত্রী সেই ‘তালগাছটা আমার’ জাতীয় মন্তব্য করেন। তিনি বলে দেন- তিনি স্বামীকে ত্যাগ করতে রাজি আছেন। কিন্তু বিড়ালকে ত্যাগ করবেন না। তো আর কি করা। বিড়ালের কারণে ভেঙে যায় তাদের সংসার।

নিয়ম ভঙ্গের কথা স্বীকার করলেন ব্যারোনেস ওয়ারসি

নিয়ম ভঙ্গের কথা প্রকাশ্যে স্বীকার করলেন বৃটেনের কনজার্ভেটিভ পার্টির কো-চেয়ারম্যান পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত ব্যারোনেস ওয়ারসি। লন্ডনে নিজের বাসা ভাড়া পাওয়ার কথা না জানিয়ে তিনি হাউজ অব লর্ডসের নিয়ম ভঙ্গ করেছেন। তিনি নিজের বাড়ি ভাড়া দিয়ে অর্থ আদায় করলেও যখন এক বন্ধুর বাসায় থেকেছেন তখনও তিনি ভাড়া বাসায় থাকছেন বলে সরকারি কোষাগার থেকে অর্থ তুলেছেন। এ নিয়ে বৃটেনে তোলপাড় চলছে। বলা হচ্ছে, তিনি ওই সময় প্রতি রাতের জন্য ১৬৫ পাউন্ড করে নিয়েছেন। এসব কথা প্রকাশ হয়ে পড়ায় তার বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্তের ডাক উঠেছে। লেবার দলের এমপিরা তার বিরুদ্ধে এমন তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন।  বৃটেনে হাউজ অব লর্ডসের সদস্যদের নিজের কোন বাসা থাকলে তা রেজিস্ট্রারে উল্লেখ করতে হয়। যাদের বাসা নেই তারা বাসা ভাড়ার জন্য অতিরিক্ত অর্থ পান। কিন্তু ওয়ারসি ওই রেজিস্ট্রারে নিজের বাড়ির কথা উল্লেখ করেননি। ফলে তিনি সরকারি কোষাগার থেকে অর্থ পেয়েছেন। এদিকে কেবিনেট অফিস থেকে বলা হয়েছে, রেজিস্ট্রারে ওয়ারসির বাসা থাকা ও এর থেকে ভাড়া পাওয়ার বিষয়টি উল্লেখ না করাটা ছিল ভুল। এতে বলা হয়, তিনি ওয়েম্বলির ফ্লাটের কথা রেজিস্ট্রার অব মিনিস্টারস ইন্টারেস্টে উল্লেখ করেছেন। এটি কেবিনেট অফিস ও এইচএম রেভিনিউ অ্যান্ড কাস্টমসেও উল্লেখ করা হয়েছে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসায় নতুন করে ঝামেলায় পড়বেন প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন। এমনিতেই নিউজ অব দ্য ওয়ার্ল্ড ও সংস্কৃতিমন্ত্রীর বিএসকেওয়াইবি ঘটনা নিয়ে বিপদের মুখে রয়েছেন ক্যামেরন। গতকাল এ খবর দিয়ে ডেইলি মেইল জানায়, ওয়ারসি বলেছেন, তিনি এ সম্পত্তি ২০০৭ সালে কিনেছেন। ২০১০ সালে মন্ত্রী হওয়ার পর সেখানে বসবাস শুরু করেন তিনি। যার কারণে রেজিস্ট্রার অব মিনিস্টারস ইন্টারেস্টে উল্লেখ করলেও ভুলে রেজিস্ট্রার অব লর্ডস ইন্টারেস্টে এটি উল্লেখ করা হয়নি। তিনি বলেন, আমি ভুলের সম্পূর্ণ দায়িত্ব নিয়ে বলছি, তখন এর মূল্য বা ভাড়া কোনটাই বাস্তবতায় আসেনি। কিন্তু যখন এটি সামনে এসেছে তখনই আমি এটা রেজিস্ট্রার অব লর্ডস ইন্টারেস্টে জানিয়েছি। হাউজ অব লর্ডসের সদস্যদের ৫শ’ পাউন্ডের বেশি আয় হলে তার উৎস জানাতে হয়।

পশ্চিমা স্টাইলে পোশাক পরায় অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে হত্যা

পশ্চিমা স্টাইলে পোশাক পরার কারণে ইতালিতে বসবাসকারী অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে হত্যা করেছে এক ভারতীয়। ওই ভারতীয় ব্যক্তির নাম সিং কুলবির। ঘটনার পর সে ইতালির দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর পিয়াসেনজার পুলিশের কাছে বলেছে, তার স্ত্রীর নাম কাউর বালবিন্দে (২৭)। বারবার বারণ করা সত্ত্বেও বালবিন্দে ভারতীয় রীতি বাদ দিয়ে পশ্চিমা ধাঁচের পোশাক পরতে থাকেন। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীতে অনেক কথা কাটাকাটি হয়েছে। এ পর্যায়ে সমপ্রতি কুলবির তার স্ত্রীকে হত্যা করে। তারপর লাশ পো নদীতে ফেলে দেয়। নিখোঁজ হওয়ার ১৫৩ দিন পর গত রোববার বালবিন্দের লাশ পো নদীতে ভেসে ওঠে। সে খবর পুলিশে যায়। পুলিশ তথ্য-তালাশ করতে করতে কুলবিরের সন্ধান পায়। বালবিন্দের একটি ৫ বছর বয়সী ছেলে আছে এবং তিনি ছিলেন ৩ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। তার স্বামী  কুলবির চাকরি করে একটি কৃষিবিষয়ক কোম্পানিতে। সেখানে সে একটি গবাদিপশুর ফার্মে গবাদিপশু দেখাশোনা করতো। বাসেলিকো ডুসে গ্রামে তাদের দিনকাল ভালই যাচ্ছিল। কিন্তু ইদানীং বালবিন্দে পশ্চিমা স্টাইলের পোশাক পরার কারণে কুলবিরের সন্দেহ হয় তার স্ত্রী তাকে ছেড়ে চলে যেতে পারে। এমন ভাবনা থেকে সে তার স্ত্রীকে হত্যা করে।