Tuesday, July 24, 2012

প্রণব-শুভ্রার ভিন্ন রকম ভালবাসা

আমার প্রতি তার ভালবাসা ভিন্ন রকম। প্রতিদিন তিনি গোসল সেরেই আমার কাছে আসেন। আমার কপাল স্পর্শ করেন। কিছু মন্ত্র পড়েন। এই কাজটি তিনি বছরের প্রতিটি দিন করেন। ব্যাপক ভোটের ব্যবধানে নির্বাচিত ভারতের প্রথম বাঙালি প্রেসিডেন্ট প্রণব মুখোপাধ্যায়ের স্ত্রী সুভ্রা মুখোপাধ্যায় স্বামীর মূল্যায়ন করলেন এভাবে। তার স্বামী রাজনীতিতে এখন সবচেয়ে শীর্ষ আসনে পৌঁছে গেছেন। তাকে যখন লোকজন শুভেচ্ছা জানাতে ছুটছেন তার বাড়িতে শুভ্রা মুখোপাধ্যায়ের হৃদয়ে আনন্দ লুটোপুটি খাচ্ছে। প্রণব মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে তার দাম্পত্য জীবন ৫৫ বছরের। এই দীর্ঘ সময়ে তাদের কোন দাম্পত্য কলহ হয়নি। টাইমস অব ইন্ডিয়াকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে এসব কথা বলেছেন ভারতের নতুন ফার্স্ট লেডি হতে যাওয়া শুভ্রা। তার কাছে প্রশ্ন করা হয়েছিলÑ আপনি ফার্স্টলেডি হতে চলেছেন, কেমন লাগছে? জবাবে শুভ্রা বলেনÑ ভাল লাগছে। আমার মেয়ে আমাদের সঙ্গেই আছে। ছেলে এসে যোগ দেবে। আমরা অভিভূত।
প্রশ্ন: প্রণব মুখোপাধ্যায় ভারতের প্রথম বাঙালি প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন। আপনি কি তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন?
শুভ্রা: না না। আমরা আজকালকার দম্পতির মতো নই। আমাদের সম্পর্ক লোক দেখানো নয়। আমাদের আবেগ প্রকাশ্যে আমরা প্রকাশ করি না। এটা আমাদের মনন আর হৃদয়ের সঙ্গে মিশে আছে। আমরা হাল্কা ভালবাসার কথায় তৃপ্ত হই না। আমাদের সময়ে, এটা নির্ভর করে একে অন্যকে কতটুকু হৃদয় দিয়ে অনুভব করি তার ওপর। আমাদের ভালবাসা আলাদা ধরনের। প্রতিদিন তিনি গোসল সেরে আমার কাছে আসেন। আমার কপাল স্পর্শ করে মন্ত্র জঁপেন। বছরের প্রতিদিনই তিনি এই কাজটি করেন। এর কোন ব্যত্যয় হয় না। এভাবেই তিনি তার ভালবাসার প্রকাশ ঘটান। আমাদের বিয়ে হয়েছে ৫৫ বছর। এ সময়ের মধ্যে আমাদের কোন ঝগড়া হয় নি।
প্রশ্ন: সাফল্যের দিনে তিনি আপনাকে বিশেষ কি ধরনের উপহার দেন?
শুভ্রা: ভালবাসা ছাড়া আর কি!
প্রশ্ন: তার দেয়া কোন নতুন শাড়ি পরেছেন কি?
শুভ্রা: কেন আমি নতুন শাড়ি পরবো? সারা বছর যে রকম কাপড় পরি সে রকমই পরবো। এর মধ্যে কোন বিশেষত্ব নেই। আর তিনি তো কখনও আমাকে শাড়ি কিনে দেন নি। অন্যদের চেয়ে তিনি আলাদা। তিনি কর্মমুখী। কর্মই তার জীবন। কাজের বাইরে তিনি সর্বাশী পাঠক। সারাক্ষণ বইয়ের মধ্যে ডুবে থাকেন।
প্রশ্ন: তার জন্য কি বিশেষ কোন খাবার রান্না করেছেন?
শুভ্রা: আমিই তার পছন্দের খাবার রান্না করি। কিন্তু আমার স্বাস্থ্য আর আমাকে সেই সুযোগ দিচ্ছে না। তিনি পছন্দ করেন আলু পোস্ত এবং ঝিঙ্গা পোস্ত। আমার রেসিপি অনুযায়ী তা রান্না হয়েছিল সোমবার।
প্রশ্ন: রাষ্ট্রপতি ভবনে আপনি তার সঙ্গে কেমনভাবে কাটাবেন তা নিয়ে তার সঙ্গে কি কোন আলোচনা হয়েছে?
শুভ্রা: না। তিনি এসব দুনিয়া থেকে অনেক দূরে। আমি শুধু বাসার বিষয়আশয়ে সিদ্ধান্ত নেব। আমরা যখন দিল্লি এসেছিলাম তখন আমাদের কাছে তেমন কিছু ছিল না। কিন্তু এখান আমাদের কাছে অনেক কিছু। দেখুন, আগে তো সেখানে যাই। আমার তানপুরা-হারমোনিয়াম আমার অমূল্য সম্পদ। আমি আশা করি যথাযথ যতেœর সঙ্গে তা সেখানে নিয়ে যাওয়া হবে। রাষ্ট্রপতি ভবনে কোন রুমটি আমরা মন্দির হিসেবে ব্যবহার করব তা এখনও নির্ধারণ করা হয়নি।
প্রশ্ন: সোমবারের দিনটিতে আপনি কাকে সবচেয়ে বেশি মিস করছিলেন?
শুভ্রা: জন্মের পরই আমি একটি ছেলেকে হারিয়েছি। আজ তাকে খুব বেশি মনে পড়ছে। আমার শ্বশুর পক্ষের লোকজন ও আমার মা এখন আমার স্বামীকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দেখতে পেয়ে খুব খুশি। কিন্তু আমি জানি, তাদের আশীর্বাদ আমাদের সঙ্গে রয়েছে। আমার মা আমাকে বলতেনÑ আমি নিশ্চিত একদিন আমার জামাই মন্ত্রী হবে। সে হবে অত্যন্ত ব্যতিক্রমী এক ব্যক্তি। আমি মাকে এমন সব কথা না বলতে অনুরোধ করতাম। আমার মায়ের যুক্তি ছিলÑ তোমার মধ্যে যতক্ষণ প্রয়োজনীয় সক্ষমতা ও ক্ষমতা না থাকবে ততক্ষণ তুমি দেশের জন্য কিছু করতে পারবে না। সত্যি, আজ তার জামাই ভারতের প্রেসিডেন্ট। মা যদি আজ বেঁচে থাকতেন তাহলে তার জামাইকে এ অবস্থায় দেখে আনন্দে চাঁদের দেশে চলে যেতেন। তার জন্য ইন্দিরা গান্ধীও আনন্দিত হতেন।
প্রশ্ন: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রথম দিকে প্রণব মুখোপাধ্যায়কে সমর্থন দেননি। এ বিষয়ে কি বলবেন?
শুভ্রা: আমি অরাজনৈতিক। রাজনীতি থেকে আমি ১০ লাখ ফুট দূরত্ব বজায় রাখি।

Saturday, July 21, 2012

উটপাখি পাখি নয়!

উটপাখি পাখি নয়। এটা হলো পশু। বুধবার পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের আইনসভা উটপাখিকে পশু নির্দেশ করে একটি আইন পাস করেছে। তবে এতে আপত্তি তুলে স্বাক্ষর করতে অস্বীকার করেন পাঞ্জাবের গভর্নর। তার দাবি এক্সোটিক প্রজাতির সংজ্ঞা অনুযায়ী এটি পাখি। যদিও পাকিস্তানের নিজস্ব জাতভুক্ত নয় উটপাখি। এদিন এনিমেল স্লোটার কন্ট্রোল আইন (পশু জবাই আইন) ২০১২ বিরোধী দল ও গভর্নরের বিরোধিতা সত্ত্বেও পাস করা হয়। আইনে বলা হয়, ছাগল, ভেড়া, মহিষ, গরু, উট, দুম্বা ও উটপাখি ও যেসব প্রাণীকে গৃহস্থালিতে পালা হয় সেগুলো পশু। এর আগেও একবার পাঞ্জাব আইনসভায় উটপাখিকে অফিসিয়ালি পশু বলে সংখ্যাগরিষ্ঠ আইন পাস করা হয়েছিল।

জিন্স পরায় বোনকে গুলি করে হত্যা

পাকিস্তানের এক পুলিশ সদস্য জিন্স পরার অপরাধে নিজের বোনকে গুলি করে হত্যা করেছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কনস্টেবল আসাদ আলি জিন্সকে পুরুষদের পোশাক বলেই মনে করেন। তাই তার ২২ বছর বয়সী বোন নাজমা বিবি জিন্স পরায় তিনি বেশ ক্ষুব্ধ ছিলেন। এ নিয়ে দুই ভাইবোনের মধ্যে প্রায়ই কথা কাটাকাটি হতো। কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে শুক্রবার আসাদ আলি তার বোনকে গুলি করে হত্যা করে। আসাদ আলি বলেছেন, কিছু দিন আগে তিনি বোনকে হুঁশিয়ার করে বলেছিলেন জিন্স পরা বন্ধ না করলে তিনি তাকে গুলি করে হত্যা করবেন। এর ফলশ্রুতিতে নাজমা স্থানীয় থানায় ভাইয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। ওই অভিযোগের পর অবশ্য পুলিশ আসাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়নি। হত্যাকাণ্ডের পর দায়ের করা এফআইআর-এ বলা হয়েছে, শুক্রবার বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর আসাদ নাজমাকে অনুসরণ করে। এরপর একটি স্থানে তাকে গুলি করলে তিনি ঘটনাস্থলেই নিহত হন। এরপর থেকে আসাদ পালিয়ে আছেন। পুলিশ তাকে ধরার জন্য তল্লাশি অব্যাহত রেখেছেন।

রমজানের পবিত্রতা ভঙ্গকারীদের সৌদি থেকে বের করে দেয়া হবে

পবিত্র সিয়াম সাধনার রমজান শুরু হওয়ার পর সৌদি কর্তৃপক্ষ সেখানে উন্মুক্ত স্থানে খাওয়া-দাওয়ার বিরুদ্ধে কঠোর নিয়ম জারি করেছেন। সেখানে সফরকারী বিদেশীদের জন্যও এ নিয়ম প্রযোজ্য হবে। যেসব বিদেশীরা সৌদি আরবে রমজান মাসে জনসম্মুখে পানাহার করবে তাদের সৌদি নিজ দেশে পাঠিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়া হয়েছে। শুক্রবার থেকে পবিত্র রমজান মাস শুরু হওয়ার প্রেক্ষিতে সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক ঘোষণায় বলেছে, শ্রম চুক্তিতে ইসলামের পবিত্রতা রক্ষার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এতে রমজানের পবিত্র রক্ষার বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত। যারা এ নিয়ম ভঙ্গ করবেন তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। তাদের শ্রম চুক্তি বাতিল করে সৌদি আরবে থেকে বের করে দেয়ার বিষয়টিও এ শাস্তির অন্তর্ভুক্ত বলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় উল্লেখ করেছে। বিভিন্ন কোম্পানিকে তাদের অমুসলিম কর্মচারীদের এ ব্যাপারে সচেতন করে দেয়ার জন্যও মন্ত্রণালয় নির্দেশ জারি করেছে।

মিশরে নারীদের ভিন্নধর্মী টিভি চ্যানেল

গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে মিশরে হোসনি মুবারকের পতনের পর সেখানে সর্বত্রই পরিবর্তনের ছোঁয়া লেগেছে। মুবারক পরবর্তী মিশরে পা থেকে মাথা পর্যন্ত কালো বোরকা আবৃত নারী সমাজই যেন সেখানকার সংস্কৃতিক অভ্যুত্থানের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছেন। এখন তারা নতুন চালু হওয়া একটি টেলিভিশনে সংবাদ পাঠ এবং উপস্থাপনেরও দায়িত্ব নিচ্ছেন। সমপ্রতি প্রচারে আসা মারিয়া টেলিভিশনের জন্য ইসলামিক মূল্যবোধে অনুপ্রাণিত বোরকা পরা নারীদেরই নিয়োগ দেয়া হয়েছে। নতুন এই চ্যানেলটি যেন পুরুষদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করছে। সেখানকার ফোন অপারেটর থেকে শুরু করে ক্যামেরার সামনে, নেপথ্যে দায়িত্ব পালনকারী সবাই আপাদমস্তক বোরকা পরিহিত নারী। সমপ্রচারে আসা এ চ্যানেলটিকেই মিশরে মুবারক পরবর্তী সামাজিক পরিবর্তনের প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। মুবারক পরবর্তী বর্তমান মিশর ইসলামিক মূল্যবোধের প্রশ্নে আগের চেয়ে অনেক বেশি কট্টরপন্থি। ঐতিহ্যগতভাবে মিশরের সমাজ ব্যবস্থা রক্ষণশীল এবং মুসলমান অধ্যুষিত হলেও এর আগে শিক্ষাসহ চাকরির ক্ষেত্রে বিশেষ করে টেলিভিশনে কাজ পাওয়ার ক্ষেত্রে হিজাব পরিহিত নারীরা বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। কোন কোন ক্ষেত্রে হিজাব ব্যবহারকারীকে ইউনিভার্সিটিতে পরীক্ষা দেয়ারও অনুমতি দেয়া হতো না বলেও অভিযোগ রয়েছে। মারিয়া টেলিভিশনের প্রধান এল-শেখা সাফা রেফাই দাবি করেছেন, গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে হোসনি মুবারকের পতনের পর দেশ কতটা এগিয়েছে সেটার প্রমাণ হচ্ছে এই চ্যানেলটির অস্তিত্ব। সংবাদ পরিবেশনের সময় নেকাব ব্যবহারের বিষয়ে তিনি বলেন, শারীরিক ভাষায় ভাব বিনিময়ের জন্য এ পদ্ধতি খুব একটা কার্যকর হবে না বলে আমাকে বলা হয়েছিল। তবে সংবাদ পরিবেশনকারীর গলার আওয়াজের মাধ্যমে তিনি তার আবেগ-অনুভূতি প্রকাশ করতে পারেন। তিনি বলেছেন, পূর্ণাঙ্গভাবে ইসলামিক পোশাক পরে টেলিভিশনে উপস্থিত হয়ে তিনি দেখাতে চান যে, নেকাব পরা অবস্থাতেও নারীরা সফল হচ্ছেন। কায়রোর প্রখ্যাত আমেরিকান ইউনিভার্সিটি থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের পর কেবল নেকাব ব্যবহার করার কারণে আবীর শাহীন উপযুক্ত কোন চাকরি পাচ্ছিলেন না। কিন্তু এখন তিনি মারিয়া টিভিতে চাকরি পেয়েছেন। তিনি আশা করছেন, এবার মিশরের জনগণের মধ্যে নেকাব ব্যবহার নিয়ে যে বিভ্রান্তি রয়েছে, সেটা চিরতরে দূর হয়ে যাবে। শাহীন বলেছেন, নেকাব পরা নারীরা যে কেবল ধর্মপরায়ণ গৃহবধূই হতে পারে, সেটা মনে করা ঠিক নয়। তিনি একজন ডাক্তার, একজন অধ্যাপিকা বা একজন প্রকৌশলীও হতে পারেন। টেলিভিশনে উপস্থাপনার ক্ষেত্রে শারীরিক ভাবভঙ্গি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কিন্তু গলার আওয়াজের মাধ্যমেই আমরা আমাদের আবেগ-অনুভূতি প্রকাশ করতে পারি বলে তিনি মন্তব্য করেন। মুবারক পরবর্তী নতুন স্বাধীন মিশর সমাজে এত দিন ধরে নিষ্পেষিত নারীরা এখন সমাজে নতুন করে স্থান করে নেয়ার স্বপ্ন দেখছেন।

কি গোপন কথা লিখতে চেয়েছিলেন হুমায়ূন


নিজের উপন্যাসের চরিত্রগুলোর মতোই রহস্য রেখে গেলেন প্রখ্যাত সাহিত্যিক, নির্মাতা হুমায়ূন আহমেদ। মৃত্যুর আগে বিবিসিকে দেয়া শেষ সাক্ষাৎকারে তিনি একটি গোপন কথা, একটি লাইন বাংলা লিখতে চেয়েছিলেন। বলেছিলেন- কি লিখবেন তা তার মাথায় আছে। কিন্তু তিনি বলবেন না। সেই গোপন কথাটি গোপনই রয়ে গেল। কেউ কি জানতে পেরেছেন তার মনের গভীরে লুকানো ছিল কি গোপন কথা! তিনি কি লিখে যেতে পেরেছেন তা! মৃত্যুর মধ্য দিয়েও তাই যেন আরেক রহস্যের জন্ম দিয়ে গেলেন কোটি হৃদয়ের ভালবাসায় সিক্ত হুমায়ূন আহমেদ। কয়েক মাস আগে তার ওই সাক্ষাৎকারটি নেন বিবিসি’র অর্চি অতন্দ্রিলা। শুক্রবার রাতে তা পুনঃপ্রচার করে বিবিসি। এতে তিনি মৃত্যু, পাঠকের ভালবাসা, লেখালেখিসহ বিভিন্ন বিষয়ে আবেগঘন মত তুলে ধরেন। তার কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল- আপনি গত প্রায় চার দশক ধরে লেখালেখি করছেন। এই লেখালেখির শুরুটা কিভাবে হলো?জবাবে তিনি বলেন- বাংলাদেশের আর দশটা মানুষ যেভাবে লেখালেখি শুরু করে আমিও একইভাবে শুরু করেছি। আলাদা কিছু নাই এর মধ্যে। এরা কিভাবে শুরু করে? প্রথমে একটা স্কুল ম্যাগাজিনে লেখালেখি। তারপর কবিতা লিখে। তারপর পত্রপত্রিকায় পাঠাবার চেষ্টা করে। ওরা যেভাবে করেছে আমিও সেভাবে লিখেছি।
প্রশ্ন: আচ্ছা আপনার পড়াশোনা এবং গবেষণার বিষয় ছিল রসায়ন। সাধারণত মনে করা হয়, এটা সাহিত্যের বিপরীতে। কিন্তু অধ্যাপনা ছেড়ে লেখার আগ্রহটা কিভাবে তৈরি হলো?
হুমায়ূন আহমেদ: সাধারণত মনে করা হয় এটা সাহিত্যের বিপরীতে। আসলে কি তাই? যদি সাহিত্যের পক্ষের, মানে সাহিত্যের স্রোতে যে সাবজেক্টগুলো আছে সেগুলো তাহলে কি- বাংলা ও ইংরেজি সাহিত্য? যদি সেটা হয়ে থাকে তাহলে আমার প্রশ্ন থাকবে- প্রতি বছর হাজার হাজার ছেলেমেয়ে বাংলা অনুষদ থেকে পাস করে বের হচ্ছে। এর মধ্যে কয়জন লেখালেখি করছে? কে কি পড়ছে এটার সঙ্গে লেখালেখির সম্পর্ক আছে বলে আমি মনে করি না।
প্রশ্ন: সাহিত্যের সঙ্গে সঙ্গে নাটক এবং সিনেমা পরিচালনায় আপনি কিভাবে এলেন?
হুমায়ূন আহমেদ: বলা যায় হঠাৎ করে চলে আসছি। আমি দেখলাম যে আমার কিছু গল্প নিয়ে ওরা, বাংলাদেশ টেলিভিশন নাটক তৈরি করেছে। নাটকগুলো দেখতাম আমি। মনে হতো- আমি নিজে যদি ওটা তৈরি করতে পারতাম। সেটা কি রকম হতো। ওদের চেয়ে ভাল হতো নাকি ওদের চেয়ে মন্দ হতো। ওই আগ্রহ থেকেই মনে হয় আমি নাটক বানানো শুরু করি। আর সিনেমাটা তৈরি করার পিছনে মূল কারণটা হচ্ছে- এত বড় একটা মুক্তিযুদ্ধ হয়ে গিয়েছে আমাদের দেশে। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে তেমন ভাল ছবি হয়নি। আমার কাছে সব সময় মনে হয়েছে যে, একটা ভাল ছবি হওয়া দরকার। এর থেকেই ‘আগুনের পরশমণি’ ছবিটা বানিয়েছি। এটা যে বিরাট কিছু হয়ে গেছে তা নট নেসেসারি। কিন্তু চেষ্টাটা ছিল আর কি।
প্রশ্ন: শিল্পের কোন মাধ্যম আপনি সবচেয়ে বেশি উপভোগ করেন?
হুমায়ূন আহমেদ:  লেখালেখিটাই বেশি উপভোগ করি।
প্রশ্ন: আচ্ছা আপনার লেখা অনেক চরিত্র মানুষকে কাঁদিয়েছে, হাসিয়েছে। আপনি নিজে কেঁদেছেন কোন চরিত্রের জন্য?
হুমায়ূন আহমেদ: আমি যখন লেখালেখি করি কোন একটা চরিত্র খুবই ভয়াবহ এবং কষ্টের মধ্যে পড়ে যায়। নিজের অজান্তেই তখন আমার চোখে পানি আসে। কাজেই কোন বিশেষ চরিত্রের জন্য নয়, সব চরিত্রের জন্যই চোখে আমার পানি আসে। আর আমি তো অনেক হিউমার পছন্দ করি। যেমন হিউমারগুলো লিখি তখন আমি সিওর যে, যদি আমার আশপাশে কেউ থাকে তারা দেখবে- আমার ঠোঁটের কোণায় মিষ্টি হাসি। কাজেই সব চরিত্রই আমাকে কোন না কোনভাবে হাসিয়েছে। কোন না কোনভাবে কাঁদিয়েছে।
প্রশ্ন: আপনার নাটক ‘কোথাও কেউ নেই’তে বাকের ভাইয়ের মৃত্যুটা ঠেকাতে মানুষ যখন প্রতিবাদ শুরু করলো, মানুষের আবেগের দিকে তাকিয়ে একবারও কি বাকের ভাইকে বাঁচিয়ে রাখতে ইচ্ছা হয়েছিল?
হুমায়ূন আহমেদ: ওই নাটকের দুটি ভার্সন ছিল। একটাতে বাকের ভাইয়ের ফাঁসি হয়েছে। আরেকটাতে বাকের ভাইয়ের ফাঁসি হয়নি। বাকের ভাইয়ের ফাঁসি হয়নি- এই ভার্সনটি আমার খুব প্রিয় ছিল। কিন্তু বিটিভি শেষ পর্যন্ত ঠিক করলো, যেটাতে ফাঁসি হয়েছে, সেটা প্রচার করার।
প্রশ্ন: কাল্পনিক চরিত্র বাকের ভাইয়ের সঙ্গে মানুষের এমন একাত্মতা- এ নিয়ে আপনি কি ভাবছিলেন?
হুমায়ূন আহমেদ: আমি খুবই অবাক হয়েছিলাম। কত রকম মানুষের ফাঁসি হয়ে যায়। মানুষ মারা যায়। রাস্তার পাশে নির্দোষকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে দেয়। এটা নিয়ে কারও মাথাব্যথা নেই। অথচ একটা চরিত্র, এটা কাল্পনিক চরিত্র- তার ফাঁসি হচ্ছে, এ নিয়ে মাতামাতিটা আমাকে একেবারে বড় রকমের একটি ধাক্কা দিয়েছিল। এটুকু বলতে পারি। শুধু তাই না। মৃত্যুতেই শেষ হয়ে যায়নি। মৃত্যুর পরে শুরু হলো কুলখানি। আজকে অমুক জায়গায় বাকের ভাইয়ের কুলখানি। কালকে অমুক জায়গায় বাকের ভাইয়ের কুলখানি। পরশু দিন বাকের ভাইয়ের জন্য মিলাদ মাহফিল। আমি এ রকম বিস্ময়কর ঘটনা ভবিষ্যতে দেখবো তা মনে হয় না।
প্রশ্ন: আপনার কোন কাল্পনিক চরিত্র নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হলে- যেমন ‘বহুব্রীহি’ নাটকে কাজের ছেলে সৈয়দ বংশ হওয়া বা একজন ডাক্তারের চরিত্র বোকা ধরনের হওয়া নিয়ে- আপনার পাঠকের রসবোধ সম্পর্কে আপনার কি বিশেষ কিছু মনে হয়?
হুমায়ূন আহমেদ: তখন মনে হয় যে, আমরা জাতি হিসেবে খুব সিরিয়াস। প্রতিটি ঘটনার যে একটা ফানি পার্ট আছে তা আমাদের চোখ এড়িয়ে যায়। আমরা সিরিয়াস পার্টের দিকে তাকাই। কিন্তু আমাদের বাংলাদেশের মানুষ তো খুবই রসিক বলে আমি জানি। ওরা এই রসটা ধরতে পারে না কেন- এ কারণে, আমি খুব আপসেট হই। তবে বেশি পাত্তা দেই না।
প্রশ্ন: আপনার উপন্যাসের একটি জনপ্রিয় চরিত্র হিমু। এটা কি নিছক কাল্পনিক নাকি এর ভিতর আপনি পরিচিত কাউকে তুলে ধরেছেন?
হুমায়ূন আহমেদ: না, হিমুতে আমি পরিচিত কাউকে আসলে তুলে ধরিনি। যে হিমু আমি লিখি, ওই হিমু হওয়া খুবই একটা জটিল ব্যাপার তো বটেই। অনেক মানুষের ইচ্ছাপূরণের ব্যাপার আছে। কিছু করতে চায়। কিন্তু করতে পারে না। মানুষের যে সমস্ত ইচ্ছার বিষয়গুলো আছে এগুলো আমি হিমুর মাধ্যমে ওই ইচ্ছাপূরণটি ঘটাই। যে কারণেই আমার ধারণা পাঠকরা এত পছন্দ করেন। এরা হতে চান। এরা করতে চান। এরা প্রত্যেকেই চান যে আমার আধ্যাত্মিক ক্ষমতা থাকবে। আমি মানুষের ভূত-ভবিষ্যৎ বলে দিতে পারবো। এটা সবার মনের ভিতরের গোপন বাসনা। ওদের গোপন বাসনা থাকে- আমি পথেঘাটে হেঁটে বেড়াবো। কেউ আমাকে কিছু বলবে না। আমার কোন চাকরি করতে হবে না। কোন কিছুই করতে হবে না। আমার জীবন চলবে জীবনের মতো। কোন বাড়ির সামনে গিয়ে যদি দাঁড়াই- ওরা আমাকে খাবার দেবে। এই যে গোপন ইচ্ছাগুলো, যেগুলো থাকে ওই ইচ্ছাগুলো আমি পূরণ করি হিমু উপন্যাসে। কাজেই কারও সঙ্গে যে মিল আছে এটা মনে হয় না।
প্রশ্ন: আচ্ছা এই হিমু তো আপনার পাঠকদের কাছে প্রায় অনুকরণীয় একটি চরিত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই হিমুকে নিয়ে মানুষের উচ্ছ্বাস সম্পর্কে বিশেষ কোন ঘটনা আছে কি, যা আপনাকে নাড়া দিয়েছে?
হুমায়ূন আহমেদ: হ্যাঁ। একটা (ঘটনার কথা) বলা যেতে পারে। আমি হঠাৎ করে রাশিয়ার এম্বেসি থেকে একটা ম্যাগাজিন পেলাম। ওই ম্যাগাজিনে দেখি কি ওদের রাশিয়াতে একটা হিমু ক্লাব আছে। ওই হিমু ক্লাবের ছেলেপেলেরা কিন্তু সব রাশিয়ান। বাঙালি ছেলেপেলে না। এরা একটা অনুষ্ঠান করেছে। সেই অনুষ্ঠানে সব এম্বাসেডরকে ডেকেছে। এম্বাসেডরদের হলুদ পোশাক পরতে হবে। তারা জানে এম্বাসেডররা হলুদ পোশাক পরবেন না। কাজেই ওই ক্লাবের তরফ থেকে প্রতিজন এম্বাসেডরকে একটি করে হলুদ নেক-টাই দেয়া হয়েছে। তারা এই হলুদ নেক-টাই পরে অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন। এটা শুনে বা লেখাতে পড়ে আমি খুবই একটা ধাক্কার মতো খেয়েছিলাম। আরেকবার ধাক্কা খেয়েছি জার্মানিতে। সেখানে ফ্রাংকফুর্ট বইমেলায় গিয়েছিলাম। সেখানে একটা বাসায় একটা অনুষ্ঠান হচ্ছে। এক ছেলে এসে আমাকে বলল- স্যার, আমি কিন্তু হিমু। সে হলুদ একটি কোট গায়ে দিয়ে এসেছে। আমি বললাম- তুমি হিমু! হিমু’র তো খালি পায়ে থাকার কথা। প্রচণ্ড ঠাণ্ডা জার্মানিতে। তোমার কি খালি পা। সে বললো- স্যার, দেখেন। তাকিয়ে দেখি তার খালি পা। সেই আরেকবার ধাক্কা খেয়েছিলাম।
প্রশ্ন: বাংলাদেশে সাধারণত দেখা যায়- যারা নতুন লেখালেখি শুরু করেন তাদের বই প্রকাশ করতে অনেক কষ্ট করতে হয়। আপনি যখন প্রথম উপন্যাস লিখেছিলেন তখন সেটি প্রকাশ করতে আপনার কি ধরনের প্রতিকূলতার সম্মুখীন হতে হয়েছিল?
হুমায়ূন আহমেদ: খুবই আশ্চর্যের ব্যাপার যে, আমাকে তেমন কোন প্রতিকূলতার সম্মুখীন হতে হয় নি। আমার প্রথম উপন্যাসের নাম ‘নন্দিত নরকে’। এটি প্রকাশ করতে খুব একটা সমস্যা হয়েছে বলে আমি মনে করি না। কারণ, আহমেদ ছফা ছিলেন আমাদের দেশের খুবই স্পিরিটেড একজন মানুষ। আমার ওই উপন্যাসটি একটি পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল। যে কোন কারণেই হোক উপন্যাসটি তার মনে ধরে গিয়েছিল। তিনি জান দিয়ে ফেললেন এটি প্রকাশ করার জন্য। এই উপন্যাসের পাণ্ডুলিপি নিয়ে তিনি প্রতিটি প্রকাশকের ঘরে ঘরে গেলেন। কিন্তু তখনও আমি ব্যাপারটা জানিই না। শুধু ছফা ভাইয়ের সঙ্গে দেখা হয়। ছফা ভাই আজকে অমুকের কাছে গিয়েছি। কালকে অমুকের কাছে গিয়েছি- এভাবে বলে বলে তিনি একজন প্রকাশককে মোটামুটি কনভিন্স করে ফেললেন যে, উপন্যাসটি প্রকাশ করতে হবে। কাজেই উপন্যাস প্রকাশিত হয়ে গেল। তো উপন্যাস প্রকাশিত হওয়ার আগে কিন্তু ওই প্রকাশকের সঙ্গে আমার পরিচয়ও হয়নি। লাজুক টাইপের তো, যাই-ই না। লজ্জা লাগতো। যেদিন (উপন্যাস) প্রকাশিত হলো সেদিন গেলাম। গিয়ে কিছু বইপত্র নিয়ে এলাম উনার কাছ থেকে।
প্রশ্ন: আহমেদ সাহিত্যিক হিসেবে গত কয়েক দশক ধরে আপনার জনপ্রিয়তা শীর্ষে। তুমুল জনপ্রিয়তা অনেক সময় বিড়ম্বনার কারণ হয় বলে শোনা যায়। আপনার ক্ষেত্রেও কি তাই হয়?
হুমায়ূন আহমেদ: যে অর্থে বিড়ম্বনার কথা বলা হচ্ছে সেই অর্থে আমি যে বিশেষ বিড়ম্বনার ফাঁদে পড়ি তা না। বইমেলাতে যদি যাই- তখন পাঠকদের হুড়াহুড়িটা দেখে একটু সামান্য ভয় ভয় লাগে। এছাড়া তো আমি নরমালি ঘোরাফেরা করি। আমি দোকানে যাই। বাজারে যাই। বাচ্চাদের নিয়ে ঘুরি। কোন সমস্যা তো আমি দেখি না।
প্রশ্ন: বইমেলায় সাধারণত...
হুমায়ূন আহমেদ: যেটা হয় সেটা বইমেলাতেই হয়। বাইমেলার বাইরে, ধরো গেলাম বাজার করতে সেখানে দু’একজনকে পাওয়া যায়। তারা আমার সঙ্গে একটা ছবি তুলতে চায়। এটা তো খুবই স্বাভাবিক। এটাকে বিড়ম্বনা ধরার তো কিছুই নাই। তাই না?
প্রশ্ন: আচ্ছা আপনি লেখালেখি থেকে অবসর নেয়ার কথা কখনও কি ভেবেছেন?
হুমায়ূন আহমেদ: যখন খুব লেখালেখির চাপ যায়, যেমন ধরো বইমেলার সামনে বা ঈদ সংখ্যার সামনে। খুবই যখন চাপের ভিতর থাকি তখন দেখা যায় (লেখাটা যখন) শেষ হয় সেদিন মনে হয় এখন থেকে আমি অবসরে। আর লেখালেখি নাই। বাকি সময়টা আরামে থাকবো। সিনেমা দেখবো। গল্পের বই পড়বো। সেদিন মনে হয় এটা। তারপরের দিন মনে হয় না। দ্বিতীয় দিন থেকে আমার মনে হয় আমার যেন কিছুই করার নেই। আমি মারা যাচ্ছি। এক্ষুণি কিছু একটা লেখা শুরু করতে হবে। লেখা শুরু করি। তখন একটা স্বস্তি ফিরে আসে। হ্যাঁ, আমি অবসর নেবো। ঠিক করেছি আমি অবসর নেবো। মৃত্যুর ঘণ্টাখানেক আগে আমি অবসর নেবো। তার আগে নেবো না। আমি চাই মৃত্যুর এক ঘণ্টা বা দু’ঘণ্টা আগেও আমি যেন এক লাইন বাংলা গদ্য লিখে যেতে পারি।
প্রশ্ন: এটা যে মৃত্যুর সময় এটা আপনি কিভাবে বুঝতে পারবেন?
হুমায়ূন আহমেদ: বোঝা যায় তো, বোঝা যায় না! অনেকে তো বলে দেয়। টের পায়- আমি মারা যাচ্ছি। নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসছে। শেষ নিঃশ্বাস ফেলার জন্য শারীরিক প্রস্তুতি। মৃত্যু তো শুধু হার্ট বন্ধ হয়ে যায় তা না। প্রতিটি কোষই মারা যায়। সেই প্রতিটি কোষের মৃত্যু একটা ভয়াবহ ব্যাপার। এটা বুঝতে পারার তো কথা।
প্রশ্ন: তো আপনি শেষ পর্যন্ত লেখালেখি চালিয়ে যেতে চান?
হুমায়ূন আহমেদ: আমি পারবো কিনা জানি না। আমার গোপন ইচ্ছা এবং প্রগাঢ় ইচ্ছা হচ্ছে- মৃত্যুর এক-দু’ঘণ্টা আগেও যেন এক লাইন বাংলা গদ্য লিখতে পারি, যেন হা-হুতাশ করে আমি না মরি। এই মরে গেলাম রে। বাঁচাও রে। এই আল্লাহকে ডাকাডাকি করতেছি। এটায় না গিয়ে আমি এক লাইন প্লেন অ্যান্ড সিম্পল, একটা লাস্ট, একটা ওয়ান লাইন আমি লিখতে চাই। এখন তুমি যদি বলো- কি লাইন সেটা? ওটা আমার মাথায় আছে। আমি বলবো না।

Wednesday, July 18, 2012

আসছে এলিয়েন আমরা কি প্রস্তুত!

এলিয়েন বা মহাজাগতিক প্রাণীর সঙ্গে মানুষের যুদ্ধ হবে! সে যুদ্ধে মানুষ কি টিকতে পারবে! হলিউডের ছবিতে এমন কাহিনীতে ভরপুর। কিন্তু হলিউড নয়। এবার বাস্তবে এক বিজ্ঞানী পূর্বাভাস দিয়েছেন- আগামী ১০০ বছরের কম সময়ের মধ্যে এলিয়েনরা আসবে পৃথিবীতে। সে জন্য তিনি বিভিন্ন দেশের সরকারগুলোকে প্রস্তুতি নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। এই বিজ্ঞানীর নাম জোসেলিন বেল বার্নেল। তিনি অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির প্রফেসর। তিনি ডাবলিনে ইউরো সায়েন্স ওপেন ফোরাম সম্মেলনে বক্তব্য দিতে গিয়ে এ কথা বলেন। গতকাল এ খবর দিয়েছে অনলাইন ডেইলি মেইল। বেল বার্নেল বলেছেন, আমার মনে হয় আমরা কোথাও জীবনের অস্তিত্ব খুঁজে পেতে যাচ্ছি। হতে পারে তা মহাজাগতিক প্রাণী। তারা ধরা দেবে আগামী একশ’ বছরেরও কম সময়ের মধ্যে। তারা যদি পৃথিবীকে আক্রমণ করে তাহলে সেই আক্রমণ প্রতিহত করার জন্য আমরা কতটা সক্ষম? আমরা কি কখনও চিন্তাও করেছি কিভাবে আমরা তাদের মোকাবিলা করব? আমরা কি তাদের আটক করে চিড়িয়াখানায় ঢোকাবো? নাকি তাদের খেয়ে ফেলবো। নাকি তাদের গণতন্ত্র শেখাবো? এমন সব প্রশ্ন যখন তিনি ছুড়ে দিচ্ছিলেন তখন শ্রোতাদের মধ্যে নীরবতা নেমে আসে। তিনি বলেন, যেসব গ্রহ পাথরময়, আছে কার্বন ডাই অক্সাইড এবং ওজোন স্তর, সেখানেই এলিয়েনদের খুঁজে পাওয়া যাবে বলে মনে করা হয়। আমরা যদি মনে করি, বহির্জগতে এলিয়েন আছে তাহলে আমরা কি তাদের সঙ্গে আমাদের পরিচিত করতে চেষ্টা করছি নাকি করছি না? যদি তাদের সঙ্গে আমাদের কথা বলতে হয়, ভাব বিনিময় করতে হয় তাহলে আমরা সেক্ষেত্রে প্রথম সামনে পাঠাবো কাকে- মিডিয়া, প্রধানমন্ত্রী, নাকি পোপকে? তা আমাদের এখনই চিন্তা করে বের করতে হবে। বেল বার্নেল বলেন, আমরা যদি কোথাও এলিয়েন বা মহাজাগতিক প্রাণীর সন্ধান পাই তাহলে তাদের সঙ্গে পৃথিবী থেকে রেডিও বা লেজারের মাধ্যমে কথা বলতে লেগে যাবে কয়েক দশক। তিনি বলেন, আলোর গতির চেয়ে দ্রুত কোন কিছুই ছুটতে পারে না। ফলে আমরা এমন একটি বিষয়ে কথা বলছি- যেখানে আমাদের কথা বলা বা আলোচনাগুলো পৌঁছাতে ৫০ থেকে ১০০ বছর সময় লেগে যেতে পারে। এর আগের গবেষণার ওপর ভিত্তি করে অর্ধেকের বেশি বৃটিশ বিশ্বাস করতেন এলিয়েন বলে কিছু নেই। রয়েল সোসাইটি এ বিষয়ে ২০০০ পুরুষ ও নারীর ওপর জরিপ চালিয়ে দেখেছে তাদের মধ্যে শতকরা ৪৪ ভাগ বিশ্বাস করেন মহাজাগতিক প্রাণীর অস্তিত্বে। এক-তৃতীয়াংশ বলেছে- এলিয়েন বা মহাজাগতিক প্রাণী বা ইটির সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনে আমাদের আরও চেষ্টা করা উচিত। এর আগে বিজ্ঞানী স্টিফেন হকিং বলেছিলেন, এলিয়েনরা পৃথিবীতে আক্রমণ চালাতে পারে। কেউ কেউ বলেছেন, আমরা যদি আমাদের শত্রু এলিয়েনদের আমাদের অস্তিত্বের কথা জানান দিয়ে দিই তাহলে তাতে যে সংঘাত সৃষ্টি হবে তার ফলে পৃথিবীতে জীবনের সমাপ্তি ঘটতে পারে।