Wednesday, August 29, 2012

Daily Press Briefing- August 28, 2012

Daily Press Briefing- August 28, 2012

Sunday, August 26, 2012

টোগোতে যৌন ধর্মঘটের আহ্বান


















পশ্চিম আফ্রিকার দেশ টোগোতে সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে মহিলাদের প্রতি অভিনব এক পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন এক বিরোধী রাজনৈতিক নেত্রী ইসাবেল আমেগানভি। আটক বিরোধী নেতা কর্মীদের মুক্তির দাবিতে আজ থেকে এক সপ্তাহের জন্য স্বামীর সাথে সহবাসে রাজি না হওয়ার জন্য দেশের মহিলাদের অনুরোধ করেছেন তিনি। এ খবর দিয়েছে বিবিসি। এতে আরও বলা হয়, টোগোর মহিলাদের প্রতি মিস আমেগানভির আহ্বানের ভাষা ছিল এরকমÑ সব পুরুষের জন্য মাতৃভূমির দরজা এক সপ্তাহের জন্য তালাবদ্ধ রাখুন। ইয়াদেমা পরিবার চার দশক ধরে টোগোর ক্ষমতায়। মিস আমেগানভির দল এই পরিবারতন্ত্রের অবসান চাইছেন। অক্টোবরে টোগোতে নির্বাচন। মিস আমেগানভির দাবি নির্বাচনী পদ্ধতিতে সংস্কার না হওয়া পর্যন্ত আসন্ন নির্বাচন স্থগিত করতে হবে। তার আন্দোলনে জনসমর্থন আদায়ের লক্ষ্যে বিরোধী এই নেত্রীর যৌন ধর্মঘটের অভিনব এই আহ্বান। এর আগে আফ্রিকার আরেকটি দেশ লাইবেরিয়ায় গৃহযুদ্ধের সময় সে দেশের বর্তমান প্রেসিডেন্ট এলেন জনসন সারলিফ মহিলাদের প্রতি স্বামী সহবাস বন্ধ রাখার আহ্বান জানিয়েছিলেন। প্রাচীন এক গ্রিক নাটকের নায়িকা লিসিসত্রাতা শান্তি স্থাপনে পুরুষদের বাধ্য করতে গ্রিসের মহিলাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন। প্রাচীন সেই কাল্পনিক চরিত্রই হয়ত আফ্রিকার এই মহিলা নেত্রীদের উদ্বুদ্ধ করেছে।

Neil Armstrong, first man on moon, dies at 82 - Indian Express

Neil Armstrong, first man on moon, dies at 82 - Indian Express

বিয়ের জন্য বিচিত্র প্রতিযোগিতা

চীনের অবিবাহিত তরুণীরা এবার সম্পদশালী স্বামী পাওয়ার আশায় বিচিত্র এক প্রতিযোগিতায় নেমে পড়েছেন। বিশ্বের যে কোন ধরনের সুন্দরী প্রতিযোগিতার জন্য যেমন তরুণীরা নিজেদেরকে তৈরি করে ঠিক তেমনি নিজেদেরকে ‘ম্যারিজ টু এ মাল্টিমিলিয়নিয়ার’ প্রতিযোগিতার জন্য তৈরি করতে চীনের তরুণীরা উঠেপড়ে লেগেছে। ৫০ জনের দ্বিতীয় পর্বে উত্তীর্ণ হতে ১০০০-এর বেশি তরুণী ইতিমধ্যেই এতে নাম লিখিয়ে প্রস্তুতি নিচ্ছেন। প্রাথমিক নির্বাচনের ক্ষেত্রেই শারীরিক সৌন্দর্য থেকে শুরু করে শিক্ষা, পারিবারিক অবস্থা এবং রাশির বিষয়টিকে বেশ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। দ্বিতীয়পর্বে উন্নীত ৫০ জন সৌভাগ্যবান তরুণীই চীনের কমপক্ষে ১৬ মিলিয়ন ডলারের অধিকারী এমন ৩২ তরুণের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার সুযোগ পাবেন। যোগ্য পাত্রের সন্ধানে এ প্রতিযোগিতাকে অনেকে বাড়াবাড়ি মনে করলেও চীনের ম্যাচমেকাররা আধুনিক চীনে বিয়ের ক্ষেত্রে বেশ ইতিবাচক ভূমিকা পালন করছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চীনে সম্পদের পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে সেখানকার তরুণ-তরুণীদের মধ্যে বিয়ের চাহিদা বেশ বেড়ে গেছে। এ প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়া এক প্রতিযোগী বেশ অকপটেই স্বীকার করেছেন যে, বাইসাইকেলে চড়ে হাসিখুশি থাকার চেয়ে বিএমডব্লিউতে চড়ে তিনি কাঁদতেও রাজি আছেন। কোন কোন প্রতিযোগী আবার একজন ধনবান পাত্রের সন্ধান পেতে ৩১০০০ ডলার পর্যন্ত দিতে তৈরি বলে জানিয়েছেন। এ প্রতিযোগিতার আয়োজক চায়না এন্টারপ্রেনার ক্লাব অবিবাহিত তরুণদের সম্পদ যাচাইয়ের মাধ্যমে এতে অংশ নেয়ার জন্য ৩১০০০ ডলার ফি ধার্য করেছে। তবে তরুণীদের জন্য এতে অংশ নেয়ার যোগ্যতা বেশ চমকপ্রদ। এতে অংশ নেয়ার জন্য তাদের বয়স অবশ্যই ২০ থেকে ২৮ বছরের মধ্যে হতে হবে। উচ্চতা পাঁচ ফুট চার ইঞ্চি বা তার চেয়ে বেশি, সুন্দরী, ভদ্র এবং শিক্ষাগত যোগ্যতা জুনিয়র কলেজ সম্পন্ন করা। প্রতিযোগিতার উদ্যোক্তা চেং ইয়ংশেং বলেছেন, নারীদের চরিত্রের বিষয়টিও তারা পরীক্ষা করেন। এছাড়া দুই মাস ধরে প্রতিযোগীদেরকে তারা গভীরভাবে পরীক্ষা করার পাশাপাশি তাদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও কথা বলেন। তিনি বলেছেন, এতে অংশ নেয়া প্রতিযোগীদেরকে খুব গরিব বা লোভী হলে চলবে না। খুব সম্পদশালী কোন তরুণীও এতে অংশ নেয়ার যোগ্য নন বলে তিনি উল্লেখ করেছেন।
Source The daily Manabzamin
26-08-12

বাংলাদেশী শামীমাকে নিয়ে লন্ডনে নানা গুঞ্জন

বাংলাদেশী বংশোদভূত যুবতী শামীমা আক্তারের প্রেমকাহিনী নিয়ে লন্ডনে তোলপাড় চলছে। বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রেমিকের সঙ্গে তার যুগল ছবি প্রকাশ হওয়ায় তা নিয়ে অন্যদের সঙ্গে বাংলাদেশী সমপ্রদায়ের মধ্যে চলছে নানা গুঞ্জন। ১৮তম জন্মদিনে প্রেমিক গ্যারি পেইনকে তিনি চুমু খেয়েছিলেন। এ কারণে তার ভাই-বোন তাকে মারপিট করেছেন। রাগে ক্ষোভে শামীমা পরিবারের সদস্যদের ছেড়ে চলে গেছেন প্রেমিক গ্যারির কাছে। গতকাল অনলাইন ডেইলি মেইল এ খবর দিয়েছে। তাতে প্রেমিকের সঙ্গে শামীমার বেশ কয়েকটি ছবি প্রকাশিত হয়েছে। ওই রিপোর্টে বলা হয়েছে, পরিবারের ৬ সদস্যের সঙ্গে শামীমা লন্ডনে থাকে। ১৮তম জন্মদিনে তার সহকর্মী প্রেমিককে চুমু খান তিনি। তা দেখেই শামীমার ওপর চড়াও হয়েছিল তার দু’বোন নাজিরা (২৯), নাদিয়া (২৫) ও ভাই মোহাম্মদ আবদুল (২৪)। তারা শামীমার চুলের মুঠি ধরে চড়-থাপ্পড় মারতে শুরু করে। ওই ঘটনার পর শামীমা তার রক্ষণশীল মুসলিম পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে এখন গ্যারি পেইনের সঙ্গেই থাকছেন। শামীমা বলেছেন, এত ঘটনার পর গ্যারিকেই আমি একজন চমৎকার মানুষ হিসেবে পেয়েছি। আমি এখন সুখী। তবে একই সঙ্গে আমি আমার পরিবারের সবাইকে হারিয়েছি। এ বিষয়টি খুব কষ্টের। আমি আর কখনও তাদের কাছে ফিরে যেতে পারবো না। বাংলাদেশ থেকে বৃটেনে অভিবাসী হিসেবে যাওয়া শামীমার পরিবারে ছয় ভাইবোনের মধ্যে তিনি সবার ছোট। গত বছর মার্চ মাসে ১৮তম জন্মদিন পালন করতে শামীমা সহকর্মীদের সঙ্গে বাইরে গিয়েছিলেন। তখন এক পর্যায়ে তার সঙ্গে গ্যারিকে চুম্বনরত অবস্থায় দেখতে পায় তার ভাইবোন। এতে তারা তার ওপর চড়াও হয়। ওই ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে শামীমা বলেছেন, আমার ভাই গ্যারির গলা টিপে ধরেছিল আর আমার বোনরা আমাকে টেনে-হিঁচড়ে গাড়িতে তুলে নিয়েছিল। গাড়িতে ওঠার পরপরই নাজিয়া আমার মাথায় ঘুষি মারে। এরপরই তারা গাড়ির তালা বন্ধ করে দেয়ার আমি বেরুতে পারিনি। ওই ঘটনার পর শামীমা কোনক্রমে গ্যারিকে মোবাইল বার্তার মাধ্যমে পুলিশের সহযোগিতা নেয়ার অনুরোধ করেন। এরপর শামীমার ভাইবোনরা আটক হন। শামীমা স্বীকার করেন, তিনি আশা করেছিলেন তার ভাইবোনদের কারাদণ্ড হোক। কিন্তু বিচারে জুরি তাদেরকে শর্তসাপেক্ষে জামিন ও জরিমানা করেছে। শামীমা বলেন, আমি পুলিশের কাছ থেকে এর থেকে বেশি কিছু আশা করতে পারিনি। নিজেকে বরং এক্ষেত্রে কিছুটা বোকা মনে হয়েছে। আমি চাইছিলাম বিচারক আমার মতো পরিবারগুলোকে এক ধরনের বার্তা পাঠাক। আমি চাই না লোকজন আমার দুর্দশার জন্য দুঃখপ্রকাশ করুক। আমি কেবল চাই বিভিন্ন বাড়িতে বন্ধ দরজার ওপারে এ ধরনের ঘটনা ঘটছে সেটা সবাই জানুক। এক্ষেত্রে আমি অনেকটাই সৌভাগ্যবান। আমি গ্যারিকে পেয়েছি। আমার মতো শ’ শ’ মেয়ে রয়েছে যারা এ ধরনের নির্যাতন সহ্য করছেন অথচ তাদের যাওয়ার কোন জায়গা নেই।  
Taken from The daily Manabzamin
26-08-12

Saturday, August 25, 2012

দি সানের প্রথম পাতায় হ্যারির নগ্ন ছবি

Taken from: http://www.mzamin.com/details.php?nid=MTkxNzI=&ty=MA==&s=MjE=&c=MQ==
বৃটেনের রাজ পরিবারের আপত্তি উপেক্ষা করে দি ডেইলি সান রাজ সিংহাসনের তৃতীয় উত্তরাধিকার প্রিন্স হ্যারির লাসভেগাসের স্ট্রিপ পার্টির নগ্ন ছবি প্রথম পাতায় প্রকাশ করেছে। এর কারণ হিসেবে সান এ বিষয়টি ‘সংবাদ পত্রের স্বাধীনতা’র বিষয়ে পরিণত হয়েছে বলে উল্লেখ করেছে। প্রিন্স হ্যারির প্রাইভেসির প্রতি সম্মান জানিয়ে প্রেস কমপ্লেইনস কমিশনের মাধ্যমে সেন্ট জেমস’স প্যালেস বৃটেনের পত্রপত্রিকাতে হ্যারির ওই ছবি প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়েছিল। তবে যুক্তরাষ্ট্রের ভিত্তিক সেলিব্রেটি গসিপ ওয়েবসাইট টিএমজেড হ্যারির ওই ছবি প্রথম প্রকাশ করার পর বৃটেনের বাইরের বিভিন্ন সংবাদ সংস্থা ফলাও করে তা প্রকাশ করেছে। দি সান বলেছে, তাদের যে লাখ লাখ পাঠক রয়েছে এবং যাদের ইন্টারনেট সুবিধা নেই তাদের প্রতি লক্ষ্য রেখেই এ ছবি প্রকাশ করছেন। সানের ওয়েবসাইটে এর ব্যবস্থাপনা সম্পাদক ডেভিড ডিনসমোর এক ভিডিও ক্লিপিংয়ের মাধ্যমে ব্যাখ্যায় দিয়ে বলেছেন, এ ছবি প্রকাশের সিদ্ধান্তের বিষয়টি মোটেও হালকাভাবে গ্রহণ করা হয়নি। তিনি বলেন, সান একটি দায়িত্বশীল পত্রিকা। এটা রাজপরিবারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে। আমরা রাজপরিবারের ইচ্ছেকে গুরুত্বের সঙ্গেই বিবেচনা করি। তিনি বলেছেন, আমরাও প্রিন্স হ্যারি ভীষণ ভক্ত। তিনি দেশ এবং সেনাবাহিনীর ভাবমূর্তির জন্য অনেক মহৎ কাজ করছেন।  আমরা ক্ষণিকের জন্যও তার উত্তরাধিকারকে নিচু করতে চাই না। আমাদের কাছে ছবি প্রকাশের বিষয়টি সংবাদপত্রের স্বাধীনতার প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি বলেন, পরিস্থিতি এখন অত্যন্ত হাস্যকর অবস্থায় এসে দাঁড়িয়েছে। সারা বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ যেখানে ছবিটি দেখতে পাচ্ছে তখন দেশের জনপ্রিয় একটি পত্রিকার পাঠকরা সেটা দেখা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। হ্যারির দুটো ছবির একটি সানের প্রথম পাতায় প্রকাশ করে শিরোনাম দেয়া হয়েছে- ‘ঐবরৎ রঃ রং’ এবং সম্পাদকীয়তে এটা প্রকাশের ব্যাখ্যা দেয়া হয়েছে। শুক্রবারের আগে বৃটেনের জনগণ পত্রিকাতে হ্যারির লাসভেগাস হোটেলের ঘটনা পড়ার সুযোগ পেয়েছেন। কিন্তু ছবি দেখতে হলে তাদেরকে ইন্টারনেটের আশ্রয় নিতে হয়েছে।  সেন্ট জেমস’ প্যালেসের একজন মুখপাত্র বলেছেন, হ্যারির প্রাইভেসির প্রশ্নে আমরা আমাদের বক্তব্য দিয়েছি। পত্রিকাগুলো স্বায়ত্বশাসিত। তাই এ ধরনের ছবি প্রকাশের সিদ্ধান্ত সর্বোপরি সম্পাদকের ওপরই বর্তায়।    

মিশিগানের ডেমোক্রেটিক প্রাইমারি হারলেন কংগ্রেসম্যান হাশেম ক্লার্ক


Source: http://www.mzamin.com/details.php?nid=MTkxODA=&ty=MA==&s=Mjc=&c=MQ==
মার্কিন কংগ্রেসে মিশিগান অঙ্গরাজ্যের ১৩তম ডিস্ট্রিক্ট থেকে ২০১০ সালে নির্বাচিত ক্ষমতাসীন কংগ্রেসম্যান হ্যানসেন হাশেম ক্লার্ক আগামী ৬ই নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের নির্বাচনে মিশিগান অঙ্গরাজ্যের নবগঠিত নির্বাচনী ডিস্ট্রিক্ট ১৪ থেকে ডেমোক্রেটিক দলের পক্ষে পুনরায় প্রার্থী হয়ে নিজ দলের মনোনয়ন লাভে ব্যর্থ হয়েছেন। সমপ্রতি অনুষ্ঠিত ডেমোক্রেটিক প্রাইমারিতে ফ্রেশম্যান কংগ্রেসম্যান হাশেম ক্লার্ক ডেমোক্রেটিক দলীয় অপরপ্রার্থী ও মিশিগানের ৯ম ডিস্ট্রিক্ট থেকে পরপর
দু’বারের নির্বাচিত কংগ্রেসম্যান গ্যারি পিটার্সের কাছে পরাজিত হন। নির্বাচনী ফলাফলে গ্যারি পিটার্স মোট ভোটের ৪৭% লাভ করেন, যেখানে হাশেম ক্লার্ক পান ৩৫% ভোট। নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক দলের আরও তিনজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ফক্স নিউজ এবং ডেট্রয়েট টাইমসের মতো জাতীয় ও আঞ্চলিক মিডিয়াগুলো ডেমোক্রেটিক প্রাইমারির এ নির্বাচনে হাশেম ক্লার্কের পরাজয়ের পেছনে নির্বাচনী প্রচারণায় বিরোধী শিবির কর্তৃক অনুসৃত প্রবল বর্ণবাদী প্রচারণা কৌশলকে দায়ী করেছে।
উল্লেখ্য, ২০১০ সালের আদমশুমারিতে মিশিগান স্টেটের জনসংখ্যা কমে যাওয়ায় ভোটিং রাইটস অ্যাক্টের ৫ম ধারা মোতাবেক কংগ্রেসে মিশিগান স্টেটের জন্য বরাদ্দকৃত আসন সংখ্যা ১টি কমিয়ে দেয়া হয় এবং প্রতিটি কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্টের সীমানা পুনঃনির্ধারণ করা হয়। বর্তমান কংগ্রেসে মিশিগান স্টেট থেকে নির্বাচিত ১৫ জন কংগ্রেসম্যান রয়েছেন, যার ৬ জন ডেমোক্রেট এবং ৯ জন রিপাবলিকান দলের। সীমানা পুনঃনির্ধারণের জন্য বর্তমানে রিপাবলিকান সংখ্যাগরিষ্ঠ মিশিগান স্টেট হাউস এমনভাবে প্রস্তাব দিয়ে ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিসে পাঠায় যাতে করে আসন কমানোর বিপদটা ডেমোক্রেটিক ডিস্ট্রিকগুলো থেকে নির্বাচিত কংগ্রেসম্যানদের উপর দিয়েই যায়। একপর্যায়ে বিপদ টের পেয়ে মিশিগান ডেমোক্রেটিক পার্টির পক্ষ থেকে সীমানা পুনঃনির্ধারণের বিরুদ্ধে মামলাও ঠুকে দেয়া হয় কিন্তু শেষ পর্যন্ত প্রস্তাবিত পুনর্বিন্যাসে বিচার বিভাগ অনুমোদন দেয় এবং কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্ট ৮, ৯ ও ১৩ এর বেশ কিছু অংশ নিয়ে ডিস্ট্রিক্ট ১৪ গঠন করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় আগামী ৬ই নভেম্বর অনুষ্ঠেয় প্রতিনিধি পরিষদের নির্বাচনে পুনর্বিন্যাসকৃত কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্ট ১৪ থেকে ডেমোক্রেটিক পার্টির মনোনয়ন লাভের জন্য ডেমোক্রেটিক পার্টির পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন, যাদের দু’জন ডেমোক্রেটিক দলের ক্ষমতাসীন কংগ্রেসম্যান তারা হলেন ডিস্ট্রিক্ট ১৩ থেকে ২০১০ সালে প্রথমবারের মতো নির্বাচিত বর্তমান কংগ্রেসম্যান হাশেম ক্লার্ক এবং ডিস্ট্রিক্ট ৯ এর পরপর দু’বারের নির্বাচিত বর্তমান কংগ্রেসম্যান গ্যারি পিটার্স। প্রথমদিকে গ্যারি পিটার্স অবশ্য কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্ট ১২তে ডেমোক্রেটিক দলের বিগত ৩০ বছরের নির্বাচিত কংগ্রেসম্যান লেভিন স্যান্ডারের বিরুদ্ধে নির্বাচন করবেন বলে জানিয়েছিলেন, কিন্তু ওখানে সুবিধা করতে পারবেন না ভেবে পরে ফ্রেশম্যান কংগ্রেসম্যান হাশেম ক্লার্কের বিরুদ্ধে ডিস্ট্রিক্ট ১৪তে নির্বাচনী লড়াইয়ের ঘোষণা দেন এবং সমপ্রতি অনুষ্ঠিত ডেমোক্রেটিক দলীয় প্রাইমারিতে তিনি বিজয়ী হন। 
বিপুলভাবে ডেমোক্রেটিক সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটারের এ আসনে আগামী ৬ই নভেম্বরের নির্বাচনে গ্যারি পিটার্স রিপাবলিকান দলীয় একমাত্র প্রার্থী জন হাউলারের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন, যাতে ডেমোক্রেট গ্যারি পিটার্সের জয়ের সম্ভাবনা প্রায় নিশ্চিত। আর নির্বাচনে জিতলে গ্যারি পিটার্স হবেন মার্কিন কংগ্রেসে দ্বিতীয় ‘হোয়াইট’ কংগ্রেসম্যান যার নির্বাচনী আসনে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটার ‘ব্ল্যাক নাগরিক’। বর্তমানে সংখ্যাগরিষ্ঠ কালো ভোটার এলাকার  একমাত্র সাদা কংগ্রেসম্যান হলেন টেনেসি অঙ্গরাজ্যের ডেমোক্রেটিক দলীয় স্টিভ কোহেন।
নির্বাচনে হ্যানসেন হাশেম ক্লার্কের হেরে যাওয়ার পেছনে পুনর্বিন্যাসকৃত নির্বাচনী ডিস্ট্রিক্টের সীমানা নির্ধারণ, নির্বাচনী ক্যাম্পেইনে প্রতিদ্বন্দ্বীদের তুলনায় অভিজ্ঞতা ও নির্বাচনী তহবিলের ঘাটতি এবং কিছু কিছু ক্ষেত্রে ভুল কৌশল, সর্বোপরি নির্বাচনী প্রচারণায় তুমুল বর্ণবাদী প্রচার কৌশলকে দায়ী করা হয়েছে। নতুন কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্ট ১৪ এর বৈশিষ্ট্য হলো এর ভোটারদের বেশিরভাগই নারী, এবং অর্থনৈতিক সক্ষমতার বিচারে এখানকার ভোটারদের অবস্থান ধনী-দরিদ্র কর্পোরেট মিলিয়ে বিপুল বৈচিত্র্যময়। এদের সবার কাছে গ্রহণযোগ্য কর্মসূচির কথা ক্লার্কের প্রচারণায় ছিল না। এছাড়া নির্বাচনে বিরোধী শিবির কর্তৃক ক্রমাগত বর্ণবাদী আক্রমণের প্রতিবাদে এক পর্যায়ে ক্লার্ক ঘোষণা করেন যে  তিনি আর কোন নির্বাচনী বিতর্কে অংশ নেবেন না। আবার শেষের দিকে আয়োজকদের না জানিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী কংগ্রেসম্যান গ্যারি পিটার্সের সঙ্গে এক নির্বাচনী বিতর্কে অংশ নেয়ার জন্য মঞ্চে হাজির হন, কিন্তু সম্মতিপত্র পাঠানোর সময়সীমা শেষ হয়ে যাওয়ায় তাকে আর বিতর্কে অংশ নিতে দেয়া হয়নি, পরে তিনি মঞ্চে দর্শক সারিতে বসেই বিতর্ক শুনেন। একপর্যায়ে ক্লার্কের ক্যাম্পেইন সাংবাদিকদের সামনে গ্যারি পিটার্সের সঙ্গে ক্লার্কের  মুখোমুখি বিতর্কের প্রস্তাব দিলেও পিটার্সের ক্যাম্পেইন থেকে তা সরাসরি নাকচ করা হয়। এছাড়া ক্লার্কের তুলনায় পিটার্সের নির্বাচনী তহবিলের পরিমাণও ছিল তিন গুণ বেশি।
প্রচারণায় বর্ণবাদী আক্রমণের কৌশল তুঙ্গে ওঠে গত জুনে যখন একটি বিরোধী নির্বাচনী ক্যাম্পেইন থেকে বলা হয় যে, তারা ক্লার্কের মায়ের ডেথ সার্টিফিকেট গবেষণা করে দেখেছেন- তার মা আফ্রিকান আমেরিকান নন, তিনি একজন হোয়াইট আমেরিকান। এ বিষয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ম্যারি উয়াটার্স বলেন, ক্লার্ক একদিকে এশিয়ান আমেরিকান ও তার মুসলিম আমেরিকান উত্তরাধিকারের সুযোগ নিচ্ছেন, আবার মায়ের পরিচয়ে আফ্রিকান আমেরিকান উত্তরাধিকারের দাবি করে সংখ্যাগরিষ্ঠ ব্ল্যাক ভোটারদের প্রতারিত করছেন, কিন্তু তা আর হচ্ছে না। আজ এটা প্রমাণিত, তার মা আফ্রিকান আমেরিকান ছিলেন না, তিনি একজন সাদা আমেরিকান।  এর প্রতিক্রিয়ায় ক্লার্কের মিডিয়া মুখপাত্র রন স্কট বলেন, ‘ক্লার্কের মা একজন ব্ল্যাক মহিলা ছিলেন, তিনি অনেক কষ্ট করে, অনেক নিচু বেতনের কাজ করে ক্লার্ককে মানুষ করেছেন, আজ এতদিন পর তার জাতপাত নিয়ে প্রশ্ন তোলা আর তার কবরে লাথি মারা সমান কথা। প্রতিক্রিয়ায় আবেগতাড়িত কণ্ঠে হ্যানসেন হাশেম ক্লার্ক বলেন, ‘আমার মা একজন ব্ল্যাক ছিলেন, তবে তার গায়ের রং কিছুটা শ্যামলা ছিল, হ্যাঁ, তিনি সাদা হওয়ার পরীক্ষায় পাস করতে চেয়েছিলেন, তিনি সাদা হতে চেয়েছিলেন, কারণ তিনি আমাকে, তার একমাত্র পুত্রকে একটি উন্নততর জীবন দিতে চেয়েছিলেন।’
উল্লেখ্য, কংগ্রেসম্যান হ্যানসেন হাশেম ক্লার্কের পিতা মোজাফ্‌ফর আলী বাংলাদেশের সিলেট জেলার বিয়ানীবাজার থানার শ্রীধর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ১৯৩৪ সালে বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। হাশেম ক্লার্কের মায়ের নাম থ্যালমা ক্লার্ক যিনি একজন আফ্রিকান আমেরিকান। ক্লার্কের ৮ বছর বয়সে তার পিতা মারা গেলে তার মা তাকে অনেক কষ্টে বড় করে তুলেন এবং এক পর্যায়ে হাশেম ক্লার্ক উচ্চশিক্ষার সুযোগ পান। কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চারুকলায় এবং জর্জ টাউন বিশ্বিদ্যালয় থেকে আইনে স্নাতক হ্যানসেন ক্লার্ক ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতি সচেতন ছিলেন। তিনি ২০১০ সালে মিশিগানের ১৩তম ডিস্ট্রিক্ট থেকে কংগ্রেসম্যান নির্বাচিত হওয়ার আগে মিশিগান হাউসে একাধারে হাউস রিপ্রেজেন্টেটিভ ও স্টেট সিনেটর হিসেবে দুই যুগ ধরে নির্বাচিত হয়েছেন। ২০১০ সালে কংগ্রেসম্যান পদে নির্বাচনের সময় মিশিগান ও নিউ ইয়র্কে বসবাসকারী বাংলাদেশী আমেরিকান ভোটারদের পক্ষ থেকে তার নির্বাচনী ফান্ড ও ক্যাম্পেইনে বিপুল উৎসাহ ও উদ্দীপনার সঙ্গে অংশ নেয়া হয়েছে। এর আগে ১৯৯৮ সালে প্রথমবার এবং বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় এনআরবি সম্মেলনে অংশ নিতে দ্বিতীয়বার তিনি বাংলাদেশ সফর করেন। কংগ্রেসম্যান হাশেম ক্লার্ক মার্কিন কংগ্রেসে সর্বপ্রথম বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত কংগ্রেসম্যান হলেও সামগ্রিক কংগ্রেসের ওয়েবসাইটে তার সরকারি বায়োগ্রাফিতে তাকে ভারতীয় আমেরিকান বলে উল্লেখ করা হয়েছে, কেননা যে সময়ে তার পিতা বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান তখন  বাংলাদেশও বৃটিশ ভারতের অংশ ছিল।
এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নির্বাচনী সীমানা পুনঃনির্ধারণ সংক্রান্ত জটিলতায় এ পর্যন্ত ৫ জন ডেমোক্রেট দলীয় ও ৩ জন রিপাবলিকান দলীয় ক্ষমতাসীন কংগ্রেসম্যান নিজ নিজ দলের পক্ষ থেকে অনুষ্ঠিত প্রাইমারিতে মনোনয়ন লাভে ব্যর্থ হয়েছেন। অন্যদিকে মিশিগানের ডেমোক্রেটিক প্রাইমারির নির্বাচনী ফলাফলের পরপরই কংগ্রেসে ডেমোক্রেটিক দলের নেতা ও প্রাক্তন স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি কংগ্রেসম্যান ক্লার্কের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়েছেন। হাউসের সকল ডেমোক্রেটিক কংগ্রেসম্যানের পক্ষ থেকে প্রদত্ত এক বাণীতে পেলোসি বলেন, মিশিগানসহ সমগ্র আমেরিকার মানুষের জন্য বিশেষ করে শ্রমিক, বাড়ির মালিক, শিক্ষার্থী ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী পরিবারের স্বার্থে কাজ করার জন্য হ্যানসেন ক্লার্ক প্রথম দিন থেকেই একজন পুরোধা এবং শক্তিশালী কণ্ঠস্বর। আমি তার সঙ্গে কাজ করতে পেরে সম্মানিতবোধ করছি এবং আমেরিকার পররাষ্ট্রনীতি, জতীয় নিরাপত্তা নীতি এবং অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে তার গঠনমূলক ভূমিকার কথা আমি অত্যন্ত কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করছি।