
ভারতের পর এবার ইসরাইলের ৫৪টি ওয়েবসাইট হ্যাক করেছে
বাংলাদেশের হ্যাকার গোষ্ঠী বাংলাদেশ গ্রে হ্যাট হ্যাকার্স। পবিত্র ঈদুল
আজহার ছুটিতে এই হামলা করা হয়েছে বলে দাবি করেছে তারা। একই সঙ্গে এ কাজ
উৎসর্গ করেছে ফিলিস্তিনের মানুষকে। অনলাইন সফটপিডিয়া এ খবর দিয়েছে। এতে বলা
হয়, হ্যাকাররা ওইসব সাইট হ্যাক করার পর একটি বিবৃতিতে বলেছে,
ফিলিস্তিনিদের ঈদ মোবারক। বাংলাদেশে ঈদের দিন ছুটি পালিত হচ্ছে। কিন্তু
আমরা বাংলাদেশ গ্রে হ্যাট হ্যাকার্সরা আনন্দ উল্লাস করে আমাদের সময় নষ্ট
করছি না। আমরা ইসরাইলের বেশকিছু ওয়েবসাইট হ্যাক করেছি। আর এর কৃতিত্ব আমরা
ফিলিস্তিনিদের উৎসর্গ করছি। ফিলিস্তিনিরা নিজেদের একা মনে করো না। আল্লাহ
আছেন তোমাদের সঙ্গে। একই বিবৃতিতে তারা ইসরাইলের প্রতি ভিন্ন ভাষায় কথা
বলে। তারা লিখেছে- ইসরাইলিরা এখন কেমন মনে করছো? আমাদের নাম স্মরণে রেখ।
আমরা বাংলাদেশ গ্রে হ্যাট হ্যাকার্স। আমরা তোমাদের জীবনকে নরকে পরিণত করবো।
সাইবার দুনিয়া ও বাইরের দুনিয়ায় তোমাদের কোন অধিকার নেই। তোমরা ক্যান্সার
আক্রান্ত একটি টিউমার ছাড়া আর কিছুই নও। আমরা বার বার তোমাদের আক্রমণ করবো।
বাংলাদেশী এই হ্যাকারগোষ্ঠী যেসব সাইট হ্যাক করেছে তার মধ্যে আছে আইনি
প্রতিষ্ঠান, ওয়েব ডেভেলপমেন্টবিষয়ক কোম্পানি, ওয়েব হোস্টিংবিষয়ক
সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন ব্যবসায়ী ওয়েবসাইট।

মনে হচ্ছে আমি এক নরকে বাস করছি। আমাদের দেখার কেউ
নেই। আমাদের যাওয়ার কোন জায়গা নেই। আমাদের বেঁচে থাকার জন্য উপার্জনের কোন
ব্যবস্থা নেই। বুকচাপা কষ্টের এমন বহিঃপ্রকাশ ঘটাচ্ছিলেন মিয়ানমারে দাঙ্গার
শিকার এক মুসলমান কাইও মিন্ট। তিনি রাখাইন রাজ্যের রাজধানী সিতওয়ের কাছেই
দিচাউঙ্গ আশ্রয় শিবিরে কোনমতে ঠাঁই পেয়েছেন। তিনি বললেন, মুসলমানদের সঙ্গে
বৌদ্ধদের যে সংঘাত সৃষ্টি হয়েছে তা সমাধানে কর্তৃপক্ষ এগিয়ে আসছে না।
সেনাবাহিনীও আমাদেরকে নিরাপত্তা দিচ্ছে না। গত ২১শে অক্টোবর নতুন করে সৃষ্ট
দাঙ্গায় এ পর্যন্ত সরকারি হিসাবে নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে কমপক্ষে ৮৮।
কিন্তু বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার হিসাবে তা কয়েক শত। গতকাল বার্তা সংস্থা
এপি জানায়, নতুন এ দাঙ্গায় ৩২ হাজারেরও বেশি মানুষ গৃহহীন হয়েছে। এর শিকার
রোহিঙ্গা মুসলমান ও বৌদ্ধরা সরকারের ব্যর্থতার কড়া সমালোচনা করেছে। এ
সঙ্কট নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ব্যাপক উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিষয়টি
মিয়ানমারের সংস্কারপন্থি প্রেসিডেন্ট থেইন সেইনের সামনে অন্যতম বড় সমস্যা
হিসেবে দেখা দিয়েছে। এরই মধ্যে নতুন করে প্রায় ৫ হাজার বাড়িঘর জ্বালিয়ে
দেয়া হলেও এখনও সরকারের পক্ষ থেকে জোরালো কোন পদক্ষেপের কথা শোনা যায় নি।
অন্যদিকে আগামীতে মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট হিসেবে যে অং সান সুচিকে দেখা হয়,
যিনি শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন তিনি এ নিয়ে টুঁ-শব্দটি পর্যন্ত
করেন নি। এ নিয়ে নানা মাত্রিক বিতর্ক হচ্ছে তাকে নিয়ে। রাখাইন রাজ্যের
মুখপাত্র মিউ থান্ট বলেছেন, নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ওই এলাকায় অধিক পুলিশ ও
সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। তবে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাতে অস্বীকৃতি জানান।
মিয়ানমারে প্রায় ৮ লাখ রোহিঙ্গার বসবাস। তাদের বেশির আবাস রাখাইন রাজ্যে।
সেখানে গত জুনে সৃষ্ট দাঙ্গার পর থেকে নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে সরকারি
হিসাবে ১৫০। রাখাইনে বসবাসকারীদের মধ্যে বেশির ভাগ আবার বাস করেন মুঙড,
বুথিডাঙ ও রাথেডাংয়ে। তাদেরকে সরকার ও স্থানীয় মিয়ানমারের নাগরিকরা বিদেশী
হিসেবে দেখে থাকে। এর মধ্য দিয়ে রাখাইনের বৌদ্ধদের সঙ্গে তাদের দূরত্বের
সৃষ্টি হয়েছে।

প্রথমে ফেসবুকে অপরিচিত একাউন্ট থেকে ফ্রেন্ড
রিকোয়েস্ট আসে। একসেপ্ট করলে পরিচয় হয়। তারপর চলতে থাকে চ্যাট অনলাইন
আড্ডা। আস্তে আস্তে ঘনিষ্ঠ হয়ে দেখা করার প্রস্তাব। দেখা করতে যাওয়া মানেই
প্রতারক চক্রের ফাঁদে পা দেয়া। প্রথমে অপহরণ করে প্রতারক চক্র। তারপর আটকে
রেখে ধর্ষণ, নিপীড়ন-নির্যাতন, সর্বস্ব বিলীন করে এক সময় পতিতালয়ে বিক্রি
করে দেয়। এভাবেই প্রতিনিয়ত সামাজিক যোগাযোগের জনপ্রিয় সাইট ফেসবুকের
মাধ্যমে প্রতারণার শিকার হয়ে আসছে ইন্দোনেশিয়ার হাজার হাজার শিশু ও কিশোরী।
সমপ্রতি ইন্দোনেশিয়ায় অনলাইনে এমন প্রতারণার বিষয়ে একটি প্রতিবেদন তুলে
ধরেছে বার্তা সংস্থা এপি। এতে কয়েকটি ঘটনা তুলে ধরা হয়। ১৪ বছর বয়সী এক
কিশোরী অপরিচিত প্রাপ্তবয়স্ক এক লোকের ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পায়। অনেকটা
কৌতূহল মেটাতেই এটা একসেপ্ট করে সে। এভাবেই প্রতারকের হাতে নিজেকে সঁপে দেয়
হাইস্কুলের ওই ছাত্রী। নিজেকে ২৪ বছর বয়সী ইয়োগি পরিচয় দেয় প্রতারক।
কিছুদিন চ্যাট করার পর তাদের মধ্যে ফোন নাম্বার বিনিময় হয়। এক সময় শপিংমলে
এসে দেখা করার প্রস্তাব দেয় প্রতারক। প্রথম দেখাতে তাকে ভালো লাগে মেয়েটির।
আবারও দেখা করার বিষয়ে রাজি হয় তারা। মাকে চার্চ থেকে আসার সময় অসুস্থ
বান্ধবীকে দেখতে যাওয়ার কথা বলে বেরিয়ে পড়ে সে। রাজধানী জাকার্তার উপকণ্ঠের
বাসার সামনে থেকে তাকে নিজের গাড়িতে তুলে নেয় বন্ধুবেশী প্রতারক। নিয়ে যায়
পশ্চিম জাভা শহরের বোগর এলাকায়। সেখানে ছোট্ট একটি রুমে আটকে রেখে বার বার
ধর্ষণ করে। সেখানে তার সঙ্গে ১৪ থেকে ১৭ বছর বয়সী আরও ৫টি মেয়ে ছিল। এভাবে
এক সপ্তাহ আটকে রাখার পর প্রতারক তাকে নারী ও শিশুদের পতিতাবৃত্তির জন্য
পরিচিত ব্যাটাম দ্বীপের একটি পতিতালয়ে বিক্রি করে দেয়ার কথা জানায়। ফুঁপিয়ে
কাঁদতে থাকে মেয়েটি। শত অনুনয় করে বাসায় ফিরে যাওয়ার জন্য। খুনের ভয়
দেখিয়ে তাকে কান্না থামাতে বলে প্রতারক। ৩০শে সেপ্টেম্বর একটি বাস স্টেশনে
পাওয়া যায় মেয়েটিকে। এভাবেই ইন্দোনেশিয়ায় প্রতিদিন অনেক মেয়ে ও শিশু
প্রতারণার শিকার হয়ে যৌন নিপীড়ক চক্রের ফাঁদে পড়ছে। এ বছর ১২৯ শিশু অপহরণের
শিকার হয়েছে দ্বীপ দেশটিতে। এর মধ্যে কমপক্ষে ২৭ শিশু ফেসবুকে পরিচয়ের
সূত্র ধরে অপহরণের শিকার হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির ন্যাশনাল কমিশন ফর
চাইল্ড প্রটেকশন। এ ২৭ শিশুর মধ্যে একটিকে মৃত পাওয়া গেছে। ইন্দোনেশিয়ায় ৫
কোটি ফেসবুক ইউজার রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগের সাইটটি ব্যবহারে
যুক্তরাষ্ট্রের পরেই শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে দেশটি। ২৪ কোটি জনসংখ্যার দেশ
ইন্দোনেশিয়ায় প্রতি বছর ৪০ থেকে ৭০ হাজার শিশু অপহরণের শিকার হয়। এদেরকে
পাচার, পর্নোগ্রাফি ও পতিতালয়ে ব্যবহার করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র
দপ্তর সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, এসব ক্ষেত্রে বেশির ভাগ মেয়েকেই সামাজিক
যোগাযোগের সাইটের মাধ্যমে সংগ্রহ করা হয়।

বাংলাদেশে বাতিল করা হয়েছে তত্ত্বাবধায়ক সরকার
ব্যবস্থা। আর পাকিস্তানে তা চালু হতে যাচ্ছে। সেখানে আগামী জাতীয় সাধারণ
নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে। এ জন্য জানুয়ারিতে ভেঙে
দেয়া হতে পারে পাকিস্তানের পার্লামেন্ট। এরপরই গঠন করা হবে তত্ত্বাবধায়ক
সরকার। সেই সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচন হবে এপ্রিলে। গতকাল এ খবর দিয়েছে
বার্তা সংস্থা পিটিআই। এতে বলা হয়, রাজনৈতিক মহলে আলোচনা ছড়িয়ে পড়েছে-
পাকিস্তানে আগামী বছর আগাম নির্বাচন হবে। এ জন্য সরকার তার রোডম্যাপ
প্রস্তুত করছে। এর আওতায় আগামী ১৬ বা ১৭ই জানুয়ারি পার্লামেন্টের জাতীয়
পরিষদ ও নিম্ন কক্ষ ভেঙে দেয়া হতে পারে। এ সব বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত
নেবেন প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি ও প্রধানমন্ত্রী রাজা পারভেজ আশরাফ।
তার আগে তারা জোটের অন্য শরিকদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করবেন। তত্ত্বাবধায়ক
সরকারের নিয়মে জানুয়ারিতে যদি জাতীয় পরিষদ ভেঙে দেয়া হয় তাহলে ৯০ দিনের
মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য বাধ্যবাধকতা আছে। বর্তমান পার্লামেন্টের
মেয়াদ শেষ হওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে নির্বাচনের বাধ্যবাধকাতা রয়েছে সংবিধানে।
বর্তমান জাতীয় পরিষদের মেয়াদ পুরো হচ্ছে আগামী ১৬ই মার্চ। ফলে সাধারণ
নির্বাচন হতে হবে অবশ্যই ২৬শে এপ্রিলের মধ্যে। ওদিকে নির্বাচন যত কাছে
এগিয়ে আসছে, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ততই নতুন নতুন জোট বাঁধার চেষ্টা
অব্যাহত রয়েছে। নির্বাচনের আগে এমন অনেক জোট গঠিত হতে পারে। তবে
পাকিস্তানের ইতিহাসে এবারই প্রথম একটি গণতান্ত্রিক উপায়ে নির্বাচিত সরকার
তার মেয়াদ শেষ করতে যাচ্ছে। আর এর সবটুকু কৃতিত্ব দেয়া হচ্ছে প্রেসিডেন্ট
আসিফ আলী জারদারিকে। বিভিন্ন সূত্র আভাস দিয়েছেন, ২০১৩ সালে অনুষ্ঠেয়
নির্বাচনে পার্লামেন্টের দু’কক্ষেই চমক সৃষ্টি হবে। কারণ, আগের নির্বাচনের
চেয়ে এবারকার নির্বাচনে ক্ষমতাসীন পাকিস্তান পিপলস পার্টি বেশি ভাল করবে।
কিন্তু সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পাকিস্তান মুসলিম লীগ (নওয়াজ)-এর প্রধান
নওয়াজ শরিফ নেতৃত্বাধীন তার দল বা সাবেক ক্রিকেটার ইমরান খান কতটুকু সফলতা
দেখাতে পারেন তারও বিশ্লেষণ চলছে। ইমরান খান এরই মধ্যে পাকিস্তানে মার্কিন
ড্রোন হামলার বিরোধিতা করে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে সন্দেহের পাত্রে পরিণত
হয়েছেন। কেউ কেউ তাকে তালেবানের সমর্থকও বলে বসেছেন। তাই তাকে গত শুক্রবার
নিউ ইয়র্ক যাওয়ার পথে কানাডায় বিমান থেকে নামিয়ে ২ ঘণ্টা আটক রাখে মার্কিন
অভিবাসন বিষয়ক কর্মকর্তারা। তারা তাকে ওই সময়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। পরে তিনি
নিউ ইয়র্ক যান। ফলে তার প্রতি যুক্তরাষ্ট্র কতটা সন্তুষ্ট থাকবে- তা এখন
প্রশ্নসাপেক্ষ। অন্যদিকে নওয়াজ শরিফ বেশ কিছুদিন রাজনীতিতে অনেকটাই চুপচাপ।
এ অবস্থায় পাকিস্তানের শাসন ক্ষমতায় আসলেই কে উঠে আসেন তা এখন দেখার বিষয়।

নারীদের মোবাইল ফোন ব্যবহারের বিরুদ্ধে এবার কথা বললেন
ভারতের বহুজন সমাজ পার্টির পার্লামেন্ট সদস্য রাজপাল সিং সাইনি। তিনি
বলেছেন, মেয়েদের মোবাইল ফোন দেবেন না। এতে তারা বেপরোয়া হয়ে ওঠে। তার এ
বক্তব্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে সারা ভারতে। গতকাল সবগুলো
মিডিয়াতে তার এ বক্তব্যকে হাই লাইট করে রিপোর্ট প্রকাশ করে। এতে বলা হয়
রাজপাল সিং সাইনি হলেন রাজ্যসভার সদস্য। তিনি বলেন, ছেলেমেয়েদের, বিশেষ করে
মেয়েদের মোবাইল ফোন দেবেন না। আমি বলতে চাই, যেখানে আমি বক্তব্য রাখি
সেখানে নয়। আমারে সভায় যদি কোন ছেলেমেয়ের কাছে মোবাইল ফোন পাওয়া যায় তাহলে
তাকে সরিয়ে দাও। এটি ব্যবহার করে তারা কি মিসই না করছে। মোবাইল না দিলে
একজন মেয়ে কি মিস করছে। তিনি রোবরার রাতে মুজাফ্ফরনগরে দলীয় কর্মীদের এক
সভায় বলেছেন, আমাদের মায়েরা, বোনেরা তাদের সময়ে কোন মোবাইল ফোন ব্যবহার
করতেন না। তাতে কি তারা মারা গিয়েছেন? বৈঠকে তিনি কর্মীদের আহ্বান জানানÑ
তার এই বাণী যেন মানুষে মানুষে ছড়িয়ে দেয়া হয়। বাগপাতের এক পঞ্চায়েত কয়েক
মাস আগে প্রেমজনিত বিয়ে বন্ধ করে দেয়। একই সঙ্গে ৪০ বছরের কম বয়সী মেয়েদের
কেনাকাটায় যাওয়া নিষিদ্ধ করে। তাদের বাড়ির বাইরে মোবাইল ফোন ব্যবহার
নিষিদ্ধ করে।
আল্লাহর দেখানো স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করতে সাত মাস পায়ে
হেঁটে হজব্রত পালন করতে পবিত্র নগরী মক্কায় পৌঁছেছেন বসনিয়ার এক হজযাত্রী।
তার নাম সেনাদ হাডজিস (৪৭)। এ সময়ে তিনি যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়াসহ মোট ৭টি
দেশের ভেতর দিয়ে পায়ে হেঁটে পাড়ি দিয়েছেন প্রায় ৫ হাজার ৭০০ কিলোমিটার পথ।
বন্ধুর পথ পাড়ি দিয়েছেন বসনিয়া, সার্বিয়া, বুলগেরিয়া, তুরস্ক, সিরিয়া ও
জর্ডানের। শনিবার তিনি মক্কায় পৌঁছেছেন। এ সময় তার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ
করে গালফ নিউজ। এ সময় তিনি বলেন, গত শনিবার আমি পবিত্র মক্কা নগরীতে
পৌঁছেছি। আমি মোটেও ক্লান্ত নই। এই দীর্ঘ যাত্রার সময় আমার জীবনের সবচেয়ে
ভাল ছিল। তিনি বলেছেন, তার এ যাত্রায় সময় লেগেছে ৩১৪ দিন। তার পিঠে বাঁধা
ছিল ২০ কিলোগ্রামের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম। এত দীর্ঘ সময়ে তার চলার পথের আপডেট
তথ্য জানান দিয়েছেন ফেসবুকে। সেখানে তিনি একটি প্রবেশ ও বহির্গমন কার্ড
পোস্ট করেছেন। এ কার্ডটি তাকে দিয়েছে সিরিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়। তিনি
বলেছেন, আমি গত এপ্রিলে সিরিয়ায় পৌঁছি। ১১ দিনে সেখানে আমি পাড়ি দিয়েছি
৫০০ কিলোমিটার পথ। আমি পায়ে হেঁটে গিয়েছি আলেপ্পো ও দামেস্কের মধ্যদিয়ে।
সরকারি বাহিনী ও বিদ্রোহীদের দখলে থাকা বেশ কয়েক ডজন চেকপোস্ট পাড়ি দিতে
হয়েছে আমাকে। তবে আমাকে কখনও আটক করা হয়নি। একটি চেকপোস্টে প্রেসিডেন্ট
বাশার আল আসাদের বাহিনী আমাকে আমার পিঠে বাঁধা সরঞ্জাম নামাতে বলে। যখন আমি
তাদের আমার পবিত্র কোরান দেখাই, ব্যাখ্যা করি পায়ে হেঁটে যাচ্ছি হজে, তখন
তারা আমাকে আর আটকালো না। তারা আমার পথকে সুগম করে দিয়েছে। তিনি বলেছেন,
আমি আল্লাহর নামে যাত্রা শুরু করেছিলাম ইসলামের জন্য, বসনিয়া-হার্জেগোভিনার
জন্য, আমার পিতামাতার জন্য ও আমার বোনের জন্য। ফেসবুকে তিনি দাবি করেছেন,
আল্লাহ তাকে স্বপ্নে দেখিয়েছেনÑ ইরাকের পরিবর্তে সিরিয়ার ভিতর দিয়ে পায়ে
হেঁটে হজে যেতে। সে স্বপ্নকে বুকে ধারণ করে আমি এ যাত্রায় বেরিয়েছি। তবে
বুলগেরিয়াতে হিমাঙ্কের নিচে ৩৫ ডিগ্রি তাপমাত্রা ও জর্ডানে প্লাস ৪৪ ডিগ্রি
তাপমাত্রা তাকে মোকাবিলা করতে হয়েছে।