Sunday, July 8, 2012

সেনা অভ্যুত্থানের সম্ভাবনা নাকচ দ্রুত নির্বাচনী চুক্তি প্রয়োজন


Source: The daily Manabzamin, 08-07-12
 ঢাকাস্থ মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান ডব্লিউ মজিনার একটি ভাষণ ওয়াশিংটন শুধু নয়, ওয়েব বার্তার কারণে বিশ্বব্যাপী আলোচিত হচ্ছে। স্থান: ওয়াশিংটনের প্রভাবশালী থিংক ট্যাঙ্ক হেরিটেজ ফাউন্ডেশন। তারিখ ২১শে জুন ২০১২। ৪৫ মিনিটের দীর্ঘ ভাষণে ড্যান ডব্লিউ মজিনা বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র  সম্পর্ক, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক, ভবিষ্যৎ নির্বাচন, হিলারি ক্লিনটনের সামপ্রতিক ঢাকা সফর, সিভিল সোসাইটির ভূমিকা, ইলিয়াস আলী গুম, শ্রমিক নেতা আমিনুল ইসলাম হত্যাকাণ্ডসহ নানা বিষয়ে মতামত তুলে ধরেন। গ্রামীণব্যাংক প্রসঙ্গ তো ছিলই। মজিনা বলেন, তার ধারণা, বাংলাদেশে আর সেনাবাহিনী ক্ষমতা দখল করবে না। ঢাকা সফরকালে হিলারি ক্লিনটন নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনটি শব্দ একাধিকবার উচ্চারণ করেন। শব্দ তিনটি হচ্ছে- প্ল্যান, গ্রাউন্ড রুলস এবং মেকানিজম। পুরো বক্তৃতাটি আমাদের কাছে এসেছে। পরখ করে দেখা যেতে পারে কি ছিল তার ওই আলোচিত বক্তৃতায়।


আপনাদের সবাইকে ধন্যবাদ। বাংলাদেশ সম্পর্কে আমার দৃষ্টিভঙ্গি আপনাদের সঙ্গে ভাগাভাগি করছি। আমি বাংলাদেশে মাঝেমধ্যেই বাইসাইকেল চালাই। এখানকার আকাশ খোলা। উদাস করে কাছে ডাকে। এটাই হয়তো ঠিক। তাই যে কোন ভাবেই হোক বাইসাইকেল চালাই আমি। কয়েক সপ্তাহ আগে আমি বাইসাইকেল চালিয়েছি প্যারিসে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন কয়েক সপ্তাহ আগে বাংলাদেশ সফর করেছেন। তিনি এসেছিলেন মে মাসের শুরুর দিকে। তখন আমার এক বন্ধু জানতে চেয়েছিলেন হিলারি কেন বাংলাদেশে এসেছেন। তখন আমি কৌতুক করেছিলাম। শুধু হেসেছি। কোন উত্তর দিইনি। কিন্তু আমার বন্ধু খুব সিরিয়াস ছিলেন। পরে আমি তাকে তার প্রশ্নের জবাব দিয়েছি।


হিলারি বাংলাদেশে এসেছিলেন। কারণ, বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বাংলাদেশ ক্রমবর্ধমান, কৌশলগত কারণে গুরুত্বপূর্ণ। কেন? তা ব্যাখ্যা করছি। বাংলাদেশ বিশ্বের সপ্তম বৃহত্তম দেশ। বিশ্বের মধ্যে চতুর্থ বৃহত্তম মুসলিম দেশ। এটা একটি ধর্মনিরপেক্ষ, আধুনিক, গণতান্ত্রিক, মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ। নেপাল, ভারত, চীন, মিয়ানমার, পাকিস্তান, আফগানিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশ সম্পর্কের উন্নতি ঘটিয়েছে। এই অঞ্চলে স্থিতিশীলতার উন্নতির জন্য তা খুবই জরুরি। এটাই আমেরিকার কাছে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। জাতিসংঘ শান্তি মিশনে বিশ্বের মধ্যে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ সবচেয়ে বেশি। যখন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন অ্যাঙ্গোলা গিয়েছিলেন, তখন আমি সেখানে রাষ্ট্রদূত ছিলাম। তখন আমাদের মধ্যে অনেক বিষয়ে কথা হয়েছিল। আমরা আলাপ করেছিলাম- আমাদের জীবনেই বিশ্বের জনসংখ্যা ৯০০ কোটি দাঁড়াবে। আমার মনে পড়ে, গত সেপ্টেম্বরেই তা হয়তো ৭০০ কোটি ছিল। তখন হিলারি বলেছিলেন- ওই সব বর্ধিত মানুষের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে ভাবতে হবে। তাই বিশ্বের সপ্তম বৃহত্তম দেশ বাংলাদেশকে তার বাড়তি মানুষের খাদ্য যোগানের ব্যবস্থা করতে হবে। বাংলাদেশে যে পরিমাণ মানুষ বাড়বে তাদের খাদ্যের নিরাপত্তা দেয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করতেই হবে। গড়ে তুলতে হবে বৈশ্বিক খাদ্য নিরাপত্তা। যুক্তরাষ্ট্রের রয়েছে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের আগ্রহ। গত বছর আমরা প্রায় ১০০ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছি বাংলাদেশে। আগের বছরের তুলনায় এ পরিমাণ প্রায় দ্বিগুণ। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রে ৮ থেকে ১০ হাজার চাকরি সৃষ্টি করা সম্ভব হয়েছে। এটাই যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বাংলাদেশের গুরুত্বের বিষয়। তৈরী পোশাকের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রে দুই নম্বর দেশ বাংলাদেশ। বাংলাদেশে আমরা সবচেয়ে বেশি অর্থের বিনিয়োগকারী। এদেশে আমাদের মূল্যবান বেশ কিছু এজেন্ডা আছে। তার মধ্যে রয়েছে মানবাধিকারের প্রতি সমর্থন, গণতন্ত্রের প্রতি সমর্থন। রয়েছে মানবতা বিষয়ক এজেন্ডা। আমরা ৫৪৭টি ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ ও পুনঃনির্মাণ করেছি। এসব আশ্রয়কেন্দ্রে প্রায় ৩ হাজার মানুষ আশ্রয় নিয়ে জীবন রক্ষা করতে পারেন। আরও বেশ কিছু একই রকম প্রকল্পে আমরা সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছি। বাংলাদেশ ঘূর্ণিঝড় ও বন্যাপ্রবণ দেশ। বিপর্যয়- ঘূর্ণিঝড় ও বন্যা এখনও আঘাত হানে এদেশে। কিন্তু তাতে হাজার হাজার মানুষ আহত হয়েছেন এমন ঘটনা এখন আর ঘটে না। হতাহতের সংখ্যা কমিয়ে আনা হয়েছে। আমরা বাংলাদেশীদের সঙ্গে কাজ করছি তাদের লক্ষ্যে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে সহায়তা দিতে। তারপরও কেন বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের কাছে এত গুরুত্বপূর্ণ? এর জবাব হলো- এখানে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে যথেষ্ট ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা, বৈশ্বিক শান্তি, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, মানবতা বিষয়ক এজেন্ডা- এ সবই রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহ। আমরা এমন একটি বাংলাদেশকে সমর্থন করি, যে বাংলাদেশ শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ, উন্নত, গণতান্ত্রিক। শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ, সমৃদ্ধ, সুস্থ ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের পক্ষেই আমরা। কেন আমরা এমনটা করছি? এটা যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহের বিষয়। যে বাংলাদেশ শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ, সমৃদ্ধ, সুস্থ সবল গণতন্ত্রের- তার অর্জনে যুক্তরাষ্ট্র সমর্থন দেয়। এটা বাংলাদেশের জনগণের জন্য একটি বিজয়। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন কেন বাংলাদেশে এসেছিলেন তার উত্তর হতে পারে, বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের কাছে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বাংলাদেশ একটি বন্ধু রাষ্ট্র। তারা যুক্তরাষ্ট্রের খুব ভাল বন্ধু। যুক্তরাষ্ট্র ও মধ্য দক্ষিণ এশিয়ায় এমন একজন বন্ধুর গুরুত্ব অনেক। পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন এই বন্ধুত্বের কথা জানেন। তিনি জানেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে অংশীদারিত্বের বিষয়টি। তিনি সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের অগ্রগতি জানতে এসেছিলেন। এক সময় বাংলাদেশকে বলা হতো ‘পরবর্তী আফগানিস্তান’। আপনাদের অনেকেই সে কথা স্মরণ করতে পারেন। বলা হতো- বাংলাদেশ হতে চলেছে পরবর্তী আফগানিস্তান। এটাই আমাদের কাছে প্রশ্ন। এ প্রশ্নের পরিষ্কার জবাব হচ্ছে- না। কারণ, বাংলাদেশ সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াই করছে। আমার দৃষ্টিতে বাংলাদেশ সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যে উন্নতি করেছে, এটাই বন্ধুত্বের সূত্র। বাংলাদেশ নৌবাহিনী তাদের সীমান্ত রক্ষায় নিয়োজিত। বাংলাদেশকে সন্ত্রাসের হাত থেকে রক্ষা করতে সেনাবাহিনী থেকে সেনাবাহিনীর মধ্যে সহযোগিতা বাড়াতে হবে। আমরা বাংলাদেশের সমুদ্রসীমাকে নিরাপদ দেখতে চাই। আমরা কাজ করছি গভীরভাবে। বাংলাদেশকে সন্ত্রাস থেকে রক্ষা করতে চাই। এতে শুধু বাংলাদেশীরাই লাভবান হবেন না। আমরাও লাভবান হবো সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে। আমরা শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশের পক্ষে। এদেশে কমিয়ে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে মাতৃমৃত্যুর হার। এক্ষেত্রে আমরা তাদের সহযোগী। বাংলাদেশ সহস্রাব্দের লক্ষ্যমাত্র পূরণের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। শিশু মৃত্যুর হার কমিয়ে আনা হচ্ছে। এক্ষেত্রে আমরা বাংলাদেশের সহযোগী। বাংলাদেশের প্রজনন হার ৬.৩ থেকে ২.৩ ভাগে কমিয়ে আনা হয়েছে গত ৪০ বছরে। আমাদের সহযোগিতার এগুলোই হলো বড় অর্জন। আপনারা এই অর্জন দেখে গর্বিত হবেন। আমিও এতে গর্বিত। হিলারি ক্লিনটন অংশীদারিত্বকে সেলিব্রেট করতে ঢাকায় এসেছিলেন। তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি, বিরোধী দলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে এসব বিষয়ে বলেছেন। তাই তিনি বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনির সঙ্গে সই করেছেন পার্টনারশিপ ডায়ালগ এগ্রিমেন্ট। এর মাধ্যমে আমাদের অংশীদারিত্বকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়া হয়েছে। এর অধীনে প্রতি বছর উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদের মাধ্যমে আমাদের অংশীদারিত্বের পর্যালোচনা হবে। এর প্রথম দফা অনুষ্ঠিত হবে সেপ্টেম্বরে ওয়াশিংটনে। এতে উপস্থিত থাকবেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তিনজন উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি। এর মধ্যে রয়েছেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রাণালয়ের আন্ডার সেক্রেটারি। এটা আমাদের বড় অর্জন। বন্ধুরা তো একে অন্যের সঙ্গে মুক্তমনে কথা বলেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি গার্মেন্ট শ্রমিক আমিনুল ইসলামের প্রসঙ্গ উত্থাপন করেছিলেন। এটা হয়তো যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাপক পরিচিত নাম নয়। তিনি শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকারের আন্দোলন করতেন বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায়। এফএসিআইও সমর্থিত যুক্তরাষ্ট্র সরকারের মদতপুষ্ট গার্মেন্ট শ্রমিক সংগঠনের আন্দোলন করতেন তিনি। তাকে হত্যা করা হয়েছে এপ্রিলের প্রথম দিকে। বাংলাদেশে আন্দোলনরত শ্রমিকদের ওপর এই সহিংসতা অপ্রত্যাশিত। হিলারি ক্লিনটন এই ইস্যুটি উত্থাপন করেছিলেন। তিনি মানবাধিকারের এই ইস্যুটি তুলেছিলেন। তিনি বিএনপি নেতা এম. ইলিয়াস আলীর নাম উল্লেখ করেছিলেন। সিলেট বিভাগের এই নেতা নিখোঁজ হয়েছেন প্রায় তিন মাস হতে চলেছে। নাগরিকদের নিরাপত্তা দেয়া সরকারের দায়িত্ব। ঢাকা সফরে হিলারি বড় বড় রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে রাজনৈতিক আলোচনার গুরুত্বের কথা তুলে ধরেছিলেন। বাংলাদেশের পরবর্তী সাধারণ নির্বাচন ২০১৩ সালের ডিসেম্বরে, না হয় ২০১৪ সালের জানুয়ারিতে। কিন্তু কিভাবে ওই নির্বাচন করা যাবে এ নিয়ে এখন পর্যন্ত রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে কোন সংলাপ হয়নি। এই নির্বাচনের জন্য পরিকল্পনা করে বিভিন্ন নেতার মধ্যে গ্রাউন্ডওয়ার্ক ও কৌশল প্রণয়নের আহ্বান জানিয়েছিলেন হিলারি ক্লিনটন। তিনি টিকফা’র আহ্বান জানিয়েছেন। কি সুন্দর শুনতে লাগে এই শব্দটি। এর পুরো নাম ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট কো-অপারেশন ফোরাম এগ্রিমেন্ট। এটা খুব সাধারণ একটি চুক্তি। এ নিয়ে চার বছর ধরে সমঝোতার চেষ্টা চলছে। কিন্তু এখনও তা আলোর মুখ দেখতে পায়নি। এ চুক্তির মধ্য দিয়ে ক্রমবর্ধমান বাণিজ্যের বাধা নিরূপণের কথা রয়েছে। পরামর্শের কথা রয়েছে। বাধা চিহ্নিত করার কথা রয়েছে। চার বছরেও কেন এ চুক্তি আলোর মুখ দেখেনি? আমার বা আমেরিকার ধারণা, বাংলাদেশ কোন না কোনভাবে আন্তর্জাতিক শ্রম বিষয়ক প্রতিশ্রুতি থেকে পিছনে সরে আসার চেষ্টা করছে। এটা খুব ভাল খবর নয়। হিলারি এই ইস্যুটি তুলে ধরেছিলেন। তিনি সুশীল সমাজ সম্পর্কে কথা বলেছেন। সুশীল সমাজের দিক দিয়ে বিশ্বে বাংলাদেশ নেতৃত্ব দিচ্ছে। হিলারি গ্রামীণ ব্যাংকের প্রসঙ্গেও কথা বলেছেন। এ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা শান্তিতে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস। হিলারি এই ব্যাংকের অখণ্ডতার বিষয়েও কথা বলেছেন। কথা বলেছেন, এর সহযোগী কোম্পানিগুলোর বিষয়েও। এগুলোর মধ্যে ৫৪টি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির মধ্য দিয়ে চলছে। তাই হিলারির এই সফর খুব অর্থবহ। বাংলাদেশ তৈরী পোশাক, জুতা, চামড়াজাত পণ্য, মার্কিন বাজারে শুল্কের বিষয়টি তুলে ধরেছে। তারা এ খাতে শুল্কমুক্ত সুবিধা চেয়েছে। হিলারি বলেছেন, এমন সব বিষয় আলোচনার জন্য টিকফা হতে পারে ভাল জায়গা। বাংলাদেশ মিলেনিয়াম চ্যালেঞ্জে অংশীদার হতে চায়। এটা শুরু হয়েছিল বিগত সরকারের সময়ে। উন্নয়নশীল দেশগুলোর সঙ্গে এ কাজগুলো করা হয়। এক্ষেত্রে মার্কিন রাষ্ট্রদূত বা কোন মার্কিনি নির্ধারণ করেন না- বাংলাদেশের জন্য কিসে ভাল হবে। এক্ষেত্রে এ লক্ষ্য পূরণের জন্য বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে কাজ করতে পারে। তারা এ বিষয় নিয়ে কথা বলেছে। ১৯৭৫ সালে বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর পরিবারের সদস্যদের হত্যার সঙ্গে জড়িতদের দেশে ফেরত পাঠানোর দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ। তাই হিলারির সফর নানা দিক দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ওই সফরের ওপর ভিত্তি করে আমরা এখন গঠনমূলক কাজ করছি। বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক দৃঢ় করার জন্য আমাকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তা করা হবে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থ বজায় রেখে। আমি আগামী নির্বাচনের চ্যালেঞ্জ নিয়ে কথা বলেছি। বাংলাদেশে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন হয়েছে। এ ধারণাটাই তারা এতদিন ব্যবহার করেছে। এই ব্যবস্থায় ক্ষমতাসীন সরকারের ক্ষমতা থাকে না। তারা ক্ষমতা দিয়ে দেয় নিরপেক্ষ সরকারের হাতে। সেই ব্যবস্থার নাম তত্ত্বাবধায়ক সরকার। ওই তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন করা হয় সুপ্রিম কোর্টের সদ্য অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিকে নিয়ে। এই তত্ত্বাবধায়ক সরকারই নির্বাচন পরিচালনা করে। তারা থাকে নিরপেক্ষ। কিন্তু এই ব্যবস্থাকে বাতিল করে দিয়েছে বর্তমান সরকার। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো তারাও বলছে, তাদের অধীনেই নির্বাচন পরিচালনা করবে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। জবাবে বিরোধী দল বলছে- না। বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকার অবাধ, মুক্ত ও স্বাধীন নির্বাচন করবে এমনটা বিশ্বাস করে না তারা। এক্ষেত্রে হিলারি এবং আমি বলেছি- তাদেরকে এমন একটি পন্থা বের করতেই হবে যার অধীনে ওই নির্বাচন সুষ্ঠু হয়। এখনকার দিনে এটাই সবচেয়ে বড় ইস্যু। এ ইস্যুকে কেন্দ্র করে এরই মধ্যে শুরু হয়ে গেছে হরতাল, সংঘর্ষ। এতে বাংলাদেশের জনগণের জীবনে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে এবং বিনিয়োগ আকর্ষণেও তা নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। আমি বিশ্বাস করি, বাংলাদেশ একটি গণতান্ত্রিক দেশ। আমি বিশ্বাস করি, বাংলাদেশকে অবশ্যই গণতান্ত্রিক হতে হবে। বাংলাদেশের সংস্কৃতির রয়েছে ভীষণ গভীরতা এবং তা ভীষণ সমৃদ্ধ। এখন প্রশ্ন হলো- কখন ওই নির্বাচন হতে যাচ্ছে? গণতন্ত্রের ভাষায়- সময়মতো সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য ও অবাধ নির্বাচন হতে হবে। তা করতে বড় বড় রাজনৈতিক দলগুলোকে নির্ধারণ করতে হবে কিভাবে তারা ওই নির্বাচন অনুষ্ঠান করবেন। তাই এ বিষয়ে তাদেরকে একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে হবে। এখন প্রশ্ন হলো- তা কি ২০১২ সালে, ১০১৩ সালে, ২০২০ সালে? তা যদি হয় ২০১৭ সালে বা ২০২০ সালে তাহলে সেখানে সহিংসতা দেখা দেবে। অনিশ্চয়তা দেখা দেবে। বাংলাদেশ নিয়ে আমার একটি দৃষ্টিভঙ্গি আছে। বাংলাদেশকে আমি দেখি পরবর্তী এশিয়ান টাইগার হিসেবে। আমি একে বলি বাংলার বাঘ (বেঙ্গল টাইগার)। তৈরী পোশাকের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বিশ্বের সবচেয়ে বড় রপ্তানিকারক। এক্ষেত্রে তারা চীনকে হটিয়ে দিয়েছে। ন্যাপকিন, কাপড়, তোয়ালে রপ্তানিতে চীনকে পিছনে ফেলে সবার সামনে চলে এসেছে। ফার্মাসিউটিক্যালস, পাট, আইটি সবক্ষেত্রেই এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। মধ্য আয়ের বাংলাদেশ, গোল্ডেন বাংলাদেশ, বাংলার বাঘ তা বুঝতে পারছে না। তারা বুঝতে পারছে না বাংলাদেশ অনিশ্চয়তায় কুঁচকে যাচ্ছে। রাজনৈতিক ক্ষেত্রে রয়েছে অস্থিতিশীলতা। এ সবই হচ্ছে ওই নির্বাচনকে সামনে রেখে উদ্বেগের কারণ। আরও একটি হুমকি বাংলাদেশের সামনে। বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় তৈরী পোশাকের বাজার আমেরিকা। এরই মধ্যে আমি আমিনুল ইসলামের বিষয় বলেছি। তাকে এপ্রিলে হত্যা করা হয়েছে। আমিনুল হত্যার এই বিষয়টি হিলারি আলোচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে। ৬ বছর আগে এফএসিআইও আবেদন করেছিল জিএসপি বাতিল করতে। এটি হলো জেনারেল সিস্টেম অব প্রিফেন্সেস। আমি টিকফা’র কথা বলেছি। বাংলাদেশ শ্রমিকদের নিরাপত্তা দেয়ার আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতি থেকে সরে যাওয়ার চেষ্টা করছে। এখন থেকে ৩ সপ্তাহ আগে এক রাতে আমি একটি ফোন পাই। ওই ফোনটি করেছিলেন বাংলাদেশী তৈরী পোশাকের আমেরিকান বায়ারের এক নির্বাহী অফিসার। তিনি তার কোম্পানির সুনাম নিয়ে ছিলেন হতাশ। কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা, আগুন, শ্রমিকের সঙ্কট এসব নিয়ে তার মাঝে উদ্বেগ। তিন দিন পরে আমি একটি পার্টিতে গিয়েছিলাম। এর আয়োজন করেছিলেন বাংলাদেশ চেম্বারস অ্যান্ড কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির প্রেসিডেন্ট। এটি বিভিন্ন রকম ৩৬টি সংগঠনের একটি সমন্বিত সংগঠন। সেখানে তিনি আমাকে বললেন, আপনার সঙ্গে কিছু লোক কথা বলতে চান। তিনি আমাকে এক পাশে নিয়ে গেলেন। সেখানে ৬ জন লোক এগিয়ে এলেন। তারা প্রত্যেকে যুক্তরাষ্ট্রের বায়ার কোম্পানির প্রতিনিধি। তারাও একই বার্তা দিলেন। তারাও কোম্পানির সুনাম নিয়ে উদ্বেগে। আমরা ক্লিন পোশাক পরতে চাই। আমরা ময়লা পোশাক পরতে চাই না। ময়লা পোশাক হলো সেগুলো, যেগুলো তৈরি করেন ওইসব শ্রমিক, যাদেরকে টার্গেট করা হয়েছে। এক্ষেত্রে হিলারি সামনে এগিয়ে যাওয়ার একটি পরামর্শ দিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেত্রীকে। কম্বোডিয়ার উদাহরণের দিকে তাকান। কলম্বিয়ার উদাহরণের দিকে তাকান। দক্ষিণ আমেরিকায় সবচেয়ে দ্রুত উন্নতি অর্জন করা দেশ কলম্বিয়া। ৩ বা ৪ বছর আগেও এ দেশটি ছিল এর বিপরীতমুখী। কম্বোডিয়া তার তৈরী পোশাক নিয়ে সামনে এগিয়ে এসেছে। কিভাবে? তারা আইএলও’র অধীনে কাজ করে। সেখানে সরকার, মালিক, শ্রমিক সবাই একে অন্যের বিরুদ্ধে কাজ না করে একত্রিত হয়ে কাজ করে। তারা একটি সুষ্ঠু বাণিজ্যের প্লাটফর্ম বানাতে এভাবে একত্রে কাজ করছে। বাংলাদেশকে এই আদর্শ গ্রহণ করার পরামর্শ দিয়েছেন হিলারি। তবে এক্ষেত্রে আইএলও’ও তাদের কর্মপরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে খুব ধীর গতিতে।


টেকনোলজি খাতে বিনিয়োগ করা সরকারের কাজ নয়। এক্ষেত্রে বিনিয়োগ করবেন বিনিয়োগকারীরা, ব্যবসায়ীরা। আমাকে বলা হয় আপনি বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিধর দেশের রাষ্ট্রদূত। আপনাকে অবশ্যই বাংলাদেশে টেকনোলজি আনতে হবে। আমি জবাবে বলি- না। বিনিয়োগকারীরা টেকনোলজি আনবেন। আমাকে বলা হয়, আপনাকে বিনিয়োগকারী আনতেই হবে। আমি বলি- না। আমি বাংলাদেশে বিনিয়োগের জন্য বাংলাদেশী বন্ধুদের বলবো- সেখানে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা খুবই প্রয়োজন। তা নিশ্চিত করতে পারলেই বাংলাদেশে অধিক সংখ্যক বিনিয়োগকারী আসবেন। বেঙ্গল টারগারদের কর্মক্ষমতা অনেক বেশি। সেখানে বিনিয়োগ না হলে এই কর্মক্ষমতা বোঝা কষ্ট। সেই বিনিয়োগের জন্য সেখানে রাজনৈতিক পরিবেশ, স্থিতিশীলতা প্রয়োজন। প্রয়োজন বন্দর, সড়ক, বিমানপথ, বিদ্যুৎ, দুর্নীতিমুক্ত পরিবেশ, আইনের শাসন- তাহলেই বিনিয়োগ বাড়বে। এগুলো খুব গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ। এসব সমস্যার সমাধান সম্ভব। যখন এসব সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে, তখনই বাংলাদেশ বিদেশী বিনিয়োগ প্রবল বেগে ধাবমান হবে। এর সঙ্গে আসবে টেকনোলজি। বাংলাদেশে রয়েছে অভিন্ন সংস্কৃতি, ভাষা আর মানুষগুলো উদ্যমী, সৃষ্টিশীল, গতিময়। এটাই হলো বাংলাদেশের শক্তি। এসব সমস্যা মোকাবিলা করতে পারলে আমার বিশ্বাস বাংলাদেশ শিগগিরই হতে পারবে এশিয়ান টাইগার। বাংলাদেশের যুব সমাজের অনেকে বিদেশে পড়াশোনা করে দেশে ফিরছে। তারা দেশে কাজ করছেন।


ভারত প্রসঙ্গ
ভারত প্রসঙ্গ একটি মিশ্র বিষয়। ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক অম্লমধুর। এই সরকার ভারতের কাছে পৌঁছতে পেরেছে। সন্ত্রাস দমনের মাধ্যমে তা সম্ভব হয়েছে। বাংলাদেশ ভারতকে কট্টরপন্থি সন্ত্রাসীদের চিহ্নিত করার ক্ষেত্রে সহযোগিতা করেছে। এক্ষেত্রে সফলতা আসছেই। এটা একটি বড় অর্জন। এশিয়ার সবচেয়ে বড় স্থলবন্দর বেনাপোলে যাওয়ার সৌভাগ্য আমার হয়েছিল। ৫ বা ৬ মাস আগে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের চুক্তি হওয়ার পর বাণিজ্য দ্বিগুণ হয়েছে। দিনে ২০০ থেকে ৪০০ ট্রাক যাতায়াত করে এ বন্দর দিয়ে। এটা একটা বাস্তব পরিবর্তন। পানি বণ্টন নিয়ে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার চুক্তি অনুমোদন করেছে। কিন্তু তাতে প্রভাব পড়েছে কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে রাজ্য সরকার বিশেষত পশ্চিমবঙ্গ সরকারের দ্বিমত। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অনুমোদন না মিললে এ চুক্তি বাস্তবায়ন করা যাবে না। অনেকেই আশা করেন এ চুক্তির জটিলতা কেটে যাবে। ভারত তার সেভেন সিস্টারের কাছে মালামাল সহজে পৌঁছাতে চায়। এক্ষেত্রে বাংলাদেশকে তারা ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহার করতে চেয়েছে। আমি আশা করি এ বিষয়টিও সহসাই নিষ্পত্তি হবে। এ ট্রানজিট চালু হলে সবাই উপকৃত হবেন। মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক উন্নত হয়েছে। নৌ-সীমা নিয়ে বিরোধ নিষ্পত্তি হয়েছে। এর ফলে সম্পর্ক আরও উন্নত হবে। তবে রোহিঙ্গারা বাংলাভাষী। তাদেরকে মিয়ামনারের নাগরিকরা বার্মিজ হিসেবে স্বীকৃতি দেয় না। তাদের কয়েক হাজার এর আগেই শরণার্থী হয়ে বাংলাদেশে এসেছেন। সেই মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষ দেখা দিয়েছে। ফলে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে আসতে চেষ্টা করে। এটা একটি বড় সমস্যা। এক্ষেত্রে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা মেনে নেয়া উচিত।


সেনাবাহিনী প্রসঙ্গ
গত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় ক্ষমতার নেপথ্যে ছিল সেনাবাহিনী। তারা সফল হয়েছে। দেশের জন্য ভাল হয়েছে। সেনাবাহিনীর ক্ষমতা দখলের আর কোন সুযোগ আছে বলে আমি মনে করি না। আমি সেনাবাহিনীর প্রায় সব শাখার কর্মকর্তাদের চিনি। আমি দেখি না সেনাবাহিনী, সেনাবাহিনী হিসেবে ক্ষমতা দখল করছে। কিন্তু বড় রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সংলাপ খুব জরুরি। তারা একে অন্যকে চেনেন। তারা একে অন্যের আত্মীয়। একের মোবাইলে আরেকজনের ফোন যায়। তারা আলোচনায় বসবেন বলে আমি আশাবাদী। আলামত দেখতে পাচ্ছি। আমি আশাবাদী, তারাই কৌশল বের করবেন কিভাবে সুষ্ঠু, অবাধ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন করা যায়। আজ হোক কাল হোক এ বিষয়ে একটি সমঝোতা হবে বলে আমি আশাবাদী। আমি মনে করি তারা এরই মধ্যে আলোচনা শুরু করে দিয়েছেন।

Tuesday, July 3, 2012

অন্য রকম ভালবাসা

শাশুড়ির আদর পেতে এক ব্যক্তি তার ভায়রাকে হত্যা করেছে। এ ঘটনা ঘটেছে মুম্বইয়ে। তার সন্দেহ হয়েছিল, ওই ভায়রা শাশুড়িকে বেশি শ্রদ্ধা করেন এবং তার শাশুড়িও ওই জামাইকে বেশি আদর করেন। তাই তাকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেয় বিনোদ সোনাভান। বিনোদ ও তার ভায়রা মনিশ শিন্ধে দু’জনেই অনেকটা বেশি এগিয়ে শাশুড়ি বিমলা যাদব (৪৮)কে ভালবেসে ফেলে। কিন্তু তাতে বিনোদ সোনাভান শান্তিতে থাকতে পারে না। সে মনে করে তার শাশুড়ি তাকে নয়, ভায়রা মনিশ শিন্ধেকে বেশি ভালবাসেন। এক পর্যায়ে উমারমালা রেলস্টেশন থেকে উদ্ধার করা হয় মনিশের মৃতদেহ। এ ঘটনায় প্রধান আসামি করা হয় বিনোদ সোনাভানকে। সে বিয়ে করেছে মনিশের শ্যালিকাকে। এ ঘটনায় পুলিশ ইন্সপেক্টর অরুণ জাগতাপ একটি বিশেষ তদন্ত দল গঠন করেন। তারা মনিশ সিন্ধের মোবাইল ফোন থেকে ডাটা সংগ্রহ করেন। সেই সূত্র ধরে পুলিশ বিনোদ সোনাভানকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। এ সময় সে কান্নায় ভেঙে পড়ে এবং হত্যার ঘটনা স্বীকার করে পুলিশের কাছে বিবৃতি দেয়। সে বলে, তার শাশুড়ি তার চেয়ে মনিশ সিন্ধেকে বেশি ভালবাসেন বলে তার সন্দেহ হয়। এতে তার মাঝে হিংসা জেগে ওঠে। এ থেকেই এক পর্যায়ে সে মনিশকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেয়। ১৩ই জুন সে মনিশ সিন্ধেকে ডেকে নেয় উমারমালা রেল স্টেশনে। সেখানে দু’বন্ধুর সহযোগিতায় সে হত্যা করে মনিশকে।

মশার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেয়ায় গ্রেপ্তার ৫৩

 মশার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা না নেয়ায় শ্রীলঙ্কায় ৫৩ ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সমপ্রতি সেখানে ডেঙ্গুবিরোধী অভিযান শুরু হয়েছে। তাতে সেনা সদস্য, পুলিশ ও সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারীদের নিয়োজিত করা হয়েছে। তাদের কাজ হলো যেখানে মশা প্রজনন ঘটায় সেসব স্থানে অভিযান চালিয়ে প্রজনন বন্ধ করে দেয়া। আর এভাবে ক্রমবর্ধমান ডেঙ্গুজ্বরের প্রাদুর্ভাব কমিয়ে আনা যেতে পারে। রোববার রাজধানী কলম্বোতে ওইসব কর্মকর্তা-কর্মচারী, সেনা, পুলিশ সদস্যরা ১১ হাজার ৫০০ বাড়িতে অভিযান চালিয়েছে। এ সময় যেসব বাড়ির চারপাশ পরিষ্কার পাওয়া যায়নি সেসব বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৫৩ ব্যক্তিকে। শাস্তি হিসেবে তাদেরকে জরিমানা ও ৬ মাসের জেল দেয়া হতে পারে। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা এপি। এতে বলা হয়েছে, শ্রীলঙ্কায় এ বছর ভয়াবহ আকারে ডেঙ্গুজ্বর ছড়িয়ে পড়েছে। এতে এরই মধ্যে মারা গেছেন কমপক্ষে ৭৪ ব্যক্তি। আক্রান্ত হয়েছে ১৫০০০। স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলছেন, যেসব মানুষের বাড়ির চারপাশ পরিষ্কার নয় সেখানে ডেঙ্গুজ্বরের প্রাদুর্ভাব বেশি। কারণ, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে ডেঙ্গুবাহী মশার প্রজনন হয়।

Sunday, July 1, 2012

বিধবা মানে অভিশাপ

‘বিধবা’ মানেই যন্ত্রণা। মনের মধ্যে একাকিত্বের দহন। একথা পৃথিবীর যে কোন দেশের নারীর জন্যই চিরন্তন সত্য। তবে যুগের কল্যাণে আজ বিশ্ব অনেকটা কুসংস্কারমুক্ত। বিধবারাও বিয়ে করে নতুন সংসার গোছানোর স্বপ্ন দেখতে পারেন। কিন্তু এখনও ভারতের বেশ কিছু অঞ্চলে বিধবা হওয়ার অর্থই যেন অভিশাপ বয়ে বেড়ানো। আজও কুসংস্কারে ছেয়ে রয়েছে ভারতের বিস্তীর্ণ অঞ্চল। ভারতে বিধবারা বরাবরই অবহেলিত। যদিও এখন ‘সহমরণ’ প্রথা প্রচলিত নেই। কিন্তু যে অভিশাপের জীবন বিধবারা আজও সেখানে বয়ে বেড়াচ্ছেন, তা সহমরণের তুলনায় কোন অংশে কম নয়। স্বামী মারা গেলে পুনরায় বিয়ে সেখানে প্রথাগতভাবে নিষিদ্ধ। সারা জীবন দারিদ্র্যের নিদারুণ কষাঘাতে জর্জরিত হতে হয় তাদের। সমাজ ও পরিবার-পরিজনদের কাছ থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হয়। কখনও অনাহারে, কখনওবা অর্ধাহারে জীবন কাটাতে হয়। ‘সিটি অব উইডোস’ বা বিধবাদের শহর বৃন্দাবন। উত্তরপ্রদেশের ‘পবিত্র শহর’ বলে পরিচিত বৃন্দাবন। ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, বিহার ও ওড়িশা থেকে ৩শ’ বছরেরও বেশি সময় ধরে পরিবার ও সমাজ থেকে বিতাড়িত ও পরিত্যক্ত বিধবারা জড়ো হচ্ছেন বৃন্দাবনে। প্রতি মুহূর্তে তাদের সইতে হয় অপমান, লাঞ্ছনা আর গঞ্জনা। তারা সেখানে বিভিন্ন মন্দিরে জোটবদ্ধ হয়ে বাস করেন। প্রথা অনুযায়ী, চরম উদাসীনতার শিকার এ নারীদের মোটা কাপড় ও সাদা থানের শাড়ি পরতে হয়। বৃন্দাবনে সাদা শাড়িতে বিধবাদের দেখতে পাওয়াটা অতি সাধারণ ব্যাপার। মন্দিরে পুজো করে তাদের সময় কাটে। একমুঠো খাবারের জন্য হাত পাততে হয়। বৃন্দাবনে উচ্চ-বর্ণের হিন্দুদের সংখ্যা দিনে দিনে বাড়ছে। কোন কাজ না করেই তাদের সময় কাটে। পশ্চিমবঙ্গে এখনও বেশ কিছু পরিবার রয়েছে, যারা সনাতন প্রথা মেনে চলেন। বিধবাদের ‘অস্পৃশ্য’ হিসেবে গণ্য করা হয় সেখানে। স্বামী মারা গেলেই তাদের পরিত্যাগ করা হয়। বাকি জীবনটা পূজা-অর্চনা করে কাটাতে বাধ্য করা হয় তাদের। সৃষ্টিকর্তার আরাধনা ও সন্তুষ্টি লাভ তাদের জীবনের প্রধান উপলক্ষ হয়ে দাঁড়ায়। কখনও কখনও মাথা ন্যাড়া করে দেয়া হয় তাদের। বিধবা নারীদের বাহ্যিক সৌন্দর্য যাতে অন্য কোন পুরুষকে আকৃষ্ট করতে না পারে সেভাবেই থাকতে হয়। অল্প বয়সে স্বামী হারালেও প্রথামতে পুনরায় বিয়ে করা নিষিদ্ধ। কোন কোন স্থানে ভরণ-পোষণের দায় এড়াতে শ্বশুর বাড়ি থেকে স্বামীর মৃত্যুর পর তার বিধবা স্ত্রীকে পাঠিয়ে দেয়া হয় পিতা-মাতার বাড়িতে। ভারতে প্রায় ৪ কোটি বিধবা রয়েছেন, যা বিশ্বে সর্বোচ্চ। একই ভারতে রয়েছে সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র। কারণ, সেখানে নারীরা এগিয়ে
চলেছেন আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে। সেই একই ভারতে গৃহকোণে বন্দি বিধবারা। সেখানে একাকিত্বই তাদের নিত্যসঙ্গী। যে কোন অলঙ্কার বা সাজ-সজ্জা তাদের জন্য নিষিদ্ধ। ধর্মীয় কোন অনুষ্ঠান ও বিয়েতে বিধবাদের উপস্থিতি এখনও অমঙ্গলসূচক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। মৃত্যুই একমাত্র নিষ্কৃতি পথ। প্রতিমুহূর্তে মৃত্যু কামনা করেন তারা।

শালীন পোশাক পরুন

নারীদের নানামুখী হয়রানি থেকে বাঁচতে তাদেরকে শালীন পোশাক পরার আহ্বান জানিয়েছে চীনের শাংহাই মেট্রো। কিন্তু তাদের এ আহ্বানের ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে নারীরা। তারা বলেছে, ইচ্ছেমতো সেজে বাইরে বের হওয়ার অধিকার তাদেরও রয়েছে। মিউনিসিপ্যাল সাবওয়ে কর্তৃপক্ষ নারীদের প্রতি শালীন পোশাক পরার আহ্বান জানিয়ে বলেছিল, আঁটসাঁট পোশাক নিপীড়নকারীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। তাই এ ধরনের পোশাক পরিহার করা উচিত। এর জবাবে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন নারীরা। তারা বিভিন্ন স্থানে ব্যানারও টানিয়ে দিয়েছেন। একটি ব্যানারে বলা হয়েছে, আমি যেমন খুশি তেমন পোশাক পরবো। কিন্তু তাই বলে কেউ আমাকে হয়রানি করতে পারবে না। কেউ কেউ আবার বলেছেন, ভারি কাপড় পরলেও নিপীড়নকারীদেরকে নিবৃত করা যাবে না। সাবওয়ে কর্তৃপক্ষের পরামর্শের প্রতিবাদে রোববার নারীরা নিজেদের মাথা ও মুখে কালো কাপড় বেঁধে মেট্রোর কম্পার্টমেন্ট এবং প্লাটফর্মে বিক্ষোভ করেছে। তবে মেট্রো কোম্পানির পক্ষে অনেকেই বলেছেন, নারীদের মঙ্গলের জন্যই এ ধরনের পরামর্শ দেয়া হয়েছিল।

যৌন হয়রানির শিকার বৃটিশ সাংবাদিক

রোববার রাতে প্রথমবারের মতো নির্বাচিত মিশরের প্রেসিডেন্ট মুহাম্মদ মুরসির সমর্থকদের বিজয় উদযাপনের সময় ঐতিহাসিক তাহরির স্কোয়ারে ঘটে গেছে এক নিপীড়নের ঘটনা। আনন্দে আত্মহারা একদল উচ্ছৃঙ্খল যুবকের লালসার শিকার হয়েছেন বৃটিশ নারী সাংবাদিক নাতাশা স্মিথ (২২)। ঐতিহাসিক এই বিজয়ের মুহূর্তে নাতাশা গিয়েছিলেন সেখানে উপস্থিত নারীদের অধিকার নিয়ে একটি ডকুমেন্টারি তৈরি করতে। আর সেই সময় উচ্ছৃঙ্খল একদল যুবকের হাতে চরম যৌন নিপীড়নের শিকার হন উদ্যমী বৃটিশ সাংবাদিক নাতাশা। যুবকেরা তার সমস্ত কাপড় খুলে নেয়। ক্ষতবিক্ষত করে দেয় তার শরীর। এমনকি নাতাশার শরীরের আঙুল দিয়ে আঘাত করে তারা। আর এমন সঙ্কটময় মুহূর্তে দু’জন পুরুষের বদান্যতায় তাদের পোশাক পরে নিজেকে রক্ষা করেন আন্তর্জাতিক সাংবাদিকতায় মাস্টার্স করা নাতাশা। নিজের ব্লগে নাতাশা লিখেছেন, অনেকগুলো ব্যঙ্গ-বিদ্রূপকারী, কটাক্ষকারী ও অবিশ্বাসী মুখের সামনে পড়ে আমার অবস্থা ছিল- অনেকগুলো ক্ষুধার্ত সিংহের সামনে এক টুকরো তাজা মাংসের মতো। নাতাশা বলেছেন, হঠাৎ করে যেন আনন্দ উৎসবমুখর পরিবেশ আমার বিপক্ষে চলে গেল। তিনি আরও লিখেছেন, আমি অনুধাবন করতে পারছিলাম যেন আমি ব্রিজের শেষ প্রান্তে পৌঁছে গেছি। জনতার মিছিল দীর্ঘায়িত হচ্ছিল। সবাই তাহরির স্কোয়ার থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করছে। আমি এবং আমার বন্ধুরা ওই জায়গা ত্যাগ করার অনেক চেষ্টা করেছি কিন্তু পারিনি। হঠাৎ অনুভব করলাম বন্ধুদের হাত থেকে তারা আমাকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে। তারা শক্তি ও আগ্রাসন বৃদ্ধি করছে। আমি এমন একটা পরিস্থিতিতে পড়েছি ভাবতেই পারি না। মনে হচ্ছিল খুব শিগগিরই আমি মারা যেতে পারি। নাতাশা লিখেছেন, আমার মনে হয়েছিল সব মানুষ রক্তের জন্য পিপাসিত হয়েছিল। যারা রক্ত পান করে তৃষ্ণা মেটাতে চায়। পরে এক বন্ধু তাকে কোন মতে রক্ষা করতে সমর্থ হন। এবং সেখান থেকে অপরিচিত এক লোকের স্ত্রী হিসেবে তার সঙ্গে বেরিয়ে আসেন নাতাশা স্মিথ। পরে অন্য মহিলাদের কাছ থেকে তিনি জেনেছেন যে সেখানে গুজব ছড়িয়ে পড়েছিল  নাতাশা বিদেশী গোয়েন্দা। তবে তার বিশ্বাস করতে কষ্ট হয় এমন একজন বিদেশী তরুণীর বিরুদ্ধে এভাবে হামলে পড়তে পারে ভিনদেশী যুবকের দল। তবে এই পরিস্থিতি তাকে দমাতে পারবে না বলে জানান উদ্যমী এই বৃটিশ। তিনি এর থেকে ভালো শিক্ষা নিয়ে আবারও ডকুমেন্টারি তৈরি করতে আসবেন বলে জানিয়েছেন ডেইলি মেইলকে। কেননা, আরব ও ওয়েস্টার্ন সব নারীরাই ভুক্তভোগী। এসব বিষয় বন্ধ করতে হবে।