Wednesday, December 23, 2015

১৭ বাংলাদেশী সহ গুয়াতেমালায় আটক ২৩ অভিবাসী

বাংলাদেশ ও নেপালের ৩৩ অভিবাসীকে আটক করেছে গুয়াতেমালা কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে ১৭ জন বাংলাদেশী। ১৬ জন নেপালি। তারা একটি বাসে করে রাজধানীতে সফর করার সময় এ ঘটনা ঘটে। তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখাতে পারে নি। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি। এতে বলা হয়, রোববার গুয়াতেমালা সিটির পূর্বাঞ্চল থেকে তাদেরকে আটক করা হয়। পুলিশ বলেছে, ওই এলাকা দিয়ে অভিবাসীদের পাচার করা হচ্ছে এমন খবরের ভিত্তিতে তারা অভিযান চালায়। এতে আটক করা হয় ওই ব্যক্তিদের। বলা হয়েছে, এসব ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার চেষ্টা করছিল। তবে দক্ষিণ এশিয়া থেকে তারা কিভাবে মধ্য আমেরিকার ওই দেশে গিয়েছে সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দেয়া হয় নি। এর আগে জুন মাসে গুয়াতেমালার কর্মকর্তারা এশিয়া ও আফ্রিকার অভিবাসীদের যুক্তরাষ্ট্রে পাচারের সময় গুয়াতেমালার চার নাগরিককে আটক করে। আগস্টে পুলিশ সেখান থেকে ১১ নেপালি, ৭ বাংলাদেশী, সালভাদোরের একজন, হন্ডুরাসের একজনকে আটক করা হয়।

Sunday, December 20, 2015

টপলেস অর্পিতা

 
 
 বলিউডে তাক লাগাতে আসছেন অর্পিতা চট্টোপাধ্যায়। 
তাকে এক নতুনরূপে দেখতে পাবেন দর্শকরা। এতদিন টলিউডে অভিনয় করলেও এবার বলিউডে তিনি অভিনয় করবেন। শুধু অভিনয় নয়, টপলেস হবেন। শরীরের উপরের অংশের কাপড় খুলে ফেলবেন। তাকে এমন দৃশ্যে দেখা যাবে ভারতীয় ছবির পরিচালক, সম্পাদক, সংলাপ রচয়িতা ও প্রযোজক অনির-এর একটি ছবিতে। এতে কি তার স্বামী টলিউডের হার্টথ্রব নায়ক প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের নামের সঙ্গে স্ক্যান্ডাল জড়াবে? প্রসেনজিৎ ভারতীয় উপমহাদেশে তার যে একটি ক্লিন ইমেজ গড়ে তুলেছেন, নিজেকে যে আসনে আসীন করেছেন, তাতে কি এতে ধস নামবে? দর্শক কি তাকেও বাঁকা চোখে দেখবেন? এমন হাজারো প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে চারদিকে। এ নিয়ে রিপোর্ট প্রকাশ করেছে অনলাইন টাইমস অব ইন্ডিয়া। বলিউডে সম্প্রতি খুল্লাম খুল্লা পোজ দিয়ে যেসব ছবি করা হয়েছে তারদিকে বেশি দর্শক ঝুঁকেছে। বিশেষ করে যে ছবিতে আছেন পর্নো তারকা সানি লিয়ন, পুনম পাণ্ডে, মল্লিকা শেরাওয়াত, বিপাশা বসু, রাখি সাওয়ান্তরা যখন এসব দর্শককে মাতিয়ে রাখছেন দৈহিক সৌষ্ঠব দিয়ে, রূপের মাধুরীতে, তখন অর্পিতা সেখানে পা রাখছেন। নিজের শরীর দেখিয়ে কি তিনি জনপ্রিয়তা পেতে চাইছেন! তার এ কাজে কি স্বামী প্রসেনজিতের সম্মতি আছে! এমন জিজ্ঞাসা অনেক জনের। এই যখন অবস্থা তখন অনির-এর একটি ছবিতে গুরুত্বপূর্ণ একটি দৃশ্যে শরীরের উপরের অংশের কাপড় খুলছেন অর্পিতা। আর এর মধ্য দিয়েই বলিউডে পদার্পণ ঘটবে তার। এরই মধ্যে খবর ছড়িয়ে পড়েছে যে, অর্পিতার এই ভূমিকার কারণে তার স্বামীর নামের সঙ্গে স্ক্যান্ডাল জড়িয়ে যাবে। তবে অর্পিতা সে যুক্তি খণ্ডন করেছেন। তিনি বলেছেন, এক্ষেত্রে তার বিরুদ্ধে কোন নিষেধাজ্ঞা নেই। কারণ দেখিয়ে অর্পিতা বলেন, এটা হতে পারে বিরাট একটি ঘটনা। কিন্তু সত্য হলো- আমার স্বামীও একই পেশায় আছেন। তিনি বুঝতে পারবেন যে স্ক্রিপ্টের প্রয়োজনে এমনটা করতে হবে আমাকে। আমরা একে অন্যের কাজে হস্তক্ষেপ করি না। আমার যে ছবিতে আমাকে টপলেস দেখানো হবে সেই ছবিটি ধারণ করা হবে পেছন দিক থেকে। অনলাইনে তার একটি ছবিও প্রকাশ করা হয়েছে। তাতে তাকে পেছন থেকে দেখা যাচ্ছে উন্মুক্ত শরীরে। এটাই কি ওই চলচ্চিত্রের দৃশ্যের কিনা তা নিশ্চিত হওয়া যায় নি। 
Details: http://mzamin.com/details.php?mzamin=MTA2OTQ5&s=Mw==

Saturday, December 19, 2015

কাঠগড়ায় সোনিয়া, রাহুল

আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়ালেন ভারতের ঐতিহ্যবাহী কংগ্রেস দলের সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী ও তার ছেলে, দলের ভাইস চেয়ারম্যান রাহুল গান্ধী। ন্যাশনাল হেরাল্ড পত্রিকা দুর্নীতি মামলায় গতকালই তারা প্রথম আদালতে হাজিরা দেন। এ জন্য আগে থেকেই তাদেরকে সমন পাঠানো হয়েছিল। দলের দু’ শীর্ষ নেতার এমন অবস্থায় গতকাল আদালত এলাকা লোকে লোকারণ্য হয়ে ওঠে। টিভি ক্যামেরা, ফটোগ্রাফার আর সাংবাদিকরা সংবাদ সংগ্রহের জন্য রীতিমতো এক যুদ্ধে লিপ্ত হন। আদালতে অভিযুক্ত সোনিয়া গান্ধী, রাহুল গান্ধী ও অন্য ৫ সদস্য হাজির হয়ে জামিন চান। প্রত্যেককে ৫০ হাজার রুপির বন্ডের বিনিময়ে তাদেরকে জামিন মঞ্জুর করেন আদালত। তবে এক্ষেত্রে কোন শর্ত আরোপ করা হয় নি। এ মামলার পরবর্তী শুনানি হবে আগামী ২০শে ফেব্রুয়ারি স্থানীয় সময় দুপুর দু’টায়। সেদিনও তাদেরকে আদালতে ব্যক্তিগতভাবে হাজির হতে হবে। তবে এ সময়ের মধ্যে তারা বিদেশ সফর করতে পারবেন। গত শতাব্দীর ৭০’এর দশকের পর এই প্রথম ভারতীয় কোন শীর্ষ কর্মকর্তা আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়ালেন। ন্যাশনাল হেরাল্ড পত্রিকার সম্পত্তি কুক্ষিগত করা ও দুর্নীতির অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে এ মামলা করেন বিজেপির নেতা ড. সুব্রামনিয়ান স্বামী। এ বিষয়ে রাহুল গান্ধী বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সম্পর্কে বলেছেন, মোদিজি মিথ্যা অভিযোগ করেছেন। তিনি ভেবেছেন বিরোধী দল এতে ভেঙে পড়বে। আমরা ভেঙে পড়বো না। ওদিকে দলীয় প্রধান কার্যালয়ে দলের নেতাকর্মীরা সোনিয়া, রাহুলের পক্ষে সেøাগানে আকাশ বাতাস প্রকম্পিত করে তোলে। রাহুল গান্ধীর ভগ্নিপতি, প্রিয়াঙ্গা গান্ধী ভদ্রের স্বামী রবার্ট ভদ্র বলেছেন, একদিন সত্য বেরিয়ে আসবেই। গতকাল এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভারতের রাজনীতিতে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়। চায়ের কাপের আড্ডা থেকে গেঁয়ো কৃষকের ক্ষেত- সর্বত্রই আলোচনায় উঠে আসে এই ইস্যু। সবার চোখ আটকে থাকে টিভির পর্দায়- কি হচ্ছে তা জানার জন্য। কম কথা নয়, ইন্দিরা গান্ধীর পুত্রবধু ও নাতি, রাজিব গান্ধীর স্ত্রী ও ছেলে, দলের চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়াচ্ছেন! সচকিত হয়ে সবাই যেন অপেক্ষায় ছিলেন কি হয় জানতে। যখন জামিন পেলেন তারা তখন যেন স্বস্তির নিশ্বাস নিলেন দলীয় নেতাকর্মীরা। দুপুর ১২টার দিকে কংগ্রেস নেতাকর্মীরা বিভিন্ন শহরের গলিপথে ন্যাশনাল হেরাল্ড মামলাকে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত’ আখ্যা করে প্রতিবাদ বিক্ষোভ করতে থাকেন। স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা ২০ মিনিটের দিকে সোনিয়া গান্ধীর বাসভবনে পৌঁছান রাহুল গান্ধী। এরপার এ মামলায় সরকারের কোন হাত নেই বলে দাবি করেন বিজেপি নেতা রবি শঙ্কর প্রসাদ। তিনি বলেন, যদি রাহুল গান্ধীর কোন সমস্যা থাকে তাহলে তার উচিত সুপ্রিম কোর্টে যাওয়া। সোনিয়া গান্ধী ও রাহুল গান্ধী আদালতে হাজির হওয়ার কিছুক্ষণ আগে কংগ্রেস পার্টির নেতারা হাজির হন দলীয় সদর দপ্তরে। তারা মিডিয়ার সঙ্গে কথা বলতে থাকেন। তখন দিল্লিতে দলীয় প্রধান কার্যালয়ের বাইরে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী সমবেত। তাদের বেশির ভাগই রায় বেরেলি থেকে যাওয়া। এই রায় বেরেলি হলো সোনিয়া গান্ধীর আসন। দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটে কংগ্রেস নেতারা রাজ্যসভায় বলেন যে, সরকার ভারতকে বিরোধী দলবিহিন করতে চায়। এর বিরুদ্ধে আমরা প্রতিবাদ অব্যাহত রাখবো। এরপর রবার্ট ভদ্র বলেন, সরকার তাদের ওপর রাজনৈতিক প্রতিশোধ তুলছে। তাদের প্রচারণা জনগণ বিশ্বাস করবে না। দুপুর দেড়টায় আদালত কক্ষ ও এর চারপাশে ৫০০ মিটার এলাকা ঘেরাও করে ফেলে স্পেশাল প্রটেকশন গ্রুপ (এসপিজি)। এরাই সোনিয়া ও রাহুলকে নিরাপত্তা দিয়ে থাকেন। আদালত কক্ষের বাইরে বসানো হয় দুটি সিসিটিভি ক্যামেরা। দুপুর ১২টায় আরও ৩০জন এসপিচি কর্মকর্তা দিল্লি পুলিশের সঙ্গে যোগ দেয়। যে আদালতে এ বিচার চলছে তা অবস্থিত পাতিয়ালা ভবনে। তাই এ আদালতকে বলা হয় পাতিয়ালা হাউজ কোর্ট। এ ভবনের প্রধান প্রবেশ পথে বসানো হয় মেটাল ডিটেক্টর ও এক্সরে মেশিন। এক পর্যায়ে বেলা সোয়া দু’টার দিকে স্ত্রী রোক্সনাকে সঙ্গে নিয়ে আদালতে প্রবেশ করেন মামলার বাদি সুব্রামনিয়ান স্বামী। বেলা আড়াইটার সময় আদালতে পৌঁছেন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদ্র, গোলাম নবী আজাদ, একে অ্যান্থনি, কুমারি সেলজা। এর প্রায় পাঁচ মিনিট পরে সেখানে হাজির হন সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং। বিকেল ২টা ৫০ মিনিটে আদালতে পৌঁছেন সোনিয়া গান্ধী ও রাহুল গান্ধী। এর পাঁচ মিনিট পরেই মামলার যুক্তিতর্ক শুরু হয়। এতে সোনিয়া, রাহুলের পক্ষে দাঁড়ান আইনজীবী কবিল সিবাল, অভিষেক মানু সিংভি। বিকাল তিনটায় সোনিয়া, রাহুল ও এ মামলার অন্যদের জামিন দেয়া হয়।
ন্যাশনাল হেরাল্ড দুর্নীতি কি
২০১৩ সালের জানুয়ারিতে সোনিয়া গান্ধী ও রাহুল গান্ধী সহ অন্যদের নামে মামলা করেন বিজেপি নেতা সুব্রামনিয়ান স্বামী। এতে তিনি অভিযোগ করেন যে: সোনিয়া, রাহুল ও অন্যরা ‘ইয়ং ইন্ডিয়ান’ নামে একটি কোম্পানি চালু করেছেন। তারা জওয়াহারলাল নেহরু প্রতিষ্ঠিত এসোসিয়েটেড জার্নাল অধিগ্রহণ করেছেন। এই এসোসিয়েটেড জার্নাল থেকেই প্রকাশ হতো ন্যাশনাল হেরাল্ড ও কওমি আওয়াজ। সুব্রামনিয়ান স্বামী তার অভিযোগে বলেন, ‘ইয়ং ইন্ডিয়ান’-এর বেশির ভাগ শেয়ারের মালিক সোনিয়া ও রাহুল গান্ধী। তারা এসোসিয়েটেড জার্নাল হস্তগত করে এর সুবিধা ব্যবহার করেছেন সেখানে। তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, এসোসিয়েটেড জার্নাল কংগ্রেসের কাছ থেকে সুদমুক্ত ৯০ কোটি ২৫ লাখ রুপি ঋণ পেয়েছিল। এক ওই সময়ে এসোসিয়েটেড জার্নালের চেয়ারম্যান ছিলেন মোতিলাল ভোরা। বলা হয়, তিনি বলেন তারা ওই ঋণ শোধ করতে পারবেন না। তারা এ কোম্পানিটি ও এর সম্পত্তি ইয়ং ইন্ডিয়ানে হস্তান্তর করবেন। এ নিয়ে মামলা হয়।

ইসলামিক জোট নিয়ে এখনও কাটেনি ঘোর

সৌদি আরবের নেতৃত্বে গঠিত ইসলামিক সামরিক জোট নিয়ে ঘোর এখনও কাটে নি। জোটের শরিক অনেক দেশই এখনও পরিষ্কার করতে পারে নি তাদের অবস্থান। অনেক দেশ বলেছে তারা এ বিষয়ে কিছু জানেই না। এমন অবস্থায় জোট ঘোষণার ফলে সিদ্ধান্ত নিতে পারে নি নাইজেরিয়া, মালয়েশিয়া, পাকিস্তান সহ আরও কিছু দেশ। পাকিস্তান তেহরিকে ইনসাফ প্রধান ও সাবেক ক্রিকেটার ইমরান খান এ জোটে তার দেশ যুক্ত হওয়ার বিরোধিতা করেছেন। এ নিয়ে পশ্চিমা মিডিয়ায় গত কয়েকদিন ধরে গুরুত্ব দিয়ে রিপোর্ট প্রকাশিত হচ্ছে। নাইজেরিয়ার অনলাইন দ্য কেবল লিখেছে, সৌদি আরবের নেতৃত্বে ইসলামিক সামরিক জোটে নাইজেরিয়া অংশ নেবে কিনা সে বিষয়ে এখনও সিদ্ধান্ত হয় নি। এতে বলা হয়েছে, ঘোষণা দেয়ার আগে অনেক দেশের সঙ্গে আলোচনা না করায় বিস্ময় প্রকাশ করেছে কিছু দেশ। তাদের মধ্যে রয়েছে দ্বিধাদ্বন্দ্বও। সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থার উল্লেখ করে বলা হয়েছে, এই জোটে রয়েছে নাইজেরিয়া। পশ্চিম আফ্রিকার এ দেশটি তার নিজের দেশেই বোকো হারাম নামে একটি ইসলামপন্থি গ্রুপের বিরুদ্ধে লড়াই করছে। নাইজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুহাম্মাদ বুহারির এক মুখপাত্র গারবা শেহু বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেছেন, এখনও এ জোটে যোগ দেয়ার সিদ্ধান্ত হয় নি। জোটে যোগ দেবে নাকি এর বাইরে থাকবে সে বিষয়ে এখনও সিদ্ধান্ত নেয় নি নাইজেরিয়া। ওদিকে ডেইলি পাকিস্তান বলেছে, ইমরান খান এ জোটে তার দেশ যোগ দেয়ার বিরোধিতা করে বলেছেন, পাকিস্তান যদি এতে যোগ দেয় তাহলে পাকিস্তানের ভিতরেই জাতিগত বিভক্তি সৃষ্টি হতে পারে। লাহোর বিমানবন্দরে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা বলেন। তিনি বলেন, এ ইস্যুতে সরকারের উচিত পার্লামেন্টে আলোচনা করে পার্লামেন্টের অনুমোদন নেয়া। মঙ্গলবার সৌদি আরবের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান ৩৪টি দেশের সমন্বয়ে ইসলামিক সামরিক জোটের ঘোষণা দেন। ইমরান খান বলেন, অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে করাচিতে আধাসামরিক বাহিনী যে অভিযান চালাচ্ছে তাতে এখানকার মানুষ সন্তুষ্ট। পাকিস্তান পিপলস পার্টি ও মুক্তাহিদা কওমি মুভমেন্ট৬ গণতন্ত্রের নামে নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। ওদিকে লন্ডনের দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট লিখেছে, এ সপ্তাহের শুরুর দিকে সৌদি আরবের প্রতিরক্ষামন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান এই জোটের ঘোষণা দেন। এই জোটের লক্ষ্য হলো ইরাক, সিরিয়া, লিবিয়া, মিশর ও আফগানিস্তানে জঙ্গিগোষ্ঠী, বিশেষ করে আইএসের বিরুদ্ধে লড়াই করা। কিন্তু জোট গঠনের পরই কয়েকটি দেশ এ নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করে। এর মধ্যে রয়েছে মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, পাকিস্তান, নাইজেরিয়া, লেবানন সহ আরও কিছু দেশ। তারা বলেছে, এ বিষয়ে তারা অবগতই নয়। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র সচিব ইজাজ চৌধুরী বলেছেন, তিনি এ জোটের কথা প্রথম একজন সাংবাদিকের কাছেই শুনতে পেয়েছেন। বিষয়টি জানতে তিনি সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে পাকিস্তানের দূতাবাসে ফোন করেছেন পরিষ্কার ধারণা পাওয়ার জন্য। সিনিয়র সরকারি কর্মকর্তারা বলেছেন, তাদের সঙ্গে এ নিয়ে আগে কোন শলাপরামর্শ করা হয় নি। সৌদি আরবের দীর্ঘ দিনের মিত্র হওয়া সত্ত্বেও এই ইসলামিক সামরিক জোটে যোগ দেয়া থেকে বিরত থাকার কথা জানায় পাকিস্তান। নভেম্বরে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট হেনারেল অসিম বাজওয়া বলেন, আমরা আমাদের দেশের বাইরে কোন সামরিক অভিযানে যোগ দিতে চাই না। একই রকমভাবে কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়েছে লেবানন। এমনটাই বলেছে লেবাননের মিডিয়া নাহারনেট। সেখানকার প্রধানমন্ত্রী সালমান এ খবরকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে আগে থেকেই লড়াই করছে লেবানন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জোর দিয়ে বলেছে, তাদের সঙ্গে এ বিষয়ে কোনই আলোচনা করা হয় নি। না কোন ফোন করা হয়েছে, না কোন চিঠিপত্র বিনিময় করা হয়েছে। সন্ত্রাস বিরোধী ইসলামিক কোট জোট গঠন নিয়ে তাদের কাছে কোন তথ্য নেই। এতে যোগ দিলে তা তাদের পররাষ্ট্র বিষয়ক সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার সীমা লংঘিত হবে হতে পারে- এমনও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। লেবাননের পাশাপাশি জোটে যোগ দেয়া নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছে ইন্দোনেশিয়া। মালয়েশিয়া যেকোন রকম সামরিক অভিযানে যেতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। তবে এ জোট ঘোষণার পর একে ইতিবাচক পদক্ষেপ আখ্যায়িত করেছে যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র ও কমনওয়েলথ বিষয়ক মন্ত্রী ফিলিপ হ্যামন্ড। তিনি এক টুইটে বলেছেন, সন্ত্রাস বিরোধী ইসলামিক জোট গঠনের ঘোষণাকে স্বাগত জানাই। সারাবিশ্বে আমরা আমাদের অভিন্ন জঙ্গি শত্রুদের বিরুদ্ধে লড়াই করছি। আমরা তা চালিয়ে যাব। তবে জোট ঘোষণার পর বিশ্ব জুড়ে যে প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে সে বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কোন কথা বলে নি। উল্লেখ্য, ঘোষিত জোটে যে দেশগুলোর নাম বলা হয়েছে তা হলো: বাহরাইন, বাংলাদেশ, বেনিন, চাদ, কমোরোস, আইভরি কোস্ট, জিবুতি, মিশর, গ্যাবন, গিনি, জর্ডান, লেবানন, লিবিয়া, মালদ্বীপ, মালি, মালয়েশিয়া, মরক্কো, মৌরিতানিয়া, নাইজার, নাইজেরিয়া, কাতার, ফিলিস্তিন, পাকিস্তান, সেনেগান, সুদান, সিয়েরা লিয়ন, সোমালিয়া, টোগো, তিউনিশিয়া, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইয়েমেন।

Tuesday, December 15, 2015

সন্ত্রাস মোকাবিলায় নতুন ইসলামিক সামরিক জোট, আছে বাংলাদেশও

সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ৩৪টি দেশ নিয়ে ইসলামিক সামরিক জোট গঠনের ঘোষণা দিয়েছে সৌদি আরব। এই জোটে রয়েছে বাংলাদেশও। সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ থেকে যৌথভাবে এ জোটের অপারেশন পরিচালনা করা হবে। এ বিষয়ে বিরল এক সংবাদ সম্মেলন করেছেন সৌদি আরবের ডেপুটি ক্রাউন প্রিন্স ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান। সচরাচর তাকে এভাবে সংবাদ সম্মেলন করতে দেখা যায় না। এ ঘোষণা দিয়ে সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সৌদি প্রেস এজেন্সিতে (এসপিএ) একটি যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করা হয়েছে। এতে বলা হয়, উল্লিখিত দেশগুলো সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়তে সৌদি আরবের নেতৃত্বে একটি সামরিক জোট গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। রিয়াদ থেকে জোটের কার্যক্রম সমন্বয় ও পরিচালনা করা হবে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। সৌদি আরব নেতৃত্বাধীন এ জোটে বাংলাদেশ ছাড়া অপর রাষ্ট্রগুলো হলোÑ জর্ডান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, পাকিস্তান, বাহরাইন, বেনিন, তুরস্ক, চাদ, টোগো, তিউনিশিয়া, জিবুতি, সেনেগাল, সুদান, সিয়েরা লিওন, সোমালিয়া, গ্যাবন, গিনি, ফিলিস্তিন, কমোরোস, কাতার, আইভোরি কোস্ট, কুয়েত, লেবানন, লিবিয়া, মালদ্বীপ, মালি, মালয়েশিয়া, মিশর, মরক্কো, মৌরিতানিয়া, নাইজার, নাইজেরিয়া ও ইয়েমেন। এছাড়াও ১০টিরও বেশি ইসলামিক দেশ এ জোটের প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করেছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। এজন্য দেশগুলো প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে বলেও জানিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ইন্দোনেশিয়া। বিবৃতিতে বলা হয়, দুর্নীতি ও ধ্বংসাত্মক কাজ নিষিদ্ধ করেছে ইসলাম। মানুষের মর্যাদা, অধিকার, বিশেষ করে জীবন ও নিরাপত্তার অধিকারকে মারাত্মকভাবে লংঘন করে সন্ত্রাস। রিয়াদ ভিত্তিক ইসলামিক সামরিক জোট গঠনের বিষয়টি নিশ্চিত করেন সৌদি আরবের ডেপুটি ক্রাউন প্রিন্স, দ্বিতীয় উপ প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান। গতকাল রিয়াদে বাদশাহ সালমান বিমান ঘাঁটিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রিন্স সালমান বলেন, ইসলামিক বিশ্বের সংখ্যাগরিষ্ঠ রাষ্ট্রগুলো এই জোটে অন্তর্ভুক্ত। সার্বিকভাবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ওপর প্রভাব ফেলার আগে যে রোগ ইসলামিক বিশ্বের ওপর আগে প্রভাব ফেলেছে, তার বিরুদ্ধে লড়াই করতে মুসলিম বিশ্বের আগ্রহ থেকেই এ পদক্ষেপ। প্রিন্স সালমান বলেন, ইসলামিক বিশ্বের বিভিন্ন অংশে এবং সকল দেশে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সমন্বয় ও সহায়তা প্রচেষ্টা পরিচালনার জন্য রিয়াদে একটি অপারেশন রুম স্থাপন করা হবে। তিনি আরও বলেন, জোটের দেশগুলো তাদের নিজ নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী অবদান রাখবে। এখন প্রতিটি ইসলামিক দেশ পৃথকভাবে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়ছে। প্রচেষ্টার সমন্বয় করাটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইসলামিক বিশ্বজুড়ে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে পন্থা ও প্রচেষ্টা গড়ে তোলা হবে। জোট গঠনের ঘোষণা দেয়া বিবৃতিকে উল্লিখিত দশটিরও বেশি দেশের সমর্থন প্রসঙ্গে প্রিন্স সালমান বলেন, এসব দেশ জোটের বাইরে নয়। জোটে যোগ দেয়ার আগে এ দেশগুলোর অনেক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। যত দ্রুত সম্ভব এ জোটটি বাস্তবায়নের ৩৪টি দেশের আগ্রহ থেকে এ ঘোষণা দেয়া হয়েছে। আল্লাহ’র ইচ্ছায় বাকি দেশগুলোও ইসলামিক জোটে যোগ দেবে। তিনি আরও বলেন, সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোর শ্রেণী যা-ই হোক না কেন আমরা তাদের নিয়ন্ত্রন করবো। পদক্ষেপ বাস্তবায়নে বৈশ্বিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ দেশগুলো ও আন্তর্জাতিক সংগঠনগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবে ইসলামিক সামরিক জোট। সামরিক, বুদ্ধিবৃত্তিক  ও মিডিয়া পর্যায়ে ইসলামিক সামরিক জোট সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এই জোট শুধু আইসিসকে মোকাবেলা করবে কিনা এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, শুধু আইসিস নয়, সামনে আসা যে কোন সন্ত্রাসী সংগঠনের বিরুদ্ধে আমরা লড়াই করবো। আমরা পরিশ্রম করবো এবং তাদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে পদক্ষেপ নেবো। বার্তা সংস্থা এপির রিপোর্টে বলা হয়, সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে নতুন এই জোটে যেমন পাকিস্তান, তুরস্ক ও মিশরের মতো বড় ও প্রতিষ্ঠিত সেনাবাহিনী সম্বলিত দেশ আছে, তেমনি আছে লিবিয়া ও ইয়েমেনের মতো যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ। জঙ্গি হামলার শিকার আফ্রিকার মালি, চাদ, সোমালিয়া, নাইজেরিয়া এ জোটের সদস্য। তবে সৌদি আরবের আঞ্চলিক প্রতিপক্ষ শিয়া অধ্যুষিত ইরান নেই এ জোটে। উল্লেখ্য, সিরিয়া ও ইয়েমেনের লড়াইয়ে সৌদি আরব ও ইরান একে অন্যের প্রতিপক্ষকে সমর্থন করে। ইয়েমেনে এখন শিয়া মতাবলম্বী হুতি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে সামরিক হস্তক্ষেপে নেতৃত্ব দিচ্ছে সৌদি আরব। জঙ্গি গোষ্ঠী সুন্নী মতাবলম্বী আইসিসের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে বোমা হামলার জোটেও রয়েছে সৌদি আরব। নতুন গঠন করা ইসলামিক সামরিক জোটের অংশ তুরস্ক। এ দেশটিই একমাত্র সদস্য যে একই সঙ্গে ন্যাটোরও সদস্য। তারা এরই মধ্যে নতুন জোটকে স্বাগত জানিয়েছে। যারা সন্ত্রাস ও ইসলামকে সম্পর্কিত করার চেষ্টা করছেন তাদের বিরুদ্ধে উচিত জবাব এই জোট বলে মন্তব্য করেছেন তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী আহমেদ দাভুতোগলু। তিনি বলেছেন, আমরা বিশ্বাস করি এটি মুসলিম দেশগুলোর সঠিক পথে এগুনোর একটি পদক্ষেপ। প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, সন্ত্রাস বিরোধী কর্মপন্থা নির্ধারণে অন্য দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থাসমুহের সঙ্গে কৌশল প্রণয়ণ করবে নতুন ইসলামিক সামরিক জোট। তিনি আরও বলেন, তাদের এ প্রচেষ্টা শুধু ইসলামিক স্টেটের বিরুদ্ধে সীমাবদ্ধ থাকবে না। তার ভাষায়Ñ এখন প্রতিটি মুসলিম দেশ নিজেদের মতো করে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াই করছে। তাই এ কাজে সম্বন্বয় করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। উল্লেখ্য, উপসাগরীয় দেশ কুয়েত, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাত এ জোটে যোগ দিলেও বড় করে চোখে পড়ছে ওমানের নাম। কারণ, সৌদি আরবের প্রতিবেশী এ দেশটি এ জোটে এখনও অনুপস্থিত। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ওমান নিরপেক্ষ ভূমিকা বজায় রাখছে। আঞ্চলিক বিভিন্ন সংঘাতে তারা মধ্যস্থতাকারী হিসেবে আবির্ভুত হচ্ছে। এর মাধ্যমে তারা আরব থেকে ইরান পর্যন্ত সেবা দিচ্ছে। এছাড়া এ জোটে নেই ইরাক ও সিরিয়া। তাদের সেনারা ইসলামিক স্টেটের দখল থেকে দখলীকৃত এলাকা পুনরুদ্ধারের লড়াই করছে। এ ছাড়া ইরানের সঙ্গে মিত্রতা আছে এমন দেশও নেই এই জোটে। জর্ডান সরকারের এক মুখপাত্র নিশ্চিত করেছেন যে, তারা এই জোটের অংশ। মুখপাত্র মোহাম্মদ মোমানি এ জোট নিয়ে আলাদা করে কোন মন্তব্য করবেন না। তবে তিনি বলেছেন, জর্ডান সব সময়ই প্রস্তুত। সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে তৎপর। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ না হলেও বেনিন এ জোটে যোগ দিয়েছে।

Monday, December 14, 2015

বিশ্ব রেকর্ড গড়লেন ১০ হাজার সৌদি নারী

বিশ্ব রেকর্ড ভেঙে নতুন রেকর্ড গড়লেন সৌদি আরবের প্রায় ১০ হাজার নারী। স্তন ক্যান্সারের বিরুদ্ধে তারা সতেচনতামুলক চিহ্ন ‘হিউম্যান রিবন’ তৈরি করেছেন লাইনে দাঁড়িয়ে। শনিবার আয়োজিত এ উদ্যোগের নাম দেয়া হয় ‘১০কেএসএ’। এর মাধ্যমে ওই নারীরা পূর্বের রেকর্ড ভেঙে জায়গা করে নিলেন গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন সৌদি গেজেট। এতে বলা হয়, এ উদ্যোগে অংশ নেয়া নারীরা মাথায় গোলাপী রঙের স্কার্ফ পরেন। তারপর পিন্সেস নূরাহ বিনতে আবদুর রহমান ইউনিভার্সিটিতে একটি ফুটবল স্টেডিয়ামে হাতে হাত ধরে দাঁড়ালেন পাশাপাশি, যাতে গোলাপী রঙের স্তন ক্যান্সারের চিহ্নের সৃষ্টি হয়। আলফ খায়ের নামের সামাজিক উদ্যোগের প্রতিষ্ঠাতা প্রিন্সেস রিমা বিনতে বন্দর বিন সুলতান আল সাউদ মবলেছেন, ওইদিন এ উদ্যোগে অংশ নিয়ে ১০ হাজার নারী ঘোষণা করেছেন যে- আমাদের মা, মেয়ে ও বোনদের ভবিষ্যতের জন্য সুস্বাস্থ্য গুরুত্বপূর্ণ। আমরা ভবিষ্যতের কণ্ঠ। আমরা যদি আমাদের যতœ নিউ তাহলেই আসবে আলোকিত ভবিষ্যত। যদি তা না করি তাহলে আমাদের ভবিষ্যত হবে অন্ধকারময়। এই উদ্যোগে যেসব নারী অংশ নিয়েছেন তারা এমনটাই বিশ্বাস করেন। উল্লেখ্য, শনিবার ছিল ১২ই ডিসেম্বর। এদিনটিতে সৌদি আরবে নারীরা আরও একটি ইতিহাস গড়েছেন। এদিনে তারা প্রথমবারের মতো তাদের দেশে নির্বাচনে ভোট দেয়া ও প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগ পেয়েছেন। প্রিন্সেস রিমা আল সাউদ বলেন, একজন সৌদি নারী হওয়া অত্যন্ত গর্বের। কারণ, একই দিনে আমরা ভোট দেয়ার অধিকার প্রয়োগ করেছি। একসঙ্গে আমাদের সবার জন্য ইতিবাচক এমন একটি উদ্যোগে অংশ নিতে পেরেছি। আলবিদা ব্রেস্টফির্ডি রিসোর্স অ্যান্ড ওমেনস এওয়ারনেস স্টোরের সহ প্রতিষ্ঠাতা ও নারী স্বাস্থ্যের সচেতনতা সৃষ্টির সহ আয়োজক ডাক্তার মোদিয়া বাট্টারজি বলেন, এ আয়োজনের মধ্য দিয়ে তারা নারীদের কাছে যে বার্তা পৌঁছে দিতে চেয়েছেন তা হলো তাদের স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন হতে হবে। তিনি বলেন, আমরা নারীদের বোঝাতে চাই যে, নারীদের উচিত স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন হওয়া, সুস্থ জীবন যাপন করা, আগেভাগেই স্তন সনাক্ত করা, ভাল খাবার খাওয়া, ব্যায়াম করা, ভাল ঘুম যাতে হয়, বাচ্চাকে বুকের দুধ খাওয়ানোর বিষয়, নিজেদের যতœ নেয়ার বিষয়ে। ১০ কেএসএ‘র দূত হালা আসিল বলেন, এই উদ্যোগের মধ্য দিয়ে অনেক মানুষের উপকার হয়েছে। গিনেস বুক অব রেকর্ডসে ঠাঁই পেতে যাচ্ছেন ১০ হাজার নারী। এর মধ্য দিয়ে সারা বিশ্বের কাছে বার্তা পৌঁছে যাবে। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকডর্সডের এডজুকেটর সৈয়দা সুবাসি-জেমিসি বলেন, তিনি রিয়াদে এসেছিলেন নারীদের এই দীর্ঘ মানব রিবন প্রত্যক্ষ করতে। এ আয়োজন সম্পন্ন করেছেন সৌদি আরবের নারীরা। এ রেকর্ডে ঠাঁই পাওয়ার জন্য সব অংশগ্রহণকারীকে মাথায় গোলাপী রঙের কাপড় পরা বাধ্যতামুলক ছিল।

ভারত-পাকিস্তান গোপন কূটনীতি

ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে দীর্ঘদিন যে কাশ্মির নিয়ে বিরোধ, কখনো কখনো তা যুদ্ধে পরিণত হয়েছে, সেই কাশ্মির নিয়ে এবার দেশ দুটি গোপন কূটনীতিতে নেমেছে। পাকিস্তানের সাবেক স্বৈরশাসক পারভেজ মোশাররফ ও ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং প্রশাসন এই সংঘাত উত্তরণে যে উদ্যোগ নিয়েছিলেন দেশ দুটি নতুন করে যেন তা অনুসরণ করার চেষ্টা করছে। তারই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে দু’দেশের পররাষ্ট্র সচিবদের গোপন বৈঠক হয়েছে। এরপর আফগানিস্তান নিয়ে পাকিস্তানে আয়োজিত ‘হার্ট অব এশিয়া’ সম্মেলনে যোগ দেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ। অনলাইন এক্সপ্রেস ট্রিবিউন বলেছে, সন্ত্রাস থেকে কাশ্মির বিরোধসহ বিভিন্ন ইস্যুতে নতুন নাম ‘কমপ্রিহেনসিভ বাইল্যাটারেল ডায়ালগ’ নামে শান্তি আলোচনা শুরু করেছে ভারত ও পাকিস্তান। পাকিস্তানের সরকারি সূত্রগুলো বলেছে, প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফ ও ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাদের পারস্পরিক আস্থাকে কাজে লাগিয়ে কাশ্মির ইস্যুতে অধিকতর আলোচনা ‘ব্যাক চ্যানেলে’র মাধ্যমে চালিয়ে নিতে। কমপ্রিহেনসিভ বাইল্যাটারেল ডায়ালগ-এর অধীনে দুই দেশের পররাষ্ট্র সচিবরা শান্তি, নিরাপত্তা সহ কাশ্মির ইস্যু নিয়ে আলোচনা করবেন। সূত্রগুলো বলেছে, পররাষ্ট্র সচিবরা এ ইস্যুতে আলোচনা চালিয়ে নেয়ার অনুমোদন পেলেও তারা সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন না। সরকারি একটি সূত্র বলেছে, যতক্ষণ কাশ্মির ইস্যুর মতো জটিল ইস্যু নিয়ে উদ্বেগ থেকে যাবে ততদিন ব্যাক চ্যানেলের মাধ্যমে আলোচনা এগিয়ে চলবে। কাশ্মির ইস্যু সমাধানের লক্ষ্যে দেশ দুটি অতীতে এভাবে কাজ করেছে। পাকিস্তানের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী খুরশিদ কাসুরি তার এক বইয়ে বলেছেন, সাবেক সামরিক শাসক পারভেজ মোশাররফের শাসনকালে কাশ্মির ইস্যুতে নয়া দিল্লি ও ইসলামাবাদ গোপনীয় আলোচনা চালিয়েছিল। ওই সময় দু’দেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টারা কোন ডকুমেন্ট বিনিময়ও করেন নি। ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের পয়েন্ট ম্যান হিসেবে পরিচিত এসকে লাম্বা এবং পাকিস্তানের সাবেক প্রেসিডেন্ট মোশাররফের ঘনিষ্ঠ সহকর্মী তারিক আজিজ তখন খসড়া চুক্তি নিয়ে দুবাই ও কাঠমুন্ডুতে কমপক্ষে দু’ডজন গোপন বৈঠক করেন। এতে কাটে ২০০ ঘন্টারও বেশি সময়। প্রস্তাবিত ওই চুক্তিতে বলা হয়েছিল, কাশ্মিরের দু’পাশে দু’পক্ষ যৌথভাবে ব্যবস্থাপনা করবে এবং বিরোধপূর্ণ এলাকা থেকে সামরিক বাহিনীকে সরিয়ে নেয়া হবে। কিন্তু ২০০৭ সালে পাকিস্তানে পারভেজ মোশাররফের বিরুদ্ধে লং মার্চ করেন আইনজীবীরা। মূলত ওই আন্দোলন ক্রমশ বেগবান হয়ে মোশাররফের পতন হয়। এর ফলে সেই সংলাপ বা শান্তি প্রক্রিয়া আর এগোয় নি। এরই মধ্যে কেটে গেছে ৮টি বছর। এখন নতুন করে ‘ব্যাক চ্যানেলের’ মাধ্যমে আবার সেই প্রক্রিয়া শুরু করেছে ভারত ও পাকিস্তান। তবে এবার ব্যাংককে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের মধ্যে যে গোপন বৈঠক হয়েছে তা কি গোপন কূটনীতিকে এগিয়ে নেবে নাকি দু’পক্ষ অন্যকোন মধ্যস্থতাকারী ব্যবহার করবে। সূত্র বলেছেন, যখন সমঝোতা প্রক্রিয়া শুরু হবে তখন কাশ্মির সমস্যা সমাধান করতে মোশাররফ ও মনমোহন প্রশাসনের মধ্যে যে খসড়া চুক্তি হয়েছিল তা নিয়ে আলোচনা হবে। অক্টোবরে ভারতীয় মিডিয়া খবর প্রকাশ করে যে, ওই সময়কার গোপন বৈঠক ও খসড়া চুক্তির বিষয়ে বিষয়ে পুরোপুরি ব্যক্তিগতভাবে রেকর্ড রাখতেন মনমোহন সিং। পরে নরেন্দ্র মোদি প্রধানমন্ত্রী হলে তা তিনি হস্তান্তর করেন মোদির কাছে। সরকারের একজন সিনিয়র ব্যক্তি বলেছেন, ভারত কতদূর এগুবে তা নিয়ে উপসংহার টানার সময় এখনো আসে নি। নরেন্দ্র মোদি পাকিস্তান ইস্যুতে যে পদক্ষেপ নিয়েছেন তা কখনো গরম, কখনো নরম। ওদিকে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ গতকাল তার পাকিস্তান সফর সম্পর্কে ভারতের পার্লামেন্টকে অবহিত করেন। গত সপ্তাহে দু’দিনের ‘হার্ট অব এশিয়া’ সম্মেলনে যোগ দিয়ে তিনি মূলত পাকিস্তানের সঙ্গে কি কথা বলেছেন তা নিয়ে রাজনীতিবিদ ও বিশেষজ্ঞদের জানার কৌতুহল। সে বিষয়ে তিনি গতকাল বলেন, পাকিস্তানের কাছে ভারত মুম্বই হামলার ইস্যু তুলে ধরেছে। একই সঙ্গে ওই হামলায় জড়িতদের বিচার করতে আহ্বান জানিয়েছে পাকিস্তান সরকারকে। সুষমা স্বরাজ ভারতীয় পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভায় বলেন, আমরা ২৬/১১ মুম্বই হামলার ইস্যু তুলে ধরেছি। তিনি আরও বলেন, পাকিস্তান ও ভারত শান্তি, নিরাপত্তা ও কাশ্মির সহ সব ইস্যুতে বিস্তারিত আলোচনা চালিয়ে যাবে। সন্ত্রাসের থাবায় সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত কাশ্মির।