Sunday, October 7, 2012

প্রিয়াঙ্কার স্বামীর ৩০০ কোটি রুপির দুর্নীতি!



সোনিয়া গান্ধীর মেয়ে প্রিয়াঙ্কার স্বামী রবার্ট ভদ্রের বিরুদ্ধে গত তিন বছরে ৩০০ কোটি রুপির দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। ভারতের নেতৃস্থানীয় একটি রিয়েল এস্টেট ফার্ম ডিএলএফের সহায়তায় বিনা সুদে বিশাল অঙ্কের ঋণ নেয়া ও বিভিন্ন ল্যান্ড চুক্তিতে এই দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছেন দুর্নীতি বিরোধী কর্মী অরবিন্দ কেজরিওয়াল ও আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ। তবে কংগ্রেস পার্টির পক্ষ থেকে এ অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন ও মানহানিকর’ বলে উল্লেখ করে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। শুক্রবার দিল্লিতে এক সংবাদ সম্মেলনে রবার্ট ভদ্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হয়। প্রশান্ত বলেছেন, ডিএলএফ নগদ টাকা দিয়েছে রবার্টকে। একই সঙ্গে তার কাছে অনেক বেশি সস্তা দামে জমি বিক্রি করেছে। এটাকে ‘রবার্ট ভদ্র স্ক্যাম’ বলা হবে বলে জানান প্রশান্ত। তিনি দেশের শীর্ষনেত্রীর মেয়ের জামাইয়ের বিরুদ্ধে এফআইআর করার কথাও বলেছেন। কেজরিওয়াল বলেছেন, ডিএলএফ কয়েকটি প্রদেশে রবার্ট ভদ্রের কাছে খুবই সস্তা দামে জমি ও সম্পদ বিক্রি করেছে। এই অপকর্মে রাজ্যগুলোর কংগ্রেস সরকারও তাদের সহায়তা করেছে। হিন্দুস্তান টাইমস জানিয়েছে, কেজরিওয়ালের দাবি ২০০৭ থেকে ২০১০ সাল এই তিন বছরের মধ্যে রবার্ট  ভদ্রের সম্পদের মূল্য মাত্র ৫০ লাখ রুপি থেকে ৩০০ কোটি রুপিতে গিয়ে ঠেকেছে। তিনি বলেছেন, এসব অনিয়মের সবই হয়েছে কংগ্রেস শাসিত কয়েকটি রাজ্যে। তিনি প্রশ্ন করেছেন, কে এসব অনিয়মের তদন্ত করবে? কেজরিওয়াল বলেছেন, কোন সরকারি সংস্থাই এমন একজন ক্ষমতাশালী ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত করার সাহস রাখে না। কেজরিওয়াল শক্তিশালী লোকপাল বিলের দাবিতে আন্দোলনকারীদের একজন। গত সপ্তাহে তিনি একটি রাজনৈতিক দল গঠন করেছেন। আগামী মাসে দলটির নাম ঘোষণা করা হবে। প্রশান্ত ভূষণ, তার পিতা শান্তি ভূষণ ও মনীশ সিসোদিয়া দলটির গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। এদিকে রবার্ট ভদ্রের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগকে ভিত্তিহীন ও কুৎসা রটনামূলক বলে উড়িয়ে দিয়েছে ক্ষমতাসীন দল কংগ্রেস। একই সঙ্গে দুর্নীতির অভিযোগকারীদের বিরোধী দল বিজেপির পক্ষে সাফাইকারী বলে নিজস্ব পদ্ধতিতে অভিযোগের বিরুদ্ধে লড়াই করার ঘোষণা দিয়েছে দলটি। কংগ্রেসের তথ্য ও সমপ্রচারমন্ত্রী আম্বিকা সোনি বলেছেন, তাকে ঋণ দেয়া হয়েছে ব্যক্তিগত সম্পর্কের জের ধরে। দেশের প্রধান একটি রাজনৈতিক পরিবারের সঙ্গে তার সম্পর্ক ঋণ পেতে তাকে সহায়তা করেছে মাত্র। তিনি একজন ব্যবসায়ী এবং ঋণ ও লেনদেন তার ব্যক্তিগত বিষয়। এদিকে বিষয়টি নিয়ে এ সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটির রাজীব শুল্কা বলেছেন, রবার্ট তার নেয়া সব ঋণের বিষয়ে ঘোষণা দিয়েছেন। এতে দেখা যাচ্ছে, তার চুক্তিগুলো সব বোর্ডের অনুমোদনে হয়েছে। এছাড়া ডিএলএফের সঙ্গে দীর্ঘসময় ধরে ব্যবসায়িক সম্পর্ক রয়েছে রবার্ট ভদ্রের। শুল্কা আরও বলেন, এখানে সম্পর্কের কোন ইন্ধন ছিল না। ডিএলএফ তার স্বার্থের অনুকূলে সুযোগ দিয়েছে এমন নয়। তাছাড়া কংগ্রেস ক্ষমতায় নেই এমন রাজ্যেও জমি কিনেছেন রবার্ট। বিষয়টি কংগ্রেসের কোর গ্রুপের মিটিংয়ে আলোচনায় এসেছে।
সেখানে নেতারা বলেছেন, যদিও বিষয়টি আন্না হাজারের সহযোগীদের কাছ থেকে এসেছে কিন্তু এগুলো বিজেপির করা অভিযোগ। তারা এর নিন্দা জানিয়ে অভিযোগকারীদের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। গুজরাটের নির্বাচনকে সামনে রেখে সুবিধা নেয়ার জন্য বিজেপি এমন অভিযোগ করছে বলে দাবি করা হয়েছে। কংগ্রেস নেতা ও কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী সালমান খুরশিদ অভিযোগকে ‘রাবিশ’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।

Thursday, October 4, 2012

শ্রীলঙ্কায় বাংলাদেশ হাই কমিশনে হামলা


রামুতে বৌদ্ধ বসতি ও উপাসনালয়ে হামলার প্রতিবাদে শ্রীলঙ্কায় বাংলাদেশ হাই কমিশনে হামলা হয়েছে। গতকাল স্থানীয় বৌদ্ধরা ওয়াড প্লেস এলাকায় অবস্থিত হাই কমিশনে এ হামলা চালায়। তারা ইটপাটকেল ও পানির বোতল ছুড়তে থাকে হাই কমিশনে। এতে হাই কমিশনের বাইরের দরজা, জানালার কাচ ভেঙে যায়। এ ছাড়া  কেউ আহত হয়েছেন কিনা তা জানা যায় নি। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। এ ঘটনায় সেখানে উত্তেজনা বিরাজ করছে। আগে থেকেই নিরাপত্তার জন্য হাই কমিশনে পুলিশি প্রহরা ছিল। ফলে হামলাকারীরা ভিতরে প্রবেশ করতে পারেনি। কক্সবাজারের রামুতে বৌদ্ধদের মঠে হামলার প্রতিবাদে স্থানীয় বোদু বালা সেনা ও তাদের সমর্থকরা গতকাল বিকালে স্বারকলিপি দিতে যায় বাংলাদেশ হাই কমিশনে। এরই এক পর্যায়ে নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়ে তাদের একটি অংশ। তারা অকস্মাৎ দূতাবাস লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ও পানির বোতল ছুড়তে থাকে। ঘটনাস্থল থেকে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের স্থানীয় প্রতিনিধি শিহার মানবজমিনকে জানান, বাংলাদেশ স্থানীয় সময় বিকাল ৪টার দিকে এ হামলা হয়। প্রায় এক হাজার বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী বাংলাদেশ হাই কমিশনের বাইরে বিক্ষোভ করেন। তারা এক পর্যায়ে দূতাবাসে ঢিল ছুঁড়ে হামলা চালান। ঢিলের আঘাতে দূতাবাসের বাইরের দরজা জানালার কাচ ভেঙ্গে যায়। তবে কারও আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। হামলার পর সেখানে পুলিশ সদস্যরা হাই কমিশনের নিরাপত্তা দিচ্ছেন। ওদিকে পুলিশ বলেছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে তারা পদক্ষেপ নিচ্ছে। তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হবে।

ওবামা দম্পতির ২০তম বিবাহ বার্ষিকী: রোমান্টিক বারাক ওবামা

গতকাল ছিল মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও তার সহধর্মিনী ও ফার্স্ট লেডি মিশেল ওবামার ২০তম বিবাহ বার্ষিকী। কিন্তু বিধিবাম! ঘটা করে পরিবারের সঙ্গে একটু একান্তে কোথায় তারা এ দিনটি উদযাপন করবেন, তা তো নয়। দায়িত্ব সবার আগে। ব্যক্তিগত জীবনের চেয়ে দেশ বড়। গতকাল ছিল ওবামা-রমনির নির্বাচনী বিতর্ক। নভেম্বরেই প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। তাই স্বাভাবিকভাবেই কিছুটা ভগ্ন মনোরথে ছিলেন ওবামা-পতœী। ৩৬৪টি দিন পার করে তবেই আসে এই বিশেষ দিনটি। মিশেল তো বললেন, আমি বারাককে বলেছিলাম, আমাদের ২০তম বিবাহ বার্ষিকীতে নির্বাচনী বিতর্কে অংশ নেয়া আমার জন্য খুব সম্ভবত সবচেয়ে বাজেভাবে কাটানোর উপায়। তবে তিনি নির্বাচনী বিতর্ক নিয়ে বেশ উত্তেজনা বোধ করছিলেন বলেও জানান। তবে হাজার হলেও মার্কিন ওবামা বরাবরই তার স্ত্রীর কাছে রোমান্টিক। তাই ফার্স্ট লেডিকে টুইট বার্তায় শুভেচ্ছা পাঠাতে ভোলেননি তিনি। আর সে বার্তা ওবামার ২ কোটি টুইট অনুসারীর কাছেও পৌঁছে গেছে। ওবামা টুইটে লিখেছিলেন, ২০ বছর আগে আজকের এ দিনটিতে আমি আমার জীবনের ভালবাসা ও আমার সবচেয়ে কাছের বন্ধুটিকে বিয়ে করেছিলাম। শুভ বিবাহ বার্ষিকী মিশেল। অবশ্য আরও একবার রোমান্টিক হয়েছিলেন ওবামা। তাও বিতর্কের মাঝেই। ওবামা বলেন, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট হচ্ছে আমি ২০ বছর আগে বিশ্বের সবচেয়ে সৌভাগ্যবান পুরুষ হতে পেরেছিলাম। কারণ, মিশেল ওবামা আমাকে বিয়ে করতে রাজি হয়েছিলেন। এরপর স্ত্রীর দিকে তাকিয়ে ওবামা বললেন, আমি তোমাকে শুভ বিবাহ বার্ষিকীর শুভেচ্ছা জানাই। একই সঙ্গে তিনি যোগ করেন, আজ থেকে ১ বছর পর আমরা ৪ কোটি মানুষের সামনে আমাদের বিশেষ এ দিনটি উদযাপন করবো না।

দুবাইয়ে দেহব্যবসা ৩ বাংলাদেশীসহ অভিযুক্ত ৪

দুবাইয়ে দেহ ব্যবসার চক্র গড়ে তোলার দায়ে অভিযুক্ত হয়েছে ইন্দোনেশিয়ার এক যুবতী ও তিন বাংলাদেশী যুবক। তাদের বিরুদ্ধে মানব পাচারের অভিযোগ আনা হয়েছে। তারা ৪ গৃহপরিচারিকাকে জোর করে দেহব্যবসায় নামিয়েছে বলে অভিযোগ করেছে কোর্ট অব ফার্স্ট ইন্সট্যান্স। বাংলাদেশী ওই ৩ যুবককে ডিএইচ (২৮), এফ. এ ও জে. এইচ বলে জানানো হয়েছে। ইন্দোনেশিয়ার ওই যুবতীর নাম এম. বি (২৩) হিসেবে প্রকাশ করা হয়েছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন খালিজ টাইমস। এতে আরও বলা হয়, ডিএইচ ও এমবি ওই গৃহপরিচারিকাদের ১৫০০ দিরহাম বেতনে ভাল চাকরির প্রলোভন দেখায়। সেই ফাঁদে পা দেয় ৪ গৃহপরিচারিকা। তাতেই তারা তাদের নিয়োগকর্তার বাসা ছাড়ে। এরকম ২ গৃহপরিচারিকাকে আল দ্বীন থেকে আল মুরাক্কাবা এলাকায় ডিএইচের বাসায় নিয়ে যায়। সেখানে পৌঁছানোর পর লোহার রড দিয়ে ওই গৃহপরিচারিকাদের প্রহার করে। তাদের হুমকি দেয়। একপর্যায়ে তাদের দেহব্যবসায় নামতে বাধ্য করে। এ সময় এফএ’র দায়িত্ব ছিল আগত খদ্দেরদের দিকে নজর রাখার। চার যুবক-যুবতীর বিরুদ্ধে অভিযোগে বলা হয়েছে, তারা মুরাকাবা এলাকায় হামদানে এক রুমের একটি বাসায় দেহব্যবসা শুরু করেছিল। এর মধ্যে ওই গৃহপরিচারিকাদের ৩ জনকে বিবস্ত্র করে তাদের প্রহার করা হয় এবং ডিএইচ তাদের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করে। এর মধ্যে একজনকে সে দুবার ধর্ষণ করে। তার নগ্ন ছবি তোলে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে। নির্যাতিত এসব গৃহপরিচারিকার একজন ৩৩ বছর বয়সী। তিনি প্রসিকিউটরদের কাছে খুলে বলেছেন, কিভাবে তাকে তার নিয়োগকর্তার বাসা থেকে প্রলুব্ধ করে বের করে নেয়া হয়েছে। তিনি বলেছেন, তাকে যেখানে আটকে রাখা হয়েছিল সেখানে ইথিওপিয়া, বাংলাদেশ ও ইন্দোনেশিয়ার অনেক নারীকে দেখতে পেয়েছেন। তাদের দিয়েও দেহব্যবসা করানো হচ্ছে। ওই ইন্দোনেশিয়ান গৃহপরিচারিকা বলেছেন, তাকে তিনদিন আটকে রাখা হয়। লোহার রড দিয়ে প্রহার করা হয়। ডিএইচের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনে বাধ্য করা হয়। একপর্যায়ে তিনি তার নিয়োগকর্তার স্ত্রীকে ফোন করতে সক্ষম হন। তাদের সহায়তা চান তিনি। তাদের নিকটস্থ পুলিশকে এ বিষয়ে জানাতে অনুরোধ করেন। ইথিওপিয়ার ১৮ বছর বয়সী এক যুবতী বলেছেন, তার কাছ থেকে টাকা পয়সা, মোবাইল কেড়ে নেয়া হয়। তারপর তাকে ধর্ষণ করা হয়। ইন্দোনেশিয়ার এক যুবতী (২৬) বলেছেন, তার সঙ্গেও একই রকম আচরণ করা হয়। ডিএইচ তাকেও ধর্ষণ করেছে। সেই দৃশ্য ভিডিওতে ধারণ করেছে। ওদিকে ডিএইচ স্বীকার করেছে- নারীদের পতিতাবৃত্তিতে নামিয়ে এ যাবত ৩৫ হাজার দিরহামের মালিক হয়েছে সে।

হেনরি কিসিঞ্জারের মন্তব্য: ২০২০ সালে ইসরাইলের অস্তিত্বই থাকবে না

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী, কূটনীতিক হেনরি কিসিঞ্জার ও ১৬টি মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা মনে করে নিকট ভবিষ্যতে ইসরাইলের অস্তিত্ব থাকবে না। নিউ ইয়র্ক পোস্ট তাকে উদ্ধৃত করে সমপ্রতি জানিয়েছে যে, কিসিঞ্জার বলেছেন- আগামী ১০ বছর পর ইসরাইল বলতে কিছুই থাকবে না। অনলাইন প্রেস টিভি ডট আইআর এ খবর দিয়েছে। এতে বলা হয়েছে, কিসিঞ্জারের ওই মন্তব্য একেবারে সাদাসিধে। এর মধ্যে তিনি কোন কারণ উল্লেখ করেননি। তিনি বলেননি ইসরাইল বিপদের মধ্যে আছে। তিনি বলেছেন, তবে এ দেশটিকে টিকিয়ে রাখা যাবে যদি আমরা আরও ট্রিলিয়ন ডলার দিই। এর শত্রুদের আমরা নিশ্চিহ্ন করে দিই। তিনি বলেন নি যে, যদি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর পুরনো বন্ধু মিট রমনিকে নির্বাচিত করা হয় তাহলে তাতে ইসরাইল রক্ষা পাবে। তিনি বলেন নি, যদি যুক্তরাষ্ট্র ইরানে বোমা হামলা চালায় তাতে ইসরাইল রক্ষা পাবে। এসব কিছু না বলে তিনি একটি সত্য কথা বলেছেন। তাহলো- ২০২২ সালে ইসরাইলের কোন অস্তিত্ব থাকবে না।  এ সম্পর্কে মার্কিন রাজনৈতিক ভাষ্যকার কেভিন ব্যারেট এক প্রবন্ধে বলেছেন, কিসিঞ্জারের এ মন্তব্য সোজাসাপ্টা ও নিষ্ঠুর। ব্যারেটের এ প্রবন্ধ ইরানের ইংরেজি ভাষার নিউজ চ্যানেল প্রেস টিভির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়েছে। মার্কিন ১৬টি গোয়েন্দা সংস্থার সমন্বয়ে গঠিত স্টাডি কমিশনের তৈরি করা প্রতিবেদনের কথা উল্লেখ করে তিনিও কিসিঞ্জারের বক্তব্যকে সমর্থন করেন। ‘প্রিপেয়ারিং ফর এ পোস্ট-ইসরাইল মিডল ইস্ট’ নামে গোয়েন্দা কমিশনের এ প্রতিবেদন এ বছরের প্রথমদিকে প্রণয়ন করা  হয়েছে। এতে ব্যারেট বলেন, আরব অঞ্চলে ইসলামী জাগরণের ফলে ফিলিস্তিনিদের আত্মাহুতি এবং ইসলামী ইরানের জেগে ওঠার ফলে ভবিষ্যৎ দিনগুলোতে ইসরাইল টিকতে পারবে না। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একশ’ কোটির বেশি মানুষের মতামতকে উপেক্ষা করে ইসরাইলকে অব্যাহত সমর্থন দেয়ার মতো সামরিক ও অর্থনৈতিক শক্তি আমেরিকার নেই। এর বিপরীতে মার্কিন সরকারকে তার নিজ স্বার্থ দেখতে হবে এবং ইসরাইলের লাগাম টেনে ধরা উচিত। যেসব কারণে ইসরাইলের পতন হবে তার মধ্যে আমেরিকায় বসবাসকারী ইহুদিদের মধ্যে ইসরাইল ইস্যুতে দিন দিন বেড়ে চলা অনৈক্য, ১/১১’র ঘটনায় ইসরাইল জড়িত বলে মানুষের মাঝে ধারণা বদ্ধমূল হওয়া এবং ইসরাইলের গোঁড়াবাদী নীতির প্রতি মার্কিন জনগণের বিরূপ ধারণা উল্লেখযোগ্য বলে ব্যারেট তার প্রবন্ধে উল্লেখ করেছেন। দীর্ঘ ওই প্রবন্ধের শেষদিকে তিনি বলেছেন, মার্কিন নীতি-নির্ধারকদের জন্য সহজ পথ হচ্ছে কিসিঞ্জারের বক্তব্য মেনে নেয়া- ইসরাইল তার আয়ুর শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে।’

Wednesday, October 3, 2012

অ্যাসাঞ্জের পাহারায় দৈনিক ব্যয় ১১০০০ পাউন্ড

উইকিলিকসের প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জের পাহারায় ইতিমধ্যে ১০ লাখ পাউন্ড ব্যয় হয়ে গেছে বৃটিশ পুলিশের। এই পাহারার জন্য প্রতিদিন গড়ে ১১ হাজার পাউন্ড ব্যয় করতে হচ্ছে। ডেইলি মেইল জানিয়েছে, অ্যাসাঞ্জ যাতে ইকুয়েডরের দূতাবাস থেকে পালিয়ে যেতে না পারেন তার জন্য দূতাবাসের সামনে স্পেশাল পাহারা বসিয়েছে বৃটিশ পুলিশের বিশেষ শাখা স্কটল্যান্ড ইয়ার্ড। সুইডেনে প্রত্যর্পণে রাজি হচ্ছেন না অ্যাসাঞ্জ। এদিকে বৃটিশ সরকারও তাকে তুলে দেবে না ইকুয়েডরের হাতে। ফলে শেষ পর্যন্ত তাকে পাহারা দিতে কত পাউন্ড ব্যয় করতে হয় বৃটিশ সরকারকে তা এখনই বলা যাচ্ছে না। জুন মাসে জামিনের শর্ত ভেঙে রাজনৈতিক আশ্রয় চেয়ে পশ্চিম লন্ডনে ইকুয়েডর দূতাবাসে আশ্রয় নেন সুইডেনের নারী নির্যাতনের মামলায় বৃটেনে আটক অ্যাসাঞ্জ। তারপর থেকে সেখানেই আছেন তিনি। দূতাবাসটি দেশের সার্বভৌম এলাকা হওয়ায় ভেতরে ঢুকে তাকে গ্রেপ্তার করা যাচ্ছে না। বের হওয়া মাত্র তাকে গ্রেপ্তারের কড়া নির্দেশ রয়েছে। তাই দূতাবাসটি বিরামহীনভাবে পাহারা দিয়ে যাচ্ছে সংস্থাটি। এদিকে ইকুয়েডরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রিকার্ডো পিন্টো বলেছেন, অ্যাসাঞ্জ চাইলে একযুগ পর্যন্ত দূতাবাসে থাকতে পারেন। সমালোচকরা মেট্রোপলিটন পুলিশকে বলেছেন- অহেতুক ব্যয় না বাড়িয়ে পাহারা তুলে নেয়ার জন্য। 

আমস্টার্ডামে দু’বোনের অর্ধ শতকের নিষিদ্ধ জীবন

লুইস ও মারটিন ফক্কেন (৭০)। যমজ বোন। চেহারায় ছিল লাবণ্য। আর তারই গুণে দু’জনেই বেছে নেন পৃথিবীর সবচেয়ে নোংরা পেশা। এর নাম দেহ ব্যবসা। লুইস ও মারটিন ফক্কেনকে বলা হয় নেদারল্যান্ডসের আমস্টার্ডামের সবচেয়ে বয়সী বা প্রবীণ দেহ ব্যবসায়ী নারী। জীবনের এতটা সময় তারা অর্থের বিনিময়ে পুরুষদের আনন্দ দিয়ে এলেও জীবনের শেষ প্রান্তে এসে তাদের একজন অবসরে গিয়েছেন। তার নাম লুইস ফক্কেন। তিনি এখন থেকে দু’বছর আগে এ পেশা ছেড়ে দিয়েছেন। কারণ, আরথ্রাইটিস তাকে অনেকটাই অচল করে দিয়েছে। তিনি আর খদ্দেরের মনোরঞ্জন করতে পারছিলেন না। তবে মারটিন ফক্কেন এখনও উপার্জন অব্যাহত রাখার জন্য চালিয়ে যাচ্ছেন পুরনো পেশা। তারা দু’জনই এ পেশা শুরু করেছিলেন ২০ বছর বয়স থেকে, যখন শরীরে ছিল টলটলায়মান যৌবন। সেই থেকে গত অর্ধ শতাব্দী সময় তারা নেদারল্যান্ডসের রাজধানীর রেড লাইট ডিস্ট্রিক্ট বা নিষিদ্ধ পল্লীতে কাটিয়ে দিয়েছেন। এখন ৭০ বছর বয়সে এসে তারা সেখানে সবচেয়ে বয়সী পতিতা। এজন্য তাদেরকে বলা হয় সবচেয়ে অভিজ্ঞ। তাদেরকে কেন্দ্র করে নির্মিত হয়েছে একটি প্রামাণ্যচিত্র। তাতে তারা ওই নিষিদ্ধ পল্লীতে তাদের ৫০ বছরের নানা উত্থান-পতন, সুখ-দুঃখের কথা খুলে বলেছেন। ওই প্রামাণ্যচিত্রটি নির্মাণ করেছেন গাব্রিয়েল প্রোভাস ও রব শ্রোয়েডার। এতে তারা বলেছেন, কিভাবে এ পেশায় তাদের প্রবেশ তা নিয়ে। তারা ১৯৬০ এর দশকের শুরুর দিকে যখন এ পেশা শুরু করেছিলেন তারপর থেকে সবকিছু কিভাবে বদলে গেছে, তাদের এ পেশা নিয়ে জনগণ কি মনে করে এসব নিয়ে কথা বলেছেন। ওই প্রামাণ্যচিত্রে লুইসকে বলতে শোনা যায়- আমরা কত কৌশল জানি তা তোমাদের বলব না। আমাদের কৌশল অগণিত। দেহ ব্যবসার প্রথম দিনগুলোর সঙ্গে তারা বর্তমান সময়ের তুলনা করে বলেন, আগের দিনে অনেকটা রয়ে সয়ে ব্যবসা করতে হতো। কিন্তু এখন খোলা ময়দান। কোন রাখঢাক নেই। তাদেরকে প্রথমে এ পথে নামায় দালাল চক্র। তারা তাদের নিয়ন্ত্রণে রেখেছিল তাদেরকে। কিন্তু তারা সেই চক্রের ফাঁদ থেকে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছেন। এখন নিজেরাই ব্যবসা পেতেছেন। তারা দেহ ব্যবসায় নিয়োজিতদের জন্য প্রথম অনানুষ্ঠানিক দেহ ব্যবসার ট্রেড ইউনিয়ন প্রতিষ্ঠা করেছেন। তাদের বয়স এখন ৭০। কিন্তু চোখেমুখে লাবণ্যময় হাসি মুছে যায়নি। তাদের চাহনিতে এখনও নির্যাতন, সহিংসতা ও তাদেরকে দিয়ে অসামাজিক কাজ করানোর স্মৃতি যেন খেলে যায়। এ ব্যবসায় নামার আগে লুইসের বিয়ে হয়েছিল। তিনি ৩ সন্তানের মা হয়েছিলেন। কিন্তু তার স্বামী তাকে অতিরিক্ত অর্থ আয় করার জন্য তাকে রাস্তায় ঠেলে দেয়। সেই প্রথম রাজপথ বেছে নেন তিনি। লুইস বলেন, আমি তখন ২০ পেরুনো যুবতী। একদিন আমাকে আমার স্বামী প্রহার করে রাস্তায় নামিয়ে দেয়। আমাকে অর্থ উপার্জন করে তবেই বাসায় ফিরতে বলে। হুমকি দেয়, যদি তা করতে না পারি তাহলে সে আমাকে ত্যাগ করবে। আমার সন্তান ছিল। তাদের ও আমার স্বামীকে আমি ভালবাসতাম। সেই ভালবাসার জন্যই আমি এ পথে নামতে বাধ্য হয়েছি। আমি আমস্টার্ডামের একটি পতিতালয়ে কাজ পেয়ে যাই। ওদিকে মারটিন ফক্কেন ৪র্থ সন্তানের জন্ম দেয়ার পরে ক্লিনারের চাকরি নেন। কিন্তু পুরুষরা তার শরীরের দিকে নজর দিতে থাকে। তাকে নানা রকম প্রস্তাব দেয়। তিনি তার বোন লুইসের কথা মাথায় রেখে ভাবতে বসেন। দেখেন ওই পথেই বেশি অর্থ কামানো সম্ভব। তারপর থেকে শুরু। দু’বোনে এক সঙ্গে শুরু করেন ব্যবসা। কিন্তু ২০০০ সালে সেখানে কোন দেহ ব্যবসা চালানো নিয়ে একটি আইন হয়। এতে এ ব্যবসায় যারা নিয়োজিত তাদের মাঝে নেমে আসে আতঙ্ক। তারা দাবি করেন, ওই আইনটি করার ফলে তাদের ব্যবসায় অপরাধী চক্র ঢুকে পড়েছে। এ কারণে তাদের গড় আয় কমে গেছে।