Sunday, September 9, 2012

কুয়েতে বাংলাদেশীসহ ৮৬ হাজার ব্যক্তির বিরুদ্ধে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা

বাংলাদেশীসহ কয়েকটি দেশের ৮৬ হাজার নাগরিকের বিরুদ্ধে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে কুয়েত। এর মধ্যে কুয়েতি নাগরিকই ৪২ হাজার। এছাড়া বাকি ৪৪ হাজারের মধ্যে আছে বাংলাদেশ, ভারত, মিশর, সিরিয়া, লেবানন, পাকিস্তান, ফিলিপাইন ও ইথিওপিয়ার নাগরিক।  কুয়েতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তাদের তালিকা করা হয়েছে। তাতে জানানো হয়েছে, এসব ব্যক্তির রয়েছে অশোধিত ঋণ অথবা ৫০ কুয়েতি দিনার বা তারও কম অশোধিত জরিমানা। ওই ঋণ বা জরিমানা পরিশোধ না করার জন্য তাদের বিরুদ্ধে ওই নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে। গতকাল অনলাইন কুয়েতি টাইমস এ খবর দিয়েছে। এতে বলা হয়, নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা এসব ব্যক্তির তালিকা দিয়েছে নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্র। তবে, যারা ওই নিষেধাজ্ঞার আওতায় আছেন তারা যদি বিমানবন্দর বা স্থলবন্দরে অশোধিত ঋণ বা জরিমানা শোধ করে দেন তাহলে তাদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা সহজেই তুলে নেয়া যাবে। গত জুনে এমন নিষেধাজ্ঞার অধীনে ছিলেন ৮৮ হাজার মানুষ।

তসলিমার দেহ ও মুখ রঙে রাঙানো

তসলিমা নাসরিনের যৌন হয়রানির অভিযোগ আমাকে খুব পীড়া দেয়। আমি বিস্মিত ও হতবাক। এ কথাগুলো বলেছেন পশ্চিমবঙ্গের খ্যাতনামা সাহিত্যিক সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়। অনলাইন আউটলুক ইন্ডিয়াকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, আমি তসলিমাকে সব সময় পথ দেখাতে চেয়েছি। কিন্তু তিনি আমার কথায় কান দেন নি। বাংলাদেশের বিতর্কিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন সামাজিক মাইক্রো ব্লগিং সাইট টুইটারে পশ্চিমবঙ্গের শীর্ষস্থানীয় সাহিত্যিক, সাহিত্য অকাদমি’র সভাপতি সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। তিনি বলেছেন, একবার সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় তার গায়ে হাত দিয়েছিলেন। তিনি তাকে যৌন হয়রানি করেছেন। সাহিত্যে তিনি শক্তিশালী অবস্থানে থাকার জন্য অন্য নারীদের কাছ থেকেও সুবিধা নিয়েছেন। এ নিয়ে এ অঞ্চলে চলছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা। এরই প্রেক্ষিতে আউটলুক ইন্ডিয়ার পক্ষে সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের একটি সাক্ষাৎকার নেন দোলা মিত্র। এখানে তার অনুবাদ তুলে দেয়া হলো:
প্রশ্ন: তসলিমা নাসরিন আপনার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন যে, আপনি তাকে ও অন্য নারীদের যৌন হয়রানি করেছেন।
সুনীল: আমি মনে করি তার মন্তব্যে প্রতিক্রিয়া দেয়ার মাধ্যমে তাকে অহেতুক গুরুত্ব দেয়া হবে। আমি প্রশ্ন করতে চাই যৌন হয়রানির এই অভিযোগ এখন কেন? যখন এটা ঘটেছিল তিনি তখন কেন অভিযোগ করেননি? কেন তিনি হঠাৎ করে এখন এসব প্রসঙ্গ তুলছেন?
প্রশ্ন: তসলিমা বলছেন, এ অভিযোগ তিনি যখন ইচ্ছা করবেন- এটা পুরোপুরি নারীর অধিকারের বিষয়।
সুনীল: এখন ধর্ষণ ও যৌন হয়রানির অভিযোগ নিয়ে চিৎকার করা তার জন্য খুবই সহজ। কিন্তু তসলিমা আমার খুব ঘনিষ্ঠ ছিলেন। আমরা একত্রে অনেক সময় কাটিয়েছি। তিনি মাঝেমধ্যেই আমার বাসায় আসতেন। আমরা সাহিত্য নিয়ে আলোচনা করতাম। একসঙ্গে খাবার খেয়েছি আমরা। হোলি উৎসবের সময় একবার আমরা শান্তিনিকেতনে ছিলাম। ঠিক সেই দিনই তার একটি রূপ দেখতে পেলাম। তার সারা দেহ ও মুখ রঙে রাঙানো। তিনি বসে আছেন আমার পায়ের কাছে।
প্রশ্ন: তাহলে তসলিমা নাসরিন কেন এমন অভিযোগ আনছেন?
সুনীল: তসলিমা এমন এক নারী যিনি সব সময় মনোযোগের কেন্দ্রীয় অবস্থানে থাকতে চান। তিনি বিতর্ক সৃষ্টি করতে খুব পছন্দ করেন। অনেকটা পরে, তিনি এখন বুঝতে পারছেন যে তিনি প্রত্যাখ্যাত হচ্ছেন। তিনি ভারতে ফিরে এখানে অবস্থান করতে বেপরোয়া হয়ে পড়েছেন। কিন্তু ব্যর্থ হয়েছেন। কেউ আর তাকে নিয়ে তেমন আলোচনা করে বলে মনে হয় না। তাই যে কোন মূল্যে হোক তিনি নিজেকে ফোকাসে আনার চেষ্টা করছেন। এরকম স্পর্শকাতর অভিযোগ আনতে পারলে তার সেই উদ্দেশ্য সফল হবে।
প্রশ্ন: তসলিমা আপনাকে ‘ভণ্ড’ও বলেছেন। তার বই ‘দ্বিখণ্ডিত’ পশ্চিমবঙ্গে যখন নিষিদ্ধ হয় তিনি দাবি করছেন তখন তার পিছনে আপনার হাত ছিল। এখন সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা নজরুল ইসলামের লেখা ‘মুসলমানদের করণীয়’ বইটি সমপ্রতি পশ্চিমবঙ্গ সরকার বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু আপনি এখন তাতে আপত্তি তুলেছেন।
সুনীল: যে কোন রকম সেন্সরশিপের বিরোধী আমি। তসলিমার বই নিষিদ্ধ হওয়ার পিছনে আমার কোন হাত ছিল না। আমি তাকে শুধু পরামর্শ দিয়েছি যে, মুসলমানদের ধর্মকে আক্রমণ করো না। (তার বইয়ে) এমন কিছু অংশ ছিল যা ইসলাম ধর্মের মহানবীকে মারাত্মকভাবে অবমাননা করে। যারা তার ভাল চায় এমন একজন হিসেবে আমি তাকে বুঝিয়েছি যে, এই অংশগুলো অপ্রয়োজনীয়। এতে অসন্তোষ বাড়বে। এতে সামপ্রদায়িক সহিংসতারও সৃষ্টি হতে পারে।
প্রশ্ন: তসলিমার মতে, গণতান্ত্রিক একটি দেশে তিনি লেখক হিসেবে বসবাস করছেন। তার মত প্রকাশের স্বাধীনতা থাকা উচিত।
সুনীল: সব কিছুর জন্য স্থান ও সময় দু’টিই দরকার। আমি তাকে সতর্ক করেছিলাম যে, তিনি যে স্বাধীনতার কথা বলছেন সে রকম মত প্রকাশের স্বাধীনতার জন্য ভারত এখনও প্রস্তুত নয়। অধিক উদার সমাজে, যখন সেখানে কারও দৃষ্টিভঙ্গিতে অন্যদের আপত্তি থাকে সেখানে মতপার্থক্যকে যুক্তি দিয়ে দেখা হয়। কিন্তু এটা ভারত। যেখানে আবেগ খুব সস্তা। সামান্য একটু প্ররোচনা এখানে ভয়ঙ্কর সহিংস পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে। তসলিমা কলকাতা ছেড়ে যাওয়ার ঠিক আগে পশ্চিমবঙ্গের পরিস্থিতি ছিল লেজেগোবরে। তার খুন দাবি করে তীব্র বিক্ষোভ হয়েছে। এটা তার জন্য বিপজ্জনক। কিন্তু তিনি আমার পরামর্শে কানই দিলেন না।
প্রশ্ন: অভিযোগ আছে যে, আপনি ও পশ্চিমবঙ্গের সাহিত্যিক, বোদ্ধারা তার জন্য যথেষ্ট করেন নি।
সুনীল: এটা ঠিক নয়। যখন তার বিরুদ্ধে একটি ফতোয়া দেয়া হলো, তার জীবন হুমকির মধ্যে পড়েছিল। তখন কবি শঙ্খ ঘোষ ও আমি ব্যক্তিগতভাবে কলকাতায় অবস্থিত বাংলাদেশের ডেপুটি হাইকমিশনারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করি এবং তাকে অনুরোধ করি তসলিমার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সম্ভাব্য সব কিছু করতে। তসলিমা ২০০৭ সালে কলকাতা ছেড়ে যাওয়ার ঠিক আগে তার হয়ে টিপু সুলতান মসজিদের ইমামের কাছে দুঃখ প্রকাশ করি এবং তসলিমাকে তার ভুলের জন্য ক্ষমাসুন্দর চোখে দেখার আহ্বান জানাই। কিন্তু তিনি আমার কথা শুনলেন না।
প্রশ্ন: এখন কি আপনি ক্ষোভ অনুভব করছেন? আপনি কি আঘাত পেয়েছেন?
সুনীল: তসলিমার জন্য আমার অনেক সহমর্মিতা আছে। আমি সবসময় তাকে পথ দেখাতে চেয়েছি। যখন তিনি ‘লজ্জা’ লেখেন আমি তাকে বলেছিলাম- দেখুন আপনাকে ব্যালান্স করতে হবে। সব হিন্দুই ভাল নন। আবার সব মুসলমানই খারাপ নন। কিন্তু তিনি বিতর্ক সৃষ্টি করলেন। তিনি আমার সঙ্গে একমত না হলেও আমি তা মেনে নিই। কিন্তু এই যৌন হয়রানির অভিযোগ আমাকে খুব পীড়া দেয়। আমি বিস্মিত ও হতবাক।

Thursday, September 6, 2012

কোরিয়ায় এক বাংলাদেশীর স্বপ্ন এখন দুঃস্বপ্ন

বাংলাদেশের মোশাররফ হোসেন। তার দু’চোখে স্বপ্ন জ্বলজ্বল। সেই স্বপ্নকে সঙ্গী করে তিনি ২০০৯ সালের ৩রা নভেম্বর কোরিয়া পাড়ি জমিয়েছিলেন। তার স্বপ্ন ছিল কিছু টাকা উপার্জন করে দেশে ফিরে সুখের সংসার পাতবেন। কিন্তু সেই স্বপ্ন এখন ধূলিসাৎ। এখন তার জীবনই তার কাছে বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ঋণের ওপর নির্ভর করে চলছে তার দিন। এর কারণ, তার দু’পায়ে হাড়ে মারাত্মক সমস্যা দেখা দেয়ায় তা প্রতিস্থাপন করতে হয়েছে। নিতম্বেও একই অপারেশন করা হয়েছে। বলা হয়েছে, তিনি ঠিকমতো আর কখনও হাঁটতে পারবেন না। তাই তার সময় কাটে এখন অনাগত ভবিষ্যৎকে সামনে রেখে এক দুশ্চিন্তার মহাসমুদ্রে ডুবে থেকে। যখনই ভাবেন আর কোনদিন কাজ করতে পারবেন না তখনই ঋণের কথা মাথায় আসে। বাড়িতে রেখে যাওয়া স্বজনের কথা মাথায় আসে। আর তখনই মোশাররফ হোসেন অস্থির হয়ে পড়েন। ই-৯ ভিসা নিয়ে তিনি দক্ষিণ কোরিয়াতে গিয়েছিলেন। তার বাড়ি চট্টগ্রামে। চিকিৎসকরা তাকে বলেছেন, তাকে এখন পায়ে ও নিতম্বে যে হাড় প্রতিস্থাপন করা হয়েছে তা ১০ থেকে ২০ বছরের মধ্যে ফের প্রতিস্থাপন করাতে হবে। সিউল মাইগ্রেন্ট ওয়ার্কার্স সেন্টারে এখন দিন কাটে তার। এই এনজিওতে তিনি ঠাঁই পেয়েছেন। তারাই এখন মোশাররফ হোসেনকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠাতে বিভিন্ন দাতা সংস্থা ও ব্যক্তির কাছে ধরনা দিচ্ছে। এ খবর প্রকাশিত হয়েছে কোরিয়া টাইমসে। এতে আরও বলা হয়েছে, বাংলাদেশ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করেছেন মোশাররফ হোসেন। তারপর তিনি বইয়ের একটি ছোট্ট দোকান চালাতেন। তাতে মাসে ৩০০ ডলারের মতো আয় হতো। তা দিয়ে তিনি পরিবারের খরচ নির্বাহ করতে পারতেন মোটামুটি। তিনি বলেছেন, আমিই সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। আমার মেয়ে আস্তে আস্তে বড় হতে থাকে। ফলে আমার সামনে অনেক সমস্যা এসে ভর করতে থাকে। মা অসুস্থ হয়ে পড়েন। তার চিকিৎসার দায় এসে পড়ে আমার কাঁধে। এরপরই তিনি যুক্তরাষ্ট্র যাওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু তার বন্ধুদের পরামর্শে কোরিয়ার একটি প্রতিষ্ঠানে কাজ পেয়ে যান। মোশাররফ হোসেন বলেন, আমাকে বলা হলো, যুক্তরাষ্ট্রে অনেকটা আয়েশে থাকতে পারবো। কিন্তু কোরিয়াতে বেতন বেশি। কারণ, সেখানে প্রচুর শ্রমিকের প্রয়োজন। সিউল বাংলাদেশীদের কাছে একটি প্রিয় জায়গা। আমাকে কোরিয়া আসতে আমার স্ত্রীও উৎসাহিত করে। ওই রিপোর্টে বলা হয়, বর্তমানে ই-৯ ভিসায় কোরিয়াতে প্রায় ৩০০০ বাংলাদেশী শ্রমিক রয়েছেন। এই কোরিয়াতে পা রাখার পর মোশাররফ হোসেন উজেংবু এলাকায় একটি টেক্সটাইল কারখানায় কাজ পান। তীব্র খাটুনিতে ক্লান্ত শরীরকে একটু ফুরসত নিতে সেখানে সারা দিনে মাত্র আধা ঘণ্টা বিরতি দেয়া হতো। মোশাররফ বলেন, কোন বিরতিহীন আমাকে ভারি ভারি বক্স তুলতে হতো। কিন্তু আমি তো অর্থ উপার্জনের জন্য এসেছি। তাই মুখ বুজে সহ্য করেছি সব। কোরিয়াতে প্রায় এক বছর অবস্থান করার পর তিনি পায়ে ব্যথা অনুভব করতে থাকেন। ২০১০ সালের ফেব্রুয়ারিতে তিনি একজন চিকিৎসকের কাছে যান। কারণ, তখন তিনি আর দাঁড়াতে পারছিলেন না। রাফায়েল ক্লিনিকের সহায়তায় তাকে ফ্রি চিকিৎসা দেয়া হয়। এখন তার অবস্থা খুবই শোচনীয়। তিনি বাড়ি ফিরতে চান। যদি কোন ব্যক্তি তাকে সহায়তা করতে চান তাহলে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে বাবো নানুম (ফুলস শেয়ারিং) ফাউন্ডেশনের সঙ্গে (০২) ৭২৭-২৫০৩ থেকে ৮ পর্যন্ত নম্বরে অথবা ওই ফাউন্ডেশনের ব্যাংক একাউন্ট নম্বর - ১০০৫-১০২-১০৬৪৩৪,  Woori Bank তে।

মিশরে ভয়াবহ যৌন নিপীড়ন

মিশরে এখন নারীদেরকে যৌন হয়রানি মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়েছে। মিশরের নারীরা এখন একাকী বা নারীসহযোগীদের সঙ্গে বাড়ির বাইরে বের হতেও ভয় পাচ্ছেন। মিশরের নারী অধিকার নিয়ে আন্দোলনকারীরা বলছেন যৌন হয়রানির সমস্যাটা এখন মহামারী আকারই ধারণ করেছে। গত তিন মাসে সেখানে এ ধরনের  সমস্যা বেড়ে গেছে বলে তারা দাবি করছেন।  মিশরের অনেক নারীর মতেই যৌন হয়রানির বিষয়টি মিশরে এখন নিত্য নৈমিত্তিক বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ ধরনের হয়রানির ঘটনা কখনও কখনও চরম আকার ধারণ করে সহিংস হামলার রূপ ধারণ করে। বিবিসি জানিয়েছে গত শীতে মিশরের আলেকজান্দ্রিয়াতে একজন নারী একদল পুরুষের হাতে নিপীড়নের শিকার হয়েছিল। ওই ঘটনার একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে ওই নারীকে কয়েকজন পুরুষ টেনে কাঁধে তুলে নিচ্ছে এবং অন্যরা তাকে টেনেহিঁচড়ে নামাচ্ছে। জনতার হৈচৈয়ের মধ্যে হামলার শিকার ওই নারীর চিৎকার চাপা পড়ে যাচ্ছে। অবস্থা দেখে কোন ভাবেই বোঝার উপায় নেই যে, কে তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করছে আর কে তার ওপর হামলে পড়ছে। এটি নারীদের ওপর যৌন নিপীড়নের চরম অবস্থা হলেও সমীক্ষায় দেখা গেছে, মিশরের প্রত্যেক নারীই প্রতিদিন কোন না কোন ভাবে যৌন হয়রানির শিকার হচ্ছেন। মারওয়া নামের এক তরুণী বলেছেন, বাড়ির বাইরে গেলে তিনি শারীরিক বা মৌখিক ভাবে নিপীড়নের শিকার হন। তিনি বলেছেন, এ কারণে সব সময় তিনি ভীতসন্ত্রস্ত থাকেন। মারওয়া বলেন, একজন নারী হিসেবে সব সময়ই এ বিষয়টি আমাকে আতঙ্কে রাখে। যখনই আমি বাড়ির বাইরে যাই, রাস্তায় হাঁটি তখনই কেউ না কেউ আমাকে নিপীড়ন বা বিরক্ত করবে। এ কারণে সব সময়ই আমি ভয়ে থাকি। এ কারণ আমি বাড়ির বাইরে বের হওয়া কমিয়ে দিয়েছি। পোশাক পরার ক্ষেত্রে আমি এখন অতিরিক্ত সাবধানতা অবলম্বন করি। মানুষকে আকর্ষিত করতে পারে এমন ধরনের কাপড় পরা আমি এড়িয়ে চলি। বাড়ির বাইরে ছেলেদের হয়রানি এড়াতে মিশরের নারীরা ঢিলেঢালা পোশাকের পাশাপাশি মাথায় স্কার্ফ ব্যবহার করছেন। কিন্তু মিশরের নারী অধিকার রক্ষাকারী সংগঠন ইজিপ্ট’স গার্লস আর এ রেড লাইন-এর দীনা ফরিদ বলেছেন এ ধরনের রক্ষণশীল পোশাকও তাদের নিরাপত্তা দিতে পারছে না। তিনি বলেছেন চেহারা আড়াল করতে যারা হিজাব ব্যবহার করছেন তারাও যৌন হয়রানির টার্গেটে পরিণত হচ্ছেন। আসলে রক্ষণশীল পোশাক যৌন হয়রানি প্রতিরোধে কোন ভূমিকাই রাখছে না বলে তিনি উল্লেখ করেন। কারণ মিশরের বেশির ভাগ নারীই পর্দা ব্যবহার করেন। অথচ তারা প্রতিনিয়তই যৌন হযরানির শিকার হচ্ছেন। পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে যেসব নারী বা তরুণী যৌন হয়রানির শিকার হয়েছেন তাদের বেশির ভাগই নিকাব দিয়ে নিজেদেরকে আড়াল করে রেখেছিলেন। ২০০৮ সালে ইজিপ্টশিয়ান সেন্টার ফর উইমেন’স রাইট পরিচালিত এক সমীক্ষাতে দেখা গেছে ৮০ ভাগ নারীই কোন না কোন ভাবে যৌন হয়রানির শিকার হচ্ছেন। আর এ ধরনের হয়রানির শিকার অধিকাংশ নারীই ইসলামিক অনুশাসন মেনে হিজাব পরিধান করছেন। কায়রোর আমেরিকান ইউনিভার্সির একজন সমাজবিজ্ঞানি সাঈদ সাদেক বলেছেন মিশরের সমাজের গভীরেই এ সমস্যার মূল গ্রোথিত রয়েছে। তিনি বলেছেন, এর মূলে রয়েছে ইসলামিক রক্ষণশীলতার মনোভাব এবং পিতৃতান্ত্রিক আচরণের সংমিশ্রণ। তিনি বলেন, ইসলামী মৌলবাদের উত্তান ঘটছে আর তারা এখন নারীদেরকেই তাদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করছেন। তারা চাইছেন নারীরা ঘরেই বসে থাক। বাইরে কাজ করার জন্য তারা যেন বের না হন। তিনি বলেন পিতৃতান্ত্রিক সংস্কৃতি নারীদেরকে পুরুষদের চেয়ে উঁচু স্থানে থাকার বিষয়টি মেনে নিতে পারছে না। কারণ, কিছু কিছু নারী নিজেদের শিক্ষা-কর্মদক্ষতা আর যোগ্যতার বলে পুরুষদের চেয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। তাই এক্ষেত্রে নারীদের দমিয়ে রাখার উপায় হচ্ছে যে কোন ভাবে তাদের ওপর যৌন হয়রানি করা। সাদেক বলেন এটা ফারাওদের সংস্কৃতি নয়। এটা বেদুঈনদের সংস্কৃতি। সাঈদ সাদেক এবং নারী অধিকার সংগঠনগুলো এ ধরনের প্রবণতা বৃদ্ধির পেছনে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার দুর্বলতাকেও দায়ী করেছেন। তারা বলছেন, নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশকে আরও জোরালো পদক্ষেপ নিতে হবে। তবে নারীদের পোশাকের জন্য তাদেরকে নিপীড়নের শিকার হতে হচ্ছে বলে দাবি করা হচ্ছে। আর এ নিপীড়নকারীদের মধ্যে টিনেজারদের সংখ্যা ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। নারীদের নিপীড়নের ব্যাপারে কায়রোর একদল টিনেজার জানিয়েছেন নারীরাই তাদেরকে নিপীড়ন করতে ছেলেদেরকে প্রলুব্ধ করে। তারা বলেছে মেয়েরা যদি সম্মানজনক ভাবে পোশাক পরে তাহলে কেউই তাদেরকে বিরক্ত করবে না। নারীরাই চাইছে তাদেরকে বিরক্ত করা হোক। এমনকি নিকাব পরা মেয়েরাও নিজেদের পেছনে ছেলেদের ঘোরাতে পছন্দ করে। এজন্য অবশ্য ছেলেদেরকে পুরোপুরি দোষারোপ করা যায় না। কারণ, টাইট জিন্স পরে নেকাব ব্যবহারকারী নারী আর শালীন পোশাকের সঙ্গে হিজাব ব্যবহারকারী নারীদের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। যে নারীরা টাইট জিন্স পরে আবার নেকাব ব্যবহার করে তাদের তো হয়রানি প্রাপ্যই বলা চলে। মিশর সরকার অবশ্য এ বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার কথা জানিয়েছে। তবে নারী অধিকার রক্ষাকারী সংগঠনগুলো দাবি করেছে সরকার বিষয়টি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিবেচনা করছে না। তবে সচেতন নারীদের অনেকেই এ বিষয়টিকে তাদের স্বাধীনতার পরিপন্থি বলে উল্লেখ করেছেন। মিশরের একজন নারী যেমন বলছিলেন আমি নিরাপদে একজন মানুষ হিসেবে রাস্তায় হাঁটতে চাই। আমাকে যেন কেউ বিব্রত বা হয়রানি করতে না পারে। এটাই হচ্ছে আমার স্বাধীনতা।

Tuesday, September 4, 2012

‘এক রাতে সুনীল আমার গায়ে হাত দিয়েছিল’

পরিতোষ পাল, কলকাতা থেকে : বাংলাদেশের বিতর্কিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন তার টুইটারে সাহিত্যিক সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় সম্পর্কে কুৎসিত মন্তব্য করে থেমে থাকেন নি। তিনি এবার জানিয়েছেন, সুনীল এক রাতে তার বন্ধুদের সঙ্গে রাতের খাবার খেয়ে তার হোটেলের ঘর থেকে ফিরে যাবার সময় তার গায়ে অশ্লীলভাবে হাত দিয়েছিল। ঘটনার আকস্মিকতায় তসলিমা নাকি এতটাই হতভম্ব হয়ে গিয়েছিলেন যে কি করবেন ভেবে পান নি। পরে এই ঘটনা নিয়ে তসলিমা নাকি ’রাস্তার ছেলে এবং কবি’ নামে একটি কবিতা লিখেছিলেন। তসলিমা দাবি করেছেন, কবিতাটি সুনীলকে নিয়েই লেখা। তবে তসলিমার এইসব অভিযোগ সম্পূর্ণভাবেই উড়িয়ে দিয়েছেন সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, এতদিন তসলিমা এ ব্যাপারটি নিয়ে চুপ ছিল কেন? সাহস থাকে তো আইনের সাহায্য নিক। সুনীল মনে করেন, এসবই তসলিমার হতাশার বহিঃপ্রকাশ। আর তাই এসব তাকে মোটেই বিচলিত করে না। দুই বাংলার বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবীদের সঙ্গে তার ঘনিষ্ট সম্পর্ক নিয়ে একসময় বই লিখে তসলিমা সাড়া ফেলেছিলেন। এজন্য বাংলাদেশের বিশিষ্ট লেখক সৈয়দ শামসুল হক তার বিরুদ্ধে মানহানির মামলাও করেছিলেন। কলকাতাতেও এক কবি তসলিমার বিরুদ্ধে কোটি রুপির মানহানির মামলা করেছিলেন তার সম্পর্কে বইয়ে আপত্তিকর কিছু লেখার জন্য। তবে সেই সময় সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় সম্পর্কে কোনও কথাই লেখেননি তসলিমা। এতদিন পরে সুনীল সম্পর্কে যৌন হয়রানির অভিযোগ আনার কারণ সম্পর্কে জানা গেছে, তসলিমার ’দ্বিখন্ডিত’ বইটি বাম সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ করার জন্য সুনীলই নাকি বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য্যকে বলেছিলেন। তসলিমা এটা মনেপ্রাণে বিশ্বাস করেন। সুনীল অবশ্য জানিয়েছেন, তিনি কখনই ’দ্বিখন্ডিত’ নিষিদ্ধ করার কথা বলেননি। বরং শঙ্খ ঘোষ সহ অন্যান্যদের সঙ্গে মিলে তিনি সেই নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধেই বলেছিলেন। এমনকি মিছিলও করেছিলেন। কিন্তু তসলিমা কেন বইটি নিষিদ্ধ করার পেছনে তিনিই প্রধান মাথা বলছেন তার কোনও কারণ তিনি খুঁজে পাচ্ছেন না। সুনীল জানিয়েছেন, তসলিমার কলকাতায় ফেরার ব্যাপারে তিনি কখনও কোন উদ্যোগ নেননি ঠিকই,তবে তিনি এমন কোনও বড় মাপের ব্যক্তি নন যে, তার কথাতেই তসলিমার কলকাতায় আসা আটকে যাবে। সুনীল ও তসলিমার এই সাম্প্রতিক বিতর্ক নিয়ে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে বুদ্ধিজীবীদের পাশাপাশি রাজনৈতিক মহলেও। তবে ঘটনার সুত্রপাত, পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা নজরুল ইসলামের লেখা ‘মুসলমানদের করণীয়’ নামের একটি বই সম্পর্কে পশ্চিমবঙ্গ প্রশাসনের কঠোর মনোভাবের বিরুদ্ধে সুনীলের মতামত থেকে। সুনীল যে কোনও বই নিষিদ্ধ করার বিপক্ষে তার মত প্রকাশ করার পরই তেলেবেগুনে জ্বলে ওঠেন তসলিমা। গত ২রা সেপ্টেম্ব^র তিনি তার টুইটারে লিখেছেন, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় বই নিষিদ্ধ করার পক্ষে। তিনি আমাকে এবং অন্যান্য মহিলাদের যৌন হয়রাণি করেছেন। তিনি সাহিত্য আকাদেমির সভাপতি। শেম! শেম!। তসলিমা আরও লিখেছেন , তার ’দ্বিখন্ডিত’ বইটি নিষিদ্ধ করার জন্য সুনীলই বাম সরকারকে বলেছিল। আর এখন তিনি বই নিষিদ্ধ করার বিরুদ্ধে মতামত দিচ্ছেন। একজন ভন্ড। কোনও বাঙালির সাহস নেই ভন্ড ও মহিলাদের ব্যবহারকারি লেখক সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের মুখোশটা ছিড়ে ফেলার।এই ট্যুইটার বোমার পর সাংবাদিকদের প্রকাশ্যে তসলিমা বলেছেন, এই পুরুষতান্ত্রিক সমাজে মহিলারা সবসময়ই যৌন হয়রাণির শিকার হন। আমি শুনেছি সুনীল অনেক মেয়েকেই যৌন হয়রানি করেছে। পুরুষদের সমাজে এটা খুবই সাধারণ। কিন্তু মহিলার এর বিরুদ্ধে কিছু বলতে পারেন না চাকুরি হারাবার ভয়ে। আর লেকার দুনিয়ায় তো অনেক উঠতি তরুণ মেয়েরা বাঘা বাঘা লেখকদের শারিরীক যৌন সম্পর্কের শিকার হয়েছে। তসলিমার মতে, তাদের ক্যারিয়ার নষ্ট হয়ে যাবার ভয়ে তারা কেউ এদের বিরুদ্ধে মুখ খোলেন না। এরপরই তসলিমা জানিয়েছেন, অনেকদিন আগের একটি ঘটনার কথা। সেই সময় ফ্রান্স থেকে এসে তিনি কলকাতার একটি হোটেলে থাকছিলেন। সেই সময় এক রাতে সুনীল বন্ধুদের নিয়ে তার ঘরে ডিনার করতে এসেছিলেন। কিন্তু যাবার সময় সুনীল নাকি বিদায় দেবার সময় তার গায়ে এমনভাবে হাত দিয়েছিলেন যে, তসলিমা হতভম্ব হয়ে পড়েছিলেন। এই ঘটনায় তসলিমা প্রচন্ড মানসিক আঘাত পেয়েছিলেন বলে দাবি করেছেন। তসলিমার দাবি, আমার মত প্রতিষ্ঠিত লেখিকার সঙ্গে যেখানে সুনীল এই ধরণের কাজ করেছে সেখানে অন্য মেয়েদের সঙ্গে যে সে এই ধরণের কাজ করেছে এটাই স্বাভাবিক। তসলিমা আরও জানিয়েছেন, আমি জানি সুনীলের সেই ক্ষমতা আছে যে আমাকে ভারত থেকে বিতাড়িত করার ক্ষেত্রে প্রভাব ঘাটাতে পারে। তবু তিনি সত্যি বলে যাবেন বলে জানিয়েছেন। তসলিমা দাবি করেছেন, তার আত্মজীবনীর তৃতীয় খন্ড ’দ্বিখন্ডিত’তে অনেকের মুখোশ খুলে দেয়ার পর সুনীল নাকি তাকে বলেছিল, ব্যক্তিগত সম্পর্ক প্রকাশ্যে না আনতে। তবে তসলিমা জানিয়েছেন, সুনীলের মত ’অর্ধেক জীবন’ তিনি লিখবেন না। তার কাছে কোনও কিছুই গোপনীয় নয়। আর সত্যি বলার জন্য অনেক কিছু সহ্য করতে হয়েছে। তবু সত্যি বলে যাবেন বলে তিনি গোষণা দিয়েছেন। তসলিমা বর্তমানে দিল্লির এক অজ্ঞাত স্থানে ভারত সরকারের নিরাপত্তা সুরক্ষায় অবস্থান করছেন। ২০০৭ সালে কলকাতায় মুসলমানদের একাংশের হিংসাত্মক বিক্ষোভের পরই তসলিমাকে কলকাতা ছেড়ে যেতে হয়। তার পর থেকে তার আর কলকাতায় ফেরা হয়নি। অথচ তসলিমা কলকাতায় ফিরতে চান। তিনি মনে করেন, কলকাতা তার দ্বিতীয় ঘর। কিন্তু তাকে ফিরিয়ে এনে মুসলমানদের চক্ষুশূল হতে চায় না কোনও রাজনৈতিক দলই। ফলে কলকাতায় ফেরার জন্য তার কোন আবেদনে কোন সরকারই কর্ণপাত করছে না।
Source: The daily Manabzamin

কুয়েতে বাজিমাত করলেন সিলেটের আবদুল হক

১৬ হাজারের বেশি প্রতিযোগীকে পেছনে ফেলে কুয়েতে বাজিমাত করেছেন সিলেটের আলী রেজা আবদুল হক (৩০)। সেখানে কুয়েত টাইমস রমজান কুইজ ড্রতে তিনি জিতে নিয়েছেন প্রথম পুরস্কার। আর তা হলো- দু’জনের লন্ডন সফর। শুধু তাই নয়। তিনি আরও পেয়েছেন খ্যাতনামাদের অটোগ্রাফযুক্ত দু’টি ঘড়ি, ক্রাউন প্লাজা হোটেলে দু’রাত অবস্থানের সুযোগ, একটি মোবাইল ফোন ও ক্রাউন প্লাজা হোটেলের একটি গিফট ভাউচার। কুয়েত চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের ক্লিনার বা পরিচ্ছন্নকর্মী আবদুল হক এ পুরস্কার জিতে আনন্দে আত্মহারা। গতকাল কুয়েত টাইমসের প্রথম পৃষ্ঠায় তার ছবিসহ এ রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে। এতে বলা হয়, আবদুল হক ১২ বছর ধরে কুয়েতে অবস্থান করছেন। পুরস্কার জিতে আবদুল হক বলেন, প্রথম পুরস্কার জিতবো ভাবতেই পারিনি। তা যখন পেয়েই গিয়েছি আনন্দ আর রাখতে পারছি না। কুয়েত টাইমস রমজান কুইজ নামে একটি কুইজ চালু করেছিল। তাতে দ্বিতীয়বারের মতো অংশ নিয়েছিলেন তিনি। এর আগে গত বছরও তিনি এ প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিলেন। কিন্তু সফলতা আসেনি। বৃহস্পতিবার রাতে কুয়েতের সুইমিংপুল কমপ্লেক্সে দর্শক শ্রোতাদের উপস্থিতিতে ওই কুইজের র‌্যাফেল ড্র হয়। এতে প্রথম তিনজনকে দেয়া হয় প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় পুরষ্কার। এছাড়া ৫০ জনকে দেয়া হয় সান্ত্বনা সূচক মূল্যবান পুরস্কার। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্তকর্তারা এতে উপস্থিত ছিলেন। আরও উপস্থিত ছিলেন ইতিহাদ এয়ারওয়েজের জেনারেল ম্যানেজার নাবিল মাতারওয়ে। কুয়েত টাইমস জানায়, আলী রেজা আবদুল হক বিবাহিত। রোববার তিনি পুরস্কার হাতে পেয়ে বললেন, আমি এবার অনেক পুরস্কার পেয়েছি। এজন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। অপেক্ষা করছি সংসারটাকে সুন্দর করে সাজানোর জন্য। সংসার একটি গুরুদায়িত্ব। তাই আমি লন্ডন সফরের জন্য যে বিমান টিকিট পেয়েছি তা বিক্রি করে দিয়ে সংসারটাকে ভালভাবে চালাতে পারবো। রিপোর্টে বলা হয়, আবদুল হকের অফিসে রাখা হতো কুয়েত টাইমস পত্রিকা। সেখানে যে পৃষ্ঠায় কুইজ দেয়া হতো তিনি তা কেটে নিয়ে যেতেন বাসায়। তারপর তা পূরণ করে পাঠিয়ে দিতেন সংশ্লিষ্ট ঠিকানায়। কিন্তু তাতে প্রশ্নগুলো খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, প্রশ্নগুলো ছিল কনফিউজ করে দেয়ার মতো। আমি সবগুলোর উত্তর দিয়েছি অনেক ভেবেচিন্তু।  এ প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয় পুরস্কার পেয়েছেন আবদুল্লাহ ইসা (৫৩) নামে এক ব্যক্তি। তিনি পুরস্কার হিসেবে পেয়েছেন একটি নাইকন ক্যামেরা, একটি এলজি চকোলেট মোবাইল ফোন, একটি এলিসি ঘড়ি, ক্রাউন প্লাজা হোটেলে দু’রাত অবস্থানের সুযোগ, একটি স্মার্ট টেলিভিশন, আরডেকো মডেলের একটি মেকআপ সেট ও রুবিতে লাঞ্চ-ডিনারের ভাউচার। তিনি পাঁচ বছর আগে খ্রিস্টান ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম গ্রহণ করেছেন। পুরস্কার পাওয়ার পর তার প্রতিক্রিয়া- আমি সত্যের পথে এসেছি। তাই আল্লাহ আমাকে পুরস্কৃত করেছেন। আগে আমি বাইবেল পড়ে যে তৃপ্তি পেতাম এখন পবিত্র কোরান তেলাওয়াত করে তার চেয়ে বেশি প্রশান্তি পাই। সম্ভবত এটাই আমার জন্য বড় উপহার। এখন আমি আমার পরিবার ও বন্ধুদের কাছে এই দাওয়াত পৌঁছে দিতে চাই। আবদুল্লাহ ইসার বাড়ি ভারতের চেন্নাইয়ে। তিনি কুয়েতে টয়োটা প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তা প্রহরীর কাজ করেন। তৃতীয় পুরস্কার জিতেছেন মিশরের সামি নাদি আল সায়েদ (২৪)। তিনি একটি রিয়েল এস্টেট কোম্পানিতে ব্রোকারের চাকরি করেন। তিনি পেয়েছেন একটি এলজি চকোলেট মোবাইল ফোন, কারলো কারদিনি মডেলের ঘড়ি, ক্রাউন প্লাজা হোটেলে দু’রাত অবস্থানের সুযোগ, একটি ডিই ১০০০ ডিকশনারি, একটি নাইকন ক্যামেরা, একটি স্মার্ট টিভি, একটি ডেক্সন ডিভিডি প্লেয়ার।

Sunday, September 2, 2012

অর্থের বিনিময়ে শরীর বিলিয়েছেন শেরলিন চোপড়া



ভারতের হার্টথ্রব প্লেবয় গার্ল শেরলিন চোপড়া স্বীকার করলেন। বললেন, তিনি অর্থেও বিনিময়ে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেছেন। শুক্রবার তিনি তার টুইটারে এ কথা ফাঁস করেছেন। গতকাল এ খবর দিয়েছে অনলাইন জি-নিউজ। এর আগে তিনি অভিযোগ করেছিলেন শয্যাসঙ্গী হিসেবে তাকে সঙ্গে পেতে অনেক মানুষ প্রস্তাব দিয়েছে। শেষ পর্যন্ত তিনি নিজেই স্বীকার করলেন, ওই কাজটি তিনি টাকার বিনিময়ে শেষ করেছেন। অনেক লোকের সঙ্গে তিনি শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেছেন। কিন্তু তা অনেকটা আগে। এখন তিনি ‘ফ্রেশ’। ওই কাজে তার মনোনিবেশ করার পরিকল্পনা আর নেই। ওই টুইটারে তিনি লিখেছেন, যারা এতদিন তাকে শয্যাসঙ্গী হতে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন তারা যেন নীরব থাকেন। তিনি টুইটারে লিখেছেন, আমার টুইটারের অনেক নম্বর থেকে প্রস্তাব পেয়েছি    এই ঠিকানায়। তারা আমার কাছে অর্থের বিনিময়ে শারীরিক সম্পর্ক চায়। অতীতে অনেক সময় আমি অর্থের জন্য এ কাজ করেছি। এমন কোন ঘটনার কথা স্মরণ করতে পারি না যেখানে আমি স্বেচ্ছায় রাজি হয়েছি। তবে এ বছর জুলাইয়ে লস অ্যানজেলেস থেকে দেশে ফেরার পর আমার চেতনায় পরিবর্তন এসেছে। আমি বুঝতে পেরেছি, আর মুক্তমনে এমন কাজ করব না। এছাড়া আরও অনেক রগরগে কথা লিখেছেন তিনি।